Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

সুপ্ত প্রেমের আগুন - 4

সকালবেলার মৃদু আলোয় সূর্যের কিরণ সোনালি রঙে চারপাশ ভরিয়ে দিয়েছে। আকাশে হালকা মেঘের ভেসে চলা, গাছে গাছে পাখির কূজন, বাতাসে তাজা ফুলের ঘ্রাণ যেন এক অপূর্ব প্রাকৃতিক আবেশ ছড়াচ্ছে।

       এই মনোরম প্রকৃতির মাঝেই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক সুন্দরী রমণী। পরনে সাদা-নীল স্কুলড্রেস, যেন সরলতার প্রতীক। হালকা বাতাসে তার চুল উড়ে এসে মুখের কোণে খেলাচ্ছে, চোখে সূর্যের আলো পড়ায় আরও দীপ্তিময় দেখাচ্ছে তাকে। তার ঠোঁটে লাজুক হাসি, হাতে বইয়ের ব্যাগ, যেন পুরো দৃশ্যটাই প্রকৃতির সাথে একাকার হয়ে গেছে।

       মুহূর্তটা এমন মনে হয়, যেন সূর্যও থেমে তাকে আলোকিত করছে, আর প্রকৃতি তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে নীরব হয়ে আছে। 

       এতক্ষণে সবাই যে যার কাজে ব্যাস্ত। রাশিক নিজের রুমে গিয়েছে, সাদ টেবিলে বসে ফোনে ক্যাচ করছে। ঐশী কে দেখে লাইবা ছোট্ট হাসি উপহার দিল, ঐশী ও বিনিময়ে মুচকি হাসি দিল। "ঐশু আজকে আমি আর রাইশা বাবার সাথে যাব তুই কি আমাদের সাথে যাবি"লাইবা কথায় ঐশী  উওর দিল "না রে দোস্ত,রাশিক ভাইয়া দিয়ে আসবে বলেছে, তোরা চোলে যা।আমরা একটু পড়ে বেড়র হব" লাইবা ছোট করে বল্লো "ঠিক আছে তাড়াতাড়ি আসবি,বেশি দেড়ি করবি না,আল্লাহ হাফিজ" ঐশী ও আল্লাহ হাফিজ বলে বিদায় জানালো। 
  
      চৌধুরী বাড়ির তিন রন্ত সবাই কে বিদায় জানিয়ে। ঐশীর স্কুলের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছে। 

রাশিক:ঐশু তাড়াতাড়ি আই দেড়ি হয়ে যাচ্ছে। 
ঐশী:জ্বী ভাইয়া, আসছি। 
রাশিক:কয়টা বাজে দেখেছিস। ১০ বাজে। 
ঐশী:হু চলেন। 

       ঐশী গিয়ে গাড়ি তে বসে। সাদ কোথায় থেকে উড়ে এসে, ঝড়ের গতিতে গাড়ির ভেতরে বসলো "তোমরা তো আমার কলেজের পাশ দিয়ে যাবে পিল্স আমাকে একটু নামিয়ে দিয়ো" সাদ এর কথা শুনে রাশিক হতাশার শ্বাস ফেল্ল। "হু চল" রাশিকের কথায় সাদ একটা মারাত্বক হাসি দিলো। 

       কিছু মূহুর্ত পার হলো ,কিন্তু রাশিক গাড়ি স্টার্ট দিলো না। ঐশী আর সাদ বিরক্ত হচ্ছে। শেষে ঐশী চুপ থেকে বলেই দিলো "ভাইয়া গাড়ি স্টার্ট দিচ্ছেন না কেন"রাশিক আমতা আমতা করে বল্লো "আ..আসলে রাইশা আসবে তো,তাই জন্য"রাশিকের মুখে রাইশা নাম টা শুনে। ঐশী আর সাদ পুরই অবাক, ঐশী ও সাদ দু জন দুজোনার দিকে তাকায় তাদের দু জোনার চোখে চোখে কথা আদান প্রদান করে , 
মুখে বাঁকা হাসি টানে। সাদ তাচ্ছিল্য স্বরে বলে "ভাইয়া আপনি হঠাৎ রাইশার নাম কেন নিলেন আই মিন লাইবার নাম ও নিতে পারতেন শুধু রাইশা কেন"

        রাশিক খুব ভালো ভাবে বুঝতে পেরেছে ভুল মানুষের সামনে ভুল কথা বলে ফেলেছে। ঐশী আর সাদ দুজনেই এক সাথে বলে উঠলো "সামথিং সামথিং" রাশিক গুরু গম্ভির কন্ঠে বল্লো "নাথিং নাথিং" কিন্তু রাশিক ও কম জায় না, সে ও দুষ্টু হাসি নিয়ে প্রশ্ন করে "বাহ তোর ও দেখছি লাইবার নাম টা মুখস্ত কি রে তুই ও কি সামথিং সামথিং" সাদ একদম ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় কি হল এটা। সাদ এর বুঝতে সময় লাগলো।যখন বুঝলো কি হচ্ছে তার সাথে পর সে উওর দিল "না আসলে আপনি রাইশার নাম নিলেন কিন্তু লাইবার নাম না তাই বল্লাম," সাদ আর রাশিকের কথাকপনের মাঝে ঐশী বলে উঠলো "কি বলছেন আপনারা মাথা ঠিক আছে, আপনাদের থেকে কত ছোটো ওরা,  আজকে লাইবা আর রাইশা দুজনেই লাবিব চাচ্চুর সাথে যাবে "ঐশী কথা শুনে রাশিকের মুখ ছোটো হয়ে গেল। রাশিক ও কথা না বাড়িয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো। 
       
       রাস্তার দুই ধারে সবুজ গাছপালা, মাঝে লম্বা সোজা পথ। কোথাও ধুলো উড়ছে, কোথাও পাখির কিচিরমিচির শোনা যাচ্ছে। সেই পথ বেয়ে গাড়ি আপন গতিতে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছে, চাকার ঘর্ষণে উঠছে মৃদু শব্দ, যেন নিস্তব্ধ রাস্তায় জীবনের সুর বেজে উঠেছে। চারি পাশে সাঁই সাঁই করে চলছে গাড়ি । সবাই সবার কাজে ব্যাস্ত। ঐশী দের গাড়ি চলছে নির্দিষ্ট একটা স্কুলের উদ্দেশ্যে, যেখানে ঐশীর আজ পরীক্ষার সিট পড়েছে,চৌধুরী ভিলা থেকে স্কুল টির দূরত্ব প্রায়  ৩০ মিনিটের মতোন। 

       রাশিক দক্ষ হাতে ড্রাইভ করছে, ঐশী রাস্তার দিকে দৃষ্টি বদ্ধ করে আছে, সাদ ফোনে ব্যাস্ত। সবাই যানও নিরাবতা পালন করেছে। ঐশী খুব নার্ভাস , সাদ পরিস্তিতি  দেখে ফোন রাখে নিরাবতা ভেঙে করুন স্বরে প্রশ্ন ছোড়ে ঐশীর দিকে "ঐশু,আমার মনে হয় তুই ফেইল করবি দেখবি"ঐশী রাস্তা ছেড়ে সাদ এর দিকে দৃষ্টি দিলো। সাদ এর ঠোঁটে বাঁকা হাসি। ঐশী নিজেকে সামলিয়ে উওর দেয় "মটেও না, নিজে তো ৬৯% পয়েছেন। আর আমার রেজাল্ট দেখবেন। আপনার থেকে বেশি নাম্বার পাব"সাদ লজ্জায় পড়ে যায়,তার মুখ থেকে আর কোনো কথা বেড় হয় নে,কারণ ঐশীর কাছে সাদ এর রেজাল্ট কিছুই না।" আচ্ছা সাদ্দাদ ভাইয়া কবে আসবেন"। ঐশীর কথায় সাদ উওর দেয় "তোমার পরীক্ষার ২ দিন পড়ে আসবে মানে ১৫ তারিখ" ঐশী ছোট্ট করে উওর দেয় "ওহ"। কথার মাঝে গাড়ি টি বিশাল বড় গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকলো। তারা তিন জন গাড়ি থেকে নামলো। ভিড়ের মাঝে ও রাশিকের চোখ সেই অষ্টাদশীর খুজছে। শেষে দেখা  মিললো। 

Happy Reading☺
To be continue😅