Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

কালো খামের রহস্য - Part 1

কলকাতার বালিগঞ্জের এক পুরনো বাড়ির বারান্দায় বসে Feluda শান্তভাবে চা খাচ্ছিলেন , সামনে খোলা খবরের কাগজ , আর পাশে আমি— তোপসে— একটা ম্যাগাজিন উল্টেপাল্টে দেখছিলাম , সকালটা একদম সাধারণই ছিল যতক্ষণ না দরজায় টোকা পড়ল , নিচে থেকে এক কুরিয়ার ছেলের গলা ভেসে এল “ চিঠি আছে ”.

আমি দরজা খুলে খামটা হাতে নিয়ে প্রথমেই থমকে গেলাম কারণ খামটা পুরো কালো , কোনো প্রেরকের নাম নেই , শুধু লাল কালি দিয়ে লেখা “ফেলুদা” , খামটা হাতে নিয়ে ফেলুদা একবার তাকিয়েই মৃদু হাসলেন “যে পাঠিয়েছে সে চায় প্রথমেই আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে” ,
আমি বললাম “ ভেতরে কী আছে? ”

ফেলুদা ধীরে খামটা খুলে কাগজটা বের করলেন , পড়ে শোনালেন “ তুমি কি সত্যিই সেরা গোয়েন্দা ? তাহলে আমাকে খুঁজে বের করো , সাত দিনের মধ্যে না পারলে একজন মরবে , খেলা শুরু করো—পুরনো ঘড়ির নিচে ”,

কথাগুলো শুনে আমার গায়ে কাঁটা দিল , আমি বললাম “ এটা তো স্পষ্ট হুমকি !”, ফেলুদা চায়ের কাপ নামিয়ে শান্ত গলায় বললেন “ হুমকি নয় তোপসে , এটা চ্যালেঞ্জ , আর যিনি দিয়েছেন তিনি নিজের বুদ্ধির ওপর ভীষণ আত্মবিশ্বাসী‌ ”, আমি বললাম “ আমাদের পুলিশে জানানো উচিত ?” , ফেলুদা মাথা নেড়ে বললেন “ এখনই নয় , আগে দেখি খেলাটা আমাদের কোথায় নিয়ে যায় ”।

তারপর কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বললেন “ পুরনো ঘড়ির নিচে—এই ক্লুটার মধ্যে খুব সূক্ষ্ম একটা দিক আছে , কলকাতায় অনেক পুরনো ঘড়ি আছে কিন্তু ‘নিচে’ শব্দটা বলছে যে কিছু একটা লুকোনো আছে যা সাধারণ চোখে ধরা পড়ে না ”

আমি বললাম “ তাহলে কোথায় যাব ?”, ফেলুদা হালকা হাসলেন “ যেখানে সবাই যায় কিন্তু কেউ কিছু খেয়াল করে না—এই ধরনের জায়গা বেছে নেয় বুদ্ধিমান অপরাধীরা ”

তারপর এক মুহূর্তও দেরি না করে উঠে দাঁড়ালেন “ চল, শোভাবাজার রাজবাড়ি ”, আমরা ট্যাক্সি নিয়ে পৌঁছে গেলাম , সেই বিশাল পেন্ডুলাম ঘড়িটার সামনে দাঁড়াতেই ফেলুদা নিচু হয়ে চারপাশে তাকালেন , ধুলো জমে আছে , বহুদিন কেউ এখানে খেয়াল করে না , তিনি বললেন “ দেখছিস ? এই ধরনের জায়গাতেই ক্লু রাখা হয় ”

আমি নিচে হাত ঢুকিয়ে একটা ছোট কালো বাক্স বের করলাম , ফেলুদা সেটা খুলে দেখলেন একটা পেনড্রাইভ আর একটা কাগজ , তাতে লেখা “ ভালো শুরু করেছো , এবার দেখো—যেখানে সবাই দেখে কিন্তু কেউ খেয়াল করে না ”, আমি একটু বিরক্ত হয়ে বললাম “ আবার একই কথা! ”

ফেলুদা বললেন “ না, এটা একই নয়, এটা আমাদের পরের ধাপে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত ”, আমরা বাড়ি ফিরে পেনড্রাইভটা চালালাম , স্ক্রিনে একজন মুখ ঢাকা লোক , কণ্ঠস্বর ঠান্ডা আর নিয়ন্ত্রিত , সে বলল “ ফেলুদা, তুমি প্রত্যাশা মতোই এগোচ্ছো ”, আমি ফিসফিস করে বললাম “ ও আমাদের নামও জানে! ”,

ফেলুদা শান্তভাবে বললেন “ জানবেই, না হলে এই খেলা শুরু করত না ”, ভিডিওতে লোকটা বলল “ এটা খেলা নয়, বিচার, যারা অপরাধ করে কিন্তু শাস্তি পায় না তাদের জন্য আমি আছি ”, ফেলুদা নিচু গলায় বললেন “ স্বঘোষিত বিচারক — সবচেয়ে বিপজ্জনক ধরনের অপরাধী ”

লোকটা বলল “ তোমার প্রথম টার্গেট—অমিতাভ দত্ত ”, নামটা শুনে ফেলুদা বললেন “ সে তো একজন ব্যবসায়ী , অনেক অভিযোগ কিন্তু প্রমাণ নেই — এই ধরনের লোকদের নিয়েই এদের আগ্রহ থাকে ”, ভিডিও শেষ হওয়ার আগে লোকটা বলল “ সাত দিন, না পারলে মৃত্যু ”, স্ক্রিন অন্ধকার হয়ে গেল , ঘরে একটা চাপা নীরবতা নেমে এল

আমি বললাম “ এখন কী? ”, ফেলুদা চুপ করে কিছুক্ষণ ভেবে বললেন “ দ্বিতীয় ক্লু—যেখানে সবাই দেখে কিন্তু কেউ খেয়াল করে না—এটা এমন জায়গা যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক যায় কিন্তু কেউ খুঁটিনাটি লক্ষ্য করে না ”

আমি বললাম “ হাওড়া ব্রিজ? ”, ফেলুদা সঙ্গে সঙ্গে বললেন “ ঠিক তাই ”, আমরা সন্ধ্যায় সেখানে গেলাম , ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে ফেলুদা চারপাশে তাকাচ্ছিলেন , হঠাৎ তিনি বললেন “ ওইদিকে দেখ ”, আমি তাকিয়ে দেখলাম রেলিংয়ের গায়ে একটা ছোট কালো স্টিকার , ফেলুদা সেটা খুলে কাগজ বের করলেন , তাতে লেখা “ তুমি খুব কাছাকাছি, কিন্তু সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে ”

আর নিচে একটা ঠিকানা লেখা , আমরা দেরি না করে সেখানে পৌঁছালাম , একটা পুরনো ফ্ল্যাট , দরজা আধখোলা , ভেতরে ঢুকতেই একটা তীব্র গন্ধ এলো , আমি নাক চেপে ধরলাম , ফেলুদা ধীরে এগিয়ে গিয়ে থেমে গেলেন , মেঝেতে একজন লোক পড়ে আছে রক্তে ভেজা , আমি চমকে বললাম “ এইটা কি অমিতাভ দত্ত ?”

ফেলুদা নিচু হয়ে দেখে বললেন “ হ্যাঁ, কিন্তু খেয়াল কর — দেহটা এমনভাবে রাখা হয়েছে যেন আমরা একে খুঁজে পাই , মানে খুনি আমাদের পথ দেখাচ্ছে ”, মৃতদেহের হাত থেকে একটা কাগজ বের করে ফেলুদা পড়লেন “ এটা ছিল প্রথম, এখন আসল খেলা শুরু ”, 

ঠিক তখনই দরজা ধড়াম করে বন্ধ হয়ে গেল , অন্ধকার থেকে একটা কণ্ঠস্বর ভেসে এল “ স্বাগতম ফেলুদা… ”, ফেলুদা একটুও বিচলিত না হয়ে বললেন “ আপনি সামনে আসুন ”

কণ্ঠস্বর হালকা হেসে বলল “ গোয়েন্দা, তুমি ঠিক পথেই আছো… কিন্তু শেষটা হয়তো তোমার পছন্দ হবে না ”, আর সেই মুহূর্তে আমার মনে হল—এই কেস শুধু একটা রহস্য নয়, এটা একটা বুদ্ধির লড়াই, আর সেই লড়াইয়ে ফেলুদাকে হারাতে কেউ একজন মরিয়া হয়ে উঠেছে ।



🔥 গল্পটা ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাও কেমন লাগলো!
👍 এমন আরও রহস্যময় গল্প পেতে এখনই ফলো করে রাখো
💬 তোমার ফেভারিট অংশ কোনটা—কমেন্টে লিখতে ভুলো না
🔔 বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো, সবাই মিলে রহস্যটা সলভ করি!