এক সন্দুর মুহূর্ত দিয়ে ঐশীর সময় পার হয়। আজকের বৃষ্টি এতই ভিন্ন যে, ঐশীর জীবনে এমন কোনো বৃষ্টি নেই যা সে ভেজেনি। মেঘলা আকাশ, ঘন কালো মেঘ আর ঠান্ডা বাতাস।
আকাশ জুড়ে জমে থাকা কালো মেঘ ধীরে ধীরে ফেটে পড়ছে টুপটাপ বৃষ্টির ফোঁটা। চারপাশ যেন ভিজে উঠেছে নতুন প্রাণের ছোঁয়ায়। গাছের পাতায় জমে থাকা ফোঁটা ঝিকমিক করছে মুক্তার মতো, বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মাটির সোঁদা গন্ধ। মাঠে জমে থাকা পানিতে ঢেউ খেলছে হালকা দমকা হাওয়ায়। দূরে কাক, শালিক আর দোয়েল ভিজে পাখা ঝাড়ছে। কচি ঘাসে জলের ছিটে লেগে যেন আরও সবুজ হয়ে উঠেছে প্রকৃতি।
নদীর তীরে টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ যেন এক অদ্ভুত সুর তোলে। খালবিলে জমে থাকা পানিতে ব্যাঙ ডেকে ওঠে আনন্দের গান। গ্রামবাংলার মাটির ঘর, টিনের চাল বা খড়ের ছাউনি বৃষ্টির শব্দে মুখর হয়ে ওঠে। মনে হয়, প্রকৃতি যেন নতুন করে তার রূপ সাজিয়েছে।
ঝিরঝিরে বৃষ্টির ভিজে এক অপূর্ব সুন্দরী মেয়ে যেন প্রকৃতির সাথে মিশে গেছে। তার সাদা দুধের মতো ত্বক বৃষ্টির ফোঁটায় আরও দীপ্তিময়। ভেজা চুলগুলো কাঁধ বেয়ে ঝরে পড়ছে, প্রতিটি ফোঁটা তার গাল ছুঁয়ে নেমে আসছে যেন মুক্তোর দানা। চোখ দুটো গভীর সমুদ্রের মতো, ভিজে ওঠার কারণে আরও টলমলে—যেন এক অজানা গল্প লুকিয়ে রেখেছে। ঠোঁটে হালকা হাসি, কিন্তু বৃষ্টির ছোঁয়ায় সেই হাসি স্বপ্নময়। ভেজা পোশাকে তার আকার যেন প্রকৃতির সৌন্দর্যের নিখুঁত চিত্র। চারপাশে বৃষ্টি, অথচ তার সৌন্দর্যই সবচেয়ে উজ্জ্বল।
নীলিমা চৌধুরীর ডাকে ঐশীর ধ্যান ভেঙে যায়।
—“ঐশী, কতক্ষণ লাগবে নীচে নামতে? নাস্তা ঠান্ডা হয়ে যাবে। আর বৃষ্টি তো তুমিই দেখছ, সাইনাসের সমস্যা মনে আছে!”
ঐশী তাড়াতাড়ি নীচে নামে। উজু করে ফজরের নামাজ আদায় করে। চৌধুরী বাড়ির বিশাল ডাইনিং রুম পেরিয়ে খাবার টেবিলে আসে। হালকা নাস্তা খায় এবং তিন তলার সিঁড়ি পেড়ে নিজ রুমে চলে যায়। বই নিয়ে রিভাইস শুরু। সময় চলে যায়, পড়াশোনা শেষ হয় না।
সকালের আকাশে নরম ধূসর মেঘ, হালকা আলো ভেদ করে সূর্যের আভা উঁকি দিচ্ছে। ঝিরঝিরে বৃষ্টির ফোঁটা মাটিকে ভিজিয়ে তুলছে। গাছপালার পাতায় যেন মুক্তোর মতো জ্বলজ্বল করছে জলকণা।
চারপাশে অদ্ভুত শান্তি, কিন্তু সেই শান্তির মাঝে পাখিদের কলরব ভেসে আসে—শালিক, দোয়েল, বাবুই, চড়ুই, সবাই মিলে যেন নতুন দিনের গান গাইছে। রাস্তার মোড়ে মানুষের চলাফেরা, কারও তাড়াহুড়ো, কারও ধীর পদক্ষেপ। চায়ের দোকান থেকে ভেসে আসছে ধোঁয়া ওঠা চায়ের গন্ধ। রিকশার চাকায় জমে থাকা জল ছিটকে পড়ছে।
মাটির গন্ধ, বৃষ্টির শব্দ, পাখির ডাক, মানুষের কোলাহল মিলেমিশে সকালের এক অনন্য সুর গঠন করেছে।
বইয়ের মাঝে মনোযোগ, বাইরের পৃথিবী যেন তার কাছে নেই। পড়তে পড়তে কখন যে ৯টা বাজল খেয়াল নেই। হঠাৎ দরজায় কড়াঘাত পড়ে, ঐশীর পড়াশোনা ব্যাঘাত ঘটে। সে মুচকি হাসি দিয়ে পিছনে তাকায়। দরজার ফাঁক দিয়ে আলো এসে পড়ে, এবং সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক সুদর্শন পুরুষ।
পুরুষটির উচ্চতা দরজার কাঠামো ছাপিয়ে গেছে। গায়ে হালকা নীল শার্ট, হাতা গুটানো, আর জিন্স। তার চুল এলোমেলো, বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে, অথচ সেই অগোছালোভাবেই আলাদা সৌন্দর্য। চোখ দুটো গভীর এবং স্বচ্ছ, যেন সমুদ্রের ঢেউ। ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি, নির্ভরতা, উষ্ণতা ও আকর্ষণ ছড়াচ্ছে।
ঐশী লাজুক হেসে বললো—
—“ভাইয়া, আজ আপনাকে দেখছি… মনে হচ্ছে আমি বৃষ্টির সঙ্গে আকাশও ভিজাচ্ছি!”
রাশিক চোখ বড় করে—
—“হাহ! বৃষ্টি ভিজাবে? ওহ, তাই তো আমার দুষ্টু বনু আবার ঝকঝকে চোখে ঝলক দিচ্ছে!”
ঐশী ঠোঁট কুঁচকে—
—“না না! শুধু সত্যি বললাম, তবে আজ একটু ঝকঝকে লাগছেন।”
রাশিক হেসে—
—“ঝকঝকে? আমার দুষ্টু বনু জানে না, ঝকঝকে হলে আমি আরও ফানি হয়ে যাই!”
ঐশী হেসে—
—“ভাইয়া, চোখে চোখ পড়ছে, আর আমি শান্ত থাকতে পারছি না!”
রাশিক চোখে কৌতূহল ঝলক দিয়ে—
—“শান্তি? আচ্ছা, আগে নাস্তা খাও, তারপর আমি দেখাব তোমার শান্তি কতটা ফানি হতে পারে!”
ঐশী—“ভাইয়া, আমি তো খেয়েছি, আর কিছু পারব না।”
রাশিক—“ঠিক আছে, তবে দেখি সত্যিই খেয়েছ কি না। দুষ্টুমি দেখলে তো আরও মজা হবে।”
ঐশী লাজুক হেসে—
—“আপনি নিজেই দুষ্টুমি করছেন, আমি তো শুধু প্রতিরক্ষা করছি।”
রাশিক—“প্রতিরক্ষা? ওহ, তখন আমি আরও দুষ্টুমি করব। সাবধান, মারাত্মক ফানি ধামাকা আসছে!”
ঐশী চোখ বড় করে—
—“ভাইয়া! প্রতিশোধ নেব!”
রাশিক—“প্রতিশোধ? আচ্ছা, আমি প্রস্তুত। তবে ঝড় যতই ফানি হোক, আমি দাঁড়িয়ে আছি!
রাশিক হেসে—
—“ওহ, দেখছি তুমি বসেছ। তবে মনোযোগ দাও, কারণ আমি আজ মারাত্মক ফানি খুনসুটি করতে যাচ্ছি।”
ঐশী ঠোঁট চাপড়ে—
—“ভাইয়া, আমি প্রস্তুত! তবে মনে রাখবেন, আমি আপনার সঙ্গে হার মানবো না।”
রাশিক—“না, হারার কোনো ব্যাপার নেই। শুধু ফানি মজা হবে। তবে একটু সাবধান, তুমি যদি দুষ্টুমি করো, আমি আবার চোখে চোখ পড়ব!”
ঐশী লাজুক হেসে—
—“ভাইয়া, আজ আমি একদম দুষ্টু! আর আপনি কি থামাতে পারবেন?”
রাশিক—“না! থামানো অসম্ভব। তবে তোমার ফানি খুনসুটি দেখে আমি আরও মজা পাব। আচ্ছা বাদ দে। পড়াশোনা ঠিক ঠাক তো। কোনো অসুবিধা নেই।
ঐশী: না। কোনো অসুবিধা নেই। সব ঠিক ঠাক। দেখতেই তো পাড়ছেন পড়ছি।কিন্তু টেনশনে আছি কি হবে।
রাশিক: আমার বনু টা পড়াশোনা করতে করতে রোগা হয়ে যাচ্ছে।আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।আর টেনশনের কি আছে পাগলি। যেটা হবে আলহামদুলিল্লাহ ভালো হবে । পড়া শেষ তো।
ঐশী:হু।
রাশিক: চল নিচে । নাস্তা টেবিলে সবাই অপেক্ষা করছে তোর জন্য। কিছু খেয়ে নে ।
ঐশী: ভাইয়া আমি নাস্তা করেছি। আমি আর খাবো না।
রাশিক: মার না খেতে চাইলে। যা গিয়ে নাস্তা করে নে। আমি যেন দেখি নাস্তা টেবিলে তোকে।
ঐশী : একটু খানি পেট আমার। একটু আগেই নাস্তা করে ছি, আর পারবো না।
রাশিক: বুঝেছি এমনি এমনি কিছু হবে না, রাম ধোলাই খাবি। অনেক দিন মার দিইনি।
ঐশী:ভাইয়া কি হয়েছে বলেন তো। ছ্যাকা খেয়েছেন।
রাশিক:কেন রে।
ঐশী:দেবের মতোন আপনি ও এমনি এমনি করছেন। ব্যাপার কি। ডাল মে কুছ কালা হে।
রাশিক:অনেক বড়ো হয়ে গিয়েছিস। হবে তোর,দাঁরা ।
ঐশী:এমনি এমনি কিছুই হয়না সবেরি থাকে কারণ।
রাশিক: মার জানিস তো। সাদ্দাদ ভাইয়া কে বলতে হবে।
ঐশী:সরি, আর হবে না। যেটা বলবেন সেটা করবো প্লিস।
রাশিক কি একটা ভেবে বল্লো"আগে নাস্তা করে নে কিছু বলবো না চল"
দুই ভাই বন গল্প করতে করতে নাস্তা টেবিলের উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়।
চৌধুরী বাড়ির বিশাল বড় নাস্তা টেবিলে আগমন ঘটে ঐশী ও রাশিকের। সবাই আগে থেকেই ঐশী আর রাশিক এর অপেক্ষা ছিল। বৃহও বড়ো টেবিল টাই একটি চিয়ার ফাঁকা। ও একটি চিয়ার তার জায়গা থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ঐশী বড়াবড়ই তার বাবার পাশের চিয়ার গিয়ে বসে। আজ ও তার ব্যাতিক্রম না।
Happy Reading☺
To be continue😅