ক্যান্টিন একদম নিঃশব্দ।সেরাফিনা, জেনিফা, তানহা আর রাইমা বসে আছে। তাদের সামনে চারটা চায়ের কাপ—গরম ধোঁয়া উঠছে অলসভাবে, যেন পরিবেশের নিস্তব্ধতাকেই আরও ভারী করে তুলছে। চারজনের মুখেই বিরক্তি আর চাপা দুশ্চিন্তার ছাপ। কারও চোখে আর আগের সেই হাসি নেই, আছে শুধু অসহায় ক্লান্তি।
একটু আগেই স্যার জানিয়ে গেছে—আগামী দুই দিনের মধ্যে পরীক্ষা শুরু। সেই খবরটা শোনার পর থেকেই যেন পুরো দিনটাই বদলে গেছে। ক্যান্টিনের সেই চিরচেনা হাসাহাসি, টেবিল চাপড়ানো আড্ডা—সবকিছু কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।
ক্যান্টিনের সেই ভারী নীরবতা এবার ধীরে ধীরে ভেঙে গেল চারজনের হঠাৎ আতঙ্কে।
সেরাফিনা চায়ের কাপে চামচটা আলতো করে নাড়তে নাড়তে বলল“দুই দিন… মানে এটা কি কোনো রসিকতা নাকি?”
তানহা দীর্ঘশ্বাস ফেলল“রসিকতা হলে ভালোই হতো। অন্তত হাসা যেতো।”
রাইমা মাথা নিচু করে বলল“আমার তো মনে হচ্ছে বইগুলো আজই আমাকে ধাওয়া করবে।”
জেনিফা হালকা বিরক্ত চোখে তাকিয়ে বলল“তোদের সমস্যা হচ্ছে ভয়, আর আমার সমস্যা হচ্ছে কিছুই মাথায় ঢুকছে না।”
এই কথায় একটু নীরবতা ভেঙে গেল। চারজনই একে অপরের দিকে তাকাল, কিন্তু হাসি আর ফিরল না। বরং সেই দুশ্চিন্তাটাই আরও গাঢ় হয়ে উঠল।
সেরাফিনা মাথায় হাত দিয়ে বলল“এ ভাই, বিশ্বাস কর… আমি কিছুই পড়িনি।”
তানহা সাথে সাথে সায় দিয়ে বলল“শুধু তুই না, আমরা কেউই কিছু পড়িনি।”
জেনিফা টেবিলে হাত রাখল“কিছু তো একটা করতেই হবে। এভাবে তো আর পারা যাবে না।”
রাইমা চোখ বড় করে বলল“হ্যাঁ, নাহলে এত অল্প সময়ে এতো পড়া… অসম্ভব!”
চারজন একসাথে চুপ।একটা মুহূর্তের জন্য মনে হলো ক্যান্টিনের ফ্যানের শব্দটাও থেমে গেছে।তারপরই চারজন একসাথে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
সেরাফিনা উঠে দাঁড়াল“ঠিক আছে। এখন প্ল্যান বি।”
তানহা জিজ্ঞেস করল“প্ল্যান বি মানে?”
সেরাফিনা গম্ভীরভাবে বলল“রুমে গিয়ে বই খুলে বসা… আর ভেতরে থেকে অলৌকিক কিছু আশা করা।”
জেনিফা হাঁটতে হাঁটতে বলল“অলৌকিক কিছু যদি না হয়?”
রাইমা সাথে সাথে উত্তর দিল“তাহলে আমরা সবাই মিলে একসাথে ফেল করব। টিমওয়ার্ক থাকবে।”
তানহা হেসে ফেলল“এইটাই তো আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী সাবজেক্ট—ফ্রেন্ডশিপ ইন ফেইলিউর।”
চারজন ক্যান্টিন থেকে বেরিয়ে রুমের দিকে হাঁটতে লাগল।
হাওয়াটা একটু ঠান্ডা লাগছিল, কিন্তু মাথার ভেতরের চাপটা আরও ভারী।
সেরাফিনা হাঁটতে হাঁটতে বলল,
“ঠিক আছে, আজ থেকে পড়া শুরু… সত্যি।”
পেছনে তিনজন একসাথে বলল,
“এই কথাটা আমরা গত এক বছর ধরেই শুনছি।”
রুমে ঢুকতেই সেরাফিনা এমনভাবে চেয়ারটা টেনে একটু সরাল, যেন কেউ শব্দ শুনে ফেললেই মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে। তারপর সে বইটা টেবিলে রাখল—মোটা একটা বই—(৫৭৩ পেজ এর বই), দেখে মনে হলো এটা বই না, ছোটখাটো একটা জিমের ডাম্বেল। টেবিলটা যেন চাপ খেয়ে বলল, “ভাই আর কত!”সে একদম সিরিয়াস মুখ করে বসে পড়ল, চোখ এমনভাবে পাতায় আটকে গেল যেন বইটা স্ক্রল না করলে দুনিয়া চলবে না।
জেনিফা ধীরে ধীরে এক কোণে সরে দাঁড়াল, যেন সে কোনো অপরাধ করেছে আর এখন সেলফ-ডিসট্যান্স মেইনটেইন করছে। চোখে পরিষ্কার লেখা—“আমি কিছুই করিনি, প্লিজ আমাকে প্রশ্ন করো না।”
তানহা বসে চুল কানের পেছনে গুঁজে দিল, কিন্তু তার মাথার ভেতর সম্ভবত ১০টা আলাদা চিন্তা একই সাথে দৌড়াচ্ছে—একটা পড়াশোনা, একটা জীবন, আর বাকি আটটা “আমি কেন পড়তে বসেছি?” টাইপের।
আর রাইমা শুধু দাঁড়িয়ে রইল। মুখে এমন এক এক্সপ্রেশন, যেন সে এই গ্রুপ প্রজেক্টে শুধু “দেখে যাওয়া সদস্য” হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে। কেউ কিছু বলছে না, কেউ কিছু করছেও না সে শুধু ভাবছে, “এটা কি পড়া নাকি নীরবতার অলিম্পিক?”
সেরাফিনা হঠাৎ টেবিল ছেড়ে ধর ধর করে বিছানায় এসে চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়লো। বইটার চাপ, পড়ার টেনশন আর ঘুমের ভার—সব মিলিয়ে যেন তার শরীর আর মাথা একসাথে বিদ্রোহ করে ফেলেছে। বিছানায় পড়তেই সে একদম চুপ হয়ে গেল, চোখ বন্ধ, নিঃশ্বাস একটু ভারী—দেখে মনে হচ্ছে সে সত্যিই গভীর ঘুমে চলে গেছে।
তারপরই তিনজন একদম তার মুখের কাছে এসে হুমড়ি খেলো। এত কাছে যে যেন তারা ঠিক বুঝে নিতে চাইছে, আসলেই সে ঘুমাচ্ছে নাকি অভিনয় করছে।
“কি রে বই দেখে ঘুম পেয়ে গেল নাকি?” জেনিফা একটু অবাক আর একটু মজা করে বলল।
জেনিফারের কথা শুনে তানহা সঙ্গে সঙ্গে মুখ বাঁকিয়ে বললো,
“তাই জন্য আমি বই দেখিনি। বই দেখলেই ঘুম পায়, আমি তো বাঁচি না!”
তানহার কথা শুনেই রাইমা তাকে থামায় “ঠাস” করে হালকা একটা মেরে বলল“বই না দেখলে পড়বি কি করে? পরীক্ষা কি স্বপ্নে দিবি নাকি?”
জেনিফা মাথা নেড়ে হেসে বললো“হ্যাঁ হ্যাঁ, সে তো ঠিকই। কিন্তু এভাবে ঘুমালে তো আমরা সবাই শেষ!”
তানহা এবার একটু বিরক্ত হয়ে বললো“আরে তোরা আমার কথা বাদ দে, আগে সেরাফিনার দেখ। মনে হচ্ছে সত্যি সত্যি অজ্ঞান হয়ে গেছে!”
এই কথা শুনে রাইমা একটু চিন্তায় পড়ে গেল। তারপরই সে সেরাফিনার কাঁধ ধরে জোরে ঝাঁকুনি দিয়ে বললো“সেরু বেবি উঠ! কি করছিস? মরলে মর, কিন্তু পরীক্ষা দিয়ে মর! নাহলে আমরা ফেঁসে যাবো! সবাই বলবে সেরাফিনা এত ভালো পড়তো, আর মেয়েটা আজ নেই বলে—তারপর আমাদের তিনজনের কী হবে?”
রাইমার কথা শুনে জেনিফা রেগে গেল, কিন্তু তার রাগের মাঝেও ভয় মিশে ছিল। সে বললো“মেয়ে ছানি মরলে মরুক, শোকের জন্য দুদিন তো ছুটি দেবে! আমরা একটু শান্তিতে থাকব অন্তত!”
তানহা সাথে সাথে যুক্তি দিল“আরে না, দুদিন না হলেও, তিন দিন তো ছুটি দেবে! আর ওই তিন দিনে তো পরীক্ষা হবে না,ছুটি থাকবে। তারপর আমাদের তিন দিন পড়ে তো পরীক্ষা হবে সেই তো একি!”
এই কথায় রুমটা মুহূর্তেই হাসি আর আতঙ্কে মিশে এক অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করল। কেউ হাসছে, কেউ চিন্তা করছে, কেউ আবার সেরাফিনার দিকে তাকিয়ে আছে—সে এখনও চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে, যেন চারপাশের এই নাটক তার জীবনের বাইরে কোনো আলাদা জগত।
রাইমা আবার ঝুঁকে সেরাফিনার মুখের কাছে এসে ধীরে ধীরে বলল“এই সেরু, আর কত ঘুমাবি? পৃথিবী তোকে ছাড়া চলবে না, কিন্তু পরীক্ষা তোর ছাড়া চলে যাবে!”
তানহা মাথা নেড়ে বললো“ও উঠলে আমরা বাঁচি, না উঠলে আমরা সবাই ডুবে যাবো!”
জেনিফা আবার একটু হাসল“এই মেয়ে তো সত্যি ঘুমের রাজ্যে চলে গেছে!”
“আল্লাহর কসম, আমি আর পড়াশোনা করব না।” হঠাৎ করে সেরাফিনা উঠে বসলো।
তার এই ঘোষণা যেন ঘরের বাতাসটাই এক সেকেন্ডের জন্য থমকে দিল। বিছানার চাদর একটু এলোমেলো, চোখে এখনো ঘুমের ছায়া, তবুও মুখে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস।
“কি রে তুই না ঘুমাচ্ছিলিস?” জেনিফা অবাক হয়ে বললো, তার গলায় সন্দেহ মিশে আছে।
তানহা সেরাফিনার পাশে বসতে বসতে বললো“এই কথা তুই গত সেমিস্টারেও বলেছিলি। তারপর কী হল? আবার সেই বই, সেই রাত জাগা, আর আমরা তিনজন মিলে তোকে বাঁচানোর মিশন।”
সেরাফিনা একটু ভেবে, চোখ কুঁচকে বললো“তখন আমি ছোট ছিলাম।”
সেরাফিনার এই কথায় রাইমা একদম থেমে গেল। ভ্রু কুঁচকে অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে বললো“চার মাস আগে তুই ছোট ছিলি?”
সেরাফিনা এদিক-ওদিক তাকিয়ে যেন খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বললো“মানুষ বদলায়।”তার মুখে হালকা হাসি, যেন সে খুব গভীর কোনো দার্শনিক সত্য বলে ফেলেছে।
জেনিফা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললো“তুই বদলাস না। তুই শুধু পড়ার সময় নাটক করিস।”
এই কথায় রুমে হালকা হাসির ঢেউ উঠল, কিন্তু তার ভেতরেই আবার সেই পরিচিত চাপ পরীক্ষার টেনশন, বইয়ের পাহাড়, আর শেষ মুহূর্তের পড়াশোনার যুদ্ধ।
রাইমা আবার সেরাফিনার দিকে ঝুঁকে বললো,
“তুই না পড়লে আমরা কী করব? তুই তো আমাদের ‘সাইলেন্ট হোপ’!”
সেরাফিনা চোখ ছোট করে বললো“হোপ না ভোপ, আমি আজ থেকে রিটায়ার।”
তানহা সাথে সাথে মাথা নাড়িয়ে বললো“রিটায়ার মানে? এইটা কোনো চাকরি নাকি? পরীক্ষা আছে, জীবন আছে, আর তুই বলছিস রিটায়ার?”
জেনিফা হেসে ফেললো“ওর রিটায়ার মানে একটু পড়েই আবার বই খুলবে।”
সেরাফিনা বিছানার ওপর হেলে পড়ে চোখ বন্ধ করলো,
“দেখা যাক… ভাগ্য যদি আমাকে আবার টানে।”
চার একসাথে একে অপরের দিকে তাকালো।তারপর আবার শুরু হলো সেই পুরোনো যুদ্ধ,পড়াশোনা, রাগ, হাসি আর শেষ মুহূর্তের বাঁচার পরিকল্পনা।
কথার মাঝেই হঠাৎ রাইমা বলল“আজ রাতে ছাদে আড্ডা হবে।”তার গলায় এমন একটা দৃঢ়তা ছিল যেন এটা কোনো অনুরোধ না, বরং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
“কেন?” জেনিফা সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন করলো, ভ্রু কুঁচকে।
রাইমা একদম স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল“কারণ আমার ইচ্ছা।”
তানহা পাশে বসে মাথা নাড়িয়ে বললো“খুব শক্তিশালী কারণ।”
রাইমা শান্ত গলায় বললো“ধন্যবাদ।”
এই ছোট্ট কথার পরেও ঘরের ভেতর একটা হালকা হাসির ঢেউ চলে গেল।
এর মধ্যেই দূর থেকে আজানের শব্দ ভেসে এলো। ধীরে ধীরে চারদিকে সন্ধ্যার আবহ গাঢ় হতে শুরু করল। রাইমা আর তানহা নামাজ পড়ার জন্য উঠে চলে গেল। ঘরের ভেতর তখন হালকা নীরবতা নেমে এলো।জেনিফা নামাজের পাটি বিছাতে বিছাতে সেরাফিনার দিকে একবার তাকালো।পাশ থেকে বলল“পাঁচ মিনিট পর নামাজ পড়বি।”
“হুম।” সেরাফিনা শান্ত গলায় উত্তর দিল।
জেনিফা আবার সতর্ক করে বললো,
“ঘুমিয়ে যাবি না যেন।”
সেরাফিনা ভ্রু একটু উঁচু করে বললো,
“আমি এত দায়িত্বহীন না।”
ঠিক তিন মিনিটও গেল না—সেরাফিনা বসা অবস্থাতেই ধীরে ধীরে ঢুলে পড়ল। তারপর হঠাৎ নিঃশব্দে ঘুমিয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর জেনিফার ডাকাডাকিতে তার ঘুম ভাঙল। চোখ খুলেই দেখে জেনিফা তার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছে, যেন সে কোনো বড় অপরাধ করে ফেলেছে।
“কী?” সেরাফিনা চোখ কুঁচকে জিজ্ঞেস করল।
“তুই বলেছিলি ঘুমাবি না।” জেনিফা কড়া গলায় বললো।
সেরাফিনা একদম শান্তভাবে বলল“আমি চোখ বন্ধ করে চিন্তা করছিলাম।কি করা যাই”
“ঘুমিয়ে নাক ডাকছিলি।” জেনিফা সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা দিল।
সেরাফিনা এক সেকেন্ড থেমে খুব সিরিয়াস মুখ করে বললো“ওটা গভীর চিন্তার শব্দ।”
জেনিফা আর কথা না বাড়িয়ে হঠাৎ বালিশ ছুড়ে মারল। সেরাফিনা হাসতে হাসতে সেটাই ধরে ফেলল, যেন এটা কোনো খেলাই।
তারপর একটু ভেবে আবার মুখ খুলল সেরাফিনা“এই আমি তো নাক ডাকি না।”
জেনিফা দুষ্টু হাসি দিয়ে বললো“তার মানে মূল ঘুমাচ্ছিলিস।”
এই কথায় সেরাফিনা আর কিছু বলতে পারল না—শুধু হেসে ফেলল।
ছাদের পরিবেশটা ধীরে ধীরে আরও শান্ত হয়ে উঠেছে। দিনের শেষ আলোটা এখন আর নেই, তার বদলে চারপাশে নরম হলদেটে শহরের আলো ছড়িয়ে আছে। দূরের বিল্ডিংগুলোর জানালাগুলো ছোট ছোট আলোর মতো জ্বলছে, যেন অজস্র গল্প লুকিয়ে আছে সেখানে।
হালকা বাতাস বইছে, কখনো ধীরে, কখনো একটু দুষ্টুমি করে চুল উড়িয়ে দিচ্ছে। ছাদের সিমেন্টের মেঝেটা এখন ঠান্ডা হয়ে গেছে, কিন্তু সেখানে বসে থাকা চারজনের মধ্যে একটা আরামদায়ক অনুভূতি কাজ করছে।
রাইমা মাঝেমধ্যে পা দোলাচ্ছে আর এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে, যেন কিছু বলার জন্য ঠিক সুযোগ খুঁজছে। তানহা চুপচাপ বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে, তার মুখে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, শুধু একটা শান্ত ভাব। জেনিফা একটু গুছিয়ে বসে আছে, মাঝে মাঝে সবার দিকে নজর রাখছে, যেন সবাই ঠিক আছে কিনা দেখছে।
আর সেরাফিনা রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখ নিচের শহরের দিকে, কিন্তু মনে হচ্ছে সে আসলে কিছু ভাবছে না—শুধু সেই মুহূর্তটা অনুভব করছে। বাতাস তার চুলের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাচ্ছে, আর তার চারপাশে একটা হালকা নিঃশব্দতা তৈরি হয়েছে, যেটা ভাঙতে কারও ইচ্ছে করছে না।
ছাদের সেই শান্ত পরিবেশটা তখনো নরমভাবে ভেসে চলছিল। বাতাস একটু থেমে থেমে বইছে, আর শহরের আলো দূরে দূরে টিমটিম করছে।
হঠাৎ সেরাফিনা রেলিং থেকে হাত সরিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। তার মুখের ভাবটা একটু বদলে গেল—যেন হঠাৎ করে কিছু মনে পড়েছে।
সেরাফিনা একটু জোরে বলল“এই… তোরা সবাই এখানে এই তাড়াতাড়ি।”তার গলায় তাড়াহুড়োর মতো কিছু ছিল, কিন্তু আতঙ্ক না—বরং এক ধরনের গুরুত্ব।
রাইমা সাথে সাথে ঘুরে তাকাল“কী হলো? এমনভাবে ডাকছিস কেন?”
তানহা ধীরে উঠে এল, “কি হয়েছে আবার?”
জেনিফা একটু চিন্তিত মুখে সেরাফিনার দিকে এগিয়ে গেল“কি মনে পড়েছে? ঠিক আছিস তো?”
সেরাফিনা সবাইকে কাছে আসতে ইশারা করে বলল“না না, ভয় পাওয়ার কিছু না… কিন্তু একটা জিনিস হঠাৎ মাথায় এসেছে।”
সবাই তার চারপাশে একটু জড়ো হলো। বাতাস তখন যেন আরও একটু থেমে গেছে, ছাদের শব্দও কম মনে হচ্ছে।
রাইমা ধীরে বলল“কী মনে পড়লো বল তো?”
Happy Reading ☺
To Be Continue 😅