Read I gave my heart to you. by L Anjum Author in Bengali থ্রিলার | মাতরুবার্তি

Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

মন_তোকে_দিলাম - 10

সিসিটিভি ফুটেজটা আবার চালাল জেহেফিল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল সেরাফিনার অবয়ব। অন্ধকার রাত, সরু কার্নিশ, আর কয়েক তলা নিচে শক্ত মাটি।

ভিডিওটা যত এগোচ্ছে, জেহেফিলের কপালের ভাঁজ তত গভীর হচ্ছে।
যখন সে দেখল সেরাফিনা জানালা দিয়ে বের হয়ে নির্ভয়ে কার্নিশ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন তার মাথা যেন আরও গরম হয়ে গেল।

"এই মেয়েটা কি পাগল নাকি?"দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করল সে।

ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, সামান্য ভুল হলেই সোজা নিচে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সেরাফিনার মধ্যে ভয়ের কোনো চিহ্নই নেই। যেন এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ সে আগেও বহুবার করেছে।

জেহেফিল বিরক্ত হয়ে ল্যাপটপের পাশে রাখা পানির গ্লাসটা হাতে নিল। এক চুমুক খেয়েই আবার স্ক্রিনের দিকে তাকাল।

তারপর মাথা নেড়ে বলল,
"দেখে তো মনে হচ্ছিল মেয়েটা বেশ শান্ত-শিষ্ট। কিন্তু সব হিসাবই তো উল্টে দিল!"

ভিডিওটা পজ করে স্ক্রিনে সেরাফিনার স্থির অবয়বের দিকে তাকিয়ে রইল সে।
কয়েক সেকেন্ড পর একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল তার বুক থেকে।
"আল্লাহই জানে, একদিন এই মেয়ে আমাকে হার্ট অ্যাটাক না করিয়ে ছাড়বে কি না!"

কথাটা বললেও তার কণ্ঠে বিরক্তির পাশাপাশি অদ্ভুত এক অসহায়ত্ব মিশে ছিল।
কারণ সে বুঝতে পারছে, সেরাফিনা সাধারণ কোনো মেয়ে নয়। তার মাথায় কী চলে, কখন কী করবে, তা আগেভাগে আন্দাজ করা প্রায় অসম্ভব।

আর এই ব্যাপারটাই জেহেফিলকে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে ফেলছে।
ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সে আবারও মাথা নাড়ল।
"না, এই মেয়েকে চোখের আড়াল করা যাবে না। একদিন সত্যিই কোনো বড় কাণ্ড ঘটিয়ে বসবে।"

বাইরে রাতের বাতাস তখনও পর্দাগুলোকে উন্মত্তের মতো দুলিয়ে চলেছে। আর জেহেফিল স্ক্রিনে ভেসে থাকা সেরাফিনার ছবিটার দিকে তাকিয়ে ভাবছে— শান্ত চেহারার আড়ালে আসলে কী লুকিয়ে আছে এই মেয়েটার ভেতরে?

জেহেফিল দ্রুত কিবোর্ডে আঙুল চালাতে লাগল। তার উদ্দেশ্য একটাই— ফুটেজগুলো এডিট করা।
কিন্তু ঠিক তখনই তার ভ্রু কুঁচকে গেল।স্ক্রিনে একের পর এক এরর মেসেজ ভেসে উঠছে।

"File Not Found."
"Data Deleted."
"Unable to Access."

জেহেফিল কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে রইল।তারপর দ্রুত আবার ফোল্ডার খুলল।একবার।দুইবার।তিনবার।

কিন্তু ফলাফল একই।ফুটেজগুলো নেই।একটাও নেই।মুহূর্তের মধ্যে তার মুখের রং বদলে গেল।

— "এটা কিভাবে হতে পাড়ে আমি তো একটাও ফুটেজ ডিলিট করিনি, এমন হলে সব ফুটেজ গেল কোথায়। তাহলে কি অন্য কেউ সেখ বাড়ির ক্যামেরা হ্যাক করেছে আর সেই কি ডিলিট করেছে..."

নিজের অজান্তেই কথাটা বেরিয়ে এল তার মুখ থেকে।কয়েক মিনিট আগেও সে নিজের চোখে সব ফুটেজ দেখেছে। তাহলে এত অল্প সময়ের মধ্যে সব উধাও হয়ে গেল কীভাবে?

জেহেফিল পুরো ল্যাপটপ তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখল।
রিসাইকেল বিন,ব্যাকআপ ফোল্ডার,সার্ভার লগ,অটো সেভ হিস্টোরি।কোথাও কিছু নেই।

সব জায়গায় একই তথ্য দেখাচ্ছে—"Deleted"

তার বুকের ভেতর অস্বস্তি জমতে শুরু করল।কারণ সে নিশ্চিত, এই ফুটেজ সে ডিলিট করেনি।

তাহলে?

"সে যদি ফুটেজগুলো কালকে সবাই কে দেখিয়ে দেয় নোভা তো ফেঁসে যাবে"প্রশ্নটা মাথায় আসতেই জেহেফিলের চোখ সরু হয়ে গেল।হঠাৎ যেন তার মাথায় কিছু একটা ক্লিক করল।

এক মুহূর্ত দেরি না করে সে সেরাফিনার রুমের ক্যামেরা ফুটেজ বের করল।ভিডিও চালু হতেই স্ক্রিনে ভেসে উঠল সেরাফিনার রুম।আর পরের দৃশ্য দেখে জেহেফিল কয়েক সেকেন্ড নির্বাক হয়ে রইল।

সোফার ওপর সম্পূর্ণ উল্টো ভঙ্গিতে শুয়ে আছে সেরাফিনা।তার লম্বা, ঘন, কালো সিল্কি চুলগুলো সোফা ছাড়িয়ে মেঝে পর্যন্ত ছড়িয়ে দুটো পুটি খাচ্ছে। গায়ে থাকা ওড়নাটা পাশে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে।

মাথা নিচের দিকে ঝুলছে, আর দুই পা তুলে রেখেছে সোফার ব্যাকরেস্টে। দেখে মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে আরামদায়ক জায়গায় সে অবস্থান করছে।

আর তার পেটের ওপর রাখা একটি ল্যাপটপ।ল্যাপটপের স্ক্রিনের আলো তার মুখে পড়ছে।আঙুলগুলো অবিশ্বাস্য গতিতে কিবোর্ডের ওপর নাচছে।

মাঝে মাঝে তার ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠছে।জেহেফিল ভিডিওটা থামিয়ে আবার চালাল।তারপর আবার।

তার চোখ এবার সরাসরি সেরাফিনার ল্যাপটপের দিকে।
যদিও ক্যামেরা থেকে স্ক্রিন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না, তবুও একটা বিষয় পরিষ্কার—

মেয়েটা কোনো সাধারণ কাজ করছে না।জেহেফিল ধীরে ধীরে সোফাতে হেলান দিল।

তার ঠোঁটের কোণে অবিশ্বাসের হাসি ফুটে উঠল।"না... না... এটা হতে পারে না,মেয়েটা এতো চালাক।"

কিন্তু যতই অস্বীকার করুক, তার সন্দেহ ক্রমশ শক্ত হতে লাগল।ফুটেজগুলো রহস্যজনকভাবে উধাও হয়েছে।

আর ঠিক সেই সময় সেরাফিনা ল্যাপটপ নিয়ে ব্যস্ত ছিল।
এতগুলো ঘটনা কি শুধুই কাকতালীয়?

জেহেফিল স্ক্রিনে ভেসে থাকা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে বলল—
"সেরাফিনা... তুমি আসলে কে? ভালো মেয়েকে জোর করে বিয়ে করেছি একে তো আমার নামে করেই ছাড়বো, কালকে দেখা হবে"

জেহেফিল আরও কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখে এখন আর শুধু বিস্ময় নেই, কৌতূহলও আছে।

সেরাফিনা তখনও একই ভঙ্গিতে শুয়ে আছে। মাঝে মাঝে কিবোর্ডে দ্রুত আঙুল চালাচ্ছে, আবার কখনো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে।

হঠাৎ মেয়েটা টাইপ করা থামিয়ে দিল।জেহেফিল ভ্রু কুঁচকে তাকাল।সেরাফিনা ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকাল।

মুহূর্তের জন্য জেহেফিলের বুক ধক করে উঠল।ক্যামেরাটা এত উঁচুতে আর এত নিখুঁতভাবে লুকানো যে বাড়ির বেশিরভাগ মানুষ এর অস্তিত্বই জানে না।

তাহলে সে ওই দিকে কেন তাকাল?

কয়েক সেকেন্ড ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকার পর সেরাফিনার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে একটা দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।তারপর সে ডান হাত তুলে হালকা করে হাত নাড়ল।যেন স্ক্রিনের ওপাশে বসে থাকা কাউকে অভিবাদন জানাচ্ছে।
জেহেফিলের শরীর শক্ত হয়ে গেল।
"না... এটা কাকতালীয় নয় কিছু তেই নয়।"

নিজেকেই বোঝানোর চেষ্টা করল সে।কিন্তু ঠিক পরের মুহূর্তেই সেরাফিনা একটা কাগজ তুলে কিছু লিখল।তারপর কাগজটা ক্যামেরার দিকে তুলে ধরল।দূরত্বের কারণে লেখা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না।জেহেফিল দ্রুত ভিডিও জুম করল।

একবার।

দুইবার।

তিনবার।

অবশেষে লেখাগুলো পরিষ্কার হলো।কাগজে বড় বড় অক্ষরে লেখা—

"চুরি করে মানুষকে দেখা ভদ্রলোকদের কাজ নয় মন্ত্রী মশাই।"

জেহেফিলের মুখ হাঁ হয়ে গেল।দুই সেকেন্ড।তিন সেকেন্ড।চার সেকেন্ড।

সে শুধু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।আর ওপাশে সেরাফিনা কাগজটা নামিয়ে এমনভাবে হাসল, যেন অনেক আগেই বুঝে ফেলেছিল যে কেউ একজন তাকে দেখছে।

প্রথমবারের মতো জেহেফিল অনুভব করল, খেলার নিয়ন্ত্রণ হয়তো তার হাতে নেই।বরং সে নিজেই অজান্তে অন্য কারও সাজানো খেলায় পা দিয়ে ফেলেছে"এই মেয়ে তো সাংঘাতিক, আমাদের সংসার বাচ্ছা কাচ্চা হবে তো"

Happ Reading ☺
To Be Continue 😅