Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

দ্যা হাউস অফ ডেভিল স্পিরিট - 7

অভিরূপ যখন গেস্ট হাউসে পৌঁছালো তখন গেস্ট হাউসটা পুরো গাঢ় অন্ধকারে ঢাকা | অভিরূপের মাথার উপর দিয়ে কয়েকটি রাতচরা পাখি উড়ে গেল | আজকে অভিরূপ এর এই গেস্ট হাউস টাকে অন্যদিনের তুলনায় আলাদা রকম লাগছে | অভিরূপ ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে গেস্ট হাউসের সদর দরজা খুলে ভিতর ঢুকলো | ভিতরে ঢুকে

অভিরূপ মায়াকে ডাকল , মায়া ...... মায়া ...... মায়া ..... |

অভিরূপ মায়া কে বার তিনেক ডাকলো কিন্তু মায়ার কোনো সাড়া পেলো না | অভিরূপ গেস্ট হাউস এর আলোটা জ্বালাতে যাবে এমন সময়ে দোতলার ঘর থেকে একটা মন্ত্র পড়ার আওয়াজ শুনতে পেল। অভিরূপ সিঁড়ি দিয়ে দোতলার উঠে গেল | দোতলার একটা ঘরে অভিরূপ একটি লাল আলো দেখতে পেল | ওই ঘরের দরজাটা ভেজানো ছিল | দরজাটা খুলতেই অভিভাবক যা দেখল তাতে ওর হৃদস্পন্দন কয়েক মুহুর্তের জন্য যেন থেমে গেল | ঘরের মেঝেতে বেশ কয়েকটা পচাগলা লাশ পড়ে রয়েছে | লাশগুলোতে পোকা কিলবিল করছে | সে যে কি গা ঘিন-ঘিনে দৃশ্য বলে বোঝানো যাবে না | অভিরূপ এই সব দেখে হড়হড় করে বমি করে ফেলল |

তারপর অভিরূপ নিজেকে একটু সামলে নিয়ে
নিজের মনেই বলল , ঘরের মাঝখানে ওটা কি ঝুলছে |

কাছে যেতেই অভিরূপ চমকে উঠল এ তো .........মায়া | তবে ও এখন কোনো সাধারণ মানুষ নয়, ও এখন ভয়ানক পিশাচ এ পরিণত হয়েছে | মায়া লম্বা লম্বা পা দিয়ে ঘরের সিলিং এর সঙ্গে উল্টো হয়ে ঝুলছে | আর একটা লাশের শরীর থেকে পরম তৃপ্তিতে মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে।

হঠাৎ লাশগুলোকে দেখতে দেখতে একটা জায়গায় চোখ আটকে যায় অভিরূপের | একটা লাশ অভিরূপের খুবই চেনা | কাছে গিয়ে দেখতেই অভিরূপে হুঁশ উড়ে গেল | ওর গলা দিয়ে আওয়াজ বেরচ্ছিল না।

অভিরূপ কোনো রকমে তোতলাতে তোতলাতে বলল , অতিশ হাজরা | এতো অতিশ হাজারর লাশ |

তারপর অভিরূপের আর বুঝতে দেরি হলো না অতিশ হাজরার আসল খুনি কে |

অভিরূপ চিৎকার করে বলল , মায়া .... ইউ বাস্টার্ড ! ......... তোকে যদি আগে আমি চিনতে পারতাম !

এই বলে ঘরের মধ্যে থাকা একটা লাঠি নিয়ে মায়া কে অভিরূপ মারতে যাবে কিন্তু পারলো না | অভিরূপ ছিটকে মেঝেতে পড়ল মনে হল যেন কোন অদৃশ্য শক্তি তাকে আগে যেতে বাধা দিলো |
অভিরূপের এরকম অবস্থা দেখে মায়ার ঠোঁটে একটা হাড়হিম করা হাসি খেলে গেল |

তারপর মায়া হাসতে হাসতে বলল , এই বাড়ির সঙ্গে যারা যুক্ত হয়েছে আমি তাদের সবাইকে মেরে ফেলেছি | এবার তোমার পালা ........ |

এবার মায়া ধীরে ধীরে অভিরূপ এর দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো | অভিরূপ কোনোরকমে নিজেকে সামলে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে ঘরের সদর দরজার দিকে গেল | কিন্তু ঘরের সদর দরজা কিছুতেই খুলতে পারলো না | অভিরূপ অনেক বার চেষ্টা করলো কিন্তু প্রতিবারই ব্যার্থ হলো |
অভিরূপ হাঁপাতে হাঁপাতে ঘরের একটা কোনে গিয়ে বসলো | তারপর অভিরুপের মনে পড়ে গেল সাধুটার দেওয়া সেই শাঁখটার কথা | অভিরূপ তৎক্ষণাৎ নিজেকে একটু সামলে নিয়ে প্যান্টের পকেট থেকে সেই শাঁখটাকে বার করে নিজের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে শাঁখটা বাজালো | তারপর যা ঘটলো তা বলে বোঝানো যাবে না | ঘরের মধ্যেকার নেগেটিভ ও পজেটিভ শক্তির মধ্যে প্রচন্ড সংঘর্ষ হল আর সেই সংঘর্ষের ফলে ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল | দেয়াল এ ফাটল ধরতে শুরু করল |