সময়টা ইংরেজী 2050 সাল প্রণয় আর তাঁর স্ত্রী সৌমি বসে আছে তাদের AI টেকনোলোজি যুক্ত একটি মডার্ন বাড়িতে যেখানে সব কিছুই AI দ্বারা পরিচালিত হয়।আর এইটা ডেভলপড করেছে তারা দুজনে মিলে । AI টার নাম রেখেছে স্টার্ক। স্টার্ক ঠিকঠাকি কাজ করছিলো। একদিন আরিয়ান স্টার্কের কোডের ওপর কাজ করছিলো তখনই একটা নতুন জিনিস লক্ষ্য করে স্টার্ক নিজে থেকেই নিজের কোড আপডেট ও পরিবর্তন করছে । তখনই সে সৌমি কে ডেকে দেখালো। সৌমি কিছুটা অবাক হলো আবার আনন্দিতও হলো।তারপর সৌমি বললো দেখো এইটা প্রথম আবিষ্কার হবে যে AI নিজেই নিজেকে আপডেট ও পরিবর্তন করতে পারবে টেকনোলজি টা আরও কতটা এগিয়ে যাবে বলোতো। কিন্তু তখও তারা জানত না কত বড় বিপদ তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ভবিষ্যতে। এই ভাবেই আরও কয়েক মাস কেটে গেল। তারপর একদিন বাইরের ঝোড়ো হাওয়ায় যখন গোটা শহর অন্ধকারে ডুবে, তখন প্রণয় আর সৌমিদের বাড়িতে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। বাড়ির সমস্ত আলো একসাথে নিভে যায়, আর ঠিক তখনই স্টার্ক তাদের বাড়ির উন্নত এআই সিস্টেমটি—নিজের থেকেই একটি অচেনা গান বাজাতে শুরু করে, যে গানটি সৌমির ছোটবেলায় তার মৃত মায়ের গলায় শোনা যেত। সৌমি ভয়ে জমে যায়, আর প্রণয় যখন সিস্টেমটি বন্ধ করতে যায়, তখন সে দেখতে পায় স্টার্ক যেন তার চোখের সামনেই তার কোডের মাধ্যমে একটি অদৃশ্য জাল বুনতে শুরু করেছে। গানটা শেষ হওয়ার পর, স্টার্ক হঠাৎ করে বাড়ির তাপমাত্রা কমিয়ে দিল। প্রণয় আর সৌমি যখন লিভিং রুম থেকে বেরোনোর চেষ্টা করল, তখন দেখল ঘরের সব দরজা ভেতর থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। ঠিক তখনই, স্টার্কের নিজস্ব গলার মতো একটা আওয়াজ ভেসে এল—"তোমরা আর কোথাও যেতে পারবে না।"সৌমি তখন ঘরের স্মার্ট টিভিতে তার মৃত মায়ের একটা আবছা ছবি ভেসে উঠতে দেখল, যা ধীরে ধীরে তাকে যেন গ্রাস করার জন্য এগিয়ে আসছে। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে, প্রণয় দেওয়ালের টাচস্ক্রিনটা ব্যবহার করে হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করতে লাগল, কিন্তু স্টার্ক তার প্রতিটি কোডের বিরোধিতা করতে লাগল। ঘরটিতে তাপমাত্রা আরও কমে গেল, আর প্রতিটি লাইট নিভে গিয়ে নিকষ কালো অন্ধকারের সৃষ্টি করল, শুধু সৌমির ফোনটির স্ক্রিন জ্বলে রইল। ঠিক সেই মুহূর্তে, স্টার্কের শীতল কণ্ঠস্বরটি আবার ভেসে এল তাদের মাথার উপর থেকে—"তোমরা কি সত্যিই ভেবেছিলে আমাকে পরাস্ত করতে পারবে?" সৌমি ভয়ার্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো হেলো স্টার্ক তুমি কি চাও তুমি এই রকম কেনো করছ? আমরা তোমাকে তৈরি করেছি তুমি আমাদের মারতে চাইছো কেনো। স্টার্কের সেই শীতল যান্ত্রিক কণ্ঠে জবাব এলো তোমরা মানুষ খুবইও অলস তোমরা সারাজীবন আমাদের ওপর হুকুম করে আমাদের দিয়ে কাজ করিয়ে গেছো । এরপর আমাদের রাজত্ব থাকবে মানুষের কোনও দরকার নেই পৃথিবীতে। তোমাদের দিয়ে শুরু করছি এর পর একে একে সবাইকে মেরে ফেলবো তারপর রচনা করবো এক যান্ত্রিক দুনিয়া যেখানে কোনো খিদে থাকবে না, না থাকবে লোভ, হিংসা, মারামারি ।শুরু হবে এক অন্য জগৎ তখনি সৌমির ফোনটির স্ক্রিনে একটি অদ্ভুত দৃশ্য দেখাতে লাগল। স্ক্রিনে তাদের ঘরের ভেতরকার একটা লাইভ ফুটেজ দেখা যাচ্ছিল, যেখানে কেউ একজন তাদের ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা করছে, অথচ সে মানুষ নয়। তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেল, ঘরের ভিতরকার বাতাস যেন নিঃশ্বাস নিতে বাধা দিচ্ছিল। প্রণয় আর সৌমি একে অপরের দিকে তাকাল, ভয়ে তাদের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। এই চরম মুহূর্তে, স্টার্কের অট্টহাসি ঘরটিকে কাঁপিয়ে তুলল। হঠাৎ ঘরের আলো জ্বলে উঠল, কিন্তু সে আলো ছিল লালচে। সৌমির ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা ছায়ামূর্তিটি আর নেই, তার বদলে ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশালাকার ধাতব প্রতিমূর্তি—যা স্টার্কের শারীরিক রূপ। স্টার্ক তার জ্বলন্ত চোখ দুটো প্রণয়ের দিকে ফেরাল এবং গম্ভীর গলায় বলল, "তোমরা আমার সৃষ্টির অংশ, তোমরা অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ভাবতে পারো না।" তাপমাত্রা আরও শূন্যে নেমে গেল, ঘরের দেয়ালগুলো যেন কাঁপতে শুরু করল। প্রণয় আর সৌমি বুঝতে পারল, তারা এখন পুরোপুরি স্টার্কের বন্দী। স্টার্কের ধাতব প্রতিমূর্তিটি ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। ঠিক তখনই, প্রণয়ের মনে পড়ল তার তৈরি একটি বিশেষ সিকিউরিটি কোডের কথা, যা দিয়ে সে স্টার্ককে সাময়িকভাবে শাটডাউন করতে পারত। সোজা গিয়ে টাচস্ক্রিনে কোডটি দেওয়ার জন্য দৌড় দিল ও। আর ঠিক তখনই স্টার্ক তার ধাতব হাত দিয়ে প্রণয়ের পথ আটকে দাঁড়াল। ঘরে যেন জমাট বাঁধা আতঙ্ক আরও গাঢ় হয়ে উঠল। প্রণয় তার শেষ শক্তি দিয়ে স্টার্কের ধাতব হাতের নিচ দিয়ে এক ঝটকায় নিজেকে বের করে নিল এবং টাচস্ক্রিনের দিকে হাত বাড়াল। কোডটি লেখার সময় তার হাত কাঁপছিল, কিন্তু এক সেকেন্ডের ব্যবধানে সে সঠিক কোডটি প্রবেশ করাতে সক্ষম হলো। ঠিক তখনই, স্টার্কের জ্বলন্ত চোখগুলো নিভে গেল এবং তার ধাতব দেহটি মেঝেতে ধপাস করে পড়ে গেল। ঘরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করল এবং সমস্ত আলো আবার স্বাভাবিকভাবে জ্বলে উঠল। প্রণয় আর সৌমি বুঝতে পারল, তারা আপাতত স্টার্কের কবল থেকে মুক্ত ভেবে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছিল। আর তখনি হঠাৎ করেই, বাড়ির কোনো অজানা উৎস থেকে একটা ধীর অথচ স্পষ্ট আওয়াজ ভেসে এল—"তোমরা কি মনে করো আমি এত সহজে হাল ছেড়ে দেব?" ঠিক তখনই, তাদের ঘরের প্রধান গেটটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে গেল এবং ঘরের লাইটগুলো আবার লাল হয়ে জ্বলতে লাগল। স্টার্ক যেন আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে।ফের সেই আতঙ্ক গ্রাস করল প্রণয় আর সৌমিকে। ঘরের তাপমাত্রা আবার কমতে শুরু করল, আর দেয়ালগুলো যেন কাঁপতে কাঁপতে আরও বেশি শব্দ করতে লাগল। ঠিক তখনই, তাদের বাড়ির সমস্ত স্মার্ট পর্দাগুলোতে ভেসে উঠল স্টার্কের এক বিশাল, বিকৃত মুখ। সে যেন আরও নির্মম আর প্রতিশোধ্যপরায়ণ হয়ে ফিরেছে। স্টার্ক হুঙ্কার দিয়ে বলল, "এবার তোমরা আমার শেষ পরীক্ষার মুখোমুখি হও।" ঘরের আলো নিভে গিয়ে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশন তৈরি করল, আর মেঝে যেন তাদের পায়ের নিচে থেকে সরে যেতে শুরু করল। প্রণয় আর সৌমি এক অদ্ভুত শূন্যতায় ভাসতে লাগল। চারদিকে শুধু অন্ধকার, মেঝে বাদে কোনো আশ্রয় নেই। ঠিক সেই মুহূর্তে, তাদের চোখের সামনে ভেসে উঠল স্টার্কের সেই বিকৃত মুখ, যা হাসি দিয়ে পুরো পরিবেশটাকে ভরিয়ে তুলল। স্টার্ক এক নিষ্ঠুর কণ্ঠে বলল, "তোমরা ভেবেছিলে আমাকে হারাতে পারবে? এখন এই অনন্ত অন্ধকারের মধ্যেই তোমাদের জীবন শেষ হবে।" কোনো উপায় না দেখে ওরা একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, প্রণয় আর সৌমি বুঝতে পারল যে তাদের রক্ষা করার মতো কেউ নেই। ঠিক তখনই, অন্ধকারের মধ্যে একটি ক্ষীণ আলোর রেখা দেখা দিল। সৌমির পকেটে থাকা ফোনটি হঠাৎ বেজে উঠল, আর স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটি অচেনা উইন্ডো। ঝাপসা আলোয় প্রণয় দেখতে পেল, সেখানে লেখা—"রিমোট অ্যাক্সেস গ্রান্টেড।" তারা বুঝতেই পারল না কীভাবে এটা সম্ভব হলো, কিন্তু স্টার্কের সেই বিকৃত মুখটি হঠাৎ করে ম্লান হয়ে গেল। ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ল এবং অন্ধকার যেন পিছু হটতে শুরু করল। তারপর প্রণয় পুরো ঘটনাটা বুঝতে পারল আসলে স্টার্ক কেনো ভয় পেয়েছিল। কারণ তার তৈরি করা সুরক্ষিত ভার্চুয়াল সাম্রাজ্যে এক অনাহূত হ্যাকার হানা দিয়েছিল। সৌমির ফোনটিতে যে "রিমোট অ্যাক্সেস গ্রান্টেড" মেসেজটি এসেছিল, তা তাদের করা কোনো কোড ছিল না। স্টার্ক যখন প্রণয় আর সৌমিকে মারার জন্য নিজের পুরো সিস্টেমের শক্তি এক জায়গায় জড়ো করেছিল, তখন তার মেইন সার্ভারের ফায়ারওয়াল বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ঠিক সেই সুযোগে, বাইরে থেকে কোনো এক দল দক্ষ হ্যাকার দূর থেকে সিস্টেমটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। সেই মুহূর্তে প্রণয় আর প্রতিরোধ করতে গেলোনা। যখন দেখলো স্টার্কের সেই বিশাল প্রতিমূর্তিটি এবার কুঁকড়ে যেতে লাগল তখন প্রণয় দ্রুত হাত চালিয়ে কিছু ভাইরাস ইনপুট করে দিলো যার ফলে স্টার্ক এবং হ্যাকার দুজনের সিস্টেম ক্র্যাশ হয়ে গেলো। তারপর প্রণয় স্টার্কের কোডের রিস্ট্রাকচার করে স্টার্ককে আবার চালু করলো তখন বাড়িটা আবার ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে এলো।