নীলচে কুয়াশা তখনও শহরের মাথার ওপর হালকা চাদরের মতো ঝুলে আছে। গলির মাথায় পুরনো অশ্বত্থ গাছের পাতায় রাতের শিশির ঝরছে টুপটাপ। পাখিরা মাঝেমধ্যেই ডাকছে, রোদটা ধীরে ধীরে পাতার ফাঁক দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে। রাস্তাগুলো যেন আধো ঘুমে মগ্ন, দোকানের শাটার অর্ধেক ওঠা, গরম দুধের গন্ধে চারদিক নরম মিষ্টি। এই শান্ত সকালের মধ্যে একটা ছোট চায়ের দোকান যেন বিশেষ আলাদা—টিনের ছাউনির নিচে ধোঁয়া ওঠা কেটলি, মাটির কাপের কাচুমাচু শব্দ, আর চায়ের সাথে মিশে থাকা গল্পের ছড়াছড়ি।
সেই দোকানের কাঠের বেঞ্চে পাশাপাশি বসে আছে আযলান আর রাশিক। দুজনের সামনে আধভরা গ্লাসে গরম চা, বাষ্পের রেখা আকাশে ছোট ছোট সাপের মতো মিলিয়ে যাচ্ছে। রাশিক ঠোঁটের কোণে চিরচেনা হাসি ঝুলিয়ে গল্পের ঢেউ তুলছিল, কিন্তু আযলান ছিল অদ্ভুত চুপচাপ, যেন ভেতরে কিছু গোপন আগুন।
হঠাৎ আযলান গ্লাসের শেষ চুমুক নিয়ে গভীর গলায় বলল,
“ঐশীর তো আজ পরীক্ষা।”
রাশিক গ্লাস ঠুকে হালকা গর্বের সুরে উত্তর দিল,
“আমি নিজেই ওকে দিয়ে এসেছি।”
আযলানের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল, চোখে ঝিলিক।
“ঠিক আছে, আমি একটু দেখা করে আসি আমার sweet honey-র সাথে, মনটাকে একটু শান্তি দি।”
রাশিক থমকে গেল, ভুরু কুঁচকে তাকাল,
“কিন্তু তুই যাবি? ও তো তোকে চেনে না!”
মৃদু হাওয়ায় আযলানের হাসি যেন মিলিয়ে গেল। মাথা নিচু করে সে শান্ত গলায় বলল,
“আমার বন নৌরিন ঐশীর সাথেই পড়ে। ঐশীর ক্লাসেই।”
রাশিক প্রায় চিৎকার করে উঠল,
“এই! তোর বন আবার কোথা থেকে এলো? আমি তো জানতামই না তোর বন আছে!”
কিন্তু আযলান কোনো উত্তর দিল না। শুধু সেই চেনা রহস্যময় হাসি। ধীরে ধীরে দাঁড়াল, কালো লেদার জ্যাকেটের চেইন টেনে লাগাল। বাইকের দিকে এগিয়ে গেল। রোদে বাইকের ক্রোমের অংশ ঝিকমিক করছিল, যেন সকালের সূর্যের সাথে লুকোচুরি খেলছে।
চাবি ঘুরাতেই ইঞ্জিনের গভীর গর্জন নিস্তব্ধতা কাঁপিয়ে দিল। চারপাশের পাখিরা মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ। বাতাসে তীব্র পেট্রোলের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল।
রাশিক তখনও থেমে নেই। দুই হাত কোমরে রেখে চিৎকার করে বলল,
“এই, আবার চলে যাচ্ছিস! কখন ফিরবি বলতো? দুপুরে ফিরবি, না রাতে? তোর মতো রহস্যময় মানুষ আমি জীবনে দেখিনি!”
হেলমেট মাথায় চাপিয়ে আযলান পেছন ঘুরে তাকাল। চোখে দুষ্টু আলো, ঠোঁটে বাঁকা হাসি—কিন্তু কোনো উত্তর নয়। বাইক ধীরে ধীরে গতি নিল। রাস্তাটা সোজা নদীর দিকে চলে গেছে, দুপাশে বটগাছের সারি, পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ যেন সোনালি ঝরনার মতো পড়ছে।
রাশিক দাঁড়িয়ে রইল, কানে বাজছে শুধু ইঞ্জিনের গর্জন। বাতাসে ধুলো উড়ে এসে তার মুখে লাগছে, তবু দৃষ্টি সরাতে পারছে না। মৃদু গলায় বিড়বিড় করে বলল,
“বাপু, আজ তোকে না ধরে ছাড়বো না। কে এই নৌরিন—সব খবর বের করব।”
দূরে মোড় ঘুরতেই আযলানের বাইক মিলিয়ে গেল। কিন্তু রাশিকের কানে যেন এখনও ভেসে আছে সেই গর্জনের সাথে আযলানের রহস্যময় মুচকি হাসি—যেটা সকালটার প্রতিটি হাওয়াকে কৌতূহলে ভরে দিল।
অনেক বছর কেটে গেছে, কিন্তু আযলান এর হৃদয় আজও অচঞ্চল, অদম্য—একই আগুনে জ্বলছে। বৃষ্টি ভেজা সেই দিনটির স্মৃতি বারবার তার চোখে ঝলমল করে; সেই হাসি, সেই চোখ, তার শব্দ—সবকিছু যেন তার রক্তে মিশে আছে। তখন থেকে তার ভালোবাসা আর ভালোবাসা নয়, এটি এক উন্মাদনা, এক জ্বলন্ত তৃষ্ণা।
দেশের কোল আলোড়িত করছে না; পুরুষ টি ফিরেছে একমাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে—তার ভালোবাসার অষ্টাদশী কে নিজের করে নেওয়ার। সে প্রতিটি মুহূর্তে শুধু অষ্টদশীর কথা ভাবছে। রাতের নীরবতায় তার হৃদয় গর্জন করছে, “আজ, এত বছর পরে, আর কোনো দেরি নয়। তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না, তুমি কেবল আমার।”
তার চোখে আগুন, শ্বাসে তাড়া, হাত যেন চিৎকার করছে—ধরে নাও, কাছে টানে নাও, আর কখনো ছাড়ো না। পৃথিবীর সব বাধা, সব দূরত্ব, সব সময়—কিছুই তাকে থামাতে পারবে না। তার ভালোবাসা এখন এক বন্যোন্মত্ত আকাঙ্ক্ষা, যা তার রক্ত, তার হৃদয়, তার প্রতিটি কোষে প্রবাহিত হচ্ছে।
প্রতিটি মুহূর্তে সে কল্পনা করছে—অষ্টাদশীর হাতে হাত রাখছে, চোখের সামনে তাকিয়ে বলছে, “আমি তোমাকে কখনো ছাড়ব না।” তার মন, তার প্রাণ, তার প্রতিটি স্পন্দন কেবল তার ভালোবাসার জন্য উন্মাদ। আর আজ থেকে আর কোনো দূরত্ব নেই, আর কোনো অপেক্ষা নেই—সবকিছু শেষ। কিশরী অষ্টদশীর কেবল তার, তার জীবনের সমস্ত আলো, সমস্ত স্বপ্ন।
পুরুষ টি এখন শুধু নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষা করছে সেই মুহূর্তের জন্য, যখন সে তার ভালোবাসার কাছে গিয়ে তার ভালোবাসার জ্বালা ছুঁয়ে দিতে পারবে। আর সেই দিন আসবেই, কারণ তার হৃদয়, তার প্রাণ, আর তার উন্মাদ ভালোবাসা—সব মিলিয়ে শুধুই তার প্রান প্রিয় প্রমিকার জন্য।
Aaj Unse Milna Hai Humein
আজ ওনার সাথে দেখা হবে আমার
Aaj Unse Milna Hai Humein
আজ ওনার সাথে দেখা হবে আমার
Chal Unke Liye Kuchh Lete Chalein
চলো ওনার জন্য কিছু নিয়ে যাই
Aur Unko Duaayein Dete Chalein
আর তাঁকে দোয়া দিতে যায়
............
Maholon Ki Raani Hai Sunder Sayaani Hai
মহলের রানি তিনি, সুন্দর ও বুদ্ধিমতী
Wo Khaandani Hai Jaane Dil
তিনি রাজবংশীয়, জানে মন
Kya Kya Kharidein Hum
কি কি কিনি আমি
Kya Naa Kharidein Hum
কি না কিনি আমি
Kya De Nishani Ye Hai Mushqil
কি দিই স্মৃতিচিহ্ন, এটাই বড় কঠিন
..........
Aaj Unse Milna Hai Humein
আজ ওনার সাথে দেখা হবে আমার
Aaj Unse Milna Hai Humein
আজ ওনার সাথে দেখা হবে আমার
Unse Milenge Toh Hum Kya Kahenge
ওনার সাথে দেখা হলে আমি কী বলব
Ye Socha Na Samjha Na Jaana Hai
এ নিয়ে ভাবিনি, বুঝিনি, জানিও না
Shayad kahein Aise Unke Humesha sa
হয়তো এমন বলব যে তাঁর সর্বদা
Sar Aankhon Par Hi Thikana Hai
আমার মাথা ও চোখের উপরই তাঁর স্থান
.............
Aaj Unse Milna Hai Humein
আজ ওনার সাথে দেখা হবে আমার
Aaj Unse Milna Hai Humein
আজ ওনার সাথে দেখা হবে আমার
---------------
চার বন্ধু ঐশী, লাইবা, রাইশা আর নৌরিন দৌড়ে মাঠের দিকে বেরিয়ে এলো। গরমে মাঠটা যেন কড়াই, চারদিকে ধোঁয়া উঠছে বলেই মনে হচ্ছে। সূর্যের তেজে ঘাসগুলো কুঁকড়ে গেছে, মাঠে দাঁড়ালেই মনে হচ্ছে কেউ ভাজা শুরু করে দেবে।
ঐশী হাঁপাতে হাঁপাতে মুখ কুঁচকে বলল—
—“উফ! মনে হচ্ছে আমি আরেকটু দাঁড়ালে পাকা পেয়ারা হয়ে মাটি তে পড়ে যাব।”
লাইবা পানির বোতল বের করে হেসে বলল—
—“তুই যদি পেয়ারা হোস, আমি আচার বানাব।”
রাইশা ও যোগ করল—
—“কিন্তু সাবধান! পেয়ারার ভিতরে কৃমিও থাকে।”
নৌরিন এবার মজা করে বলল—
—“আমি সেই কৃমি হব। আমি তো ঐশীর মাথার ভেতরেই আগে থেকে থাকি।”
সবাই হো হো করে হেসে উঠল। ঐশী ভুরু কুঁচকে চেঁচিয়ে বলল—
—“চুপ! তোরা যদি আরেকটু খেপাস, আমি কনফার্ম তোদের ফ্রিজে ভরে রাখব। তারপর বলব—ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল।”
লাইবা গম্ভীর ভান করে বলল—
—“তা হলে অন্তত ঠাণ্ডা হবো। এখনকার গরমে আমি গলে আইসক্রিম হয়ে যাচ্ছি।”
“আইসক্রিম” শব্দটা শুনতেই চারজন একসাথে লাফিয়ে উঠল—
—“আইসক্রিম! চল আইসক্রিম খেতে!”
হাঁটতে হাঁটতে ঐশী আবার গর্জন করল—
—“আমার মনে হচ্ছে আমি না, ভাজা পাঁপড়।”
লাইবা মজা করে বলল—
—“তুই ভাজা পাঁপড় হলে, রাইশা হবে চিপস, নৌরিন হবে ভাত হাঁড়ি।”
রাইশা গম্ভীর ভঙ্গিতে গলা খাঁকারি দিল—
—“তুই আবার কড়াইতে ঝলসানো মাছ।”
নৌরিন হাত নেড়ে বলল—
—“মাছ হলে আমি লবণ ছিটিয়ে খাব।”
এভাবেই মজা করতে করতে তারা পৌঁছে গেল স্কুলের সামনে ছোট্ট আইসক্রিম দোকানে। দোকানদার চারজনকে দেখে হেসে বলল—
—“আহা! আজ আবার কোন কোন ফ্লেভার উড়ে যাবে?”
ঐশী হাত উঁচু করে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল—
—“আমার চাই XXL চকোলেট আইসক্রিম! এমন বড়, যাতে আমার সাথে বিয়ে দিতে পারো।”
লাইবা চোখ বড় করে বলল—
—“তুই বিয়ে করবি আইসক্রিমের সাথে? শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে যাবে তো চকোলেট সিরাপ?”
রাইশা গম্ভীর ভঙ্গিতে অর্ডার দিল—
—“আমার জন্য স্ট্রবেরি আইসক্রিম, তবে কম মিষ্টি। আমি ডায়েট করছি।”
নৌরিন হো হো করে হেসে উঠল—
—“ডায়েট নাকি নাটক! গতকালই তিন প্লেট বিরিয়ানি খেলি দেখে বললি—‘এগুলো সালাদ।’ দোকানদার ভাই, ফুল সাইজ দিন। না হলে ও পরে আমারটার দিকে তাকাবে।”
দোকানদার হেসে ফেটে পড়ল। শেষমেশ সবাই অর্ডার দিল—চকোলেট, ভ্যানিলা, স্ট্রবেরি আর কফি। ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা আইসক্রিম হাতে পেয়ে চারজন বেঞ্চে বসে পড়ল।
ঐশী প্রথম চামচ খেয়ে চোখ বন্ধ করে বলল—
—“আহা! এটাই আসল প্রেম।”
লাইবা নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল—
—“সাবধান সবাই! ঐশী প্রেমে পড়ে গেছে আইসক্রিমের সাথে। এখন ওকে কেউ প্রপোজ করলে শর্ত হবে—প্রথমে ফ্রিজ কিনে দিতে হবে।”
রাইশা হাসতে হাসতে বলল—
—“বিয়েতে আমি হবো বেস্ট ফ্রেন্ড। তবে যদি ফ্রিজ বর হয়ে দাঁড়ায়, আমি নাচতে নাচতে পড়ে যাব।”
নৌরিন গলা চড়িয়ে বলল—
—“আমি হবো কনের বান্ধবী, বর হবে চকোলেট সিরাপ। বউভাতে শুধু আইসক্রিম।”
চারজনের হাসির শব্দে পাশের বেঞ্চে বসা এক দম্পতি বিরক্ত হয়ে তাকাল। ঐশী মুচকি হেসে বলল—
—“ওদের দেখে মনে হচ্ছে আমাদের বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি করাতে হবে।”
লাইবা চোখ টিপে বলল—
—“হ্যাঁ, বাচ্চাদের নাম রাখব ভ্যানিলা, চকোলেট, স্ট্রবেরি আর কফি।”
রাইশা হেসে গড়িয়ে পড়ে বলল—
—“তাহলে পরীক্ষার হলে স্যার ডাকবেন—‘ভ্যানিলা মিয়া, রোল নাম্বার ৩!’”
সবাই আবার গড়াগড়ি খেতে লাগল। আইসক্রিম গলতে গলতে হাতে পড়ছে, কিন্তু হাসি থামছে না। দোকানদার মাথা নেড়ে বলল—
—“তোমাদের জন্য আমার দোকানের নাম রাখব—‘চার পাগলের আইসক্রিম দোকান।’”
গরম, রোদ্দুর সব যেন ভুলে গেল। হাসি, খুনসুটি আর ঠাণ্ডা আইসক্রিমের স্বাদে চার বন্ধুদের বিকেলটা হয়ে উঠল অবিস্মরণীয়।
সবার আইস খাওয়া শেষ। কিছু ক্ষনের মধ্য, সবাই নির্দিষ্ট গন্তব্যে বিড়িয়ে পড়বে। চার জন এগিয়ে যাচ্ছে, স্কুলের বিশাল বড় গেট টির দিকে। এমন সময় নৌরিন বল্ল"কি রে চিঠি টা বাড় কর, আমি তো জানতে পাড়বো না"নৌরিনের কথায় সবাই মত জানালো। ঐশী নিজের ব্যাগ থেকে চিঠি টা বেড় করলো।
Happy Reading ☺