Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

সুপ্ত প্রেমের আগুন - 8

      হঠাৎ বাইকটির থেমে যাওয়ার শব্দে ফোয়ারার চারপাশের নীরবতা ভেঙে গেল। রাশিক ,আহাদ আর সাদ্দিক এক মুহূর্তে থমকে গেল। চোখ বড় হয়ে গেল, হৃদয় ধক করে উঠল—মনে হলো যেন সময় নিজের গতি হারিয়ে ফেলেছে।


       রাশিকের বুক একটু দ্রুততর হয়ে উঠল। সে ভাবল, “এই বাইক কি সত্যিই সেই?” মনে একটা অদ্ভুত উত্তেজনা, সামান্য শঙ্কা আর অজান্তেই তীব্র আগ্রহ—একসাথে ঘোর পাক খাচ্ছে।


       আহাদ কনুই চেপে ধরে থামল। মনে হলো যে মুহূর্তে বাইক থামল, সমস্ত দমবন্ধ করা সময় হঠাৎ উন্মুক্ত হয়ে গেছে। তার চোখে বিস্ময় আর এক ধরনের আনন্দের ঝিলিক—কারণ সে ভেবেছিল এই দেখা হবে না এত সহজে।


       সাদ্দিক শুধু থামল, হাত ঢেকে মুখ চাপা রাখল, চোখে অদ্ভুত উচ্ছ্বাস আর হতবাক বিস্ময়। মনে মনে সে ভাবছে, “এটা কি সম্ভব? সত্যিই কি সে এসেছে?”


       তিনজনেরই মনে একরকম উত্তেজনা, উল্লাস আর অচেনা অস্থিরতা মিশে গেছে—যেন হঠাৎ সেই দিনের সমস্ত অপেক্ষা, সব আবেগ এক মুহূর্তে ফোয়ারার মতো বাতাসে মিলেমিশে ছড়িয়ে পড়ে। 


রাশিক: অবশেষে দেশে ফিরলি! ওয়েল কাম ব্যাক টু বাংলাদেশ, 'মিস্টার আযলান খান ইভান'

সাদ্দিক: (হাসি দিয়ে) হায়, এত দিন পর… চোখেই যেন বৃষ্টি জমে আছে!


আযলান: (চোখে আগুন, কণ্ঠ কেঁপে যাচ্ছে, শরীর কাঁপছে উত্তেজনায়) কি যে বলি… তোর বন যে শুধু মনে নয়, রক্তের প্রতিটি কণায় বেঁধে গেছে। এত বছর ধরে আমি কেবল একটাই স্বপ্ন দেখেছি—ঐশীকে নিজের করা। আর এবার… এবার আর কোনো দূরত্ব, কোনো বাধা থাকবে না। আমি চাইছি, সে শুধুই আমার হোক।


রাশিক: (হতবাক, চোখে আনন্দ ও বিস্ময়) সত্যিই… এতদিন ধরে… তুই শুধু…

সাদ্দিক: (হাত মাথায়, উচ্ছ্বাসিত) এই মুহূর্তের জন্য কি অপেক্ষা!


আযলান: (হাসি আঁচড়ানো, চোখে তৃষ্ণার আগুন জ্বলছে) বুঝছিস না? আমি দীর্ঘ সময় ধরে শুধু তার জন্য অপেক্ষা করেছি। প্রতিটি রাত, প্রতিটি মুহূর্ত—সবকিছু তার নাম নিয়েই কেটে গেছে। বহু বছর পরে, আমি আর কোনো মুহূর্ত হারাতে চাই না। তার জন্য আমার রক্ত, প্রাণ, হৃদয়—সবকিছু একা অপেক্ষা করেছে।


আযলান: (ধীরে ধীরে এগিয়ে, চোখে চোখ রেখে, হৃদয় যেন চিৎকার করছে) শরীর ঠিকই ইতালিতে ছিল, কিন্তু মন, হৃদয়, মস্তিষ্ক—সবকিছু আমি রেখে এসেছি তার কাছে। আজ আমি চাই শুধু তার দিকে ছুটে যেতে, তাকে টেনে নিতে, আর কখনো ছাড়তে না।


রাশিক: (শব্দ হারিয়ে, চোখ ভিজে যায়) আযলান… ওটা… সত্যিই তুই বলছিস?

সাদ্দিক: (উচ্ছ্বাসিত) সে তো পুরোপুরি উন্মাদ ভালোবাসায় ভরা!


আযলান: (হাত বাড়িয়ে, আঙুল দিয়ে চোখের কোণে খেয়াল করে, কণ্ঠ কেঁপে) দেখছিস? আমার রক্ত, আমার প্রাণ, আমার প্রতিটি স্পন্দন—সবকিছু কেবল তার জন্য। আজ থেকে আর দূরত্ব নেই, আর সময়ের অন্তরাল নেই। সে শুধু আমার, ঐশী। আর আমি তাকে আর কখনো ছাড়ব না।


আযলান: (ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে, হৃদয় উন্মাদ, শ্বাস কেঁপে) আজ, বহু বছর পরে, আমি শুধু চাই তাকে কাছে, কাছে… কাছে চাই, যেন আর কোনো দূরত্ব থাকে না। চোখে চোখ রেখে, আমি চাই তার সমস্ত কষ্ট, সমস্ত অপেক্ষা, সমস্ত সময়—সব মিলিয়ে তার হৃদয়ে প্রবেশ করতে।


আযলান: (হাত ছুঁয়ে, কোমল অথচ উন্মাদভাবে) দেখছি… প্রতিটি স্পন্দন তার জন্য, প্রতিটি নিঃশ্বাস তার নাম নিয়েই। আজ থেকে শুধু আমি, শুধু সে, আর কিছুই নয়।


রাশিক: (শুধু তাকিয়ে থাকে, চোখে মিশ্র আনন্দ ও বিস্ময়) হায়, আযলান… তুই সত্যিই তাকে ধরে ফেলতে যাচ্ছিস…

সাদ্দিক: (উচ্ছ্বাসিত, গলা কেঁপে) হ্যাঁ! এই ভালোবাসা, এই আগুন…


আযলান: (হৃদয় উন্মাদ, কণ্ঠ কম্পমান) আমি চাই, আজ থেকে আর কখনো তাকে হারাতে না। সব বছর ধরে যে ভালোবাসা জমেছে, যে আকাঙ্ক্ষা জ্বলছে, সেই সমস্ত উন্মাদ আগুন তাকে ছুঁয়ে, তাকে ঢেকে রাখুক।


~কয় এক বছর আগে~


       রাশিকের মনে সেই দিনটি ঝলমল করে ফিরে আসে—যখন আযলান ইতালিতে চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আযলানের চোখে অগণিত আবেগ, বুক ফেটে যাওয়া বেদনায় যেন বাতাস থমকে গেছে।


আযলান: (কণ্ঠ ভেঙে, চোখে অশ্রু) আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারব না, রাশিক… আমি কি করব, মরে যাবো আমি।


তার শব্দগুলো কেবল কথাই নয়, বরং হৃদয় থেকে নিঃসৃত আর্তনাদ। আযলানের ভালোবাসা এত গভীর, এত নিখুঁত—যে মুহূর্তেও সে ঐশীকে ছেড়ে চলার কথা ভাবছে, তার বুক ফেটে যাচ্ছে, চোখ ভিজে যাচ্ছে, আর হৃদয় যেন চিৎকার করছে।


রাশিক শুধু চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল, দেখছিল কিভাবে একজন মানুষ এমনভাবে কাউকে ভালোবাসতে পারে—একটি ভালোবাসা যা সীমা, দূরত্ব, বা সময়ের কাছে নতমাত্র নয়।


প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি অশ্রু—সবই আযলানের ভালোবাসার সাক্ষ্য দিচ্ছিল। ঐশীর জন্য তার অন্তরের উন্মাদ আগুন এত প্রবল, যে রাশিকও শুধু তাকিয়ে থাকতে পারল, আর কিছু বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলল।


রাশিক বুঝতে পারল—কখনো কখনো মানুষ নিজের জীবন, নিজের সবকিছু জ্বালিয়ে দিতে পারে শুধুমাত্র ভালোবাসার জন্য। আযলানের সেই ভালোবাসা—উন্মাদ, নিবিড়, চিরন্তন—রাশিকের চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠল।


রাশিকের মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা জন্ম নিল—ঐশীকে আর কোনো ক্ষতি হতে দেবে না। সে থাকবে ঐশীর পাশে, ভাইয়ের মতো, রক্ষা করবে, দেখাশোনা করবে। “যতই দূরত্ব হোক, যতই বাধা আসুক… ঐশীর কোনো ক্ষতি হতে দেব না। ওর সবকিছু আমি নিজের মতো দেখব। আযলান, তুই চিন্তা করিস না ভাই… ঐশী শুধুই তোর।”



রাশিক শুধু দেখছিল, মনে মনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—ঐশীর পাশে থাকবে, তাকে ভাইয়ের মতো রক্ষা করবে। আযলানের উন্মাদ ভালোবাসা, কষ্ট, তৃষ্ণা—সবই সে দেখেছে।


রাশিক: (মনে মনে) আযলান… তোর ভালোবাসা আমি দেখেছি। ওর কোনো ক্ষতি হতে দেব না। ওর পাশে আমি থাকব, ভাইয়ের মতো, সবসময়।


~বর্তমান~


রাশিক: আয়ত্তহীন উচ্ছ্বাসে আযলানকে জড়িয়ে ধরে কি রে!  কেমন আছিস, ভাই?

সাদ্দিক: (চুপচাপ, শুধু পাশে দাঁড়িয়ে আযলানকে দেখে, চোখে আনন্দ আর সমর্থন)


রাশিক: (হাসি আঁচড়ানো, চোখে দুষ্টু জ্বালাময়ী) তোর ভালোবাসা আমি আগলে রেখেছি, আযলান। তোর প্রেমিকা ঐশী… ও বজ্জাত খালি দুষ্টুমি, সবার পিছলে লাগে। আমাকে শান্তিতে থাকতে দেয় না, শুধু আমাকে না, কাউকে শান্তিতে থাকতে দেয় না। আমি চাই, তোর আর ওর তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে আমি রাইশা কে নিয়ে হানিমুনে যেতে চাই। ওই ঐশী বলদ থাকলে আমার আর কিছু হবে না। দয়া করে, নিয়ে যা ভাই, তোর বউকে… তোর জন্য শুধু কিছু বলিনি।


রাশিকের কথাগুলো আযলানের কানে ভেসে আসে—প্রথমে অবাক, তারপর রাগের আগুনে চোখ জ্বলে ওঠে। আযলান এখন আর ধৈর্য রাখতে পারছে না।


আযলান: (কণ্ঠ ভেঙে, চোখে আগুন, রাগে কেঁপে) কি বলছিস তুই! আমার সামনে… আমার জানকে গালি দিচ্ছিস! তুই কি ভাবছিস, আমি শান্ত থেকে বসব! আমি এখনই… এখনই তোর গলা ধরে চাবু দেই! যদি ও দুষ্টু হয় তাহলে তোর জন্য হয়েছে, তুই তো দেখে শুনে রেখেছিস ওকে। তোর কাছে থেকে থেকেই আজ ওর এই অবস্থা। 


সাদ্দিক: (হাসি থামাতে পারছে না, চোখ চকচক করছে) আরে রে ভাই! তুই এত রাগ করিস কেন? ও তো শুধু বলছে, রাশিক কিন্তু পিওর ভালো মানুষ… আর কিছু না!


আযলান:  তুই বুঝছিস না! আমি শুধু ঐশীকে চাই! শুধু আমার! আর কোনো দুষ্টুমি, কোনো গালি, কোনো বলদ—কিছুই আমাকে থামাতে পারবে না!


সাদ্দিক: না রে, সত্যি ঐশী খুব দুষ্টু, আমি মাইশার উপর রাগ করেছিলাম। অনেক দিন কথা বলিনি । মাইশা ঐশী কে সব বলেছে। মাইশা কান্না করছিল দেখে ঐশীর খুব কষ্ট হচ্ছিল। ঐশী শুনে কি করেছে জানিস, মাইশার কাছে থেকে মাইশার ফোন টা নিয়ে আমাকে এস.এম.এস করেছে। কিছু ভিডিও দিয়েছে। আমি অনলাইন হয়ে ছিলাম ভিডিও দেখে আমার মাথা ঘুরে গিয়েছে এই রকম পাজি মেয়ে হয়। আল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ। কি সব সিন ছিল রে। তোর বউ হেব্বি রোমান্টিক হবে। মোস্ট রোমান্টিক। 


আযলান:লজ্জা করে না। একটা বাচ্ছা মেয়ের নামে এই সব বলতে। ছি, ছি, ছি। দেখ তোর বউ ওই সব দিয়েছে, আর আমার বউ এর নাম করে দিয়েছে। 


রাশিক: (হেসে, কপালে কুঁচকি দিয়ে) ওরে বাবা… তুই তো পুরো নাটক! একবার তো হাসি দে না, চোখে আগুন আর মুখে চিৎকার! ভাই, একটু কম রাগ কর, নইলে ঐশী তো ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেবে—“আযলান উন্মাদ”।


আযলান: (চোখ গোলাকার, গলা কম্পমান) হাহ! রাশিক! আমি উন্মাদ নই, আমি… আমি উন্মাদ ভালোবাসায় ভরা! আমি শুধু ওর জন্য বাঁচি!


সাদ্দিক: (চুপচাপ, শুধু পাশে দাঁড়িয়ে আঙুল দিয়ে আভাস দেয়—“হ্যাঁ, ঠিক বলেছে”)


রাশিক তখনও হাসি আটকে রাখতে পারছে না, আবার আযলানকে জড়িয়ে ধরে:


রাশিক: (হাসি ফেটে, কপালে কুঁচকি দিয়ে) ঠিক আছে ভাই, ঠিক আছে… তোর জন্য ওকে দিচ্ছি। কিন্তু মনে রাখিস—ঐশী শুধু তোর! আর যদি ওকে দুষ্টুমি করতে দেখিস, জানি না… হাহা!


আযলান রাগে উত্তপ্ত, চোখে আগুন, কিন্তু মনে মনে হেসে ফেলে—কারণ রাশিকের দুষ্টু ব্যাখ্যা তার উন্মাদ ভালোবাসাকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। 


   

Happy Reading ☺

To be continue😅