Read THE TALE OF LOVE - 16 by Sujit Sarker in Bengali থ্রিলার | মাতরুবার্তি

Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

THE TALE OF LOVE - 16

Catagory-(Romantic🙈+Thriller😈☠️+Psycho🔪+Toxic🥵+Crime🦹‍♀️+Foreign plot🥀+Sad ending😭💔)

Episode-17

এডউইন তৎক্ষণাৎ বেলার গলা চেপে ধরে তার চোখ দুটো অসম্ভব হিংস্র হয়ে ওঠে।" কি বললি তুই আমার মন মানসিকতা নিঁচু? আর ঐ এডিসনের মন বুঝি অনেক বড়ো আর এতটাই বড়ো যে সোজা প্রোপোজ করে বসলো গোটা ভার্সিটির সামনে।"

রিক এতো জোরে গলা চেপে ধরায় বেলার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। বেলার চোখে জল দেখেও রিকের যেন একটুও মায়া হচ্ছে না উল্টো তার প্রতি এক অপ্রকাশিত অভিমান ঢেলে দিচ্ছে। কিছুক্ষণ পর রিক বেলার গলা ছেড়ে  দিলে সে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে। 
রিক বেলার কাছ থেকে সরে গিয়ে পানির গ্লাস এগিয়ে দেয় কিন্তু বেলা নিমিষেই সেটা ভেঙ্গে ফেলে আর তীব্র কণ্ঠে বলে," সব সময় চোখের সামনে দেখা জিনিস সত্যি হয় না এডউইন এরপরও কিছু জিনিস থাকে যা না দেখা পর্যন্ত আমাদের কোনো প্রতিক্রিয়া করা উচিত নয়। কিন্তু আপনি ওও আপনি তো দ্যা গ্ৰেট ED , Owner of the ED International Industrial Group। আপনার যা মনে হবে সেটাই ঠিক কি তাই তো? সবসময় অন্যের ভালো লাগা মন্দ লাগার কোনো পরোয়া আপনি করেন না। আমারই ভুল হয়েছে যে আমি আপনার কাছ থেকে একটু মনুষ্যত্ব আশা করেছিলাম কিন্তু না আপনি তো আসলে জানোয়ার তুল্য। আর হে শুনে রাখুন আমি বিপদে পড়ে আপনার বাড়িতে আশ্রয় চেয়েছি বলে ভাববেন না যে আমি অসহায় বা আপনার কেনা ক্রীতদাস যে আপনার কথায় আমাকে উঠতে-বসতে হবে। " একনাগাড়ে বিক্ষুব্ধ বেলা রিকের প্রতি নিজের ভেতরে জমে রাখা অভিমান তুলে ধরে।🤬🤬🥺

রিক শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে কিন্তু রিকের চোখে ফুটে ওঠে এক আত্ম গড়িমার প্রভাব। "নিজের কথায় লাগাম টানো বেলা নতুবা আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ হবে না " এই প্রথম রিক বেলাকে তার নাম ধরে ডাকলো। হয়তোবা তাদের সম্পর্কটাই আজ ঐ পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তিক্ততা আর জটিলতা ছাড়া কিছুই নেই আজ।

"আপনি ঠিক আর কতটা নিচে নামতে পারেন এডউইন?"

রিক ক্রন্দনরত বেলার মুখের দিকে তাকিয়ে নির্দয়ভাবে বলে, "এখান থেকে চলে যাও বেলা আমি তোমার মুখও দেখতে চাই না "

রিকের মুখ থেকে নির্গত হওয়া এই দুটো কথা যেন বেলার কোমল হৃদয় ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই এক অজানা অচেনা মানুষের জন্য বেলার হৃদয়ে কেন এতো রক্তক্ষরণ হচ্ছে সেটা তার জানা নেই। কিন্তু এরও উর্ধ্বে যদি কিছু থাকে তা হলো আত্মমর্যাদা রিকের এই কথা শোনার পর আর কোনো প্রশ্নই থাকে না এই বাড়িতে থাকার।
তাই সে রিককে কঠিন গলায় বলে, "বেশ আমি চলে যাচ্ছি এখান থেকে শুধু এই ঘর থেকেই নয় বরং আপনার বাড়ি থেকে । কারণ আমার যথেষ্ট আত্মসম্মান আছে । আর আপনাকেও এটা বুঝতে হবে যে সবাই আপনার কেনা গোলাম নয়। তবে যাওয়ার আগে এইটুকু কথা বলবো যে আপনি এতদিন আমাকে আশ্রয় দিয়েছেন, খাইয়েছেন-পড়িয়েছেন তার জন্য ধন্যবাদ। তাই যদি কখনো কিছু চান আমার কাছে আমি মনে করব সেটা আমার ঋণ শোধের একটা উপায়। ভালো থাকবেন আশা করি এই মুখ আপনাকে আর কখনো দেখতে হবে না আর আপনারও আমাকে প্রয়োজন হবে না।"
বেলা তার সমস্ত জিনিসপত্র গুছিয়ে লাগেজ নিয়ে রিকের বাসা থেকে বের হয়ে যায়। যাওয়ার সময় সে আরেকটা জিনিস নিতে ভুলে না আর তা হলো রিক আর তার একসাথে তোলা একটা ছবি। ঐ সেদিন লেকের ধারে রিক আর বেলার একান্ত মুহূর্তের ছবি। একদিন রিক তাকে ছবিটা দেখিয়ে বলে," বুঝলে বার্বি ডল এই ছবিটা ভাবছি বাঁধিয়ে রাখবো কি বলো?"

"কোন ছবি দেখান আমাকে " বেলা রিকের হাত থেকে ছবিটা নিয়ে নেয়। 
"আরে এই ছবিটা তো সেদিন লেকের ধারের তাই না? আপনি এটা কিভাবে পেলেন?"😱

"আমি দ্যা গ্রেট এডউইন রিকার্ডো আমার পক্ষে সবই সম্ভব বার্বি ডল" 

"তাই বুঝি?" অতীতের এই মধুর স্মৃতিগুলো মনে পড়তেই আপনা-আপনিই বেলার চোখ বেয়ে জল বেরিয়ে পড়ল। সুখ বুঝি তার জন্য ক্ষণস্থায়ী ‌না কোনো দিন বাবার ভালোবাসা পেলো আর মা সেতো জন্মের সময় ই তাকে দুনিয়ার এতিম করে গেলো।আর এখন তো... কই সে তো রিককে ভালোবাসে না কিন্তু তবুও কেন বারবার তার অবুঝ মন সেটা বুঝতে চাইছে না। এসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে মাঝ রাস্তায় চলে আসে বুঝতে পারে নি সে । হঠাৎ করেই প্রচন্ড বেগে আসা একটা গাড়ির সামনে পড়ে যায় সে মনে করে এটাই বুঝি তার জীবনের অন্তিম প্রহর। কিন্তু তাকে ভুল প্রমাণিত করে গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে এক সৌষ্ঠব প্রতিবিম্ব। না না সে তার চির শান্তির নীড় রিকার্ডো নয় , বেলা কে হতাশ করে তার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় স্বয়ং বেলার বাবা মিস্টার হ্যারি যার থেকে পালাতে গিয়ে সে রিকের দেখা পেয়েছে।  বেলা ভয় পেয়ে যায় তার বাবা কি আবারো তাকে সেই লোকের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেবে। কক্ষনো না সে মরে যাবে তবুও ঐ লোককে বিয়ে করবে না।

"My little girl, bella I am so sorry darling. I shouldn't be so rude with you . please forgive your daddy darling. I will never insisted you on something dear. Please come back home with me." বলেই ভদ্রলোক কান্নায় ভেঙে পড়লেন।

বেলা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে। কারণ জীবনের প্রথমবার তার বাবা তার জন্য কান্না করছে। ভেতরে ভেতরে একটু কষ্ট হচ্ছে যতই হোক তার জন্মদাতা বাবা তো। কিন্তু সে তার কাজের জন্য অনুতপ্ত নয়। সে চোখে মুখে কাঠিন্যতা বজায় রেখে বলে,"এটা আবার আপনার কোন ধরনের নাটক ? কই কোনদিনও তো আমার জন্য আপনাকে কাঁদতে দেখিনি। জ্বরের ঘোরে কতবার আমি মা মা বলে চিৎকার করতাম তখন ও তো আপনার পাষাণ হৃদয় গলেনি তাহলে আজ হঠাৎ আমার জন্য এতো দরদ আসলো কোথা থেকে? নাকি এটা আবার আপনার নতুন কোন প্ল্যান?"

"আমি এত দিনের করা ব্যবহারের জন্য অনুতপ্ত বেলা। তুমি চাইলে আমি তোমার পা ধরতে ও রাজি আছি বলেই" ,বেলার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে

বেলে তৎক্ষণাৎ নিজেকে সরিয়ে নিয়ে বলে," আপনার এই সমস্ত নাটক অন্য কোথাও গিয়ে করুন। আমি আপনার সঙ্গে যেতে পারি তবে আমার একটা শর্ত আছে। আমি আপনার বাড়িতে থাকব ঠিকই কিন্তু একজন ভাড়াটিয়ার মত কারণ আমি মনে করি না যে আপনার আর আমার মধ্যে সেই সন্তান আরেকজন বাবার সম্পর্কটা আর আছে। আমার কোনো ব্যাপারে আপনি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না আর আমি নিজেই নিজের খরচ চালাবো কারণ আমি কারো ঘাড়ে বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। কারণ বোঝা হয়ে থাকার কষ্টটা আমি একবার বুঝেছি"বলেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

"কিন্তু বেলা..." মিস্টার হ্যারি কে থামিয়ে বেলা বলে,"কোন কিন্তু নয় যদি আমার এই শর্তে রাজি থাকেন তবেই আমি যাব নতুবা নয়"

"ঠিক আছে আমি তোমার সব শর্তেই রাজি। তুমি শুধু আমার সাথে চলো"সেদিনের পর থেকেই বেলা মিস্টার হ্যারির সাথে থাকতে শুরু করে। কলেজ থেকে ফেরার পথে পার্ট টাইম জব করে নিজের খরচ চালায়। পার্ট টাইম জবের টাকায় তার আর হচ্ছিল না তাই আজকে ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলে কিন্তু সেখানে রিককে দেখে বেলার আগের কথা মনে পড়ে যায়।
সেদিন সন্ধ্যায় বেলা চলে যাওয়ার পর রিকের পুরো বাড়ি শূন্য পরে থাকে যেন বাড়ি আছে অথচ বাড়ির মধ্যে কোনো প্রাণ নেই। রাত বারোটার দিকে বেলার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে রিক বলে," আমি তোমাকে তাড়িয়ে দিতে চাইনি বার্বি ডল কিন্তু আমি পরিস্থিতির শিকার। এই মুহূর্তে তোমার আমার দূরত্বটা বাঞ্ছনীয়। বিশ্বাসের আমি জানি না আমি তোমায় ভালোবাসি কিনা কিন্তু তোমায় ছাড়া এক সেকেন্ডের জন্য নিঃশ্বাস নেওয়া মুশকিল। আমি জানি না ভালোবাসার নির্দিষ্ট ডেফিনেশন হয় কিনা তবে আমি চিরকাল তোমার সাথেই থাকবো তোমার অনুভূতিতে। হয়তো তুমি তা বুঝতে পারবে না কিন্তু আমি জানি আমি আছি তোমার অস্তিত্বে- তোমার অনুভূতিতে তুমি চাইলেও কখনো আমাকে সেখান থেকে মেটাতে পারবে না। নারী তুমি কি জানো এই অল্প সময়ের দূরত্ব হয়তোবা ভবিষ্যতের প্রেমকে পূর্ণতা দান করতে পারে? তুমি কি জানো দূরত্বে প্রেম বাড়ে কমে না সুইটহার্ট?"বলেই ব্যালকনিতে গিয়ে রকিং চেয়ারে বসে গিটার হাতে সুর তুলে। যেন সুরের শব্দে গোটা দুনিয়াকে তার হৃদয়ের যন্ত্রণা বোঝাতে চাইছে,
         মন একে একে দুই
একাকার আমি তুই,
আর না চোখ ফিরিয়ে, একটু হাস।

নেই, মনে কি কিছুই?
তোর ঠোঁটের ডানা ছুঁই,
মিলবে সব জীবনের ক্যালকুলাস।

স্মৃতিরা গেছে পরবাস
কথারা হয়েছে নিঝুম,
এ বুকে তবু বারোমাস
ভালোবাসারই মরশুম,
ভালোবাসারই মরশুম।

ডাক, নামে ডেকে যাই
সেই আগের তোকে চাই,
সেই যে সেই তাকালেই, সর্বনাশ।

ঝড় এলে তুই, সাথে থাকলে কি ভয়
তোর ঠিকানায়, পাঠালাম এ হৃদয়।
প্রেম হলে এক সুরে গান বেজে যায়
সে দেয় জখম, তবু সেই তো ভেজায়।

ব্যথারা ফিরেছে এ পাশ
বালিশে জমে ভাঙা ঘুম,
এ বুকে তবু বারোমাস
ভালোবাসারই মরশুম,
ভালোবাসারই মরশুম।–🥀🥀
বর্তমানে—

বেলা দীর্ঘ এক ঘন্টা শাউয়ার শেষ করে বাইরে বেরিয়ে আসে। চুল থেকে টপাটপ জল পড়ছে। অতীতের কথা মনে আসতেই বুক চিরে এক দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। নিচ থেকে তার বাবা তাকে ডাকছে এমনিতেই মন ভালো নেই তাই বিরক্তি সহিত সে নিচে নামে।

"বেলা তোমার জন্য একটা পার্সেল এসেছে EDIIG কোম্পানি থেকে।"
বেলা প্যাকেটটা খুলে দেখে জয়েনিং লেটার তার সাথে একটা রোজ। কিন্তু সে তো ইন্টারভিউটা দেয় নি তাহলে... পরক্ষণেই রিকের কথা মনে পড়তেই চোখমুখ শক্ত করে ফেলে। 

"ওটাতে কি আছে বেলা?"

"জয়েনিং লেটার "শান্ত গলায় বেলা জবাব দেয়।

"ওওও দারুন ব্যাপার কিন্তু তুমি তো বললে যে তুমি ইন্টারভিউটা দেও নি তাহলে এটা কি করে আসলো?"

"হয়তো ভুল করে আমি কালই এটা ফেরত দিয়ে আসব" একরোখা জবাব তার

"কিন্তু তোমার হাত খরচের কি হবে বেলা? চাকরিটা তো তোমার দরকার। আমি তো কতো করে বললাম আমার থেকে টাকা নিতে কিন্তু তুমি তো শুনলেই না"

"আমার আপনার টাকার কেনো প্রয়োজন নেই পাপা। আশা করি এই প্রসঙ্গে আর কথা বলবেন না। আই থিংক আপনি বাবা ডাক থেকে অনন্ত বঞ্চিত হতে চান না" 

"যা খুশি করো " বিরক্ত হয়ে বলল।
পরেরদিন বেলা সকালে উঠে রিকের কোম্পানিতে চলে যায় জয়েনিং লেটার ফেরত দিতে। সে রিকের কেবিনে ঢুকে জিজ্ঞেস করে.... চলবে 🥀🥀