Read Unpublished by ANANYA in Bengali Short Stories | মাতরুবার্তি

Featured Books
  • তুমি পারবে

    সূচিপত্র১. স্বপ্ন দেখা কেন জরুরি২. ছোট পদক্ষেপের বড় জয়৩. ব...

  • জঙ্গলের প্রহরী - 13

    জঙ্গলের প্রহরীপর্ব - ১৩- "একটু অসুবিধা করুন দুদিন। আমরা চেষ্...

  • মহাভারতের কাহিনি – পর্ব 130

    মহাভারতের কাহিনি – পর্ব-১৩০ অর্জুনের প্রতিজ্ঞায় জয়দ্রথের ভয...

  • LOVE UNLOCKED - 5

    Love Unlocked :5Pritha :আরিয়া এখন চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে ক্য...

  • অপ্রকাশিত

    "ঋদ্ধি তোকে ভালোবাসে না এটা জানার পরেও কি তুই ওকে ভালবাসবি র...

বিভাগ
শেয়ারড

অপ্রকাশিত


"ঋদ্ধি তোকে ভালোবাসে না এটা জানার পরেও কি তুই ওকে ভালবাসবি রাই?"

হটাৎ এমন কথা শুনে কেক খাওয়া থামিয়ে দিল রাই।অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল সৌমির দিকে।কথাটা বুঝতে কিছুটা সময় লাগলো রাইয়ের।ওরা দুজন ওদের অফিস ক্যান্টিনে বসে আছে।

"হঠাৎ কি সব বলছিস সৌমি!তুই জানিস ঋদ্ধিকে আমি ভালোবাসি ও না বাসলেও আমি ভালোবাসবো ওকে তারপরেও এমন কথা কেনো বলছিস?"

কিছুটা রেগে বলল রাই।

"দেখ রাই আমি তোর ভালোর জন্য একটা কথা বলছি, তুই ঋদ্ধিকে নিয়ে আর ভাবিস না কষ্ট পাবি শুধু। ওর মনে তোর জন্য বিশেষ কোনো জায়গা নেই।আর তুই জানিস না তোর আড়ালে ঠিক কি কি হয়েছে!"

সৌমি রাইয়ের হাতের ওপর হাত রেখে বলল।

"কি হয়েছে বলতো ঠিক করে।কি ঘটেছে আমার আড়ালে?"

ভ্রু কুচকে বলল রাই।সৌমি চুপ করে নীচের দিকে তাকিয়ে আছে। তা দেখে রাই সৌমিকে হাল্কা ধাক্কা দিয়ে বলল,

"চুপ করে আছিস কেনো?অর্ধেক কথা আমার পছন্দ না।যা বলা শুরু করেছিস সেটা শেষ কর।কি হয়েছে আমায় বল সৌমি।"

"আসলে রাই হয়েছে অনেক কিছুই কিন্তু তোকে কি করে বলবো ভেবে পাচ্ছিনা।তুই শুনলে অনেক কষ্ট পাবি।"

আমতা আমতা করে বলল সৌমি।

"কি এমন হয়েছে সৌমি?", গম্ভীর গলায় বলল রাই।

সৌমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে এক নিঃশ্বাসে বলল,

"ঋষি আর রুপসার বিয়ে আগামী মাসে।ওদের সাত বছরের সম্পর্ক।আমরা কেউ টের পাইনি কোনোদিনও।ওরা এই ব্যাপারটা পুরো হাইড করে রেখেছিল।কেউ জানত না। আমি বিয়ের ব্যাপারটা কাল জেনেছি।"

রাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সৌমির দিকে।কথাটা বুঝতে কিছুটা সময় লাগল।কি করে সম্ভব এটা তাই ভেবে পাচ্ছেনা রাই।যদিও অসম্ভব এমন টাও নয়।

ঋদ্ধি, রূপসা, সৌমি আর রাই একসাথেই পড়াশোনা করেছে ছোট থেকে।এখন সবাই নিজের লাইফে সেটেল।সকলেরই বিয়ের বয়স হয়েছে।রাই আর সৌমি একসাথে একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করছে দেড় বছর হলো।ঋষি অন্য কোম্পানিতে জব করে। কিন্তু ঋদ্ধি আর সৌমির বাড়ি পাশাপাশি তাই সব খবর সৌমি পেয়ে যায় ঋদ্ধির।রাইয়ের বাড়ি কিছুটা দূরে।আর রূপসা থাকে ওদের পাশের এলাকায়।এক বছর হলো রূপসা ওদের এলাকার স্কুলের টিচার।

রাই কখনও ঋদ্ধিকে মনের কথা বলেনি বন্ধুত্ব নষ্ট হবে মনে করে।আর ঋদ্ধি যে ওকে পছন্দ করে এরকমটাও কখনও মনে হয়নি রাইয়ের।তাই কিছু বলতে সাহস হয়নি। ভাগ্যে থাকলে পাবে এটা ভেবে সময়ের ওপর ছেড়ে দিয়েছে সবটা।তবে রাইয়ের বাড়ি থেকে ঋদ্ধিকে সবার অনেক পছন্দ।বিয়ের সম্বন্ধ পাঠাবে এমন কথা হয়েছিল।তাই রাই আশা নিয়ে ছিল হয়তো ভাগ্য ওদের এক করবে।কিন্তু সেটা আর হওয়ার নয়!

রাইয়ের কোনো সাড়া না পেয়ে সৌমি চোখ খুলে রাইয়ের দিকে তাকাল।রাই সৌমির দিকেই তাকিয়ে ছিল এক দৃষ্টিতে।

"রাই", সৌমি হাল্কা স্বরে ডাকল।

জল ভরা চোখে রাই বলল,"এটা কি সত্যি সৌমি?"

"হ্যাঁ রে রাই।আমি নিজেও প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি।কিন্তু এটাই সত্যি।আর কয়েকদিন আগে যদি তোর বাড়ির সবাই ঠিক করত বিয়ের সম্বন্ধ পাঠাবে তবে হয়তো ঋদ্ধি তোর হতো।"

"পাগলী মেয়ে তুই নিজেই বললি ওদের সাত বছরের সম্পর্ক।কয়েকদিন আগে আমার বাড়ি থেকে বিয়ের সম্বন্ধ গেলে থোরি না ঋদ্ধি রূপসাকে ফেলে আমায় বিয়ে করত।ঋদ্ধি অনেক আগেই রুপসার হয়ে গেছে।সবার অজান্তেই।আমি ভুল জায়গায় মন দিয়ে ফেলেছি।"

তাচ্ছিল্যকর হেসে বলল রাই।সৌমি বলল,

"তোর উচিৎ ছিল আরও আগেই মনের কথাটা বলা।তবে হয়তো আজ এমন হতো না।"

"যে আমার নয় তাকে আমি চাইলেও পাবোনা সৌমি।যে আমার জন্য এসেছে তাকে ঠিক সময় আমি পেয়েই যাবো।ঋদ্ধি রুপসার জন্য এসেছে।ওরা একে অপরের পরিপূরক।আমি কিছু না বলে ঠিকি করেছি বুঝলি তো নাহলে বন্ধুত্ব নষ্ট হতো দুজনের সাথে। আমার অনুভূতি পুরোটাই একতরফা।"

সৌমি কিছু বলল না আর।এখানে আর কিছু করার বা বলার নেই।রাই দূরের আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল,

"কিছু কথা, কিছু ব্যথা অপ্রকাশিত থাকাই ভালো। এই জন্মে আমি না হয় ভালো বন্ধু হয়েই থেকে যাবো। পরজন্মে বা অন্য কোন সময় আমি না হয় তোমায় পাবো।"

(সমাপ্ত)