রবিবার,,,,,,,,,,,,,,,, 23/04/2019,,,,,,,, "জাফির খান আরিজ, এর একমাএ পুএ এড্রিয়ান খান জেহেফিল এর সঙ্গে ১ কোটি ১ টাকার বিনিময়ে আপনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইতে চাচ্ছে আপনি কি এই সম্পর্কে রাজি আছেন, তুমি কি কবুল" কথা টা শুনেই অষ্টাদশির বুক ধক করে উঠলো। নাম হীন একটা অনুভূতি কাজ করছে। চোখে অশ্রু টলমল করেছে, না জানি এখনি না গোড়িয়ে পড়ে গাল বেয়ে। সেরাফিনা নোভা— নামটা শুনলেই যেন একটা শান্ত নদীর কথা মনে পড়ে। নিঃশব্দে বয়ে চলা, কারও ক্ষতি না করা, শুধু নিজের মানুষদের ভালোবেসে বাঁচতে চা
মন_তোকে_দিলাম - 1
রবিবার,,,,,,,,,,,,,,,,23/04/2019,,,,,,,,"জাফির খান আরিজ, এর একমাএ পুএ এড্রিয়ান খান জেহেফিল এর সঙ্গে ১ কোটি ১ টাকার বিনিময়ে আপনার সাথে বিবাহ আবদ্ধ হইতে চাচ্ছে আপনি কি এই সম্পর্কে রাজি আছেন, তুমি কি কবুল"কথা টা শুনেই অষ্টাদশির বুক ধক করে উঠলো। নাম হীন একটা অনুভূতি কাজ করছে। চোখে অশ্রু টলমল করেছে, না জানি এখনি না গোড়িয়ে পড়ে গাল বেয়ে।সেরাফিনা নোভা— নামটা শুনলেই যেন একটা শান্ত নদীর কথা মনে পড়ে। নিঃশব্দে বয়ে চলা, কারও ক্ষতি না করা, শুধু নিজের মানুষদের ভালোবেসে বাঁচতে চাওয়া একটা মেয়ে। খুব সাধারণ, খুব নরম মনের। পরিবারের প্রথম মেয়ে হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই সে ছিল সবার আদরের, সবার চোখের মণি। ...আরও পড়ুন
মন_তোকে_দিলাম - 2
শনিবার,,,,,,,,,,,,,,,,,,22/04/2019,,,,,,,,,,রাত ১২:৪৯ মিনিট নাইট ক্লাবে সবাই ঘোড়ে আছে। গান চলছে সাথে সবাই গানের তালে ডান্স করছে, কেউ কেউ ড্রিঙ্ক কেউ মেয়ে নিয়ে মাতা মাতি করছে।কিছু দূরে আড়ালে কেউ কিস করছে। লাল আলোয় কারোর মুখ বোঝা যাচ্ছে নাহ সবাই ব্যাস্ত।সিফান অনেক ক্ষণ ধরে একটা মেয়েকে দেখেই যাচ্ছে। তার মুখে তাচ্ছিল্য হাসি, অনেক দূরে একটা সিঙ্গেল সোফা তে বসে আছে হাতে একটা জলন্ত সিগারেট, টেবিলের উপড়ে সচ্ছ কাঁচের বতলে লাল রং এর তরল পদার্থ।হইতো আজ রাতে তার শিকার এই মেয়েটা হবে,প্রতিটি রাত সিফানের সাথী নাইট ক্লাব, এখানেই যে সিফান এর হাতে কত শত মেয়ে মারা গিয়েছে তার ঠিক নেই। কত মেয়ে ...আরও পড়ুন
মন_তোকে_দিলাম - 3
শনিবার,,,,,,,,,,,,,,22/04/2019,,,,,,অন্ধকার রুমে একটা ধাড়ে বসে আছে একটা লোক। হাতে ফোন, ফোনের আলোয় মুখটা খুব ভালো ভাবে দেখা যাচ্ছে নাহ। থেকে কয় একটা ছবি দেখেই যাচ্ছে।নেভি-ব্লু রঙের হিজাব পরে রাস্তার এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে একটা মেয়ে। বিকেলের নরম রোদ এসে পড়েছে তার মুখের উপর, আর সেই আলোয় তাকে ঠিক আকাশ থেকে নেমে আসা কোনো শান্ত পরীর মতো লাগছে। মুখে লেগে আছে অদ্ভুত এক মায়াবী হাসি—যে হাসি দেখলে মনে হয় পৃথিবীর সব কষ্ট, সব দুঃখ, সব অন্ধকার মুহূর্ত এক নিমিষেই ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। তার হাসির মাঝে এমন এক শান্তি আছে, যেন ক্লান্ত হৃদয়ের জন্য এক টুকরো আশ্রয়।গোলাপি ঠোঁট দুটো একটু ...আরও পড়ুন
মন_তোকে_দিলাম - 4
শনিবার,,,,,,,,,,,,,,,,,,,22/04/2019,,,,,,,,,,,উপরে থেকে নিচে নেমে যাওয়া সরু সিঁড়িটা যেন অন্ধকারের পেটের ভেতরে ঢুকে গেছে। কাঠের ধাপগুলো পুরোনো আর ভাঙাচোরা, কোথাও ফাটল ধরেছে। প্রতিটা ধাপে পা রাখলেই “কড়রর…” করে বিকট শব্দ উঠছে, যেন বহু বছর পর কেউ এই পথে নামছে। সিঁড়ির দুই পাশের দেয়াল ভেজা আর স্যাঁতসেঁতে, হাত ছোঁয়ালেই ঠান্ডা পানি আর শ্যাওলার পিচ্ছিল অনুভূতি লেগে থাকে। ওপরে থেকে আসা ক্ষীণ আলো কয়েক ধাপ পর্যন্ত পৌঁছায়, তারপরই সবকিছু ঘন কালো অন্ধকারে ডুবে যায়।নিচের দিকে তাকালে শুধু অন্ধকার দেখা যায়, এতটাই গভীর যে মনে হয় সিঁড়িটার শেষই নেই। কোথাও থেকে ঠান্ডা বাতাস ধীরে ধীরে ওপরে উঠছে, আর সেই বাতাসে মিশে আছে পচা ...আরও পড়ুন
মন_তোকে_দিলাম - 5
শনিবার,,,,,,,,,,,,,,,,22/04/2019,,,,,,,,"টেবিল এর উপড়ে রাখা শিশির ভেতরের অ্যাকুয়া রেজিয়ার দিকে তাকিয়ে সিফান বুঝতে পারল, ভুলেও হাতে এটা পড়লে ভয়াবহ কিছু পারে।"জেহেফিল আস্তে করে শিশি টা তুলে নিলো। সিফানের দিকে তাকিয়ে একটা অদ্ভুত হাসি দিলো। জেহেফিল কে তার দিকে এগিয়ে আস্তে দেখে সিফান ভয় পেয়ে গেল। সিফান বুঝে গিয়েছে তার সাথে কি হতে চলেছে।"নাহ প্লিজ এটা করিস না, তুই কে আমি কিছু জানি নাহ। আমাকে ছেড়ে দে"ফাঁকা বেসমেন্ট এ সিফানের আওয়াজ দু দু বার করে শোনা যাচ্ছে। সিফান ছটফট করতে থাকে কিন্তু কোনো লাভ হয় নাহ।জেহেফিল অতি সাবধানে বতলের ঢাকনা টা খোলা। আহাদ দূড়ে দাঁড়িয়ে সব টা দেখতে থাকে, জেহেফিল আহাদের ...আরও পড়ুন
মন_তোকে_দিলাম - 6
শনিবার,,,,,,,,,,,,,,,,,22/04/2019,,,,,,,,জেহেফিলের হাতে থাকা সিগারেটটা অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। তবুও সে সেটাকে আঙুলের ফাঁকে ধরে রেখেছে, যেন নিজের অজান্তেই। রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। ঝড়ো বাতাস বারবার তার এলোমেলো চুলগুলো উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কপালের উপর এসে পড়া চুলগুলো সরানোরও প্রয়োজন বোধ করছে না সে।আজকের রাতটা অদ্ভুত সুন্দর। আকাশের মাঝখানে গোলাকার চাঁদটা রূপার থালার মতো ঝুলে আছে। তার চারপাশে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য তারাগুলো মিটমিট করে জ্বলছে, যেন আকাশজুড়ে কেউ হীরের কণা ছড়িয়ে দিয়েছে।মাথা উঁচু করে চাঁদের দিকে তাকাল সে। জ্যোৎস্নার আলো তার চোখে এসে পড়ল। কয়েক মুহূর্তের জন্য মনে হলো, এই পৃথিবীতে কোনো দুঃখ নেই, কোনো কষ্ট নেই। কিন্তু ...আরও পড়ুন
মন_তোকে_দিলাম - 7
রবিবার,,,,,,,,,,,,,,,,23/04/19,,,,,,,,,,,পাশে থেকে আবার ডাক শোনা গেল"আপনি কি কবুল মা"।সেরাফিনার এবার হুস ফিরলো। এতোক্ষণ সে এই সব ভাবছিল। জেহেফিল এখোনো হাত ধড়ে আছে। সেরাফিনা জেহেফিল এর দিকে না তাকিয়ে জবাব দিল কঠোর গলায়"যেখানে আমার আব্বু আম্মু কিছু বলছে নাহ সেখানে আপনি বলার কে?" বলেই ঝাটকা মেয়ে সরিয়ে দিল জেহেফিল এর হাত।যদি সব কিছুর বদলা নিতে হয় তাহলে ক্ষমতার দরকার পরবে, তাহলে সেরাফিনা জেহেফিল কে বিয়ে করতে হবে তবেই সে ক্ষমতা অর্জন করতে পারবে, সবাই তখন তার দেখে ভয় পাবে। জেহেফিল কে এমন জালে ফাঁসাবে অন্ধ হয়ে যাবে সেরাফিনার ভালো বাসায়, ভেবে সেরাফিনা মুখ খুললো। "জ্বি আমি কবুল, কবুল কবুল" বলে ...আরও পড়ুন
মন_তোকে_দিলাম - 8
#পর্ব_৮রবিবার,,,,,,,,,,,,,২৩/০৪/২০১৯,,,,,,,,,,,রাত ১:৩৫আকাশে অর্ধেক চাঁদ ঝুলে আছে। মেঘেরা যেন আজ পণ করেছে সব তারাকে আড়াল করে রাখবে। হালকা বাতাসে গাছের পাতাগুলো খসখস শব্দ তুলে নড়ছে। গভীর রাতে পুরো গ্রাম ডুবে আছে নিস্তব্ধতায়। অন্ধকারের বুক চিরে শুধু রাস্তার ধারের কয়েকটি বাতি মৃদু আলো ছড়িয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে।গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল 'সেখ অট্টালিকা'। উঁচু পাঁচিল ঘেরা প্রাসাদসম সেই তিনতলা বাড়িটি আলোর ঝলকানিতে দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যায়। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডদের চোখে-মুখে সতর্কতার ছাপ। বাড়ির চারপাশে সারি সারি বড় বড় গাছ, আর সামনের বাগানে বিছিয়ে আছে একদম কার্পেটের মতো নরম সবুজ ঘাস। রাতের নিস্তব্ধতার ...আরও পড়ুন
মন_তোকে_দিলাম - 9
"সিফান...! বাবা সিফান!"দরজার বাইরে থেকে ভেসে আসা সাহিদা বিবির কণ্ঠস্বর শুনে সেরাফিনার ভাবনার জগৎ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। এতক্ষণ সে নিজের চিন্তায় ডুবে ছিল। কখনো রাগে, কখনো ঘৃণায়, আবার কখনো অদ্ভুত এক উন্মাদ হাসিতে নিজেই হারিয়ে গিয়েছিল।কিন্তু হঠাৎ সেই ডাক কানে আসতেই তার ঠোঁটের হাসি মিলিয়ে গেল।মুহূর্তের মধ্যে বাস্তবতায় ফিরে এল সে।তার বুক ধক করে উঠল।এখন যদি সে রুম থেকে বের হয়, তাহলে সবাই তাকে এখানে দেখতে পাবে। আর যদি সিফান কে এই অবস্থায় দেখে, তাহলে প্রথম সন্দেহটা তার ওপরই আসবে। বিষয়টা ভাবতেই কপালে চিকচিক করে ঘাম জমল।কী করবে সে?দরজার দিকে তাকাল, আবার জানালার দিকে।বাইরে থেকে সাহিদা বিবির উদ্বিগ্ন ...আরও পড়ুন
মন_তোকে_দিলাম - 10
সিসিটিভি ফুটেজটা আবার চালাল জেহেফিল।স্ক্রিনে ভেসে উঠল সেরাফিনার অবয়ব। অন্ধকার রাত, সরু কার্নিশ, আর কয়েক তলা নিচে শক্ত মাটি।ভিডিওটা এগোচ্ছে, জেহেফিলের কপালের ভাঁজ তত গভীর হচ্ছে।যখন সে দেখল সেরাফিনা জানালা দিয়ে বের হয়ে নির্ভয়ে কার্নিশ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন তার মাথা যেন আরও গরম হয়ে গেল।"এই মেয়েটা কি পাগল নাকি?"দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করল সে।ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, সামান্য ভুল হলেই সোজা নিচে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সেরাফিনার মধ্যে ভয়ের কোনো চিহ্নই নেই। যেন এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ সে আগেও বহুবার করেছে।জেহেফিল বিরক্ত হয়ে ল্যাপটপের পাশে রাখা পানির গ্লাসটা হাতে নিল। এক চুমুক খেয়েই আবার স্ক্রিনের দিকে তাকাল।তারপর মাথা ...আরও পড়ুন
মন_তোকে_দিলাম - 11
সকাল ৯:৩০রুমের জানালাটা খোলা। বাইরে পাখিগুলো কিচিরমিচির করছে। সূর্য যেন নিজের তেজ দেখাতে ব্যস্ত। চারদিকে গরম হাওয়া বইছে; গ্রামাঞ্চল গরমটা যেন আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।কাঁচের দেয়ালের পর্দাটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরে গেল। পর্দা সরতেই সূর্যের আলো এসে পড়ল সেরাফিনার মুখে। বিরক্তিতে সে কয়েকবার চোখ পিটপিট করল। ঘুমের ঘোরে সালোয়ার-কামিজটা পেট থেকে খানিকটা সরে গিয়েছে, উন্মুক্ত হয়ে আছে তার ফর্সা পেট। কালো কুচকুচে চুলগুলো ছড়িয়ে আছে বিছানাজুড়ে।মনে মনে পাখিগুলোকে বকতে বকতে বিড়বিড় করে বলল,"একদিন না একদিন তোদের জবাই করে খেয়ে ফেলব। সকাল সকাল মুডটাই খারাপ করে দিলি! কোন দুঃখে যে তোদের খাবার দিতে গিয়েছিলাম, উফ!"ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠে বসল সে। ঘড়ির ...আরও পড়ুন
মন_তোকে_দিলাম - 12
"আরে হ্যাকার, ড্রেসটা তো চেঞ্জ করে আসতে পারতেন!"কথাটা কানে আসতেই সেরাফিনার হাত থেমে গেল। মুখে তোলা খাবার আর গিলতে না সে। কণ্ঠস্বর অনুসরণ করে পিছনে তাকাতেই তার দৃষ্টি গিয়ে থামল লোকটার উপর।ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি আর সাদা লুঙ্গি পরে দাঁড়িয়ে আছে জেহেফিল। চোখে কালো সানগ্লাস, চুলগুলো পরিপাটি করে আঁচড়ানো। সাদা পোশাকে তাকে অস্বাভাবিক রকমের মানিয়েছে।জেহেফিলকে দেখেই সেরাফিনার বুকটা কেমন যেন ধক করে উঠল। তবে পরমুহূর্তেই নিজেকে সামলে নিয়ে সে চারপাশে তাকাল, যেন নিশ্চিত হতে চাইছে লোকটা আসলেই তাকে বলেছে কি না।সেরাফিনার এমন ভাবভঙ্গি দেখে জেহেফিল ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল।"আপনাকেই বলছি, ম্যাডাম।"সঙ্গে সঙ্গে সেরাফিনা নাক-মুখ কুঁচকে ফেলল।"কেন ভাইয়া, আমার ড্রেসিং সেন্সে আপনার ...আরও পড়ুন
মন_তোকে_দিলাম - 13
সেরাফিনা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে রইল। সাহিদা বিবির কান্নার শব্দ বারবার তার কানে বাজছে। বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অস্বস্তি জমতে সাহিদা বিবি সবার হাত সরিয়ে সিফানের লাশের কাছে এগিয়ে গেলেন। কাঁপা হাতে ছেলের মুখে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন,"একবার চোখ খুলে তাকাও বাবা... শুধু একবার। আমি আর কিছু চাইব না।"উপস্থিত অনেকের চোখ ভিজে উঠল। কেউ মুখ ফিরিয়ে নিল, কেউ নিচের দিকে তাকিয়ে রইল।জেনিফা নিঃশব্দে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।"একজন মায়ের জন্য এর চেয়ে বড় শাস্তি আর কী হতে পারে?"সেরাফিনা কোনো উত্তর দিল না। তার দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে সিফানের নিথর মুখের দিকে। এত নংরা ছেলের জন্য সাহিদা বিবি কান্না করছে।ঠিক তখনই জানাজার জন্য ...আরও পড়ুন
মন_তোকে_দিলাম - 14
"এই ভাই, শোন না!" সেরাফিনা আগ্রহভরে জেনিফার দিকে তাকিয়ে বলল।"হুম, বল।" জেনিফা এমন মুখ করে উত্তর দিল যেন সে থেকেই জানে, এবারও কোনো উদ্ভট প্রশ্ন আসছে।"আচ্ছা, আমি কি এখন থেকে চুড়ি পরে ঘুরব, নাকি সাদা শাড়ি পরে ঘুরবো? মানে... বিধবাদের মতো?"জেনিফা ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকাল।"কেন রে শালী, আমার ভাই কি মারা গেছে যে তুই সাদা শাড়ি পরে ঘুরবি?""আরে, একটু আগে তো সাহিদা আন্টি বলল, যে খুন করেছে সে যেন খুব বাজে ভাবে মারা যায়।""বলেছে বলে নাকি সব সত্যি হয়ে যাবে? আর তাছাড়া খুন তো ভাইয়াই করেছে।""সেটাই তো ভাবছি!" সেরাফিনা গম্ভীর মুখে মাথা নাড়ল। "শোন, তোর ভাই যদি সত্যিই ...আরও পড়ুন
মন_তোকে_দিলাম - 15
জেনিফা এতক্ষণে হাসতে হাসতে চোখের পানি মুছছে।"আল্লাহ! তুই একটা আস্ত বিপদ।"সেরাফিনা গর্বিত ভঙ্গিতে নিজের চুল কাঁধের ওপর ছুঁড়ে দিয়ে ছোটবেলা থেকেই ট্যালেন্টেড।""এটাও প্রশংসা ছিল না।""আমি ইতিবাচক চিন্তাধারায় বিশ্বাস করি।"জেনিফা আবার হেসে ফেলল।এই মেয়েটার সাথে তর্ক করে কোনো লাভ নেই। সে অপমানকেও প্রশংসা বানিয়ে নিতে পারে।অন্যদিকে জেহেফিল নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল।তার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসির রেখা এখনও রয়ে গেছে।কিন্তু সে দ্রুত সেই হাসি আড়াল করে নিল।কারণ নিজের অজান্তেই সে বুঝতে শুরু করেছে, সেরাফিনার উপস্থিতি তার কঠিন, নিয়ন্ত্রিত জীবনে এক অদ্ভুত বিশৃঙ্খলা এনে দিয়েছে।আর সেই বিশৃঙ্খলাটাই বিপজ্জনক।খুবই বিপজ্জনক।জেহেফিল ঘুরে দাঁড়াল।"আমি যাচ্ছি।"কিন্তু আজ যেন সেরাফিনার কথা বলার ইচ্ছার শেষ নেই।"এই যে, একটু দাঁড়ান ...আরও পড়ুন
মন_তোকে_দিলাম - 16
মেহেরুননেসাও আসাদুল সেখ এর পিছু নিলেন। কিন্তু যাওয়ার আগে একবার ফিরে তাকিয়ে মেয়ের গালে হাত বুলিয়ে দিলেন।"আজ রাতে একা না। আমি তোমার রুমেই থাকব।""আম্মু, আমি ছোট বাচ্চা না।""আমার আর তোমার আব্বুর কাছে তুমি এখনও সেই ছোট্ট আমিরাই।"সেরাফিনা কিছু বলল না।মায়ের চোখের আতঙ্ক দেখে তার বুকটা হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল।দুজন চলে যাওয়ার পর করিডোরে আবার নীরবতা নেমে এলো।সেরাফিনা ধীরে ধীরে নিজের রুমে ফিরে গেল।ভাঙা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকাল।রাস্তাটা ফাঁকা।কালো গাড়িটাও আর নেই।কিন্তু তার মনে হচ্ছে কেউ এখনও তাকিয়ে আছে।কোথাও থেকে।অন্ধকারের আড়াল থেকে।হঠাৎ,তার ফোন আবার কেঁপে উঠল।সেই নম্বর থেকে আরেকটা মেসেজ এলো।সেরাফিনা ভ্রু কুঁচকে স্ক্রিনে তাকাল।"শহরে ফিরে গিয়েও লাভ হবে ...আরও পড়ুন