পরাণ বঁধুয়া
পর্ব - ১৯
চোখ সরু করে রুমু বলে, "ছোটকার না তোমার, বুদ্ধিটা? আই থিঙ্ক, নো, আই এ্যাম শিয়োর, ইটস ইউ। সেইজন্য তুমি সবার আগে আমাকে নিয়ে এসে এখানে বসে পড়লে।"
--"আমি তোমাকে নিয়ে আসিনি রুমঝুম। রাঙাদা ডেকেছে তোমায়, আমাকেও। তারপর ওদের ডাকতে যাচ্ছি বলে চলে গেল। সবটা তোমার সামনে হল।" বুবুন একটু অস্বস্তিতে।
--"ইউ প্ল্যান্টেড হিম। তুমি ওর সঙ্গে কথা বলছিল। ইয়েস, আই রিমেম্বার। তোমরা অনেকক্ষণ কথা বলছিলে। তুমিই ওদের চলে যেতে বলেছ।"
--"আমি কেন এটা করব রুমঝুম? আর বেশ তো, তোমার আমাকে অবিশ্বাস হতেই পারে। চল বাড়ি ফিরে যাই। ওরা ফিরে এলে ওদের জিজ্ঞেস করলেই সবটা জানা যাবে।" বুবুন এত অপমানিত কখনো হয়নি। শুধু পাবলিক প্লেস বলে রাগ চেপে আছে।
--"তুমি আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলে, তাই। ওকে, বলো, স্পীক আউট, আমিও শুনি তুমি কি বলবে?" রুমু বলেছিল আক্ষরিক অর্থে কথা বলার বিষয়টা মাথায় রেখে। যেহেতু ওকেও ওরা বুঝিয়েছিল, বুবুনের সঙ্গে কথা বলতে।
এদিকে বুবুনের মনে হয়, রুমু যে ওর মায়ের জন্য কতটা আপসেট সেটা বুঝলেও না বোঝার ভান করে ও রুমুর সঙ্গে সময় কাটাতে চাইছে, এরকম কিছু ইঙ্গিত করছে রুমু। বাড়ির সবার উপরে রাগ তো হচ্ছিলই, রুমুর উপরেও কিছু কম রাগ হচ্ছে না।
গম্ভীর হয়ে বলে, "আমার তোমার সঙ্গে কোনো কথা বলার নেই রুমঝুম। চল বাড়ি যাই।"
--"হেই, ইউ, উঠে কোথায় চলে যাচ্ছ? আগে বলো, তুমি নাকি বিরাট সায়েন্টিস্ট, বিশাল ব্যস্ত, এখন বিয়ে করতে পারবে না, তাহলে ওভারনাইট বিয়ে করবে ঠিক করলে কেন?" রুমু ওঠেনি, বরং রাগে ফেটে পড়ছে বুবুন চলে যাচ্ছে দেখে।
--"আস্তে কথা বল রুমঝুম। এটা পাবলিক প্লেস। আমার অন্যায় হয়েছে বিয়েতে রাজি হওয়া। তুমি রাজি না বলে দিলেই পারতে। তখন বাচ্চাদের মতো আহ্লাদী হাবভাব করে হ্যাঁ বললে কেন?" চাপার চেষ্টা করলেও বুবুনের গলাও কিছুটা হলেও চড়েছে।
💜💕💜💕💜💕💜
ক্যাফে থেকে পুপুলের বেরিয়ে যাওয়া ওয়েটাররা খেয়াল করেছিল। তখন ভেবেছিল, সত্যিই বাকিদের নিয়ে ফিরে আসছে। তারপর এদের কথা বলতে দেখে ওরা ভেবেছে, প্রেমিক যুগল। কিছু সময় এদের কথা বলার সুযোগ দেওয়াটাই দস্তুর। হয় কাস্টমার ডাকবে, নয়ত মিনিট পনেরো পরে টেবিল এ্যাটেন্ড করে এরকম ক্ষেত্রে।
এখন হঠাৎ ঝগড়া শুরু, দুজনের চোখমুখ দেখে ওরা বুঝতে পারে, এক্ষুণি থামাতে হবে। নাহলে বিশ্রী দিকে যাচ্ছে ঘটনা। বদনাম হবে ওদেরই ক্যাফের। দুজন ওয়েটার এগিয়ে আসে। একজন টেবিলের ওপারে থেমে অপেক্ষা করে, যার টেবিল নম্বর সে সামনে এসে মেনুকার্ডটা বাড়িয়ে ধরে, "স্যার, আপনাদের অর্ডারটা কি এবার দেবেন?"
আচমকা কথার মাঝখানে বাধা পেয়ে রুমুর সব রাগ ছুটে যায় ওয়েটারের দিকে, "না, নো, এ্যান এম্ফাটিক নো। আমরা অর্ডার দেব না। কি করবেন? হোয়াট ক্যান উ ডু?" বুবুনের উপর যত রাগ জমা হয়েছে সকাল থেকে সব নিয়ে পারলে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছেলেটির উপর।
একে কাস্টমার, তায় মহিলা, নিরুপায় ছেলেটি বুবুনের দিকে ফেরে, যদি এ প্রেমিকাকে আটকাতে পারে।
বুবুনের চেহারা দেখে ছেলেটি নিজেই ভয় পেয়ে যায়। কপালের শির ফুলে উঠেছে, চোখ লাল, নাকের পাটা ফুলে গেছে। আঙ্গুল তুলে বুবুন চাপা গলায় বাজের গর্জনে বলে, "স্টপ রুমু। আই সে স্টপ। বিহেভ ইয়োরসেলফ। হাউ ডেয়ার ইউ ভিক্টিমাইজিং হিম টু থ্রো ইওর ফ্রাস্ট্রেশন? সে সরি, সে সরি টু হিম। নাউ।"
বুবুনের গর্জনে রুমু হাঁ করে তাকিয়ে আছে। চোখের কোণে একটু জলেরও আভাস। তাতে মন গলে না বুবুনের। আবার বলে, এবার আর একটু আস্তে, "কি হল রুমু, সরি বল। উনি ওনার কাজ করছেন। তুমি কিছু না খেলে ভদ্রভাবে বলে বেরিয়ে যাও।"
ছেলেটি তাড়াতাড়ি বলে, "না না সরি কিসের? আপনারা কথা বলুন, একটু পরে অর্ডার নিচ্ছি।"
সে চলে যাওয়ার আগেই রুমু বলে, "সরি, আই এ্যাম রিয়েলি সরি।"
--"আরে না না ম্যাডাম" আরও কি কি বলতে বলতে ছেলেটি পালিয়ে বাঁচে।
রুমু চুপ করে বসে আছে। ওর বোধহয় কথা বলারও ক্ষমতা নেই। মুখচোখে সেই উগ্র রাগ নেই। রুমুর ম্লান, শুকনো মুখটা দেখে আবার বাবলিপিসির কথা মনে পড়ে বুবুনের।
একটুক্ষণ অপেক্ষা করে বোঝে রুমু কাঁদছে। প্রাণপনে ঠোঁট টিপে কান্না আটকে রেখেছে। ভারী মুশকিল হল তো। এই রাগ, এই কান্না। কিছুই বোঝার উপায় নেই। তার উপর এভাবে একটা খোলা জায়গায় কান্নাকাটি করলে লোকে সঙ্গে ওকে দেখে ওর সম্পর্কে কি ভাববে কে জানে।
চলবে