পর্ব - ৩
রুদ্র অবাক নয়নে কিছুক্ষণ তানিষ্কার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে নিজের পোশাক বদলে সোফায় বসে কিছুক্ষন আগের কথা ভাবতে থাকে । তানিষ্কা ফ্রেস হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসলে রুদ্র ফ্রেস হতে চলে যায় ।
রুদ্র ফ্রেস হয়ে বাইরে বেরিয়ে দেখে ওর আনা এগ্রিমেন্ট পেপারটা সই করে টেবিলের ওপর রেখে তার উপর একটা কাঁচের গ্লাস রাখা আছে , খাটে গোলাপের পাপড়ি দিয়ে হার্ট সেপ করে রেখে ছিল সেগুলো খাটের এক কোনে জড়ো করে রেখে তানিষ্কা বিছানায় একদিকে শুয়ে আছে। রুদ্র বালিশ নিয়ে সোফায় শুতে যাবে এমন সময় তানিষ্কা বলে উঠলো,
তানিষ্কা- আপনি বিছানায় শুতে পারেন ।
রুদ্র - না না ঠিক আছে আমি সোফাতেই শুয়ে পড়বো।
তানিষ্কা- এটা তো আর কোনো বাংলা সিনেমা নয় যে এই কিং সাইজের বেডের দু ধারে দুটো মানুষ শুলেই তাদের মধ্যে প্রেম ভালোবসার সৃষ্টি হবে।
রুদ্র- আমি সেটা সেটা কখন বললাম?
তানিষ্কা - তো বিছানায় শুয়ে পড়ুন, ওই 4 ফুটের সোফায় নিশ্চই আপনার এই পাহাড় সমান দেহটা ধরবে না।
রুদ্র আর কথা না বাড়িয়ে বিছানার এক ধারে শুয়ে পড়ল।
_____________
পরের দিন সকালবেলা ,
রুদ্র ঘুম থেকে উঠে দেখল তানিষ্কা স্নান সেরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কিছু একটা করছে। উঠে বসে তানিষ্কা দিকে তাকিয়ে দেখল কিন্তু তানিষ্কা যে কি করছে কিছুই বুঝতে পারল না তাই জিজ্ঞাসা করল ,
রুদ্র - আপনি কি করছেন তানিষ্কা?
তানিষ্কা - আপনিই তো কাল বললেন যে বাড়ির সবার সামনে আমাদের ছমাসের জন্য স্বাভাবিক স্বামী-স্ত্রীর নাটক করতে হবে। তাই এই ব্যবস্থা …
রুদ্র - এই ব্যবস্থা মানে ? বোতল দিয়ে গলার কাছে ক্ষত করে সেটাকে আপনি স্বাভাবিক স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের সাথে তুলনা কিভাবে করছো ?
তানিষ্কা - আপনি যেটা জানেন না সেটা নিয়ে দয়া করে কথা বলবেন না ।
রুদ্র - আপনি যে কি করেন ? আপনার মাথায় কি চলে সেটা একমাত্র ভগবানই জানে।
তানিষ্কা - হ্যাঁ আর আমি যত দূর জানি ফুলশয্যার পরের দিন সকালবেলা সবাই একটু আধটু ক্ষতবিক্ষত হয়েই থাকে । তাই নয় কি?
রুদ্র তানিষ্কা কথায় এবার মাথা নিচু করে নিল আর বুঝতেও পারল যে তানিষ্কা কেন নিজের গলায় ক্ষত চিহ্ন করতে চাইছে আর মনে মনে ভাবল সত্যিই তো ফুলশয্যার পরের দিন সবাই যদি দেখে ওদের মাঝে কিছুই হয়নি তবে সবার মনে সন্দেহ আসতেই পারে।
তারপর নিজে ফ্রেশ হতে চলে যায় আর কারো মধ্যে কোন কথা হয় নি তানিষ্কা ঘর থেকে বেরিয়ে নিচে ডাইনিং টেবিলের কাছে চলে যায়। সবাই ব্রেকফাস্ট করছিল তানিষ্কা আসতে সবাই ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছিল তানিষ্কা জানত এমনটাই হবে ও একটু লজ্জা পাওয়ার ভান করল কারণ এই সময় এটা খুবই স্বাভাবিক যে একজন সদ্য বিবাহিত স্ত্রী লজ্জা পাবে। যদিও এটা নিতান্তই একটা নাটক মাত্র।
খাবার জন্য চেয়ার টেনে বসতেই রুদ্রর বোন বলল ,
অনামিকা - কাল ঘুম কেমন হলো বৌদি ভাই ?
কথাটা যে তানিষ্কা কে টিস মেরে বলল এটা তানিষ্কা খুব ভালোভাবেই জানে কিন্তু মুখে কিছু না বলে মাথা নিচু করে খাওয়ায় মন দিল এমন একটা ভাব করল যেন ওকে খুবই লজ্জায় পরতে হয়েছে। রুদ্রর মা আর কিছু না বলে আবার কিচেনে ফিরে গেলে । রুদ্র নিচে নামতে সবাই ওর দিকে তাকিও মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো । রুদ্র কি হয়েছে কিছুই বুঝতে পারল না তারপর খেয়ে নিয়ে আবার নিজের ঘরে চলে গেল কারণ রুদ্রর মা রুদ্রকে বলেছে যে আজ দিনটা বাড়ি থেকে আর বেরোবার দরকার নেই।
***†**ক্রমশ**†***