Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

পিশাচের মায়া: অশরীরীর আস্তানা

পর্ব - ১)আমি বরাবরই অলৌকিক বা ভূত-প্রেতের গল্প বিশ্বাস করতাম না। বিজ্ঞান আর যুক্তির বাইরে কিছু থাকতে পারে, এটা আমার মাথায় আসত না। কিন্তু বছর খানেক আগে আমার নিজের চোখে দেখা একটা ঘটনা আমার সারা জীবনের বিশ্বাসকে এক নিমেষে চুরমার করে দিয়েছিল। ঘটনাটি ঘটেছিল আমার ছেলের টিউশন আন্টির বাড়িতে।ওদের বাড়িটি ছিল শহরের এক কোণে, একদম নির্জন এলাকায়। আসে-পাশে বাড়িঘর খুবই কম, আর বিকেলের পর ওদিকটায় লোকজন আসত না বললেই চলে। ওই ফাঁকা থমথমে জায়গায় আন্টির একটা বারো-তেরো বছরের ছেলে ছিল—নাম আকাশ। শান্ত, নম্র আর চুপচাপ একটা ছেলে। সে সাধারণ বাচ্চাদের মতো সবার সাথে মিশত না, নিজের মনেই থাকত। স্কুলে গোটা চারেক বন্ধু ছিল তার, মাঝে মধ্যে তাদের সাথে এদিক-ওদিক একটু ঘুরতে যেত। বাকিটা সময় নিজের পড়াশোনা আর ক্রিকেট খেলা নিয়েই ও ব্যস্ত থাকত। আমার ছেলের সাথেই সে যা একটু আধটু খেলাধুলো করত।কিন্তু এই ভয়ংকর কাণ্ডগুলো ঘটার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই আন্টি বাড়ির ভেতর কিছু অদ্ভুত জিনিস টের পাচ্ছিলেন। মাঝেমধ্যেই ওঁর মনে হতো, এই শুনশান বাড়িতে কেউ যেন হুট করে ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো নিঝুম রাতে মনে হতো অন্ধকার ঘরে কেউ একজন নিঃশব্দে ঢুকে দাঁড়িয়ে আছে। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার ছিল, গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ত, তখন আন্টি পরিষ্কার শুনতে পেতেন ওপরের ফাঁকা ছাদে ভারী পায়ে কেউ একজন হেঁটে বেড়াচ্ছে!আন্টি তখন থেকেই একটা অদ্ভুত কুপ্রভাব আঁচ করতে পেরেছিলেন। তিনি আকাশকে বারবার সতর্ক করে বলতেন, "বাবা রে, তুই ভুলেও কখনো উত্তর দিকে মাথা দিয়ে ঘুমাবি না।" কিন্তু আকাশ যেন আন্টির কথা শুনতেই পেত না। আন্টি বারণ করা সত্ত্বেও সে কেমন যেন এক অদৃশ্য টানে রোজ রাতে উত্তর দিকেই মাথা দিয়ে শুয়ে পড়ত।একদিন সকালবেলা আন্টি যখন আকাশকে ডাকতে ওর ঘরে যান, গিয়ে দেখেন ছেলেটা ঠিক ওই নিষিদ্ধ উত্তর দিকেই মাথা দিয়ে অসাড় হয়ে ঘুমোচ্ছে। আন্টি ওকে ডেকে তুলে একটু বকা দিয়ে বললেন, "তোকে কতবার বারণ করেছি এই দিকে মাথা না দিতে! তাও তুই কেন এমন করিস?" আকাশ তখন চোখ রগড়াতে রগড়াতে সম্পূর্ণ অবাক হয়ে বলল, "মা, আমি সত্যিই জানি না আমি কী করে এই দিকে এলাম! আমি তো সোজা হয়েই ঘুমিয়েছিলাম, কখন যে শরীরটা ঘুরে গেল আমি টেরাই পাইনি।" দিনের আলোয় সে কিছুই বুঝতে পারত না, কিন্তু রাতের অন্ধকার নামলেই যেন কোনো এক অদৃশ্য শক্তি ওঁর শরীরটাকে ঘুরিয়ে দিত।

(পর্ব - ২)
আকাশের এই অদ্ভুত আচরণের পর থেকেই আন্টির কপালে চিন্তার ভাঁজ গভীর হতে শুরু করেছিল। এর কিছুদিন পরেই ঘটে সেই শিউরে ওঠার মতো ঘটনা, যা আন্টি আমাকে পরে কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন।একদিন গভীর রাতে আকাশ হঠাৎ বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায়। চারদিকের সেই শুনশান নির্জনতায় ঘরের সদর দরজাটা হা হা করে খোলা দেখে আন্টি আর ওঁর স্বামী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মাঝরাতেই পাড়ার দু-একজনকে ডেকে চারিদিকে খোঁজাখুঁзи শুরু হয়। কিন্তু কোথাও তার পাত্তা নেই। অবশেষে খুঁজতে খুঁজতে সবাই যায় ওদের বাড়ির ঠিক পেছনের একটা বিশাল খালি মাঠে। সেই মাঠের মাঝখানে একটা বুড়ো আর একা তালগাছ দাঁড়িয়ে ছিল।সেখানে গিয়ে সবার টর্চের আলো যখন তালগাছটার ওপর পড়ল, তখন যা দেখা গেল তা দেখে সবার বুক কেঁপে উঠেছিল। আকাশ সেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে তালগাছের নিচে একলা দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখটা একদম সোজা ওপরের দিকে, তালগাছের মগডালের দিকে ঘোরানো। চোখ দুটো পলকহীনভাবে ওপরের অন্ধকারের দিকে চেয়ে আছে। যেন ওপর থেকে কেউ তাকে ইশারা করছে! সবাই মিলে ধরাধরি করে তাকে সেখান থেকে বাড়ি ফিরিয়ে আনে।এর পর থেকে প্রায় তিন-চার মাস ধরে আকাশের আচরণে এক অদ্ভুত রাক্ষুসে লোভ দেখা গেল। সন্ধ্যা হলেই তার প্রচণ্ড খিদে পেত। আর সারাদিন শুধু "মাংস খাব, মাংস খাব" বলে চিৎকার করত। সাধারণ সবজি-ভাত তো সে ছুঁয়েও দেখত না, ওটার দিকে ফিরেও তাকাতো না। ওঁর বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে রোজ চিকেন মোমো, চিকেন বিরিয়ানি—মাংসের হরেক রকম পদ আনিয়ে গোগ্রাসে গিলত। আশ্চর্যের বিষয়, অত মাংস খাওয়ার পরেও তার শরীর দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছিল, সেই খাবার যেন তার গায়ে-পায়ে লাগতই না!


 (পর্ব - ৩)
আন্টি বলতে বলতে শিউরে উঠছিলেন। তিনি জানালেন, রাতের বেলা আকাশের রূপ সম্পূর্ণ বদলে যেত। সে প্রায় দিনই তার মায়ের দিকে তাকিয়ে হিংস্র চোখে একটা কথাই বলত, "তুই চলে যা, তুই এ বাড়ি থেকে চলে যা! তুই চলে গেলে আমি একটু শান্তিতে থাকতে পারব!"আসলে এই ধরণের পিশাচেরা ভীষণ নোংরা পরিবেশ পছন্দ করে। আর আন্টি ছিলেন একদম উল্টো—ভীথম ভীষণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং মারাত্মক ঠাকুর ভক্ত। আন্টি যখনই সন্ধেবেলা নিয়ম করে পুজো দিতেন, ধুনো জ্বালাতেন আর কাঁসর-ঘণ্টা বাজাতেন, আকাশের ভেতরের সেই অপশক্তিটা রাগে উন্মত্ত হয়ে উঠত। পবিত্র ধোঁয়া আর মন্ত্রের আওয়াজ সহ্য করতে না পেরে সে ছটফট করত আর মাকে বাড়ি থেকে তাড়াতে চাইত।সবচেয়ে অদ্ভুত আর ভয়ের ব্যাপার হতো পরের দিন সকালে। রাতে ওই ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটানোর পর, সকালে যখন আন্টি আর ওর বাবা আকাশকে চেপে ধরতেন, "তুই কাল রাতে তোর মায়ের সাথে ওভাবে কেন কথা বলছিলি?" আকাশ তখন সম্পূর্ণ অবাক হয়ে নিষ্পাপ মুখে বলত, "কই! আমি তো এমন কিছু বলিনি! আমার তো কিছুই মনে নেই।"তার ঠিক দিন তিনেক পর আমি নিজেই সেই ভয়ঙ্কর রূপের মুখোমুখি হলাম। সেদিন আমার ছেলেকে নিয়ে একটু আগেই আন্টির বাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম। ড্রয়িংরুমে বসে আমি আর আন্টি গল্প করছি, আর আমার ছেলে পাশে খেলছে। আকাশ তখন তার নিজের ঘরে ছিল।হুট করেই চারিদিকটা কেমন যেন থমথমে হয়ে গেল। বিকেলের চনমনে আবহাওয়াটা কেটে গিয়ে ঘরটার ভেতর একটা বরফ-শীতল ঠাণ্ডา ভাব নেমে এলো। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই, আকাশের ঘরের দরজাটা প্রচণ্ড শব্দে নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে গেল—যেন কেউ খুব জোরে আছাড় মারল! আকাশের ঘর থেকে আসতে লাগল কাচ ভাঙার শব্দ, আর সেই সাথে শুরু হলো একটা ভারী, পৈশাচিক গর্জন। পুরো বাড়িটা যেন সেই আওয়াজে কাঁপছিল।আমরা আর এক মুহূর্ত দেরি না করে আকাশের ঘরের দরজার দিকে ছুটে গেলাম। দরজাটা বাইরে থেকে লক করা ছিল না, কিন্তু আমরা দুজনে মিলে সর্বশক্তি দিয়ে ধাক্কা দেওয়া সত্ত্বেও দরজাটা এক ইঞ্চিও নড়ল না। ভেতর থেকে কোনো এক অদৃশ্য, ভয়ঙ্কর শক্তি দরজাটা চেপে ধরে রেখেছিল!


(পর্ব - ৪)
আমরা যখন বাইরে থেকে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছি, তখন ভেতরের গর্জন আরও দ্বিগুণ হয়ে গেল। আন্টি কাঁদতে কাঁদতে ঈশ্বরের নাম জপ করতে লাগলেন। আচমকা এক চরম ধাক্কায় দরজাটা খুলে গেল, আর ভেতরের দৃশ্য দেখে আমার গায়ের রক্ত হিম হয়ে গেল।ঘরের সব আলো নেভানো, জানলার ফাঁক দিয়ে আসা বিকেলের ম্লান আলোয় দেখা যাচ্ছে আকাশ ঘরের এক কোণে খাটের ওপর অদ্ভুত ভঙ্গিতে বসে আছে। তার শরীরটা মানুষের পক্ষে যেভাবে বাঁকানো অসম্ভব, ঠিক সেভাবে মচকে আছে। আর তার চোখের মণি দুটো সম্পূর্ণ উল্টে গিয়ে সাদা হয়ে গেছে। সে আমাদের দিকে তাকিয়ে এক পৈশাচিক হাসিতে ফেটে পড়ল।সেই হাসির শব্দে সারা ঘর কাঁপছিল। সে একটা অদ্ভুত স্বরে বলতে লাগল, "এ আমার জায়গা... একে আমি ছাড়ব না!" ওইটুকু একটা শান্ত ছেলে, হুট করে খাট থেকে নেমে ঘরের ভারী কাঠের আলমারিটা এক হাত দিয়ে ধরে সজোরে নাড়িয়ে দিল! আন্টিকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিতে গেল। আমি আর এক মুহূর্তও সেখানে থাকার সাহস পাইনি। নিজের ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে আমি ও বাড়ি থেকে এক ছুটে পালিয়ে এসেছিলাম।এই চরম ঘটনার পর আন্টি আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি। তিনি আকাশের এই সমস্ত অদ্ভুত আচরণ আর ভয়ের কথা চিঠিতে ও ফোনে ওঁর নিজের মাকে (আকাশের দিদা) জানান। সব শুনে আকাশের দিদা বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে আন্টিকে তক্ষুনি ওঁর কাছে চলে আসতে বলেন। দিদার কথামতো আকাশকে নিয়ে আন্টি ওঁর বাপের বাড়ি যান। সেখানে দিদা তাঁদের এলাকার এক অত্যন্ত জাগ্রত ও ক্ষমতাশালী অলৌকিক সাধু বাবার কাছে নিয়ে যান।সেই দরবারে পৌঁছানো মাত্রই, আকাশকে কোনো প্রশ্ন করার আগেই, সেই সাধু বাবা আন্টির দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলে উঠলেন, "তোমার ছেলের ওপর তো আজ থেকে নয়, গত দুই-চার বছর ধরে একটা ভয়ঙ্কর অসন্তুষ্ট আত্মা বা পিশাচ ঘুরে বেড়াচ্ছে! আর ওই শক্তির কারণেই তোমার ছেলে কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে পারছে না। ও পড়াশোনায় ভীষণ ভালো ছিল, কিন্তু দিন দিন ওর পড়াশোনা খারাপ হয়ে যাচ্ছে কারণ ওই অপশক্তি ওর মগজ গ্রাস করছে।"সাধু বাবা আরও বললেন, "এই পিশাচটা ভীষণ নোংরা আর অপবিত্র থাকতে ভালোবাসে। অথচ তুমি ভীষণ পরিষ্কার আর মারাত্মক ঠাকুরভক্ত। তোমার বাড়ির ওই তীব্র পুজো-আচ্চার ইতিবাচক ক্ষমতার কারণে ওই আত্মা এত বছর তোমাদের বাড়িতে ঢুকতে বা জেঁকে বসতে পারছিল না। তাই ও তোমার ওপর মারাত্মক খ্যাপা! ওর চোখে তুমিই ওর সবচেয়ে বড় শত্রু। সে কারণেই ও আকাশকে দিয়ে তোমাকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করছিল।"


(পর্ব - ৫)
সাধু বাবার কথা শুনে আন্টির চোখের জল বাঁধ মানল না। তিনি বাবার পায়ে ধরে আকাশের প্রাণভিক্ষা চাইলেন। সাধু বাবা তখন গভীর চিন্তায় মগ্ন হলেন এবং গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, "এই আত্মা প্রচণ্ড শক্তিশালী! একে এত সহজে তাড়ানো যাবে না। ওকে এখন সরাসরি আমার কাছে আনাও যাবে না, কারণ ওর ভেতরের অপশক্তি ওকে এখানে কিছুতেই আসতে দেবে না। তাই একে আগে আমাদের বশে এনে শান্ত করতে হবে।"এই বলে সাধু বাবা আন্টিকে একটি বিশেষ তাবিজ দিলেন, যাতে ওই পিশাচ আকাশকে দিয়ে আন্টির কোনো ক্ষতি করতে না পারে। আর আকাশের সুরক্ষার জন্য আরেকটি বিশেষ তাবিজ দিয়ে বললেন, "এই তাবিজ ও এখন কিছুতেই নিজে পরবে না, আর ওর ভেতরের আত্মা ওকে এটা পরতে দেবেও না। তাই এই তাবিজটা তোমরা চুপিচুপি ওর বালিশের তলায় রেখে দেবে।" এর সাথে বাবা একটি মন্ত্রপূত জল দিলেন এবং নির্দেশ দিলেন যেন রোজ আকাশের ঘরে গঙ্গাজল ছিটানো হয়। আর আন্টিকে আগের চেয়েও অনেক বেশি করে পুজো-আচ্চা দিতে বললেন, যাতে বাড়ির পবিত্রতা ও ঈশ্বরের শক্তি পিশাচটাকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়।সাধু বাবা বললেন, "এই জল, গঙ্গাজল, বালিশের নিচের তাবিজ আর পুজোর জোরে যখন ভেতরের আত্মাটা আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে একটু শান্ত হবে—তখন ওকে টেনে আমার কাছে নিয়ে আসবি। তখন আমি একে চিরতরে বিদায় করব।"বাবার নির্দেশমতো আন্টি বাড়ি ফিরে এসে হুবহু তাই করতে লাগলেন। আকাশের বালিশের নিচে লুকিয়ে রাখা হলো তাবিজ, রোজ ঘরে ছিটানো হতে লাগল গঙ্গাজল আর মন্ত্রপূত জল। আন্টি দিন-রাত পুজো করতে লাগলেন। প্রথম প্রথম আকাশের ভেতরের সেই অপশক্তিটা প্রচণ্ড ছটফট করত, গর্জন করত, কিন্তু ধীরে ধীরে ঈশ্বরের পবিত্র ক্ষমতার সামনে নোংরা পিশাচটা কাবু হতে শুরু করল। কিছুদিন পর আকাশ যখন অনেকটাই শান্ত ও নিস্তেজ হয়ে এলো, তখন তাকে সাধু বাবার দরবারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বাবা ওঁর অলৌকিক ক্ষমতায় আকাশকে সেই পিশাচের হাত থেকে চিরতরে মুক্ত করেন।আজ আকাশ সম্পূর্ণ সুস্থ। সে আবার স্কুলে যাচ্ছে, বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলছে এবং আগের মতোই পড়াশোনায় মন দিয়েছে। কিন্তু আজও যখন আমি সেই নির্জন মাঠের বুড়ো তালগাছটার পাশ দিয়ে যাই, আমার বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। বিজ্ঞান যতই বলুক ভূত বলে কিছু নেই, কিন্তু আমি নিজের চোখে দেখেছি—মা ও সন্তানের লড়াই এবং এক জাগ্রত সাধুর আশীর্বাদ কীভাবে একটা পৈশাচিক অন্ধকার শক্তিকে হারিয়ে আলোর জয় এনে দিয়েছিল।


                         (সমাপ্ত)