Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

মন_তোকে_দিলাম - 8

#পর্ব_৮
রবিবার,,,,,,,,,,,,,
২৩/০৪/২০১৯,,,,,,,,,,,

রাত ১:৩৫
আকাশে অর্ধেক চাঁদ ঝুলে আছে। মেঘেরা যেন আজ পণ করেছে সব তারাকে আড়াল করে রাখবে। হালকা বাতাসে গাছের শুকনো পাতাগুলো খসখস শব্দ তুলে নড়ছে। গভীর রাতে পুরো গ্রাম ডুবে আছে নিস্তব্ধতায়। অন্ধকারের বুক চিরে শুধু রাস্তার ধারের কয়েকটি বাতি মৃদু আলো ছড়িয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে।

গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল 'সেখ অট্টালিকা'। উঁচু পাঁচিল ঘেরা প্রাসাদসম সেই তিনতলা বাড়িটি আলোর ঝলকানিতে দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যায়। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডদের চোখে-মুখে সতর্কতার ছাপ। বাড়ির চারপাশে সারি সারি বড় বড় গাছ, আর সামনের বাগানে বিছিয়ে আছে একদম কার্পেটের মতো নরম সবুজ ঘাস। রাতের নিস্তব্ধতার মাঝেও অট্টালিকাটি যেন নিজের ক্ষমতা ও ঐশ্বর্যের গল্প বলে যাচ্ছে।

সেখ বাড়িটাও নিঃশব্দ। বিশাল হলরুমের মাঝখানে ঝুলছে একটি বড় ঝাড়বাতি, যার আলো দেয়ালের প্রতিটি কোণ আলোকিত করে রেখেছে। সিঁড়ি বেয়ে প্রথম তলায় উঠতেই ডান দিকের একেবারে শেষের রুম থেকে ভেসে আসছে অদ্ভুত এক শব্দ।

রুমটির দরজা ভেতর থেকে লক করা। ঘরটা পুরোনো এবং আধো-অন্ধকার। ছাদের দিকে যাওয়ার দরজাটি খোলা, আর শব্দটাও সেদিক থেকেই আসছে। রুমের সঙ্গে লাগোয়া ছোট্ট একটি ছাদ রয়েছে। ছাদ থেকে আসা চাঁদের আলোয় ঘরের অস্পষ্ট আকৃতি বোঝা যায়।

ছাদটি খুব একটা বড় নয়। ডান পাশে একটি বুকশেলফ, তার পাশেই সারি সারি নানা রকম ফুলগাছ। বাম পাশে রাখা কাঁচের গোল টেবিল, আর তার সামনেই কালো রঙের লোহার একটি দোলনা। কিঞ্চিত কিঞ্চিত শব্দ তুলে দোলনাটি দুলছে, আর শব্দের উৎসও সেটাই।

দোলনায় বসে আছে সেরাফিনা। বাড়িতে আসার পর থেকেই সে এখানেই বসে আছে। তার হাতে ধরা একটি ধারালো ছুরি। ছুরির ঝকঝকে ফলার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে। চোখে-মুখে জমে আছে ক্রোধ আর ঘৃণার ছাপ।
দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস করে বলল,
"ওই নিকৃষ্ট মানুষটাকে কতবার বারণ করেছি আমার রুমে না আসতে! কিন্তু তার অভ্যাস আর বদলায় না। আর সহ্য করতে পারছি না। যতক্ষণ না নিজের হাতে ওর রক্ত ঝরাতে পারছি, ততক্ষণ আমার শান্তি নেই..."

কথাগুলো বলেই ছুরির হাতল আরও শক্ত করে চেপে ধরল সেরাফিনা। তার চোখের গভীরে তখন অদ্ভুত এক অন্ধকার খেলা করছে।

সেরাফিনার চোখের সামনে হঠাৎ করেই সেই জঘন্য রাতের স্মৃতিগুলো ভেসে উঠল। মুহূর্তের মধ্যেই তার মুখের রং বদলে গেল। বুকের ভেতর জমে থাকা পুরোনো ক্ষত যেন আবার নতুন করে রক্তাক্ত হয়ে উঠল। ছেলেটা ঠিক কীভাবে তার বুকে নংরা ভাবে স্পর্শ করে ছিল। 

সেদিনের প্রতিটি মুহূর্ত আজও তার স্পষ্ট মনে আছে। যতই ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করুক না কেন, সেই স্মৃতিগুলো তাকে কখনো মুক্তি দেয়নি। মাঝে মাঝে গভীর রাতে ঘুম ভেঙে যায় তার। চোখ বন্ধ করলেই সে যেন আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।

মনে পড়তেই সেরাফিনার সারা শরীর ঘৃণায় শিউরে উঠল। বুকের ভেতর চাপা রাগ আর অসহায়ত্ব একসঙ্গে জেগে উঠল। সে অনুভব করল তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে। হাতের শিরাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, আঙুলের ফাঁকে ধরা ছুরিটার হাতল আরও শক্ত করে চেপে ধরল সে।

অনেক মানুষই বলে সময় সবকিছু ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু সেরাফিনা জানে, কিছু স্মৃতি কখনো মুছে যায় না। কিছু ক্ষত সময়ের সাথে শুকিয়ে গেলেও দাগ রেখে যায় সারাজীবনের জন্য। তার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে। বাইরে থেকে সে স্বাভাবিক থাকলেও ভেতরে ভেতরে সেই ঘটনার আগুন তাকে প্রতিনিয়ত পুড়িয়ে এসেছে।

অসংখ্যবার সে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে। নিজের মনকে শান্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু যতবার সেই মুখটা তার সামনে ভেসে উঠেছে, ততবার তার ভেতরের ঘৃণা আরও তীব্র হয়েছে। মনে হয়েছে, পৃথিবীর সমস্ত অন্ধকার যেন এক ব্যক্তির মধ্যেই লুকিয়ে আছে।

দোলনাটা ধীরে ধীরে দুলছে। রাতের শীতল বাতাস তার চুলগুলো উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তার ভেতরের আগুনকে শীতল করার ক্ষমতা এই বাতাসের নেই।

সেরাফিনা ধীরে ধীরে মাথা তুলে অন্ধকার আকাশের দিকে তাকাল। অর্ধেক চাঁদের আলো তার মুখে পড়ছে। সেই আলোয় তার চোখ দুটো অস্বাভাবিক উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। চোখে কোনো ভয় নেই, কোনো দ্বিধা নেই। আছে শুধু বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, ঘৃণা আর বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
তার ঠোঁটের কোণে এক অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠল।
নিজের সাথেই ফিসফিস করে বলল,
"অনেক সহ্য করেছি... অনেক। প্রতিটা রাত, প্রতিটা কান্না, প্রতিটা দুঃস্বপ্নের হিসাব আজও আমার কাছে জমা আছে। আমি কিছুই ভুলিনি। একটাও না..."

কথাগুলো বলেই ছুরির চকচকে ফলার দিকে তাকাল সে।
রাতটা আজ অস্বাভাবিক নিস্তব্ধ। যেন প্রকৃতিও অপেক্ষা করছে কোনো অজানা ঘটনার জন্য। দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে, কিন্তু সেই শব্দও আজ তার কানে পৌঁছাচ্ছে না।

সেরাফিনার মনে হচ্ছে, বহুদিন ধরে যার জন্য সে অপেক্ষা করেছে, সেই মুহূর্তটা হয়তো আর খুব দূরে নয়।

কিন্তু সে জানে, রাগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে। তবুও আজ তার ভেতরের ঝড়কে থামানো কঠিন। অতীতের স্মৃতি আর বর্তমানের বাস্তবতার মাঝে দাঁড়িয়ে সে অনুভব করছে— তার সামনে যে পথ খোলা আছে, সেটি হয় তাকে মুক্তি দেবে, নয়তো আরও গভীর অন্ধকারে ঠেলে দেবে।

দোলনাটা আবারও হালকা শব্দ করে দুলে উঠল।
আর সেরাফিনা স্থির চোখে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইল, যেন কোনো কিছুর অপেক্ষায় আছে। কোনো এক অনিবার্য মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায়।

সেরাফিনা ছুড়ি টা নিয়ে আস্তে করে দরজা খুল রুম থেকে বেড়িয়ে গেল রাত ঠিক ২:৪২ হবে। মুখে কাপড় বাঁধা হাতে ছুড়ি টা শক্ত করে ধড়ে রেখেছে। দ্বিতীয় ফ্লেরে সিঁরি দিয়ে উঠতেই সামনের রুম টাই সিফানের।

দ্বিতীয় তলায় সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই সামনেই পড়ে সিফানের রুম। করিডোরের একদম মুখোমুখি হওয়ায় রুমটা সহজেই নজরে আসে।দরজাটা কালো কাঠের তৈরি। দরজার মাঝখানে সাদা রঙের পেইন্ট দিয়ে বড় বড় ইংরেজি অক্ষরে হাতে লেখা—
"SIFAN'S ROOM" 

সেরাফিনা মনে মনে বলে"আমার বাপের খেয়ে ফুটানি মারে"
আবার একটু থেকে ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে বলে—
"বেডা আজ তোর শেষ রাত, আল্লাহ যেন তোরে সসম্মানের
জাহান্নাম বাসী করুক, আমিন যাক জেনিফা যেনে খুব খুশি হবে। চিন্তা করিস না সিফান তোর নামে খতম পড়ার ইচ্ছা একদম নেই"

বলেই আস্তে করে রুমের ভিতরে চলে যাই। নাইট ল্যাম্প টা জ্বলছে। সেরাফিনা দরজায় কাছে দাঁড়িয়ে দেখতে পাচ্ছে। সিফান শুয়ে আছে।দরজা লক করে ধীরে ধীরে সিফানের বেডের কাছে চলে যাই। সেরাফিনা সিফানের হাত টা শক্ত করে বেঁধে দেয়। 

"মুখ কি বাঁধতে হবে..... নাহ থাক বেডা একটু চিৎকার করুক শুনি একটু কেমন লাগে"বলেই ছুড়ি টা শক্ত করে হাতে ধড়ে আর সিফানের ঠিক হার্ট বরাবর চালিয়ে দেই। কিন্তু সিফান এর কোনো হূস নেই। সেরাফিনা তো অবাক হয়ে যাই কি হলো। 

কম্বল টা সরাতেই সেরাফিনার চোখ আটকে যাই। বিছানা ভর্তি রক্ত। মুখ টা সিফানের নাকের কাছে নিয়ে আসে নিঃশ্বাস চলছে নাহ। প্লাস চেক করে কিন্তু কোনো সারা নেই"আরে সা*লা এতো আমার শএুর থেকে অন্য কারোর আরো বড় শএু ছিল, তাই আমার মারার আগেই অন্য কেউ মেরে দিলো"বলে সেরাফিনা হাসতে শুরু করে। সিফানের র*ক্ত দেখে সেরাফিনার যে কি আনন্দ টাই নাহ হচ্ছে।