সকালের কোমল রোদ জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়েছে। চারদিকে পাখির কলকাকলি, হালকা বাতাসে পর্দা দুলছে। পরিবারের সবাই একসাথে নাস্তার টেবিলে বসেছে। টেবিলে ধোঁয়া ওঠা গরম গরম চা, ব্রেট,জ্যাম,পরোটা, ডিম ভাজি, ফল আর মিষ্টি গন্ধে ভরে উঠেছে পরিবেশ।
সাহাদ চৌধুরী পত্রিকা পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে গল্প শোনাচ্ছেন, রুবাইয়া চৌধুরী সবার পছন্দমতো খাবার তুলে দিচ্ছেন। নীলিমা চৌধুরী আর রাসমিকা চৌধুরী রান্না ঘর থেকে খাবারের পাএ গুলি টেবিলে রাখার ব্যাবস্থা করছেন। সাদমান চৌধুরী গরম চা কাপে চুমুক দিচ্ছে। এহসান চৌধুরী বাচ্ছাদের সাথে হাসি-ঠাট্টা করছে, নিজেদের গল্প বলছে, আবার মাঝে মাঝে খাবার নিয়ে মজার খুনসুটিও চলছে তিন ভাই বনের মধ্যে।
এই মুহূর্তটা শুধু খাবারের জন্য নয়, ভালোবাসা আর একসাথে থাকার আনন্দের জন্যও বিশেষ। সকালের এই শান্ত-আনন্দময় সবার সাথে করা নাস্তা যেন সারা দিনের বিশ্বাস, শক্তি আর ভালোবাসার উৎস।
সাহাদ চৌধুরী ঐশী কে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন। "ঐশী আম্মু পরীক্ষার প্রস্তুতি কেমন সব ঠিকঠাক তো,কোনো অসুবিধা নেই" পড়নে তার সাদা পানঞ্জাবি ও সাদা লুঙ্গি, উজ্বল ফর্সা রং পান খেয়ে জিহ্বা এবং ঠোঁট রক্ত জবার মতো লাল, বয়স ৬০ এর কাছে হলেও শরীরে বৃদ্ধ বয়সের ছিটেফোঁটাও নেই, এখন ও যুবক বলা য়ায়, শুধু চুল-দাড়ি সাদা হয়ে গেছে,লম্বায় ৫.৭ ইঞ্চি। ঐশী উত্তর দেয় "জ্বি বড় আব্বু। সব ঠিকঠাক আছে"। "ভালো করে পড়াশনা করো আমি জানি আমার মামুনি গোল্ড পাবে। এমনি থেকে ও ঐশী আম্মা ক্লাস এ ফাস্ট গার্ল, আমার পুরো বিশ্বাস আছে"। সাহাদ চৌধুরীর কথায় এহসান চৌধুরী বলে উঠে "মেয়ে কার দেখতে হবে তো" ওহ, আমাদের মেয়ে না, আমরা ও ঐশী আম্মু কে খুব ভালোবাসি। সাদমান চৌধুরী ও সাহাদ চৌধুরীর কথায় সাই জানালো। এহসান চৌধুরী ভাই দের দিকে তাকিয়ে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল কি বলতে চেয়েছিল আর কি হয়ে গেল। "আরে আমি তা বলতে চাইনি,আমি এটা বলতে পারি।ঐশী আমাদের সবার মেয়ে," "আপনারা আবার শুরু করেছেন, এটা কেমন কথা, এই রকম করলে আমি আর কারোর সাথে কথা বলবো না"। ঐশীর কথায় সবাই চুপ করে যায়। এটা তাদের দৈনিক দিনে কাজ'ঐশী কে নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করা'।
আগে এটা হত না যখন মাহি আপু ছিল।সবাই কত আনন্দো,মজা,ঠাট্টা,কান্না, খুশি,গল্প হত কত স্মৃতি। সাদ্দাদ ভাইয়া, রাশিক ভাইয়া, সাদ ভাইয়া, মাহি আপু, মাহিরা, রাইশা, মাইশা ,লাইবা ও ঐশী সবাই কত না আনন্দে দিন কাটাছিল। সব কেমন হয়ে গেল। অতীতের কথা ভেবে ছোট্ট অষ্টাদশীর ডাগর ডাগর আখিতে নোনা জল দেখা দিলো। মনে মনে আওড়াতে লাগলো "আই মিস ইউ মাহিরা আপু,তোমাকে খুব ভালোবাসি,যেখানে আছো ভালো থেকো ,অনেক দোয়া রইলো তোমাদের জন্য"হঠাৎ ঐশী চুলে টান পড়লো। অষ্টাদশীর মুখ কুচকে এলো আখিতে যেই নোনা জল জমা ছিল সব গাল বেয়ে পড়ে গেল। ঐশীর খুব ভালো করে জানা কাজ টা কার। ঐশী পিছনে ফিরে দেখে।
কৃত্রিম আলোতে চকচক করছে ছেলেটির হাসিখুশি মুখ। উজ্জ্বল ফর্সা সাথে গায়ে পরেছে পরিপাটি কালো রং এর শার্ট, সাথে জিন্স, একদম হালকা চাপ দাড়ি,আর কাঁধে ঝোলানো কলেজ ব্যাগ। চুলগুলো হালকা করে আঁচড়ানো, তবুও বাতাসে উড়ে গিয়ে একধরনের স্বাভাবিক আকর্ষণ তৈরি করেছে। হাতে একটা কালো ঘড়ি, আর মুখে আছে আত্মবিশ্বাসী হাসি।
ঐশীর মুখ দেখে সাদের মুখের হাসি উড়ে যায়। এক মূহুর্তের জন্য থমকে যায়। একটা অপূর্ব সুন্দর মেয়ের কান্নার পরের চেহারাটা যেন আরও বেশি হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তার লম্বা দুলতে থাকা চোখের পাপড়ির ডগায় স্বচ্ছ জলবিন্দু এখনো লেগে আছে, যেন মুক্তোর মতো ঝিকমিক করছে। চোখদুটো লালচে, কিন্তু সেই লালচেভাবেও যেন অদ্ভুত এক আকর্ষণ ছড়িয়ে আছে। গালের কোণে গড়িয়ে পড়া অশ্রুর চিহ্ন শুকিয়ে গেছে, তবে তাতে যেন এক নীরব কষ্টের রেখা আঁকা আছে। ঠোঁটদুটি কাঁপছে, যেন কথা বলতে চাইছে কিন্তু বুকের ভেতর ভারী কিছু আটকে আছে। তার মুখশ্রীতে দুঃখের পরশ থাকলেও সৌন্দর্য যেন আরও গাঢ় হয়ে উঠেছে—মেঘে ঢাকা চাঁদের মতো, দুঃখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অপূর্ব দীপ্তি।
সাদ জিব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নেয় আর আকুনি সুরে বলে উঠলো"বনু খুব জরে ব্যাথা পেয়েছো ,মাথা ব্যাথা করছে, আ'ম সরি বনু আমি ব্যাথা দিতে চাই নি"সাদ এর মনে ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। তার ফুলের মতো ছোট্টো বন টাকে কষ্ট দিয়েছে। সাদ এখনই কান্না করে দিলো। সাদ এর অবস্থা দেখে ঐশী মিষ্টি হাসি দিয়ে বল্লো "আরে ভাইয়া আমি ব্যাথা পাইনি,বৃষ্টি তে ভিজে ছিলাম তাই ঠান্ড লেগেছে"এবার সাদ এর মন সস্তি পেলো। ঐশীর মুখ দেখে হার্ট বেড়িয়ে আসার উপক্রম। "তাই বলো বনু আমার তো জান জাই জাই "।
ঐশী আর সাদ এর কথা এতক্ষণ ধরে রাশিক শুন ছিল। ঐশী কে উদ্দেশ্যে করে ধমকের কন্ঠে প্রশ্ন করে রাশিক"ঐশু তুই আবার ভিজে ছিস জানিস তো তোর সাইনাসের প্রবলেম তাহলে" ঐশী করুণ চাহনি তে পিঠ পিঠ করে তাকিয়ে থাকে রাশিকের দিকে। ঐশী কে ভালো মন্দ বলে সবাই কে বিদায় জানিয়ে,সাহাদ, সাদমান ও এহসান চৌধুরী নিজেদের কার্যালয়ে পাড়ি দিয়েছে সেই কখন। আপাতত ঐশী, রাশিক ও সাদ উপস্তিত। মা চাচি রা রান্না ঘরে । "আসলে ভাইয়া আমি ভিজতে চাইনি বিশ্বাস করেন কিন্তু বৃষ্টি ভিজিয়ে দিলো আমি তো জাস্ট ছাদে গিয়ে ছিলাম, আমি কিছু করিনি" ঐশী জানে রাশিক তাকে রাম বকুনি দেবে কেটে পড়াই ভালো। যেই না ঘড়ের উদ্দেশ্যে পা বাড়াবে । এক টা মেয়ালি কন্ঠ স্বর শুনে ঐশীর থেমে য়ায।
Happy Reading ☺
To be continue😅