Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

যেখানে শুধু তুমি - পর্ব 1

পর্ব ১: বৃষ্টির শহরে প্রথম দেখা

কলকাতা শহরকে অনেকেই ভালোবাসার শহর বলে। কেউ বলে বইয়ের শহর, কেউ বলে কফির শহর। কিন্তু আরোহী সেনের কাছে কলকাতা মানে ছিল—হাজারো মানুষের ভিড়ের মধ্যে একা হয়ে যাওয়ার শহর।
সেদিন সকাল থেকেই আকাশটা কেমন যেন ভারী ছিল। সূর্যের আলো যেন মেঘের চাদরের আড়ালে আটকে পড়েছিল। দুপুরের পর থেকেই শুরু হয় টিপটিপ বৃষ্টি। তারপর ধীরে ধীরে সেই বৃষ্টি পুরো কলেজ স্ট্রিটকে ভিজিয়ে দিল।
ভেজা বইয়ের গন্ধ...
চায়ের দোকানের ধোঁয়া...
ছাতা হাতে দ্রুত হাঁটা মানুষ...
সব মিলিয়ে শহরটা যেন একটা পুরোনো কবিতা।
আরোহী সেন ধীরে ধীরে হাঁটছিল।
বয়স চব্বিশ।
বাংলা সাহিত্য নিয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অবসর পেলেই কবিতা লেখে। ছোটবেলা থেকেই তার অভ্যাস—মনের কথা কাউকে না বলে ডায়েরিতে লিখে রাখা।
তার ব্যাগে সবসময় একটা নীল রঙের ডায়েরি থাকে।
ডায়েরির প্রথম পাতায় বড় বড় অক্ষরে লেখা—
"যে কথাগুলো কাউকে বলা যায় না, সেগুলোই কবিতা হয়ে যায়।"
আজও সে নতুন একটা বই কিনতে এসেছে।
হয়তো কোনো গল্প...
হয়তো কোনো কবিতার বই...
হয়তো এমন কিছু, যা পড়ে মনে হবে—"এই গল্পটা তো আমারই!"
হাঁটতে হাঁটতে সে থামল একটি পুরোনো বইয়ের দোকানের সামনে।
দোকানটার কাঠের সাইনবোর্ডে বৃষ্টির জল পড়ছে।
ভেতরে সারি সারি পুরোনো বই।
ঠিক তখনই তার চোখ আটকে গেল একটি বইয়ে।
"শেষ চিঠি"
মলাটটা খুব সাধারণ।
কিন্তু নামটার মধ্যে যেন একটা অদ্ভুত টান ছিল।
আরোহী হাত বাড়াল।
ঠিক সেই মুহূর্তে আরেকটি হাত একই বই ছুঁয়ে ফেলল।
দুজনেই একসঙ্গে হাত সরিয়ে নিল।
"সরি..."—একসঙ্গে বলে ফেলল দুজন।
তারপর দুজনেই হেসে উঠল।
আরোহী মাথা তুলে তাকাল।
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে প্রথম দেখেই তার মনে হলো—
এত সুন্দর চোখ কি সত্যিই হতে পারে?
ভেজা চুল...
সাদা শার্ট...
কালো জিন্স...
কাঁধে একটি ক্যামেরা...
চোখে একরাশ ক্লান্তি, কিন্তু ঠোঁটে মিষ্টি হাসি।
মেয়েটি বলল,
— "মনে হচ্ছে বইটার ভাগ্য ভালো। একসঙ্গে দুজন মানুষ ওকে খুঁজছে।"
আরোহী একটু লজ্জা পেয়ে বলল,
— "আপনি নিন।"
— "কেন?"
— "আমি অন্য বই নিয়ে নেব।"
মেয়েটি মাথা নাড়ল।
— "না। বইয়ের সঙ্গে অন্যায় করা ঠিক না। যে আগে দেখেছে, বইটা তার।"
দোকানদার তখন হেসে বললেন,
— "দিদি, আর একটা কপি আছে।"
দুজনেই আবার হেসে ফেলল।
বৃষ্টির শব্দটা যেন আরও জোরে শোনা যাচ্ছিল।
টিনের চালে পড়া প্রতিটি ফোঁটা যেন আলাদা একটা সুর তুলছিল।
মেয়েটি বইটা হাতে নিয়ে মলাটে হাত বুলিয়ে বলল,
— "আমি বিশ্বাস করি, কিছু বই মানুষকে খুঁজে নেয়।"
আরোহী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
— "বই মানুষকে খুঁজে নেয়?"
— "হ্যাঁ। যেমন কিছু মানুষও হঠাৎ করেই জীবনে এসে যায়।"
এই কথাটা শুনে আরোহী কিছু বলল না।
কিন্তু তার মনে হলো...
এই মেয়েটা সাধারণ নয়।
হয়তো একটু অদ্ভুত।
আবার হয়তো খুব গভীর।
দোকান থেকে বেরোতেই বৃষ্টি আরও বেড়ে গেল।
রাস্তার মানুষজন সবাই আশ্রয় খুঁজছে।
মেয়েটি ছাতাটা বন্ধ করে আকাশের দিকে তাকাল।
মুখে বৃষ্টির জল পড়ছে।
সে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইল।
আরোহী অবাক হয়ে বলল,
— "ভিজছেন কেন?"
চোখ না খুলেই উত্তর এলো—
— "সবাই বৃষ্টি থেকে পালায়। আমি বৃষ্টির কাছে ফিরে যাই।"
এই প্রথম আরোহীর মনে হলো...
এই মানুষটার ভেতরে নিশ্চয়ই অনেক গল্প লুকিয়ে আছে।
হঠাৎ মেয়েটি চোখ খুলে বলল,
— "কফি খাবেন?"
আরোহী ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— "আমরা তো একে অপরকে চিনি না।"
মেয়েটি হেসে হাত বাড়িয়ে দিল।
— "আমি মেঘলা।"
এক সেকেন্ড...
দুই সেকেন্ড...
তিন সেকেন্ড...
শেষ পর্যন্ত আরোহীও হাত বাড়াল।
— "আরোহী।"
দুজনের হাত এক হলো।
ঠান্ডা বৃষ্টির মাঝেও সেই স্পর্শে যেন অদ্ভুত এক উষ্ণতা ছিল।
মেঘলা মুচকি হেসে বলল,
— "এখন তো আর অচেনা নই।"
আরোহী নিজের অজান্তেই হেসে ফেলল।
তার মন বলছিল—
আজকের দিনটা হয়তো সাধারণ কোনো দিন নয়।
সে তখনও জানত না...
এই বৃষ্টিভেজা বিকেলটাই তার জীবনের গতিপথ বদলে দিতে চলেছে।

রাস্তার ঠিক উল্টোদিকে ছোট্ট একটা ক্যাফে।
কাঁচের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে। ভেতরে মৃদু সুরে বাজছে পুরোনো বাংলা গান।
কোণের টেবিলে মুখোমুখি বসেছে আরোহী আর মেঘলা।
দুজনের মাঝখানে ধোঁয়া ওঠা দু'কাপ কফি।
কিন্তু দুজনেই যেন কফির চেয়ে একে অপরকে বেশি লক্ষ্য করছে।
মেঘলা প্রথম নীরবতা ভাঙল।
— "তুমি খুব কম কথা বলো, তাই না?"
আরোহী মৃদু হেসে বলল,
— "সব কথা সবাইকে বলা যায় না।"
— "তাহলে কাকে বলো?"
— "ডায়েরিকে।"
মেঘলা অবাক হয়ে তাকাল।
— "তুমি ডায়েরি লেখো?"
আরোহী ব্যাগ থেকে নীল রঙের ছোট্ট ডায়েরিটা বের করল।
মলাটে শুধু একটি শব্দ—
"আমি"
মেঘলা অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,
— "এই নামটা সুন্দর।"
— "কেন?"
— "কারণ মানুষ সবাইকে চেনে, কিন্তু নিজেকে চেনে না।"
আবারও এমন একটা উত্তর!
আরোহীর মনে হচ্ছিল, এই মেয়েটা যেন প্রতিটি সাধারণ প্রশ্নের ভেতর থেকেও অদ্ভুত গভীর একটা উত্তর বের করে আনে।
ওয়েটার কফি রেখে চলে গেল।
মেঘলা কাপটা হাতে তুলে নিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,
— "জানো, আমি মানুষের ছবি তুলি।"
— "প্রফেশনাল?"
— "হ্যাঁ। বিয়ে, অনুষ্ঠান, ট্রাভেল... সব করি।"
আরোহী ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলল,
— "তোমার সবচেয়ে প্রিয় ছবি কোনটা?"
মেঘলা উত্তর দিল না।
কফিতে এক চুমুক দিয়ে অনেকক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর ব্যাগ থেকে ক্যামেরা বের করে স্ক্রিন অন করল।
একটার পর একটা ছবি...
হাসি...
শিশুর মুখ...
বৃষ্টিভেজা রাস্তা...
এক বৃদ্ধের চোখ...
সব ছবি যেন গল্প বলছে।
হঠাৎ একটি ছবির সামনে এসে মেঘলার আঙুল থেমে গেল।
ছবিটা সে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিল।
আরোহী শুধু এক ঝলক দেখেছিল।
একটি মেয়ে।
হাসছে।
কিন্তু মুখটা পুরো দেখা যায়নি।
আরোহী জিজ্ঞেস করল,
— "কে?"
মেঘলা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর জোর করে হাসল।
— "পুরোনো একটা ছবি।"
বিষয়টা পাল্টে দিতে সে বলল,
— "তুমি কী করো?"
— "লিখি।"
— "বই?"
— "এখনও না। কবিতা... ছোটগল্প... নিজের জন্য।"
— "কাউকে পড়তে দাও?"
— "না।"
— "কেন?"
আরোহী একটু হেসে বলল,
— "সব অনুভূতি প্রকাশ করলে তার দাম কমে যায়।"
মেঘলা তাকিয়ে রইল।
তার চোখে যেন হঠাৎ একটা আলোর রেখা ফুটে উঠল।
— "আমরা দুজন একটু একই রকম, তাই না?"
— "কীভাবে?"
— "আমি ছবিতে লুকিয়ে রাখি... তুমি লেখায়।"
দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ।
বাইরে বৃষ্টি আরও জোরে নামছে।
ঠিক তখনই ক্যাফের ভেতরের লাইট একবার দপ করে নিভে আবার জ্বলে উঠল।
কিছু মানুষ চমকে উঠল।
মেঘলা অদ্ভুতভাবে দরজার দিকে তাকাল।
তার চোখে এক মুহূর্তের জন্য ভয় ফুটে উঠল।
আরোহী সেটা লক্ষ্য করল।
— "কী হয়েছে?"
— "কিছু না।"
কিন্তু তার কণ্ঠে কাঁপুনি ছিল।
ফোনটা আবার কাঁপতে শুরু করল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল—
Unknown Number
মেঘলা ফোনটা সাইলেন্ট করে ব্যাগে ঢুকিয়ে দিল।
আরোহী বলল,
— "ধরবে না?"
— "কিছু ফোন না ধরাই ভালো।"
এই কথার মধ্যে এমন একটা ক্লান্তি ছিল, যা আরোহীর বুক ছুঁয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পরে তারা ক্যাফে থেকে বেরিয়ে এল।
বৃষ্টি একটু কমেছে।
রাস্তার বাতিগুলো জ্বলে উঠেছে।
চারদিকে ভেজা আলো।
মেঘলা হঠাৎ ক্যামেরা তুলে বলল,
— "একটু দাঁড়াও।"
ক্লিক।
আরোহী হেসে বলল,
— "অনুমতি না নিয়েই ছবি তুলে ফেললে?"
— "সব সুন্দর মুহূর্ত অনুমতি নিয়ে আসে না।"
আরোহী এবার সত্যিই হেসে ফেলল।
ঠিক তখনই...
একটি কালো SUV ধীরে ধীরে তাদের সামনে এসে থামল।
মেঘলার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
তার আঙুল কাঁপতে শুরু করল।
গাড়ির কাঁচ ধীরে ধীরে নিচে নামল।
ভেতরে বসে থাকা একজন মানুষ শুধু তাকিয়ে আছে।
তার চোখে অদ্ভুত ঠান্ডা দৃষ্টি।
মেঘলা খুব আস্তে বলল—
"অসম্ভব... ও এখানে কেন?"
আরোহী অবাক হয়ে তাকাল।
— "তুমি ওকে চেনো?"
মেঘলা কোনো উত্তর দিল না।
হঠাৎ সে আরোহীর হাত শক্ত করে ধরে বলল—
— "দৌড়াও!"
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই গাড়ির দরজা খুলে একজন ছাতা হাতে নেমে এল...
তার ঠোঁটে একটুকরো হাসি।
আর সে সরাসরি মেঘলার দিকে তাকিয়ে বলল—
"অনেকদিন পর দেখা হলো, মেঘলা..."
— 
লোকটার গলায় ছিল অদ্ভুত শান্তি। কিন্তু সেই শান্তির ভেতরে লুকিয়ে ছিল এমন এক শীতলতা, যা শুনে আরোহীর শরীর কেঁপে উঠল।
মেঘলার হাত শক্ত হয়ে গেল।
তার আঙুলের চাপ এতটাই বেড়ে গেল যে আরোহীর কবজিতে ব্যথা লাগল।
আরোহী ফিসফিস করে বলল,
— "কে উনি?"
মেঘলা কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে উত্তর দিল,
— "এখন প্রশ্ন কোরো না... শুধু আমার সঙ্গে চলো।"
লোকটা ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।
কালো শার্ট, ধূসর কোট, মুখে হালকা দাড়ি।
তার চোখদুটো একবারও আরোহীর দিকে গেল না।
শুধু মেঘলার দিকেই তাকিয়ে আছে।
যেন বহুদিনের হারানো কাউকে খুঁজে পেয়েছে।
মেঘলা এক পা পিছিয়ে গেল।
লোকটা হেসে বলল,
— "এত ভয় পাচ্ছ কেন? আমি কি তোমার কোনো ক্ষতি করেছি?"
মেঘলা এবার গলাটা শক্ত করল।
— "আমার জীবনে ফিরে আসার অধিকার তুমি অনেক আগেই হারিয়েছ।"
লোকটার হাসিটা মিলিয়ে গেল।
— "তুমি এখনও আগের মতোই জেদি।"
আরোহী কিছুই বুঝতে পারছে না।
সে শুধু দেখছে, মেঘলার চোখে এমন একটা ভয়, যা কয়েক মিনিট আগেও ছিল না।
লোকটা এবার প্রথমবারের মতো আরোহীর দিকে তাকাল।
একটু মুচকি হেসে বলল,
— "নতুন বন্ধু?"
মেঘলা উত্তর দিল,
— "ওর সঙ্গে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই।"
— "সত্যি?"
লোকটার ঠোঁটে আবার সেই রহস্যময় হাসি।
— "তাহলে ওকে সত্যিটা বলেছ?"
মেঘলা চুপ।
একটা দীর্ঘ নীরবতা।
বৃষ্টির শব্দ যেন আরও জোরে শোনা যাচ্ছে।
হঠাৎ লোকটার ফোন বেজে উঠল।
সে ফোনের দিকে তাকিয়ে বিরক্ত মুখে বলল,
— "ঠিক আছে... আজ থাক।"
তারপর মেঘলার দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বলল,
— "কিন্তু পালিয়ে কতদিন থাকবে?"
এই বলে সে আবার গাড়িতে উঠে চলে গেল।
গাড়ির লাল ব্রেকলাইট বৃষ্টির মধ্যে মিলিয়ে গেল।
রাস্তা আবার আগের মতোই ব্যস্ত হয়ে উঠল।
কিন্তু আরোহীর মনে হচ্ছিল—
এই কয়েক মিনিটেই যেন সবকিছু বদলে গেছে।
সে মেঘলার দিকে তাকাল।
মেঘলা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
চোখ দুটো লাল।
শ্বাস দ্রুত চলছে।
আরোহী ধীরে ধীরে বলল,
— "তুমি ঠিক আছো?"
মেঘলা জোর করে হাসল।
— "হ্যাঁ... আমি ঠিক আছি।"
কিন্তু সেই হাসিতে কোনো প্রাণ ছিল না।
আরোহী বুঝল—
এই মেয়েটা মিথ্যে বলছে।
সে আর জোর করল না।
শুধু বলল,
— "আমি কি তোমাকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেব?"
মেঘলা মাথা নাড়ল।
— "না... আমি চলে যাব।"
— "কিন্তু—"
— "আজ আর না।"
একটু থেমে সে ব্যাগ থেকে একটা ছোট্ট কাগজ বের করল।
তাতে একটা নম্বর লেখা।
কাগজটা আরোহীর হাতে দিয়ে বলল,
— "কখনও যদি মনে হয়... কথা বলতে ইচ্ছে করছে... ফোন কোরো।"
আরোহী কাগজটা শক্ত করে ধরে রাখল।
সে কিছু বলার আগেই মেঘলা একটা ট্যাক্সি থামিয়ে উঠে পড়ল।
ট্যাক্সিটা ধীরে ধীরে বৃষ্টির মধ্যে হারিয়ে গেল।
...
সেদিন রাতে আরোহী ঘুমোতে পারল না।
তার সামনে বারবার ভেসে উঠছিল—
ভেজা চুল...
ক্যামেরা...
অদ্ভুত হাসি...
আর সেই ভয়ের চোখ।
সে ডায়েরিটা খুলল।
কলম হাতে নিয়ে লিখল—
"আজ বৃষ্টির মধ্যে একজন মানুষের সঙ্গে দেখা হলো।
নাম—মেঘলা।
অদ্ভুত একটা মেয়ে।
মনে হচ্ছে ওর ভেতরে একটা ঝড় লুকিয়ে আছে।
জানি না, আমাদের আবার দেখা হবে কি না...
কিন্তু আজকের বিকেলটা আমার জীবনের কোনো সাধারণ বিকেল ছিল না।"
ডায়েরি বন্ধ করে সে টেবিলের ওপর রাখা কাগজটার দিকে তাকাল।
মেঘলার ফোন নম্বর।
অনেকক্ষণ দ্বিধা করার পর সে নম্বরটা নিজের ফোনে সেভ করল।
নাম লিখল— মেঘলা 
ঠিক তখনই...
তার ফোনে একটি অজানা নম্বর থেকে একটি মেসেজ এল।
"মেঘলার থেকে দূরে থাকুন। ওর কাছে গেলে আপনার জীবনও বদলে যাবে।"
মেসেজটা পড়ে আরোহীর হাত কেঁপে উঠল।
সে সঙ্গে সঙ্গে নম্বরে ফোন করল।
কিন্তু ওপাশ থেকে ভেসে এল—
"The number you are trying to call is switched off."
আরোহী জানালার বাইরে তাকাল।
বৃষ্টি তখনও পড়ছে।
কিন্তু তার মনে হলো...
কেউ যেন রাস্তার ওপার থেকে তার জানালার দিকে তাকিয়ে আছে।
সে দ্রুত পর্দা সরাল।
কেউ নেই।
নাকি ছিল?
তার বুকের ভেতর ধকধক শুরু হলো।
সে জানত না—
এটাই ছিল এমন এক গল্পের শুরু, যেখান থেকে ফিরে আসার কোনো পথ নেই।
— চলবে.......
পর্ব ২-এ: আরোহী কি মেঘলাকে ফোন করবে? সেই অচেনা লোকটি কে? আর কে পাঠাল সেই রহস্যময় মেসেজ? এখান থেকেই শুরু হবে গল্পের আসল রহস্য।