একটি মনোরম স্কুলের চিত্র—চারপাশে সবুজ গাছপালা, ফুলে ভরা বাগান আর পাশে ঝিলমিল করা পুকুর। ফুলের সৌরভে ভরে আছে পুরো পরিবেশ। স্কুলের বিশাল মাঠে সারি সারি পরীক্ষার্থী দাঁড়িয়ে আছে, সবার হাতে কলম খাতা, মনে মিশ্র উত্তেজনা আর চিন্তা। গেটের সামনে ভিড় জমেছে, ভেতরে প্রবেশ করার অপেক্ষা তাদের চোখে-মুখে স্পষ্ট। উপরে ঝলমলে সূর্য যেন আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে বাতাস, তবুও গাছের ছায়ায় কিছুটা স্বস্তি খুঁজছে তারা। মাঠজুড়ে যেন এক বিশেষ দিনের আমেজ ছড়িয়ে আছে।
মাঠের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে এক অপরূপ সুন্দরী মেয়ে। সাদা-নীল স্কুলড্রেসে সে যেন সকালের রোদের আলোয় ফুটে থাকা শাপলার মতো দীপ্ত। চুলগুলো বাতাসে দুলছে, কপালে পড়েছে কয়েকটা আলগা আঁচল, আর ঠোঁটে সেই মায়াবী হাঁসি—যা দেখলেই মন ভরে যায়।
অন্যদিকে মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে রাশিক। তার চোখ দু’টো যেন আটকে গেছে মেয়েটির উপর, অপলক দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে। পৃথিবীর চারপাশে কত শত শব্দ, কোলাহল, কিন্তু ছেলেটির কাছে যেন সবকিছু থেমে গেছে, শুধু মেয়েটির হাসিই বাজছে তার হৃদয়ের ভেতর সুর হয়ে।
তার দৃষ্টি এতটাই গভীর, এতটাই মুগ্ধ যে মনে হচ্ছে—যেন সে নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তটিকে ধরে রেখেছে চোখের পাপড়িতে। মেয়েটির এক ফোঁটা হাঁসি যেন তার সমস্ত ক্লান্তি, সমস্ত অপেক্ষাকে মুহূর্তেই মুছে দিয়েছে।
রাশিক মনে মনে ভাবলো—
"এই হাসিটাই যদি সারাজীবন আমার হয়ে থাকে, তবে আর কিছু চাওয়ার নেই।"
মেয়েটি হালকা চোখ তুলে তাকায় ছেলেটির দিকে, তাদের দৃষ্টি মিলতেই যেন চারপাশের মাঠটা রঙে রঙে ভরে ওঠে—নিঃশব্দে জন্ম নেয় এক অচেনা প্রেমের গল্প।
ঐশী লাবিবা আর রাইশা কে দেখে সাদ ও রাশিক কে বিদায় জানিয়ে তাদের দিকে পা বাড়ায়।
বিশাল বড় মাঠটি অতিক্রম করে ঐশী রাইশা আর লাইবার পৌঁছে যায়। তারা দুজন ঐশীর দিকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মনে হয় চোখ দিয়ে গিলে খাবে। ঐশী আমতা আমতা করে হাসি মুখে জিজ্ঞাসা করে "খুব দেড়ি হয়ে গিয়েছে কি"ঐশীর কথা শুনে রাইশা ও লাইবার মেজাজ আরও গরম হয়ে যায়। রাইশা মুখ খুললো "না রে দেড়ি হবে কেনো, তুই এত ফাস্ট হলি কি করে ,তুই মেয়ে ভালো হবি না, অসভ্য মাইয়া"ঐশী কথা ঘোড়ানোর চেষ্টা করে "আরে নৌরিন এখনো আসেনি" ঐশীর কথার লাইবা বল্লো "নাহ রে, ওই একটা মেয়ে কোথায় মাঝে মাঝে উধাও হয়ে যায় আল্লাহ ভালো যানে" কথার মাঝে তাদের সামনে একটা বাইক হাওয়ার গতিতে এসে থামে, সবাই স্তব্ধ খেয়ে যায় তারা যেন ভাষা হাড়িয়ে ফেলেছে।
সকালের হালকা রোদে স্কুলের গেট জমজমাট। আজ পরীক্ষা, তাই চারপাশে অস্থিরতা—কারো চোখ বইয়ে, কারো ঠোঁটে প্রার্থনা, কারো ভ্রু কুঁচকে আছে আতঙ্কে। সেই ভিড়ের মাঝেই ঐশী, রাইশা আর লাইবা গেটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। একেকজনের হাতে বই, কিন্তু চোখে চাপা উৎকণ্ঠা।
হঠাৎ দূরে শোনা গেল এক গর্জনময় শব্দ। ইঞ্জিনের শব্দটা কাছে আসতেই যেন কোলাহল থেমে গেল। কালো রঙের এক স্পোর্টস বাইক ঝড়ের মতো এসে থামল তিন জোনার সামনে। সূর্যের আলোয় বাইকের গা চকচক করতে লাগল, আর ধুলো উড়ে মিশল সকালের হাওয়ায়।
বাইকের উপর বসা পুরুষটি ধীরে ধীরে হেলমেট খুলল, হাতে গ্যাল্পাস পড়া । মুহূর্তেই সবার দৃষ্টি আটকে গেল তার দিকে।তার মুখ এতটাই ফর্সা, যেন সকালের রোদও তার পাশে ফিকে। নিখুঁত চোয়াল, তীক্ষ্ণ নাক, গভীর বাদামি চোখ আর ঠোঁটের কোণে হালকা আত্মবিশ্বাসী হাসি,সব মিলিয়ে এক মারাত্মক সুদর্শন চেহারা, সাদা সার্ট টা ঘামে ভিজে গায়ের সাথে লেপটে আছে, মনে হচ্ছে হাতের পেশি গুলো সার্ট ছিড়ে বেড়িয়ে আসবে, হাতের নীলচে ধ্বনি গুলি স্পষ্টমান ,কড়া পারফিউমের গন্ব মাদকের মতো কাজ করছে। চুলগুলো বাদামি, রোদে সোনালি আভা ছড়াচ্ছে, যেন কোনো বিদেশী সিনেমার চরিত্র হেঁটে এসেছে বাস্তবের মাটিতে।
সে যেন বিদেশী রূপে আলো নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে ঐই সাধারণ পৃথিবীতে
সে বাইক থেকে নামতেই পায়ের শক্ত বুটের শব্দ প্রতিধ্বনিত হলো চারপাশে। লম্বা দেহকাঠামো, প্রশস্ত বুক, তার সবকিছুতেই ছিল আভিজাত্য ও শক্তির ছাপ। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে থামল ঠিক সেই তিনটি মেয়ের সামনে।
তিন মেয়ের চোখ বিস্ফারিত।
রাইশা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে বই আঁকড়ে ধরল।
ঐশী অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার চোখের ভেতরে, যেন ডুবে যাচ্ছে।
লাইবা ঠোঁটে কাঁপা ফিসফিসে প্রশ্ন রাখল নিজের মনে
“সে কি সত্যি, নাকি কোনো স্বপ্ন?”
সকালের পরীক্ষা, স্কুলগেট, ভিড়—সবকিছু মিলেমিশে যেন মুহূর্তে গড়ে উঠল এক সিনেমার দৃশ্য।
সে যেন এক বিদেশী আভিজাত্যের স্বপ্নপুরুষ, যার আগমনে সকালটা বদলে গেল চিরস্মরণীয় মুহূর্তে।
চোখে পড়ল হঠাৎ, মন হলো বন্দী,
তার রূপে সকালও থেমে গেল শান্তি।
ফর্সা মুখে বিদেশী এক ছাপ,
স্বপ্ন নাকি সত্যি—থাকল শুধু প্রশ্ন চাপা।
বাইক থেকে নৌরিন নেমে এলো। সেও যেন এক বিদেশী। সবাই কে অবাক করে পুরুষ টি ঐশীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করে "কেমন আছেন ঔরীন ঐশী চৌধুরী" তার কন্ঠ স্বর শুনে অষ্টাদশী মৃদু কেঁপে উঠে কোন এক অজানা ঘড়ে বন্দী হয়ে আছে ঐশী। তার কোনো হেল দোল নেই। আটকা পড়ে গিয়েছে চোখ,অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে। পুরুষ টির বর্ণনা করতে গেলে এক উপন্যাস শেষ হয়ে যাবে।
ঐশীর অবস্থাতা দেখে পুরুষ টি হেসে ফেল্লো । মনে মনে বল্লো ।
আমাকে ক্ষমা করো sweet honey
আজ থেকে তোমার মনে এক্কা-দোক্কা খেলতে চাই।
তোমার চোখে আমার জন্য সত্য ভালোবাসা দেখতে চাই,
তোমার চোখে আমাকে পাওয়ার তীব্র যন্ত্রণা খুঁজে পেতে চাই।
তোমার অশ্রুতে আমার জন্য বিসর্জনের স্পর্শ চাই,
তোমার অন্তরে আমাকে পাবার তৃষ্ণা দেখতে চাই।
আমার জন্য অগ্নিস্নিগ্ধ আকাঙ্ক্ষা চাই,
তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে আমার নামের উন্মাদনা খুঁজে পেতে চাই। সব কিছু ভুলে মন প্রান দিয়ে শুধু আমাকে ভালোবেসে যাও , দুনিয়ার সব সুখ আমি তোমার করে দেব। তুমি কোনো দিন ভাবতে ও পাড়বে না তোমাকে ছাড়া আমি কি ভাবে ছিলাম। চিন্তা করো না তোমার মনে বেশি দিন এক্বা-দোক্বা খেলবো না। তোমাকে ছেড়ে আমি যেভাবে ছিলাম তার এক অংশ অনুভব করাতে চাই। আমি চলে এসেছি। এবার তোমাকে নিজের করেই ছাড়বো। ততদিন তুমি আমাকে মনে রেখে যাও। খুব তাড়াতাড়ি আমি তোমাকে নিজের করে নেব একান্তই আমার। আমার থেকে দূরে রাখবো না একদম, ভালোবাসার তৃষ্ণা আমি জানি 'sweet honey'
তারা এখনো একই ভাবে তাকিয়ে আছে। আকাঙ্ক্ষিত পুরুষ টি গাড়ি স্টার্ট দিলো ঝড়ের গতি তে চলে গেল। যত দুর দেখা যায় অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো কিশোরী মেয়ে ঐশী।
সে কি বুঝতে পেরেছে পুরুষটির অন্তহীন অপেক্ষা?
চোখের গভীরে জমে থাকা স্বপ্নগুলো,
না পাওয়ার তীব্র যন্ত্রণা,
অশ্রুর নীরব ভাষা
সবই তো তার জন্য।
সে কি অনুভব করতে পেরেছে
ভালোবাসার প্রতিটি শ্বাসে লুকানো আকাঙ্ক্ষা,
একটি হৃদয়ের হাজারো আহ্বান?
নাকি এখনো অচেনা থেকে গেছে
পুরুষটির অনন্ত ভালোবাসা?
ঐশী মনে মনে বল্লো......
এ কেমন দমকা হাওয়া,
যা মনকে তলপাড় করে দিয়ে
অচেনা পথে মিলিয়ে গেল হঠাৎ।
অভিমানী নদীর মতো বুকের গভীরতা কাঁপিয়ে,
চোখের কোণে অচেনা স্বপ্ন রেখে গেল,
ফিসফিসিয়ে যেন বলল কিছু অপূর্ব গোপন কথা।
মুহূর্তের জন্য মনে হল
কেউ এসেছে খুব আপন হয়ে,
তারপর আবার মিলিয়ে গেল অনন্ত আকাশে,
শুধু রেখে গেল তৃষ্ণা, অস্থিরতা আর অপেক্ষা।
Happy Reading☺
To be continue😅