Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 15

ভুল পথে পেলাম তোমাকে – 
“ভালোবাসার পর — যুদ্ধ শুরু”

ভালোবাসা কখনো যুদ্ধ থামায় না।
ভালোবাসা শুধু বলে দেয়—
কিসের জন্য যুদ্ধ করতে হবে।
ভোরের আলো ঘরে ঢুকেছে।
কিন্তু সেই আলো উষ্ণ নয়—
বরং সতর্ক।
ইরা এখনো মায়ার বুকে মুখ গুঁজে আছে।
মায়ার হাত শক্ত করে ধরা—
যেন ছেড়ে দিলেই আবার অন্ধকার টেনে নেবে।
মায়া ফিসফিস করে বলল—
— “তুই জানিস…
আজকের পর আর কিছু আগের মতো থাকবে না?”
ইরা চোখ বন্ধ রেখেই বলল—
— “আমি জানি।
আর আমি ভয় পাচ্ছি না।”
মায়া হালকা হাসল।
কিন্তু সেই হাসির ভেতর ক্লান্তি।
— “আমি পাচ্ছি।”
ইরা মাথা তুলল।
— “তুমি তো ছায়া।
ভয় কিসের?”
মায়া চোখ নামিয়ে নিল।
— “ছায়ার ভয় সবচেয়ে গভীর হয়, ইরা।
কারণ আমরা জানি—
অন্ধকার কতটা নির্মম হতে পারে।”
◆ ১. ভাঙা সকাল — অশান্তির শুরু
হঠাৎ ঘরের বাতাস কেঁপে উঠল।
মোমবাতিগুলো একসাথে নিভে গেল।
মায়া এক মুহূর্তেই ইরাকে নিজের পিছনে রাখল।
— “শুরু হয়ে গেছে…”
দেয়ালের ছায়াগুলো
আর আগের মতো স্থির নয়।
তারা নড়ছে।
ফিসফিস করছে।
একসাথে অনেক কণ্ঠ—
— “আলো ফিরেছে…”
— “রক্তের চুক্তি ভেঙেছে…”
— “ও বেঁচে গেছে…”
ইরা শ্বাস নিল গভীর।
— “ওরা কারা?”
মায়া দাঁত চেপে বলল—
— “ছায়া পরিষদ।
পূর্ণ ছায়ার অনুসারীরা।”
একটা ছায়া সামনে এগিয়ে এলো।
মানুষের অবয়ব,
কিন্তু মুখ নেই।
— “ইরা,”
কণ্ঠটা ফাঁকা।
“তুমি নিয়ম ভেঙেছ।”
ইরা সামনে এগিয়ে এল।
— “আমি কাউকে আঘাত করিনি।”
ছায়া বলল—
— “তুমি বেঁচে থেকেছ।
এইটাই অপরাধ।”
মায়ার চোখ জ্বলে উঠল।
— “ও আমার মানুষ।”
ছায়ারা একসাথে হাসল।
— “আর সেই কারণেই
তোমাকেও শাস্তি পেতে হবে, অর্ধ-ছায়া।”
◆ ২. মায়ার অতীত — রক্তে লেখা সত্য
একটা ছায়া হাত তুলতেই
চারপাশ বদলে গেল।
ইরা নিজেকে দেখতে পেল
একটা পুরনো জায়গায়।
আগুন।
চিৎকার।
রক্ত।
একটা ছোট মেয়ে—
মায়া।
সে কাঁদছে।
একজন পুরুষ চেঁচাচ্ছে—
— “ও আলো ছুঁয়েছে!
ওকে বাঁচতে দিলে বিপদ হবে!”
একজন নারী—
ঠান্ডা কণ্ঠে—
— “ওকে ছায়ায় দাও।
নাহলে মেরে ফেলো।”
ইরার বুক মোচড় দিয়ে উঠল।
— “মায়া…”
মায়া দাঁড়িয়ে আছে।
চোখ বন্ধ।
— “এই দিনেই আমি মারা গিয়েছিলাম,”
সে বলল।
“আর এই দিনেই
ছায়া আমাকে বাঁচিয়েছিল।”
ইরা কাঁপা গলায়—
— “এটা বাঁচানো না…
এটা বন্দিত্ব।”
মায়া চোখ খুলল।
— “হ্যাঁ।
আর তুই সেই বন্দিত্ব ভেঙেছিস।”
ছায়া পরিষদের কণ্ঠ—
— “তাই তোমার শাস্তি দ্বিগুণ।”
◆ ৩. চুক্তির প্রস্তাব — ভয়ংকর সিদ্ধান্ত
একটা ছায়া এগিয়ে এলো।
অন্যদের থেকে আলাদা।
তার চোখ আছে।
— “আমরা একটা প্রস্তাব দিতে এসেছি।”
মায়া ঠান্ডা স্বরে—
— “আমরা কোনো চুক্তি করি না।”
ছায়া ইরার দিকে তাকাল।
— “তুমি করো।”
ইরার বুক কেঁপে উঠল।
— “কী প্রস্তাব?”
— “তুমি আমাদের সঙ্গে যাবে।
নিজেকে উৎসর্গ করবে।
তাহলে মায়া বেঁচে যাবে।”
মায়া চিৎকার করে উঠল—
— “না!”
ইরা এক পা এগিয়ে গেল।
— “আর যদি না যাই?”
— “তাহলে
ওকে সম্পূর্ণ ছায়ায় টেনে নেওয়া হবে।
মানুষ আর থাকবে না।”
নীরবতা।
ইরার মাথার ভেতর শব্দ।
মায়ার চোখে ভয়—
এই প্রথম।
— “ইরা, আমার দিকে তাকাস,”
মায়া কাঁপা কণ্ঠে বলল।
“আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারব।
কিন্তু তুই নিজেকে হারাস না।”
ইরা ধীরে মায়ার গাল ছুঁল।
— “তুমি আমাকে শিখিয়েছ—
ভালোবাসা মানে মুক্তি।”
সে ছায়ার দিকে ঘুরল।
— “আমি যাব।
কিন্তু এক শর্তে।”
ছায়া থমকাল।
— “বল।”
— “মায়ার ওপর
আর কোনো অধিকার থাকবে না।”
ছায়ারা ফিসফিস করল।
— “অসম্ভব।”
ইরার চোখ জ্বলে উঠল।
— “তাহলে যুদ্ধ।”
◆ ৪. যুদ্ধ — আলো বনাম নিয়ম
হঠাৎ ইরার শরীর থেকে
সাদা আলো বের হতে লাগল।
এই আলো আগের মতো কোমল না—
এটা দৃঢ়।
মায়া অবাক হয়ে তাকিয়ে।
— “ইরা…
তুই কী করছিস?”
ইরা শান্ত কণ্ঠে—
— “নিজেকে বেছে নিচ্ছি।”
ছায়ারা আক্রমণ করল।
একটার পর একটা ছায়া
আলোতে পুড়ে যাচ্ছে।
মায়াও নিজের শক্তি ছাড়ল।
কালো আর সাদা
একসাথে নাচছে।
একটা ছায়া ইরাকে ধরতে গেল—
মায়া সামনে ঝাঁপাল।
— “ওকে ছুঁবি না!”
তার শরীর ফেটে
ছায়া বেরোতে লাগল।
ইরা চিৎকার—
— “মায়া! থামো!”
— “না!”
মায়া গর্জে উঠল।
“এই যুদ্ধ আমি একা লড়িনি আর!”
ইরা তার হাত ধরল।
সাদা আলো আর কালো ছায়া
একসাথে বিস্ফোরিত হলো।
ছায়া পরিষদ পিছিয়ে গেল।
◆ ৫. পতন — কিন্তু শেষ না
শেষ ছায়াটা হাঁপাতে হাঁপাতে বলল—
— “এটা শেষ না…
পূর্ণ ছায়া ফিরবে।”
তারপর সব মিলিয়ে গেল।
ঘর আবার শান্ত।
ইরা পড়ে গেল।
মায়া দৌড়ে এসে ধরল।
— “ইরা! তাকাও আমার দিকে!”
ইরার চোখ আধখোলা।
— “আমি ঠিক আছি…”
মায়ার কণ্ঠ ভেঙে গেল।
— “আমি তোকে হারাতে পারব না।”
ইরা হালকা হাসল।
— “তাই তো বলেছি…
ভালোবাসা মানে মুক্তি।
বেঁচে থাকা।”
◆ ৬. প্রতিজ্ঞা
ইরা ধীরে উঠে বসে।
— “ওরা আবার আসবে।”
মায়া মাথা নাড়ল।
— “আমি জানি।”
ইরা মায়ার হাত ধরল।
— “তখন
আমরা পালাব না।”
মায়া চোখে চোখ রেখে বলল—
— “তখন
আমরা লড়ব।”
দু’জনের কপাল ছুঁয়ে গেল।
আলো আর ছায়া—
একসাথে।