📖 গল্প: “নিখোঁজ ১৭ নম্বর”(Part-1)
তারিখ—১৭ই জুলাই।
সময়—বিকেল ৫টা ৪২ মিনিট।
এই সময়টাই এখন পুলিশের ফাইলে লেখা আছে—
“Last Seen Time”।
এই সময়েই শেষবার অনন্যা সেনকে কেউ দেখেছিল।
তারপর থেকে—
সে নেই।
না ফোন, না মেসেজ, না কোনো clue।
একটা মানুষ যেন হঠাৎ করে পৃথিবী থেকে মুছে গেছে।
আমি—ঋত্বিক দত্ত।
পেশায় সাংবাদিক।
কিন্তু এই কেসটা আমার কাছে কোনো সাধারণ খবর না।
কারণ অনন্যা শুধু একটা “missing person” না…
সে আমার কলেজ লাইফের সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিল।
আমরা একসাথে journalism পড়তাম।
একসাথে assignment করতাম।
একসাথে future plan করতাম।
আর আজ—
আমি তার “missing report” নিয়ে কাজ করছি।
এই ironyটা আমি সহ্য করতে পারছি না।
১৭ই জুলাই রাত ১০টা ১৮।
আমি তখন ডেস্কে বসে একটা crime report লিখছিলাম।
হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল।
Unknown number।
আমি সাধারণত unknown call এড়াই।
কিন্তু সেদিন অদ্ভুতভাবে ফোনটা কেটে দিতে পারলাম না।
রিসিভ করলাম।
“হ্যালো?”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর একটা ভাঙা গলা—
“আপনি কি ঋত্বিক দত্ত?”
“হ্যাঁ… বলছি। কে বলছেন?”
“আমি… অনন্যার মা…”
আমার হাত কেঁপে উঠল।
“কী হয়েছে?”
তারপর যা শুনলাম—
আমার ভেতরটা যেন ফাঁকা হয়ে গেল।
“ও… বাড়ি ফেরেনি…”
আমি কয়েক সেকেন্ড কথা বলতে পারিনি।
অনন্যা এমন মেয়ে না।
সে disciplined।
সে responsible।
সে কোনোদিন কাউকে না বলে কোথাও যাবে না।
আমি ধীরে বললাম—
“কখন থেকে?”
“বিকেল থেকে… ৫টা ৩০ নাগাদ বেরিয়েছিল… বলেছিল একটু কাজ আছে…”
“তারপর?”
“তারপর আর ফেরেনি…”
ওপাশে কান্নার শব্দ।
আমার মাথায় তখন শুধু একটা কথাই ঘুরছিল—
কিছু একটা ভুল হয়েছে।
আমি পরের দিন সকাল ৭টার মধ্যেই অনন্যাদের বাড়ির সামনে পৌঁছে গেলাম।
একটা সাধারণ দুইতলা বাড়ি।
কিন্তু আজ সেই বাড়িটা যেন অচেনা লাগছিল।
দরজা খুললেন অনন্যার মা।
চোখ লাল, সারারাত কেঁদেছেন বোঝা যাচ্ছে।
আমি ভেতরে ঢুকলাম।
ঘরের ভেতরে একটা ভারী নীরবতা।
যেন সবাই কথা বলতে ভয় পাচ্ছে।
দেয়ালে অনন্যার ছবি।
হাসছে।
সেই পুরোনো, চেনা হাসি।
কিন্তু আজ সেই হাসিটা দেখে আমার বুকটা কেমন করে উঠল।
কারণ আমি জানি না—
সে এখন কোথায়।
সে বেঁচে আছে কিনা।
আমি নোটবুক বের করলাম।
“আন্টি, আপনি calm থাকুন… আমি সব detail লিখছি।”
উনি মাথা নেড়ে বললেন—
“ঠিক আছে…”
“শেষ কবে দেখেছেন?”
“বিকেল ৫টা ৩০… ও একটা নীল ব্যাগ নিয়ে বেরিয়েছিল…”
“কোথায় যাবে বলেছিল?”
“না… শুধু বলেছিল ‘একটু কাজ আছে’…”
“কেউ ফোন করেছিল আগে?”
উনি একটু ভেবে বললেন—
“হ্যাঁ… বিকেল ৫টার দিকে একটা ফোন আসে… তারপরই ও বেরোয়…”
আমার কান খাড়া হয়ে গেল।
“কোন নম্বর?”
“Unknown… ও save করেনি…”
“ওর ফোনটা কি এখন বন্ধ?”
“হ্যাঁ… প্রথমে ring হচ্ছিল… তারপর switch off…”
আমি বুঝলাম—
এটা simple missing না।
এখানে planning আছে।
আমি অনন্যার ঘরে ঢুকলাম।
সবকিছু গুছানো।
বিছানা ঠিকঠাক।
টেবিলে বই।
কিন্তু একটা জিনিস চোখে পড়ল—
একটা খোলা ডায়েরি।
আমি সেটা হাতে নিলাম।
পাতাগুলো উল্টাতে লাগলাম।
শেষ পাতায় এসে থেমে গেলাম।
সেখানে লেখা—
“আমি যদি হঠাৎ করে হারিয়ে যাই… কেউ বিশ্বাস করবে না সত্যিটা…”
আমার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
এর মানে—
সে কিছু জানত।
এবং সে ভয় পাচ্ছিল।
আমি চেষ্টা করছিলাম মনে করতে—
শেষবার অনন্যার সাথে আমার কথা কবে হয়েছিল?
প্রায় এক সপ্তাহ আগে।
সে তখন একটু অদ্ভুত লাগছিল।
কিছু বলতে চাইছিল, কিন্তু বলেনি।
আমি জোর করিনি।
আজ বুঝতে পারছি—
ওটা ভুল ছিল।
ঠিক তখনই—
আমার ফোনে একটা vibration।
Unknown number।
একটা মেসেজ।
আমি খুললাম।
একটা ছবি।
ছবিটা অন্ধকার।
কিন্তু ভালো করে দেখলে বোঝা যায়—
একটা সরু রাস্তা।
দুই পাশে গাছ।
দূরে একটা ছায়া দাঁড়িয়ে।
আমি zoom করলাম।
ছায়াটা…
মনে হচ্ছে একজন মেয়ে।
আমার বুক ধড়ফড় করতে লাগল।
ছবির নিচে লেখা—
“ওকে খুঁজতে গেলে তুমিও হারিয়ে যাবে…”
আমার হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।
এটা স্পষ্ট warning।
কেউ চায় না—
আমি এই কেসে ঢুকি।
মানে—
এটা বড় কিছু।
আমি অনন্যার মাকে কিছু বললাম না।
কারণ উনি আরও ভয় পেয়ে যাবেন।
আমি শুধু বললাম—
“আমি চেষ্টা করছি… আপনি চিন্তা করবেন না…”
কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি জানতাম—
এই কেস dangerous।
আমি বের হচ্ছিলাম।
ঠিক তখনই—
আমার চোখ পড়ল দরজার পাশে রাখা একটা জুতোর দিকে।
অনন্যার।
কিন্তু…
একটা জুতো নেই।
শুধু একটা পড়ে আছে।
আমি থেমে গেলাম।
এটা খুব ছোট detail।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ—
কেউ যদি স্বাভাবিকভাবে বেরোয়,
তাহলে দুইটা জুতোই পরে যায়।
আমি বাইরে বেরিয়ে এলাম।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালাম।
ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে ভাবছিলাম—
Unknown call
sudden বের হওয়া
diary warning
threatening message
missing shoe
সব মিলিয়ে একটা কথাই পরিষ্কার—
এটা accident না।
এটা planned।
আমি ফোনটা আবার হাতে নিলাম।
ছবিটার দিকে তাকালাম।
তারপর ধীরে বললাম—
“যে-ই হোক… আমি থামব না…”
কারণ—
এইবার এটা শুধু একটা investigation না…
এটা আমার নিজের যুদ্ধ।
🔥 To be continued…
গল্পগুলি কেমন লাগছে জানাও সবাই।
⚠️ যদি real-type mystery আর missing case পড়তে ভালোবাসো, তাহলে এই গল্পটা miss করো না…
“নিখোঁজ ১৭ নম্বর” শুধু একটা গল্প না—এটা একটা investigation, যেখানে প্রতিটা detail গুরুত্বপূর্ণ।
অনন্যার হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া, ডায়েরির warning আর সেই unknown message—সবকিছু মিলিয়ে রহস্যটা আরও গভীর হচ্ছে…
👉 সত্যিটা জানতে হলে পুরো সিরিজটা পড়তেই হবে।
📌 Next part খুব শীঘ্রই… চোখ রাখুন 🔥