Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

বৃষ্টির দুচোখে তুমি - পর্ব 1

প্রথম অধ্যায় : “ভেজা দুপুরে অচেনা চাহনি”
কলকাতার আকাশ যেন সকাল থেকেই মনখারাপ করে বসেছিল।
ধূসর মেঘের পর মেঘ জমে উঠেছিল ভবনের মাথার ওপর।
দুপুর গড়ানোর আগেই নেমে এলো ঝুম বৃষ্টি—
টিনের চালের ওপর ফোঁটা ফোঁটা শব্দ, রাস্তার পাশে ছাতার নিচে ছোটাছুটি,
আর তার মাঝেই দাঁড়িয়ে ছিল ঈশা সেনগুপ্ত।
সাদা রঙের গাড়ির ভেতরে বসে, জানলার বাইরে তাকিয়ে ছিল সে।
কাচে জমে থাকা বৃষ্টির জল হাতের আঙুল দিয়ে মুছে দিচ্ছিল,
আর নিজের প্রতিফলনে হঠাৎ চোখ আটকে গেল—
ক্লান্ত মুখ, চুপচাপ চোখ, যেখানে কোনো হাসি নেই বহুদিন ধরে।
ঈশা, বয়স মাত্র আটাশ।
নামী এক ফাইনান্স কোম্পানির মালকিন,
সবাই বলে—সে ভাগ্যবতী,
কিন্তু ঈশা জানে, তার জীবনে ভাগ্য নয়, একাকিত্বই বেশি জেদী হয়ে আছে।
অফিস, মিটিং, নেটওয়ার্কিং—
সবকিছুর মধ্যে দিন কেটে যায়, কিন্তু নিজের সঙ্গে কথা বলার সময়টা আজকাল হারিয়ে গেছে।
বৃষ্টি ক্রমে বাড়তে থাকল।
রাস্তায় পানি জমে তৈরি হলো ছোট ছোট ঢেউ।
ট্রাফিক সিগন্যালের লাল আলোয় সব গাড়ি দাঁড়িয়ে।
ঠিক তখনই ঈশার চোখে পড়ে—
রাস্তার এক কোণে, ছাতা ছাড়া ভিজছে এক মেয়ে।
গায়ে পুরোনো নীল শাল, চুলগুলো বৃষ্টিতে একেবারে ভিজে গেছে,
হাতে একটা বই, বুকের কাছে আঁকড়ে ধরে আছে।
মুখে কোনো ভয় নেই, বরং অদ্ভুত এক প্রশান্তি,
যেন বৃষ্টি তার নিজের ভাষা, নিজের ঘর।
ঈশা জানে না কেন, কিন্তু চোখ সরাতে পারে না।
একটা অজানা কৌতূহল, একরকম টান যেন বুকের মধ্যে ঢেউ তুলে গেল।
সে হাত বাড়িয়ে ড্রাইভারকে বলল,
“গাড়ি থামাও।”
গাড়ি থামতেই ঈশা ছাতাটা খুলে বাইরে নামল।
বৃষ্টি তখন আরও তীব্র।
চেনা শহরটা যেন ঝাপসা জলরঙে মিশে গেছে।
সে মেয়েটার সামনে গিয়ে ছাতাটা এগিয়ে দিল।
“নাও, এইটা ধরো।”
মেয়েটা অবাক হয়ে তাকাল—
চোখে বড় বড় দৃষ্টি, যেন কোনো অপরিচিত ভালোবাসার ছোঁয়া এক মুহূর্তে চিনে ফেলেছে।
তারপর ধীরে বলে উঠল,
“দয়া দেখানোর দরকার নেই, আমি বৃষ্টিতে অভ্যস্ত।”
ঈশা হেসে ফেলল।
“দয়া না, অভ্যেসটা একটু বদলানোর চেষ্টা।”
এক মুহূর্তের নীরবতা।
চারপাশে শুধু বৃষ্টির শব্দ।
ঈশা অনুভব করল—এই মেয়েটার চোখে যেন কেমন এক গভীরতা আছে,
যেখানে দুঃখও আলো হয়ে জ্বলে।
“তুমি কোথায় যাচ্ছ?” ঈশা জিজ্ঞেস করল।
মেয়েটা একটু থেমে বলল,
“ওপারের গলিটার শেষে একটা লাইব্রেরি আছে, সেখানে কাজ করি।”
“বৃষ্টিতে এইভাবে ভিজে যাচ্ছ?”
“বৃষ্টি থামলে হাঁটব, বৃষ্টি যদি না থামে, তবুও হাঁটব।”
কথাটা শুনে ঈশার বুকের ভেতর কেমন জানি লাগল—
যেন কেউ ওর নিজের কথাটাই বলে ফেলেছে,
শব্দে না, অথচ নিখুঁতভাবে।
ঈশা কিছু বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই সিগন্যালের আলো সবুজ হয়ে গেল।
ড্রাইভার হর্ন দিল।
ঈশা তাকাল মেয়েটার দিকে—
সে তখন ছাতার আড়াল থেকে পা বাড়াচ্ছে বৃষ্টির ভেতর।
ঈশার মনে হলো,
এই বৃষ্টি, এই মেয়ে, এই মুহূর্ত—
সবকিছু যেন এক অচেনা সুরে বাঁধা।
গাড়িতে ফিরে এসে জানলার বাইরে তাকিয়ে রইল ঈশা।
মেয়েটা দূরে মিলিয়ে যাচ্ছে,
কিন্তু ঈশার মনে হচ্ছিল,
সে চলে যাচ্ছে না—বরং ওর ভেতরে ঢুকে পড়ছে,
একটা নীরব ঢেউ হয়ে।
তার নাম কী?
কোথায় থাকে?
কেন যেন মনে হলো—জানতেই হবে।
বৃষ্টির শব্দ থেমে গেলে শহর আবার জেগে উঠল,
কিন্তু ঈশার ভেতরের নীরবতা যেন সেদিন থেকে বদলে গেল কিছুটা।
সেই দিনটা, সেই ভেজা দুপুর,
আর সেই অচেনা মেয়েটা—
যার চোখে ঈশা প্রথমবার নিজেকে খুঁজে পেয়েছিল।
বৃষ্টি থামার পরেও শহরের রাস্তা ভিজে রইল।
পানির ওপর ঝিলমিল আলো, রিকশার চাকায় ছলছল শব্দ,
আর হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে ভিজে মাটির গন্ধ — সেই গন্ধটা মেহেরার খুব প্রিয়।
কারণ ওর জীবনে বৃষ্টি মানে শুধু ভেজা নয়, একটা মুক্তি।
মেহেরা চুপচাপ হাঁটছিল গলি পেরিয়ে নিজের ছোট্ট পাড়া “মৌলালির মোড়”-এর দিকে।
চুলে এখনো বৃষ্টির জল শুকোয়নি, চোখের পাতায় লেগে থাকা ক’টা ফোঁটা
মিশে গেছে ক্লান্তির সঙ্গে।
গায়ে পুরোনো নীল শাল, যেটা ওর মা-র পুরনো দিনের স্মৃতি।
প্রতিদিনের মতো আজও ও লাইব্রেরি থেকে ফেরে সন্ধের দিকে,
কিন্তু আজকের দিনটা অন্যরকম লাগছিল।
আজ ওর মনে হচ্ছিল,
কেউ যেন চোখের সামনে একটা জানলা খুলে দিয়েছে —
সেই জানলা দিয়ে হাওয়ার সঙ্গে ঢুকে পড়েছে এক অচেনা মুখ।
ঈশা সেনগুপ্ত।
ও জানে না মেয়েটা কে,
কিন্তু যেভাবে সে ছাতা বাড়িয়ে দিয়েছিল,
যেভাবে বলেছিল — “দয়া না, অভ্যেস বদলানোর চেষ্টা”—
সেই কথাটা এখনো কানে বাজছে।
মেহেরা জানে, শহরে এমন মানুষ খুব কম থাকে
যারা অন্যের ভিজে যাওয়া দেখে নিজের ছাতা ভাগ করে নেয়।
তবু, ওর অভ্যেসই ওকে সন্দেহপ্রবণ করে তুলেছিল।
কারণ ওর জীবনটা এতটা সহজ ছিল না।
মেহেরা বড় হয়েছে উত্তর কলকাতার এক ভাড়া বাড়িতে।
বাবা মদে আসক্ত, মা গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করতেন।
ছোটবেলায় স্কুলে পড়ার সময়ই মেহেরা শিখে ফেলেছিল—
জীবন কাউকে বিনা মূল্যে কিছু দেয় না।
পড়াশোনা শেষ করে অনেক কষ্টে একটা লাইব্রেরিতে কাজ পেয়েছিল—
হাজার টাকার অল্প বেতন, কিন্তু শান্ত একটা কোণ।
বইয়ের গন্ধে ওর মনে হতো—
জীবনের কোলাহল থেকে একটু দূরে একটা নিজস্ব পৃথিবী আছে ওরও।
তবুও মাঝে মাঝে বৃষ্টির দিনে,
জানলার পাশে দাঁড়িয়ে ওর মন চায়—
কেউ যেন এসে বলে, “ভিজে যেও না, আমি আছি।”
কিন্তু কেউ আসে না।
বৃষ্টিও তখন যেন একাকিত্বের মতো দীর্ঘ হয়।
সেদিনের দুপুরটা তাই ওর মনে গেঁথে রইল।
ঈশার চোখে যেভাবে ওর দিকে তাকিয়েছিল—
সে দৃষ্টি শুধু কৌতূহল নয়, যেন কিছু বোঝার চেষ্টা।
কিন্তু মেহেরা বোঝেনি, সেটা দয়া না ভালোবাসার সূচনা।
দুই সপ্তাহ কেটে গেছে।
বৃষ্টি এখন অনেকটা কমেছে,
কিন্তু মেহেরার ভেতরে যেন সেই দিনের জলরঙ শুকোয়নি।
লাইব্রেরির টেবিলে বসে বই সাজাতে সাজাতে
ওর চোখে বারবার ঈশার মুখ ভেসে ওঠে।
ঠিক এমন সময়,
লাইব্রেরির মালকিন—সন্দীপা দে,
একটা খবর দিলেন—
“মেহেরা, একটা নতুন প্রজেক্টের জন্য আমাদের পার্টনার কোম্পানিতে লোক নিচ্ছে।
তুই ইন্টারভিউ দিতে যাবি? ভালো সুযোগ হতে পারে।”
মেহেরা অবাক, “আমি পারব?”
“পারবি কেন না? তুই তো পরিশ্রমী, আর বইপড়ায় স্মার্টও।”
মেহেরা পরের দিনই রেজিউম প্রিন্ট করে নিল।
মাথায় কোনো আশার জাল নেই, শুধু ভাবল—
“চেষ্টা করব, যদি একটু উন্নতি হয়।”
ইন্টারভিউয়ের দিনটা ছিল আবার বৃষ্টিভেজা।
সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ।
হাওয়ায় একরকম ঠান্ডা গন্ধ,
যেন পুরনো স্মৃতির দরজা খুলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
কোম্পানির নাম — SenGupta Finance & Holdings.
মেহেরা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বোর্ডটা পড়ল।
“সেনগুপ্ত...” নামটা শুনেই বুকের ভেতর হালকা কাঁপন লাগল।
যদি... যদি সেই মেয়েটা এখানেই থাকে?
কিন্তু নিজের মনে বলল, “না, কাকতালীয় কিছু নয়।”
তারপর সাহস করে ভেতরে ঢুকল।
রিসেপশন থেকে ওকে এক কাঁচঘেরা ঘরে নিয়ে গেল।
ঘরে ঘড়ির কাঁটা থেমে আছে যেন।
একটা নরম সুগন্ধ, কিছু নরম আলো—
আর টেবিলের ওপারে বসে থাকা ঈশা সেনগুপ্ত।
দুজনের চোখ আবার মিলল।
সময় থেমে গেল।
বৃষ্টির শব্দ নেই, কিন্তু ভেতরে কোথাও যেন ছাতা খুলে গেল নিঃশব্দে।
ঈশা ধীরে বলল,
“তুমি… মেহেরা, তাই তো?”
মেহেরা বিস্ময়ে বলল,
“আপনি… আপনি সেদিনের…”
দুজনেই চুপ।
বৃষ্টির মতো নরম নীরবতা ঝরে পড়ল তাদের মাঝখানে।
ইন্টারভিউ শুরু হলো, কিন্তু প্রশ্ন-উত্তরের বদলে
দুজনের মধ্যে জমে উঠল অন্য এক ধরণের আলাপ।
“তুমি বৃষ্টি পছন্দ করো?” ঈশা জিজ্ঞেস করল।
“হ্যাঁ,” মেহেরা বলল, “বৃষ্টি আমার একমাত্র বন্ধু।”
“আমারও,” ঈশা হেসে বলল, “বৃষ্টি আমার সব কিছু নিয়ে নেয়, আবার ফেরতও দেয়।”
এই কথায় মেহেরার মনে হলো—
এই মেয়েটা অন্যরকম।
এর চোখে ঠান্ডা দৃষ্টি নেই, আছে এক অদ্ভুত উষ্ণতা,
যা ওর মনকে ধীরে ধীরে গলিয়ে দিচ্ছে।
কিছুক্ষণের মধ্যে ইন্টারভিউ শেষ।
ঈশা বলল, “তুমি কাল থেকে কাজ শুরু করতে পারো।”
মেহেরা হতভম্ব। “আমি... পেয়ে গেছি?”
“হ্যাঁ,” ঈশা বলল, “তুমি এই শহরের মতো—চুপচাপ, কিন্তু স্থির। আমার টিমে এমন কাউকেই চাই।”
কাজের প্রথম দিনটা মেহেরার কাছে যেন নতুন সূর্যোদয়।
অফিসের জানলায় বৃষ্টির দাগ শুকিয়ে গেলেও,
মনের কোণে রয়ে গেল এক ভেজা ছায়া।
ঈশা আর ও এখন এক জায়গায় কাজ করে,
কিন্তু ঈশা সবসময় দূরত্ব রেখে চলে।
তবুও, মাঝে মাঝে চোখে চোখ পড়লে,
মেহেরা অনুভব করে—
ঈশার দৃষ্টিতে এমন কিছু আছে যা শব্দে ধরা যায় না।
হয়তো সেটা যত্ন, হয়তো আকর্ষণ,
বা হয়তো দুটোরই মিশ্রণ।
একদিন বিকেলে অফিস প্রায় ফাঁকা।
বাইরে আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
সবাই বেরিয়ে গেছে,
শুধু ঈশা নিজের কেবিনে কিছু কাজ করছে।
মেহেরা চুপচাপ ফাইল নিয়ে ঢুকল,
বৃষ্টির আলোয় কাচের জানলায় ঝিলিক দিচ্ছে জলবিন্দু।
“তুমি এখনও গেলে না?” ঈশা জিজ্ঞেস করল।
“ফাইলটা জমা দিতে এসেছিলাম,” মেহেরা বলল।
ঈশা উঠে দাঁড়াল,
জানলার কাছে গিয়ে বলল—
“দেখো, আজও বৃষ্টি।”
মেহেরা কাছে গেল।
দুজনেই এক জানলার সামনে দাঁড়িয়ে।
জলবিন্দু গড়িয়ে পড়ছে কাচ বেয়ে,
আর ওদের মধ্যে নিঃশব্দ এক কথোপকথন চলতে লাগল—
চোখে, নিঃশ্বাসে, নীরবতায়।
ঈশা বলল,
“তুমি জানো, বৃষ্টির মধ্যে প্রথম তোমাকে দেখেছিলাম,
সেদিন থেকে মনে হচ্ছিল তোমার সঙ্গে আবার দেখা হবেই।”
মেহেরা চুপ।
ওর বুকের মধ্যে যেন ঢেউ উঠছে,
কিন্তু ওর ঠোঁটের কোণে শুধু হালকা হাসি।
“ভাগ্য হয়তো তোমার কথা শুনে ফেলেছিল,” ও বলল ধীরে।
ঈশা তাকিয়ে রইল মেহেরার দিকে।
চোখে এক নরম আলো,
যেন বহুদিনের খোঁজ শেষ হলো আজ।
হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকালো, ঘরটা অন্ধকারে ডুবে গেল এক মুহূর্তে।
বাইরে বজ্রপাতের শব্দ।
ঈশা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেহেরার হাত ধরল।
মেহেরা কেঁপে উঠল, কিন্তু হাত ছাড়াল না।
দুজনের হাত একসঙ্গে,
বৃষ্টির শব্দের সঙ্গে মিশে গেল হৃদস্পন্দন।
নীরবতা তখন আর খালি ছিল না—
তার ভেতর বেঁচে উঠেছিল কিছু অনুচ্চারিত অনুভূতি।
বাতি ফিরে এলো, আলো আবার ঘরে ভরল,
কিন্তু ঈশা আর মেহেরার চোখে তখনও সেই আলো স্থির হয়ে আছে।
“চলো,” ঈশা বলল হঠাৎ, “তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দিই।”
“না, লাগবে না—আমি অভ্যস্ত।”
“তুমি সবকিছুতেই অভ্যস্ত, তাই না?” ঈশার কণ্ঠে এক মৃদু ব্যথা।
“অভ্যেস মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে,” মেহেরা বলল।
ঈশা কিছু বলল না।
শুধু জানলার বাইরে তাকিয়ে রইল—
বৃষ্টির ফোঁটার মতোই দুজনের কথাগুলো মিলিয়ে গেল নীরবতায়।
রাত গভীর হলো।
ঈশা বাড়ি ফিরে জানলার পাশে দাঁড়িয়ে রইল।
বৃষ্টি তখনও পড়ছে, কিন্তু ভেতরে এক অদ্ভুত প্রশান্তি।
ও জানে না, কী নাম দেবে এই টানকে—
ভালোবাসা? কৌতূহল? না কি এক অসমাপ্ত প্রার্থনা?
অন্যদিকে মেহেরাও ছাদে গিয়ে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থাকে।
চোখ বন্ধ করলে এখন ঈশার মুখ ভেসে ওঠে।
ও ভাবে—
“ভালোবাসা যদি সত্যিই থাকে, তাহলে সমাজের নিয়ম ভেঙে
দু’জন মানুষের চোখের দৃষ্টি কি তা বোঝাতে পারে?”
বৃষ্টি নেমে আসে আবার।
আকাশ আর মাটি মিলিয়ে দেয় সব সীমানা।
আর সেই সীমানাহীন বৃষ্টির মধ্যে
দু’জন মেয়ে—একজন ধনী, এক জন সাধারণ—
ধীরে ধীরে খুঁজে পেতে শুরু করে একে অপরের পৃথিবী।
চলবে ____