পরীক্ষার দিন মানেই সময়ের সাথে এক দৌড়।
সকাল থেকেই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এক অদ্ভুত উত্তেজনা আর উৎকণ্ঠার মিশেল।
স্কুল বা কলেজের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে ভিড়,কেউ বই হাতে শেষ মুহূর্তের পড়া ঝালিয়ে নিচ্ছে, কেউ চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে, মনে মনে মুখস্থ করা উত্তরগুলো গুনে যাচ্ছে।
কিছু ছাত্র আবার হেসে কথা বলছে, যদিও তাদের চোখেমুখে টেনশনের রেখা স্পষ্ট।
সময় যেন সেদিন স্বাভাবিক থাকে না,ঘড়ির কাঁটা দ্রুত ঘুরে যায়, মিনিটগুলো হয়ে ওঠে সোনার চেয়েও দামী।
পরীক্ষার্থীরা ঘনঘন হাতঘড়ি দেখে, যেন প্রতিটি সেকেন্ড বুকের ভেতর ধ্বনি তোলে।
পরীক্ষার ঘণ্টা বাজতেই সবার বুক ধুকপুক করতে শুরু করে, কাগজ হাতে পাওয়ার মুহূর্তে যেন সময়ের সাথে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। সময় কারোর কাছে পানির মতোন তো আবার কারোর কাছে কচ্ছপের মতোন।
প্রশ্নপত্র হাতে পেতেই কারো চোখ চকচক করে ওঠে—যেন সব উত্তরই তার জানা।
আবার কারো কপালে ভাঁজ পড়ে, ঘাম ঝরে, মনের মধ্যে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ জমে।
কেউ দ্রুত লিখতে থাকে, যেন সময়কে হারিয়ে দিতে চায়।
আবার কেউ থমকে বসে থাকে, মনে হয় সময় তার জন্য অচল হয়ে গেছে।
সবাই নিজেদের পেপারে ব্যাস্ত, পুড়ো স্কুল টা নিসশব্দ, কোথাও কোনো সারা শব্দ নেই, পখিরা ও এই গরমে কোনো এক গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।
ঘড়ির কাঁটা ঘুরতে ঘুরতে যখন শেষ ঘণ্টা বাজে, তখন পরীক্ষার হলে অন্য এক দৃশ্য—
কেউ পাগলের মতো লিখে যাচ্ছে শেষ কয়েকটি লাইন, কেউ আবার হা করে তাকিয়ে আছে উত্তরপত্রে।
কিছুজন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে, আর কিছুজনের চোখেমুখে আক্ষেপ ভেসে ওঠে—
"আর একটু সময় থাকলে সব লিখতে পারতাম…"
পরীক্ষার দিন তাই আসলে শুধু প্রশ্নোত্তরের খেলা নয়,
এটা সময়ের সাথে লড়াই,
যেখানে প্রতিটি পরীক্ষার্থী নিজের মতো করে যুদ্ধ করে,
কেউ জেতে, কেউ হারে, তবুও সবাই সেই সময়ের চাপ ও স্মৃতি বুকে নিয়ে বের হয় পরীক্ষার হল থেকে।
শেষ ঘন্টা পড়তেই, চারটে গাধা ঝড়ের গতিতে পরীক্ষার হল থেকে বেড়িয়ে আসে। পাখিরা খাচার ভিতরে থাকলে বাহিরে আসার জন্য যেমন ছট পট করে, ঠিক তেমনই তাদের অবস্থা। ঐশী দের ক্লাসে কিছু জন আছে বেস্ট, কিন্তু এই চার জন বেস্টের থেকে ও বেস্ট। এদের কোনো তুলনা হয় না, সব রকমের গুন আছে। পুরো ক্লাসের সব থেকে ভদ্র, নমড়ো, শান্ত সৃষ্ট ও ভোলা ভালা মেয়ে এই চারজন কিন্তু অভদ্র, দুষ্টু,বজ্জাত, বাদর, শয়তান , অসভ্র মেয়ে ও এই চার জন। এদের যেমন সু বুদ্ধি আছে তেমনি কু বুদ্ধি ও আছে। ঐশী, লাইবা, রাইশাও নৌরিনের প্রধান কাজ সবাই কে ডিসর্টাব করা সবার পেছনে লাগা এই সব, ক্লুলে এই সব কাছের জন্য খুব জনপ্রিয় এরা "Crimson Roses" নামে জানে অনেকেই।
"শালা স্যার টা কি বজ্জাত রে মাইরি, ছ্যাঁ, শালা কে এক দিন বাঘে পায়, সব রাগ উসুল করে নেব"ঐশী রাগে ফোসতে থাকে। ঐশী কে উদ্দেশ্যে করে লাইবা প্রশ্ন করে" কেন, তুই তো সব পেরেছিস, তাহলে আবার কি হলো" লাইবার কথা শুনে রাইশার ও রাগ হলো। ঐশী কিছু বলতে যাবে তার আগেই রাইশা বলে উঠলো"ধুর বাল, আমি তো জাস্ট মিমের কাছে থেকে পানির বোতল তা চাই ছিলাম,আর বালডা আমারে কত কথা শুনিয়ে দিল, এক বার হাতে পায়, ঢিল মেরে মাথা ফাটিয়ে দেব" পিছন থেকে নৌরিন আস্তে করে বল্লো " ওই রকম কেন তোরা স্যার টা কত হ্যান্ডসাম উফ সেই ছিল, আমি পরীক্ষা দেব না স্যার টাকে দেখবো বুঝতে পাড়িনি " তিন জনার কথার মাঝে লাইবা বলে উঠলো "এই তোরা পিল্স চুপ কর, ক্লাসে স্যারের বক বক আর এখন তোদের বক বক, আর ভালো লাগছে না" লাইবার কথা শুনে তিন জন পুড়ো অবাক, চোখে চোখে কথা বলছে, ওঠাং করে হু হা করে হেসে উঠে, যেন এই রকম জোক পৃথিবীতে আর একটাও শোনে নি। লাইবা মনে মনে বিরক্ত প্রকাশ করলো।
"নাহ আর পাড়া যাচ্ছে না, লাইবা কি বল্লো, আমি ভুল শুনলাম, ও বলছে 'চুপ করার জন্য' তোরা কিছু কর" তিন জন মনে হয় হাসতে হাসতে এখানেই শুয়ে পড়বে। "যার কথা শেষ হয় না, কথা শুনতে শুনতে কানের পোকা বেড়িয়ে আসে, যার কথার শেষ নেই, বলতে থাকে বলতেই থাকে, আমাদের বকুনি বুড়ি আজ চুপ করতে বলছে বাহ" রাইশা কথায় ঐশী কবিতা আবৃত্তি করে বলে,
যার কথা ফুরোয় না কভু,
শুনতে শুনতে হয় ঢলঢল অবসাদভূমি।
কানে যেন পোকা বেরিয়ে আসে,
তবু সে থামে না, চালায় ভাষা।
তার মুখটা ট্রেনের মতো চলে,
জাপানের লাইনে যে দৌড়ে চলে।
শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই আর,
কথায় কথায় ভরে ওঠে সংসার।
ঐশীর কবিতা আবৃত্তি শুনে লাইবা রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। চোখ দিয়ে গিলে খানে। তাদের হাসি দ্বি গুন হয়ে যায়।
নৌরিন খালি ক্রাশ খায়,
চা খেলে ক্রাশ, পানি খেলেও ক্রাশ!
ক্লাসে বসে খাতা খোলে,
স্যারকে দেখে আবার নতুন ক্রাশ!
পরীক্ষার হলে বই ধরেছে,
প্রশ্ন দেখে ঘাম ঝরেছে,
কিন্তু উত্তর লেখার বদলে,
স্যারের উপরেই ক্রাশ খেয়েছে!
বন্ধুরা বলে, "আরে হায় হায়,
তুই কি ক্রাশ খেয়ে মরবি নাকি ভাই?"
নৌরিন হেসে গোপন কথা কয়—
"ক্রাশ ছাড়া আমার জীবনই যায় না রে ভাই!"
ঐশীর কবিতা শুনে মুহর্তে নৌরিন নৌরিনের হাসি গায়েব হয়ে যায়। রাইশা সবার খুব মজা নিচ্ছে। আর ঐশী পিঠে বাড়ি মারতে মারতে বলে"ভাই, তোর নোবেল পুরস্কার টা ভুল করে রবী ঠাকুর কে দিয়ে দিয়েছে,রবী ঠাকুরের কাছে থেকে নিয়ে নিস তোর পুরস্কার টা, চালিয়ে যা ব্রো,I Am Always With You"
রাশিক রাশিক রাশিক—
নাম নিলেই রাইশার মাথা ঘুরে টিকটিক!
রাশিক ছাড়া ভাত খায় না,
রাশিক ছাড়া নুডলসও যায় না!
রাশিক না দেখলে ফোনের চার্জ শেষ হয়,
রাশিকের ছবি না পেলে WiFi-ও রাগ করে রয়!
ক্লাসে বসে স্যার বলে, "চুপ!"
কিন্তু রাইশার মুখ থেকে বের হয়— "রাশিক, হুপ!"
রাশিকই তার গুগল, রাশিকই তার ম্যাপ,
রাশিক ছাড়া রাইশা—
একেবারে "No Network, No App"!
"জানিস দোস্ত এই কবিতা গুলো করতে চাই না কিন্তু মুখ থেকে বেড়িয়ে আসে, আমি ইচ্ছা করে বলতে চাইনি "
রাইশা, লাইবা আর নৌরিন—
তিনজন যেন একসাথে যুদ্ধক্ষেত্রে নামা যোদ্ধা।
তাদের চোখে রাগ, ঠোঁটে চুপচাপ তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ।
রাইশার চোখে স্পষ্ট অভিমান,
মনে হয় যেন বলছে—
"ঐশী! তোকে আমি আর বিশ্বাসই করলাম কেন?"
লাইবার চোখে আগুনের লেলিহান শিখা,
চোখের ভাষা চিৎকার করছে—
"এবার তোকে ছাড়বো না!"
আর নৌরিনের দৃষ্টি সবচেয়ে ভয়ঙ্কর,
মনে হচ্ছে বজ্রপাতও যেন সেখানে আটকে আছে।
তার ঠোঁট শক্ত হয়ে বন্ধ,
কিন্তু সেই নীরব রাগে ঐশীর বুক কেঁপে উঠছে বারবার।
ঐশী এদিক-ওদিক তাকিয়ে সামলে নিতে চাইছে,
কিন্তু যতবার চোখ মেলে—
ততবার তিনজনের সেই রাগান্বিত দৃষ্টি
তার দিকে ছুটে আসে তীরের মতো।
চারপাশে যেন নীরবতা,
শুধু তিন জোড়া চোখের অগ্নিগর্জন
ঐশীকে ছোট্ট একটা পাথরের মতো অসহায় বানিয়ে রেখেছে।
ঐশী যখন কবিতা আবৃত্তি করে,
শব্দের ভেতর বাজে যেন গর্জন গড়ে।
সবাই রেগে যায়, চোখে অগ্নি ঝরে,
কবিতার জালে সবাই ধরা পড়ে।
রিমঝিম ছন্দে, কথায় বিষ বোনা,
শব্দে অপমান, সবার মন ছোঁয়া।
কেউ না বোঝে, কেউ না পারে ঠেকাতে,
ঐশীর কাব্যেই সবার ঘর দমকা।
ঐশী তার মুখ চেপে ধড়ে, সাথে না সূচক মাথা নাড়ে। এক বার তিন জনার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে। পিছন ঘুরে দৌড়ে ছুট দেয়, লাইবা, রাইশা ও নৌরিন ঐশী পিছু নেয়। "যে খানে বাঘের ভয়,সে খানে সন্ধা হয়। আল্লাহ এই যাএার মতো বাঁচিয়ে দাও, আর জীবনেও এই মুখে দিয়ে কবিতা বলবো না" মনে মনে কথা বলতে বলতে দৌড়াতে থাকে। হঠাৎ কারোর সাথে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যায়।
Happy Reading☺
To be continue😅