“নূর আল-হায়াত রেসিডেন্সিয়াল একাডেমি”-এর বিশাল কনফারেন্স রুমে এক অদ্ভুত ভারী নীরবতা নেমে এসেছে। উঁচু জানালাগুলো দিয়ে ঢুকে আসা বিকেলের আলো টেবিলের উপর পড়ে লম্বা ছায়া ফেলেছে। সেই ছায়ার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন একাডেমির প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান শিক্ষক—দুজনেই মুখে কঠোরতা আর হতাশার মিশ্র অভিব্যক্তি।
সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে আছে সেরাফিনা আর জেনিফা। তাদের চোখ নিচের দিকে, কিন্তু মুখে কোনো ভাঙন নেই—যেন তারা নিজের ভেতরের ঝড়কে খুব যত্ন করে আটকে রেখেছে।
নীরবতা ভেঙে প্রধান শিক্ষক ধীরে ধীরে বললেন“তোমরা এই একাডেমির সবচেয়ে ভালো ছাত্রী… আমরা তোমাদের উপর কতটা বিশ্বাস রেখেছিলাম, সেটা কি তোমরা বুঝতে পারো? আমরা এটা… কখনোই আশা করিনি তোমাদের থেকে।”তার কণ্ঠে রাগের চেয়ে বেশি ছিল কষ্ট, আর সেই কষ্টটা পুরো ঘরটাকে আরও ভারী করে তুলল।
প্রেসিডেন্ট একবার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, কিন্তু কিছু বললেন না। তার চোখ সেরাফিনার দিকে স্থির, যেন সেই চাহনির ভেতরেই হাজারটা প্রশ্ন জমে আছে।
সেরাফিনা একবার মাথা তুলল। তার চোখে ভয় নেই, কিন্তু একটা চাপা অস্থিরতা স্পষ্ট। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জেনিফার হাত অচেতনভাবে মুঠো হয়ে গেল।
হঠাৎ নীরবতার মধ্যে জেহেফিল একটু নড়েচড়ে উঠল। তার শ্বাস একটু দ্রুত হয়ে গেল, যেন সে কিছু বলতে চায় কিন্তু শব্দ খুঁজে পাচ্ছে না। ঘরের বাতাস যেন আরও ভারী হয়ে উঠল, প্রতিটি সেকেন্ড টানটান হয়ে ঝুলে রইল।
কেউ আর কিছু বলল না। শুধু দেয়ালের ঘড়ির টিকটিক শব্দ পুরো ঘরটাকে কেটে কেটে যাচ্ছিল—আর সবাই বুঝতে পারছিল, এই মুহূর্তটা তাদের জীবনের একটা মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কিছু হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
জেহেফিলের চোখে এক মুহূর্তের জন্য অস্থিরতা দেখা দিল। সে ঠোঁট চেপে ধরল, যেন কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। পাশে দাঁড়ানো সেরাফিনা আর জেনিফার মুখেও একই রকম চাপা নীরবতা।
প্রধান শিক্ষক আবার ধীরে ধীরে বললেন“নিয়ম শুধু বইয়ের মধ্যে নয়, বাস্তব জীবনেও মানতে হয়। তোমরা সেটা ভুলে গিয়েছিলে।”
রুমের বাতাস যেন আরও ভারী হয়ে উঠল। দেয়ালে টাঙানো ঘড়ির টিকটিক শব্দটাও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল।
জেনিফা হঠাৎ মাথা নিচু করে ফেলল। “স্যার… আমরা—”
কিন্তু তার কথা শেষ হতে দিলেন না প্রেসিডেন্ট। তিনি শান্ত, কিন্তু কঠিন কণ্ঠে বললেন“আমি তোমাদের ব্যাখ্যা চাই না এখন। আমি শুধু জানতে চাই, তোমরা নিজেরাই বুঝতে পারছো তোমরা কী করেছ?”
সেরাফিনা এবার চোখ তুলে দেখলো সবার দিকে। তার চোখ স্থির, কিন্তু ভিতরে একটা অদ্ভুত দ্বন্দ্ব কাজ করছে।
আর জেহেফিল… সে শুধু একবার সবার দিকে তাকাল। সেই দৃষ্টিতে ছিল অনুশোচনা, আবার কিছুটা অস্বীকারও।
জেহেফিল ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এল। তার চোখে আর আগের সেই অস্থিরতা নেই—বরং সেখানে এক ধরনের গভীর উপলব্ধি আর দায়বোধ জমে আছে। পুরো ঘরটা তখনও ভারী নীরবতায় ডুবে ছিল।
সে একবার চারপাশে তাকিয়ে ধীরে বলল“হুম… আমি বুঝতে পেরেছি, জিনিসটা কোন পর্যায়ে চলে গিয়েছে।”
এক মুহূর্ত থেমে সে আবার দৃঢ় কণ্ঠে যোগ করল“ওদের হয়ে আমি ক্ষমা চাইছি। আমি খুবই দুঃখিত।”
তার কথার শেষ শব্দটা ঘরের ভেতর ভারী হয়ে ঝুলে রইল। প্রেসিডেন্ট আর প্রধান শিক্ষক চুপ করে রইলেন—কারও মুখে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নেই, শুধু গভীর পর্যবেক্ষণ।
ঠিক তখনই সেরাফিনা ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এল। তার পায়ের শব্দ নীরবতাকে ভেঙে দিচ্ছিল, কিন্তু তার চোখে কোনো ভয় ছিল না—ছিল অদ্ভুত এক স্থিরতা। যেন অনেক ভেতরের ঝড় সে আগেই সামলে এসেছে।
তার পাশে জেনিফাও এগিয়ে এলো। তার মুখে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও পা থেমে নেই। সে একবার সেরাফিনার দিকে তাকাল, তারপর সোজা হয়ে দাঁড়াল জেহেফিলের পাশে।
জেনিফা শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলল“আমরা শুধু দোষ এড়াতে আসিনি।”
সেরাফিনা একটু শ্বাস নিয়ে যোগ করল“যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে… আমরা সেটার দায় নিতে প্রস্তুত।আমরা বুঝতে পেরেছি যে আমরা কত বড়ো ভুল করেছি। আপনারা যেই শাস্তি দেবেন মাথা পেতে নেবো”
ঘরের বাতাস যেন আরও ভারী হয়ে গেল, কিন্তু সেই ভারের ভেতরেই একটা পরিবর্তনও স্পষ্ট হচ্ছিল।এটা আর শুধু অভিযোগ বা শাস্তির মুহূর্ত নয়, বরং সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানোর এক টানটান মুহূর্ত।
প্রধান শিক্ষকের কথাটা যেন রুমের ভেতর ভারী পাথরের মতো পড়ে রইল“শাস্তি সরূপ তোমাদের এক সপ্তাহর জন্য সাসপেন্ড করা হলো।”
এক মুহূর্তের জন্য কোনো শব্দ নেই। শুধু ঘড়ির টিকটিক আর বাইরের জানালায় হালকা বাতাসের শব্দ।
সেরাফিনা আর জেনিফা দুজনেই একে অপরের দিকে তাকালো। সেই দৃষ্টিতে বিস্ময় ছিল, ছিল অবিশ্বাসও,কিন্তু সবচেয়ে বেশি ছিল নীরব প্রশ্ন।এত দূর কি সত্যিই চলে গেল?
জেনিফার ঠোঁট একটু কেঁপে উঠল“স্যার… আমরা তো…” সে কথা শেষ করতে পারল না।সেরাফিনা হাতটা ধীরে ধীরে মুঠো করল। চোখ নামিয়ে নিল এক সেকেন্ডের জন্য, তারপর আবার তুলল। তার ভেতরে ঝড় উঠলেও মুখে সেটা ফুটতে দিল না।
প্রধান শিক্ষক চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন। কণ্ঠটা এবার আরও কঠিন, কিন্তু ক্লান্তও শোনাল“তোমরা দুজনই এই একাডেমির সেরা ছাত্রী। কিন্তু নিয়ম সবার জন্য এক। শৃঙ্খলা ভাঙলে ফল ভোগ করতেই হবে।”
সেরাফিনা হঠাৎ শান্ত গলায় বলল“ঠিক আছে স্যার।যেটা আপনি ভালো বোঝেন”এই একটা বাক্যই যেন সবাইকে চমকে দিল।
জেনিফা দ্রুত তার দিকে তাকাল“তুই পাগল নাকি? কিছু তো বল”
সেরাফিনা ধীরে মাথা নাড়ল। তার চোখে এখন আর আতঙ্ক নেই, আছে অদ্ভুত এক স্থিরতা“এখন কিছু বললেও কিছু বদলাবে না।”
প্রধান শিক্ষক একটু থমকে তাকালেন, যেন এমন উত্তর তিনি সেরাফিনার কাছে থেকে আশা করেননি।প্রধান শিক্ষক কিছুক্ষণ সেরাফিনার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তার চোখে ক্ষীণ বিস্ময় ফুটে উঠলেও মুখের কঠোরতা কমল না।
কনফারেন্স রুমে আবার নীরবতা নেমে এলো।জেহেফিল ধীরে ধীরে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর মাথা নিচু করে বলল“আমরা তাহলে উঠি, স্যার।”
প্রেসিডেন্ট শুধু সংক্ষিপ্তভাবে মাথা নাড়লেন।আর কোনো কথা হলো না।
জেহেফিল ঘুরে দাঁড়াল। তার পদক্ষেপগুলো ছিল ধীর, ভারী। দরজার দিকে কয়েক কদম এগিয়ে গিয়ে সে থামল। তারপর পিছনে ফিরে সেরাফিনা আর জেনিফার দিকে তাকাল“চলো।”তার কণ্ঠে আগের মতো দৃঢ়তা ছিল না। বরং একটা ক্লান্তি মিশে ছিল।
সেরাফিনা কোনো কথা বলল না। জেনিফাও নীরবে তার পাশে এসে দাঁড়াল।তিনজন একসাথে দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করল।
বিশাল কনফারেন্স রুমের মধ্যে তাদের পদধ্বনি।অস্বাভাবিকভাবে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল। যেন প্রতিটি শব্দ তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছে।
দরজার কাছে পৌঁছে জেনিফা একবার পিছনে তাকাল। প্রধান শিক্ষক এখনও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন। তার মুখে কঠোরতা থাকলেও চোখে একটা গভীর হতাশা স্পষ্ট।
জেনিফা দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে নিল।
পরের মুহূর্তেই জেহেফিল দরজাটা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেল। তার পিছন পিছন বের হলো সেরাফিনা আর জেনিফা।করিডোরটা অস্বাভাবিক নীরব।
বিকেলের আলো বড় বড় জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকে মেঝেতে লম্বা ছায়া ফেলেছে। দূরে কোথাও ক্লাস চলার ক্ষীণ শব্দ ভেসে আসছে, কিন্তু এই অংশটুকু যেন পুরো একাডেমি থেকে বিচ্ছিন্ন।
কিছুক্ষণ কেউ কোনো কথা বলল না।শুধু তিনজন পাশাপাশি হাঁটতে লাগল।কনফারেন্স রুম থেকে বের হওয়ার পর তিনজন খুব একটা কথা বলেনি।
একসময় তারা গিয়ে গাড়িতে উঠল। আহাদ ড্রাইভিং সিটে বসল। তার মুখেও অস্বাভাবিক গম্ভীরতা। পাশে সামনের সিটে বসল জেহেফিল। আর পিছনের সিটে পাশাপাশি বসল সেরাফিনা আর জেনিফা।
গাড়ি ধীরে ধীরে একাডেমির বিশাল গেট পেরিয়ে রাস্তায় উঠে এলো।পুরো পথ জুড়ে অদ্ভুত নীরবতা।
আহাদ চুপচাপ গাড়ি চালাচ্ছে। জেহেফিল জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। তার মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই। আর পিছনে বসে থাকা সেরাফিনা আর জেনিফা বারবার একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে, কিন্তু কেউ কিছু বলছে না।
শহরের ব্যস্ত রাস্তা, উঁচু উঁচু ভবন, ট্রাফিক সিগন্যাল।সব একের পর এক পেছনে সরে যেতে লাগল।
প্রায় বিশ মিনিট পর গাড়িটা একটা অভিজাত হোটেলের সামনে এসে থামল।বড় কাঁচের দরজা, ঝলমলে আলো আর মার্বেলের বিশাল প্রবেশপথ দেখে বোঝাই যায়, জায়গাটা সাধারণ কোনো হোটেল নয়।
গাড়ি থামতেই জেহেফিল দরজা খুলে নেমে গেল।সেরাফিনা আর জেনিফাও নেমে এলো।কোনো কথা না বলে জেহেফিল তাদের দুজনের হাত ধরে ভেতরের দিকে হাঁটতে শুরু করল। তার হাতের চাপটা শক্ত ছিল, কিন্তু রাগের চেয়ে যেন বেশি ছিল অস্থিরতা।
স্বয়ংক্রিয় কাঁচের দরজা খুলে গেল।ভেতরে ঢুকতেই ঠান্ডা সুবাসিত বাতাস মুখে এসে লাগল। সাদা মার্বেলের মেঝেতে ঝাড়বাতির আলো প্রতিফলিত হয়ে চারপাশে এক রাজকীয় আবহ তৈরি করেছে।
জেহেফিল সরাসরি লিফটের দিকে এগিয়ে গেল।লিফট এসে থামতেই তিনজন ভেতরে ঢুকে পড়ল।লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে গেল।ছোট্ট সেই নীরব জায়গায় শুধু লিফটের যান্ত্রিক শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
সেরাফিনা কয়েক সেকেন্ড দ্বিধা করে আস্তে বলল“আপনি... কি রেগে আছেন?”
জেহেফিল মাথা ঘুরিয়ে তার দিকে তাকাল।একদম শান্ত দৃষ্টি।না রাগ, না বিরক্তি।শুধু গভীর ক্লান্তি।কিন্তু সে কোনো উত্তর দিল না।সেরাফিনা আর কিছু বলল না।
কয়েক মুহূর্ত পর টিং শব্দ করে লিফট থামল।দরজা খুলে গেল।তিনজন বেরিয়ে এল।সামনে বিশাল এক হলরুম।
অদ্ভুতভাবে ফাঁকা।মাথার অনেক ওপরে ঝুলছে বিশাল বিশাল সোনালি ঝাড়বাতি। নরম সোনালি আলো পুরো জায়গাটাকে উষ্ণ আর অভিজাত করে তুলেছে।
দেয়ালে সূক্ষ্ম কারুকাজ, মসৃণ মার্বেল, আর নিখুঁত সাজসজ্জা,সব মিলিয়ে জায়গাটা যেন কোনো পাঁচতারা হোটেলের বিশেষ ভিআইপি ফ্লোর।
জেহেফিল ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে হলরুমের একদম ধারের একটা টেবিলের কাছে গিয়ে থামল।টেবিলটার পাশেই ছিল মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত বিস্তৃত স্পর্শকাচের বিশাল দেয়াল।
সেখানে বসলে পুরো শহরটা দেখা যায়।
তারা চারজনই গিয়ে বসল।বাইরে সন্ধ্যা নেমে এসেছে।
অগণিত আলোয় ঝলমল করছে শহর। দূরে রাস্তার গাড়িগুলো ছোট ছোট আলোর রেখার মতো ছুটে যাচ্ছে। আকাশের শেষ নীলচে আভাটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে রাতের অন্ধকারে।
কিছুক্ষণ কেউ কোনো কথা বলল না।
ওয়েটার এসে নীরবে পানি রেখে চলে গেল।টেবিলের উপর রাখা কাঁচের গ্লাসে ঝাড়বাতির আলো চিকচিক করে উঠল।
জেনিফা একবার জেহেফিলের দিকে তাকালতারপর ধীরে বলল“আমাদের এখানে নিয়ে এলেন কেন?”
জেহেফিল কয়েক সেকেন্ড চুপ রইল।বাইরের শহরের দিকে তাকিয়ে থেকে অবশেষে বলল“প্ল্যানটা কার ছিল?”
সেরাফিনা আর জেনিফা দুজন দুজনের দিকে তাকালো।পরের মুহূর্তেই দুজন একসাথে মুখ ঘুরিয়ে নিল।জেনিফা চুপচাপ সেরাফিনার দিকে আঙুল তুলল।সেরাফিনাও এক সেকেন্ড দেরি না করে জেনিফার দিকে আঙুল তুলে দিল।
দুজনের মুখেই সেই নির্দোষ ভাব—যেন সমস্ত দোষ অপরজনের।আহাদ ঠোঁট কামড়ে হাসি আটকানোর চেষ্টা করল।কিন্তু জেহেফিলের মুখ আরও গম্ভীর হয়ে উঠল।
হঠাৎ সে হাত দিয়ে টেবিলে একটা জোরে চাপড় মারল।
ঠাস!
শব্দটা শুনে সেরাফিনা আর জেনিফা দুজনই চমকে উঠল।
"তোমাদের মজা মনে হচ্ছে, হ্যাঁ?" জেহেফিল দাঁত চেপে বলল।
"আমার একশো কোটির টাকার ডিল ছেড়ে তোমাদের নাটক দেখতে বসে আছি!"
সাথে সাথে দুজনেই আঙুল সরিয়ে নিল।জেনিফা সোজা হয়ে বসে পড়ল।সেরাফিনা পানির গ্লাসের দিকে তাকিয়ে রইল, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ওটাই।
কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরও তার মুখ বন্ধ রইল না।
আস্তে করে বলল"তো ওই একশো কোটি টাকা কি আমরা পেতাম যে আমাদের গায়ে লাগবে?"
টেবিলের চারপাশে হঠাৎ এমন নীরবতা নেমে এলো, যেন সময় থেমে গেছে।আহাদ ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করল।মনে হলো সে ভেতরে ভেতরে সেরাফিনার জন্য দোয়া পড়ছে।জেহেফিল ধীরে ধীরে মাথা তুলল।তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে।চোখের দৃষ্টি আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন "নোভা।"তার কণ্ঠ এতটাই শান্ত ছিল যে সেটা আরও ভয়ংকর শোনাল।
সেরাফিনা সঙ্গে সঙ্গে মুখ বন্ধ করে ফেলল"জ্বি..."
"এই মুহূর্তে আমার ধৈর্য পরীক্ষা করার চেষ্টা করো না।"
জেনিফা পাশে বসে কনুই দিয়ে সেরাফিনাকে হালকা গুঁতা দিল।
সেরাফিনা নিচু গলায় বলল"আমি তো শুধু একটা প্রশ্ন করেছিলাম..."
"চুপ।"জেনিফা ফিসফিস করে বলল।
সেরাফিনা সঙ্গে সঙ্গে চুপ হয়ে গেল।জেহেফিল কয়েক সেকেন্ড চোখ বন্ধ করে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করল।
তারপর ধীরে ধীরে বলল"তোমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তোমরা সাসপেন্ড হয়েছ। তারপরও তোমাদের মাথায় হাসি-ঠাট্টা ঘুরছে। অন্তত একবার ভেবে দেখো, যদি বিষয়টা আরও খারাপ হতো?"
কথাগুলো শুনে সেরাফিনার মুখে দুষ্টু হাসিট দেখা গেল"আসলে কি বলেন তো নতুন জিনিসের প্রতি আমাদের বেশি আগ্ৰহ তাই খারাপ লাগছে নাহ, প্রথম বার সাসপেন্ড হলাম তো তাই কি নতুন ফিল হচ্ছে"
জেহেফিল একভাবে সেরাফিনা কে দেখতে থাকে এই মেয়ে কি কোনো দিন ও সিরিয়াস হয় না। জেহেফিল কে এমন ভাবে দেখতে দেখে সেরাফিনা মুখ খুললো"আসলে কালকে রাতে........ "
Happy Reading ☺
To Be Continue 😅