সময়টা উনিশশো আশির দশকের কথা। ঋষড়ার প্রান্ত ঘেঁষে ছোট্ট এক টুকরো ভাড়া ঘরে। রবি,সুরভি আর তাদের ছেলে শিবরাজকে নিয়ে ছিল এক অভাবের, কিন্তু ভালোবাসায় মোড়া সংসার। রবি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে হিসাবরক্ষকের কাজ করত। আয় ছিল সামান্য, কিন্তু সেই সামান্য টাকাতেই সে পরিবারটাকে হাসিখুশি রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করত। সুরভি ছিল ঘরোয়া, কিন্তু ভীষণ বুদ্ধিমতী। সুরভির বাবা ছিলেন আয়ুর্বেদ চিকিৎসক। তাই ওষুধ ছাড়াও ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে রোগ সারানো যায়,কোন পাতায় জ্বর সারে আর কোন শিকোড়ে বল বাড়ে, তা সুরভি ভালো করেই জানত। তাদের ভাড়া ঘরের এক পাশে একটুখানি ফাঁকা জায়গা ছিল। সুরভি সেখানে সবজি ফলাত।যাতে তার ছেলে শিবরাজ পুষ্টিকর খাবার খেয়ে সুস্থভাবে বড় হয়।
সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী - 1
PART -1 সময়টা উনিশশো আশির দশকের কথা। ঋষড়ার প্রান্ত ঘেঁষে ছোট্ট এক টুকরো ভাড়া ঘরে। রবি,সুরভি তাদের ছেলে শিবরাজকে নিয়ে ছিল এক অভাবের, কিন্তু ভালোবাসায় মোড়া সংসার। রবি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে হিসাবরক্ষকের কাজ করত। আয় ছিল সামান্য, কিন্তু সেই সামান্য টাকাতেই সে পরিবারটাকে হাসিখুশি রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করত। সুরভি ছিল ঘরোয়া, কিন্তু ভীষণ বুদ্ধিমতী। সুরভির বাবা ছিলেন আয়ুর্বেদ চিকিৎসক। তাই ওষুধ ছাড়াও ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে রোগ সারানো যায়,কোন পাতায় জ্বর সারে আর কোন শিকোড়ে বল বাড়ে, তা সুরভি ভালো করেই জানত। তাদের ভাড়া ঘরের এক পাশে একটুখানি ফাঁকা জায়গা ছিল। সুরভি সেখানে সবজি ফলাত।যাতে তার ...আরও পড়ুন
সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী - 2
ছোট্ট, মিষ্টি আর কোমল স্বভাবের অন্বেষার জন্য বাবা-মা এবং দাদা শিবরাজের ভালোবাসার যেন শেষ নেই।অন্বেষাকে কেবল তার পরিবারের লোকেরাই বাড়ির মালিক দম্পতি এবং প্রতিবেশীরাও তাকে ভালোবাসে।সুরভি মনে করল, “এই মেয়েটাই যেন আমাদের জীবনে নতুন সূর্যোদয়। আমাদের জীবনের দুঃখ মুছে দিয়েছে। যেন লক্ষ্মী আমাদের ঘরে এসেছে”। দিন কাটতে লাগল। ভালোবাসার আবরণে বড় হতে লাগল অন্বেষা। বাবা, মা আর দাদা শিবরাজ — তিনজনেরই আদরের ধন সে। বাবা, মা আর দাদার অফুরন্ত ভালোবাসা মমতায় তার শৈশব ভরে উঠল। বিশেষ করে দাদা শিবরাজ যেন তার ছায়া, সারাক্ষণ রক্ষা করে রাখত ছোট বোনটিকে। যত দুষ্টুমিই করুক না কেন, দাদা খুব একটা রাগ করত না।অন্বেষা ...আরও পড়ুন
সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী - 3
রবিরা ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে ল্যাবটা খুঁজে বের করল। সেখানে থাকা অ্যাসিস্ট্যান্ট বললো, এই পরীক্ষা গুলো করতে তিন চার দিন সময় লাগবে রক্তের স্যাম্পল নিতে । তারপর সব টেস্টের রিপোর্ট আসতে ষোলো ,সতেরো দিন লাগবে। রবি প্রতিটি কথা নিজের ডায়রিতে যত্ন করে লিখে নিল। ষোলো থেকে সতেরো দিন! কিন্তু মেয়ের সুস্থতার জন্য এছাড়া আর কোনো পথ নেই। রবির মনে দুশ্চিন্তার পাহাড় জমলেও অন্বেষার মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে, সে নিজের মন শক্ত করল। অ্যাসিস্ট্যান্ট আরও বললেন, “আপনারা তো অনেক দূর থেকে এসেছেন, আপনাদের কোনো ফোন নম্বর আছে”? থাকলে দিয়ে যান, আমরা রিপোর্ট এসে গেলে ফোন করে জানিয়ে দেব। অথবা ...আরও পড়ুন
সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী - 4
রবিরা ট্রেনে রাতে উঠেছিল, আর সকালের সাতটার মধ্যে হাওড়া স্টেশন পৌঁছে গেল। ফালাকাটা থেকে কলকাতা—এই দীর্ঘ পথ যেন রবির এক অন্তহীন প্রতীক্ষার মতো। রিপোর্টগুলোয় কী আছে? ডাক্তারবাবু কী বলবেন? এই সব প্রশ্ন রবির মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, কিন্তু মেয়ের জন্য সে যে কোনো লড়াই লড়তে প্রস্তুত। রিপোর্টগুলো হাতে পাওয়ার পর রবির হাত সামান্য কাঁপছিল। সে আর সুরভি চেম্বারে ঢুকে ডাক্তারবাবুর হাতে ফাইলটা তুলে দিল। ডাক্তারবাবু চশমাটা নাক বরাবর নামিয়ে প্রতিটি রিপোর্ট অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে খুঁটিয়ে পড়তে শুরু করলেন। রবি আর সুরভির এক অজানা আশঙ্কায় বুক ফেটে যাচ্ছিল। বেশ কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর ডাক্তারবাবু ফাইলটা টেবিলের ওপর রাখলেন। তিনি গম্ভীর কিন্তু ...আরও পড়ুন