শনিবার,,,,,,,,,,,,,,,,
22/04/2019,,,,,,,,
"টেবিল এর উপড়ে রাখা শিশির ভেতরের অ্যাকুয়া রেজিয়ার দিকে তাকিয়ে সিফান বুঝতে পারল, ভুলেও হাতে এটা পড়লে ভয়াবহ কিছু ঘটতে পারে।"
জেহেফিল আস্তে করে শিশি টা তুলে নিলো। সিফানের দিকে তাকিয়ে একটা অদ্ভুত হাসি দিলো। জেহেফিল কে তার দিকে এগিয়ে আস্তে দেখে সিফান ভয় পেয়ে গেল। সিফান বুঝে গিয়েছে তার সাথে কি হতে চলেছে।
"নাহ প্লিজ এটা করিস না, তুই কে আমি কিছু জানি নাহ। আমাকে ছেড়ে দে"
ফাঁকা বেসমেন্ট এ সিফানের আওয়াজ দু দু বার করে শোনা যাচ্ছে। সিফান ছটফট করতে থাকে কিন্তু কোনো লাভ হয় নাহ।
জেহেফিল অতি সাবধানে বতলের ঢাকনা টা খোলা। আহাদ দূড়ে দাঁড়িয়ে সব টা দেখতে থাকে, জেহেফিল আহাদের দিকে ইশারা করতেই এসে সিফানের মুখ টা বেঁধে দেয়।
জেহেফিল সিফানের কানের কাছে আসে একদম "তোকে ডাকার জন্য কোনো গাল খুজে পাচ্ছি নাহ। আমার জিনিস আমার আগে স্পর্শ করার তুই কে। কে অধিকার দিয়েছে যখন আমি এতো ভালোবেসে ছুঁতে পাড়িনি, তখন তুই কে" দাঁতে দাঁত চেপে কথা গুলো বলে যাই জেহেফিল।
আর কথা না বাড়িয়ে জেহেফিল হাতে একটা ধাড়ালো ছুড়ি নেয় সেটা কে ভালো করে দেখে। আর একবার ভয়াতুর সিফানের দিকে তাকায়। সঙ্গে সঙ্গে সিফানের একদম বুকের মাঝে ঢুকিয়ে দেয় সেখানে দিয়ে জেহেফিল হাত ঢুকিয়ে দেয় আর কলিজা টা টেনে বাড় করে নেয়। সিফান ছটফট করতে থাকে কাটা মুরগির মতোন।
আহাদ সব পর্যবেক্ষণ করতে থাকে কি করছে না করছে। এই রকম একটা অবস্থা দেখে বমি উঠে আসছে আহাদের। জেহেফিল কোনো দিন ও খুন করেনে কিন্তু আজ কি করছে আর কেনই বা করছে কিছুই বুঝতে পাড়ছে নাহ।
এবার জেহেফিল খামছে সিফানের চোখ দুটো তুলে নেয়। হাত দুটোর দিকে তাকায় সে এই হাত দিয়ে তার প্রবিত্র হৃদয়ে বাজে ভাবে হাত দিয়েছে। জেহেফিল হাত দুটো ও কেটে নেয়। সিফানের নিঃতেজ চেয়াড়ে এলিয়ে যায়। সব শেষে বোতলের তরল পদার্থ টা সিফানের মাথায় ঢেলে দেয়।
প্রাণপাখি উড়ে যাওয়ার উপক্রম। অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসতেই সিফানের শরীর কেঁপে উঠল। চারদিকে এক অদ্ভুত তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল। আহাদ আর তাকিয়ে থাকতে পারছিল না; সে মুখ ফিরিয়ে নিল।
বেসমেন্টের নিস্তব্ধতা যেন আরও ভারী হয়ে উঠল। জেহেফিলের চোখে তখন কোনো অনুশোচনা ছিল না, ছিল শুধু জমে থাকা ক্রোধ আর প্রতিশোধের আগুন। কয়েক মুহূর্ত আগেও যে মানুষটা প্রাণ বাঁচানোর জন্য লড়ছিল, এখন সে নিস্তব্ধ।
আহাদের বুক ধড়ফড় করতে লাগল। তার মনে হচ্ছিল, সে যেন কোনো দুঃস্বপ্নের মধ্যে আটকে গেছে। সে জেহেফিলের দিকে তাকাল, কিন্তু সেই পরিচিত মানুষটাকে আর খুঁজে পেল না। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে তার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত মনে হচ্ছিল।
জেহেফিল ধীরে ধীরে খালি শিশিটার দিকে তাকাল। তারপর কোনো কথা না বলে সেটাকে একপাশে ছুড়ে ফেলল। কাঁচ ভাঙার শব্দে বেসমেন্টের নীরবতা খানিকটা কেঁপে উঠল।
জেহেফিল ধীরে ধীরে বেসমেন্ট থেকে বেরিয়ে এলো। তার মুখে কোনো অনুভূতির ছাপ নেই, যেন কিছুই ঘটেনি। সোজা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল সে। রাতের ঠান্ডা বাতাস তার এলোমেলো চুল উড়িয়ে দিচ্ছিল।
পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে একটা সিগারেট ঠোঁটে চেপে ধরল। লাইটারের আগুন জ্বলে উঠতেই কয়েক সেকেন্ডের জন্য তার মুখটা স্পষ্ট হয়ে উঠল।
সাদা পাঞ্জাবি আর সাদা লুঙ্গিতে মোড়ানো তার সুঠাম, পেশিবহুল দেহটা অন্ধকারের মাঝেও আলাদা করে নজর কাড়ছিল। ছয় ফুটের কাছাকাছি লম্বা শরীর, চওড়া কাঁধ আর দৃঢ় গড়নের কারণে তাকে দূর থেকেই প্রভাবশালী মনে হচ্ছিল।
পাঞ্জাবির কাপড়ের নিচে শক্ত বাহু আর বুকের গঠন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। হাতের শিরাগুলো সামান্য ফুলে উঠেছিল, যেন তার ভেতরে এখনও জমে আছে এক অদৃশ্য উত্তেজনা।
কিন্তু সেই শুভ্র পোশাকের উপর ছড়িয়ে ছিল কিছু লালচে ছোপ।
বুকের একপাশে, হাতার কিনারায় আর পাঞ্জাবির নিচের অংশে জমে থাকা দাগগুলো সাদা রঙের সঙ্গে অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি করেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হতো কেউ হয়তো অসাবধানতাবশত রঙ ছিটিয়ে দিয়েছে, কিন্তু কাছে গেলে বোঝা যায়—সেই দাগগুলোর পেছনে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার গল্প।
রাতের বাতাসে পাঞ্জাবির প্রান্তগুলো দুলছিল। তার এলোমেলো কালো চুলগুলো বারবার কপালের উপর এসে পড়ছিল। তীক্ষ্ণ চোয়াল, গভীর চোখ আর নিস্তব্ধ মুখভঙ্গি তাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছিল। তার চোখে কোনো অনুশোচনা ছিল না, ছিল না কোনো ভয়ও। বরং সেখানে জমে ছিল এক অদ্ভুত শূন্যতা—যেন বহুদিন ধরে ভেতরে ভেতরে পুড়ে যাওয়া কোনো মানুষ হঠাৎ করেই অনুভূতিশূন্য হয়ে গেছে।
বারান্দার রেলিংয়ে এক হাত রেখে দাঁড়িয়ে ছিল সে। আঙুলের ফাঁকে ধরা সিগারেটের আগুন মাঝেমধ্যে জ্বলে উঠছিল, আবার ম্লান হয়ে যাচ্ছিল। সেই ক্ষীণ আলোয় তার মুখের অবয়ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। মনে হচ্ছিল, রাতের অন্ধকারও তাকে পুরোপুরি গিলে ফেলতে পারছে না।
গভীর একটা টান নিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে দিল সে।
ধোঁয়ার কুণ্ডলী ধীরে ধীরে রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে যেতে লাগল। জেহেফিল নিচের ফাঁকা রাস্তাটার দিকে তাকিয়ে রইল। চারপাশ নিস্তব্ধ। শুধু দূরে কোথাও কোনো কুকুরের ক্ষীণ ডাক ভেসে আসছিল।
মানুষ ভাবে প্রতিশোধ নিলে শান্তি পাওয়া যায়। বুকের ভেতরে জমে থাকা আগুন নিভে যায়। কিন্তু জেহেফিলের ক্ষেত্রে যেন উল্টোটা হয়েছে। তার বুকের ভেতরটা এখনও জ্বলছে। মনে হচ্ছে, প্রতিশোধের আগুন নিভে যায়নি; বরং আরও গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে।
তার চোখে ক্লান্তি, রাগ আর শূন্যতার অদ্ভুত মিশ্রণ। এত কিছুর পরেও সে নিজের ভেতরে সেই কাঙ্ক্ষিত প্রশান্তিটুকু খুঁজে পাচ্ছে না।
আকাশের দিকে তাকিয়ে সে আরেকটা দীর্ঘ টান দিল। ধোঁয়াগুলো ধীরে ধীরে রাতের আকাশে মিলিয়ে গেল।
তারপর খুব নিচু স্বরে, যেন নিজেকেই শোনানোর জন্য, ফিসফিস করে বলল—
"তবুও আমার শান্তি হলো না..."
Happy Reading ☺
To Be Continue 😅