“অজানা টান, অস্বস্তির শুরু”
সকালটা আজ একটু অদ্ভুত লাগছিল ঈশার কাছে।
কেন যেন মনে হচ্ছিল—আজ কিছু একটা আলাদা হবে।
কলেজে ঢুকতেই সে চোখ দিয়ে খুঁজতে লাগল…
মেঘলাকে।
কিন্তু আজ সে কোথাও নেই।
ক্লাস শুরু হয়ে গেল, তবুও না।
ঈশার মন আর পড়াশোনায় নেই।
বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছে…
“কোথায় গেল?”
হঠাৎ দ্বিতীয় পিরিয়ডের মাঝামাঝি—
দরজা খুলে মেঘলা ঢুকল।
কিন্তু একা না।
তার পাশে একটা ছেলে।
ছেলেটা হেসে হেসে কিছু বলছে, আর মেঘলাও হাসছে।
ঈশার বুকটা হঠাৎ কেমন চেপে গেল।
সে চোখ সরিয়ে নিল।
ক্লাস শেষে…
মেঘলা দৌড়ে এসে ঈশার পাশে বসে পড়ল।
— “Hey! sorry আজ late হয়ে গেল!”
ঈশা ঠান্ডা গলায় বলল—
— “হুম…”
মেঘলা একটু অবাক হলো।
— “কি হলো? এত চুপ কেন?”
— “কিছু না…”
— “সকাল থেকে তোমাকে খুঁজছিলাম,” মেঘলা বলল।
ঈশা একটু তাচ্ছিল্যের হাসি দিল—
— “তাই? আমি তো দেখলাম তুমি busy ছিলে…”
— “মানে?”
— “ও ছেলেটার সাথে…”
মেঘলা একটু থেমে গেল।
তারপর হেসে বলল—
— “ওহ! অয়ন… school friend। অনেকদিন পর দেখা হলো।”
ঈশা কিছু বলল না।
কিন্তু তার ভেতরে কেমন একটা জ্বালা করছে।
সে নিজেই বুঝতে পারছে না—
কেন এত খারাপ লাগছে।
সারাদিনটা অদ্ভুতভাবে কাটল।
মেঘলা আগের মতো কথা বলার চেষ্টা করছে,
কিন্তু ঈশা বারবার দূরে সরে যাচ্ছে।
ক্যান্টিনে…
— “ঈশা, তুমি আমার ওপর রাগ করেছ?”
মেঘলা এবার সিরিয়াস হয়ে জিজ্ঞেস করল।
— “না তো…”
— “তাহলে এমন behave করছো কেন?”
ঈশা চুপ।
তারপর হঠাৎ বলল—
— “তুমি যার সাথে খুশি থাকো… আমার কি?”
এই কথাটা বলেই সে নিজেই চমকে গেল।
এটা সে কেন বলল?
মেঘলা এবার আর হাসল না।
সে ধীরে বলল—
— “তুমি jealous হচ্ছো?”
ঈশা সাথে সাথে বলল—
— “না!”
— “তাহলে এমন লাগছে কেন?”
ঈশা চুপ করে গেল।
কারণ তার কাছে উত্তর নেই।
মেঘলা একটু কাছে এসে নরম গলায় বলল—
— “ঈশা… তুমি আমাকে special মনে করো?”
ঈশার গলা শুকিয়ে গেল।
— “হ্যাঁ…”
— “তাহলে আমি যদি অন্য কারও সাথে কথা বলি, তোমার খারাপ লাগবে না?”
ঈশা এবার চোখ তুলে তাকাল।
তার চোখে স্পষ্ট কষ্ট।
— “লাগে…”
এই প্রথম সে নিজের feelings admit করল।
দুজনেই চুপ।
ক্যান্টিনের শব্দ দূরে চলে গেল যেন।
শুধু দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দ।
মেঘলা ধীরে বলল—
— “আমারও লাগে…”
ঈশা অবাক হয়ে তাকাল—
— “মানে?”
— “মানে… তুমি যদি অন্য কারও সাথে বেশি কথা বলো… আমারও খারাপ লাগে…”
এই কথাটা শুনে ঈশার ভেতরে কিছু একটা কেঁপে উঠল।
— “কিন্তু… এটা কি normal?” ঈশা ফিসফিস করে বলল।
মেঘলা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
তারপর বলল—
— “জানি না… কিন্তু এটা real…”
সন্ধ্যার দিকে…
আজ দুজনেই একটু চুপচাপ হাঁটছে।
আগের মতো হাসি নেই,
কিন্তু একটা গভীর টান আছে।
হঠাৎ মেঘলা থেমে গেল।
— “ঈশা…”
— “হুম?”
— “তুমি কি ভয় পাচ্ছো?”
ঈশা ধীরে বলল—
— “হ্যাঁ…”
— “কিসের?”
ঈশা চোখ নামিয়ে বলল—
— “এই feeling-এর…”
মেঘলা একটু এগিয়ে এসে বলল—
— “আমিও পাচ্ছি…”
তারপর হালকা করে ঈশার হাত ছুঁয়ে দিল।
ঈশার পুরো শরীর কেঁপে উঠল।
এটা খুব ছোট্ট একটা touch…
কিন্তু তার ভেতরে ঝড় তুলে দিল।
দুজনেই হাত সরিয়ে নিল।
কিন্তু সেই মুহূর্তটা থেকে গেল।
সেদিন রাতে…
ঈশা নিজেকে আয়নায় দেখছিল।
— “আমি কি ভুল করছি?”
সে ভাবল।
— “না… আমি শুধু feel করছি…”
ওদিকে মেঘলা নিজের বিছানায় শুয়ে ceiling-এর দিকে তাকিয়ে আছে।
— “ঈশা… তুমি আমার জন্য কী?”
Friendship?
না এর থেকেও বেশি কিছু?
Part 4: “দূরত্বের শুরু”
পরের দিন সকাল।
কলেজের গেট দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে ঈশার মনে হচ্ছিল—
আজ যেন সবকিছু বদলে গেছে।
গতকালের সেই ছোট্ট স্পর্শ…
সেই কথাগুলো…
সবকিছু তার মাথার ভেতর ঘুরছে।
— “এভাবে চলতে পারে না…”
সে নিজেকে বলল।
ক্লাসে ঢুকে সে আগের মতো শেষ বেঞ্চে গিয়ে বসল।
কিছুক্ষণ পর মেঘলা এল।
সে সরাসরি এসে ঈশার পাশে বসতে গেল—
কিন্তু ঈশা একটু সরে গেল।
— “তুমি ওখানে বসো…” ঈশা ধীরে বলল।
মেঘলা থেমে গেল।
— “কেন?”
— “এভাবেই ভালো…”
এই ছোট্ট কথাটা যেন ছুরির মতো লাগল মেঘলার মনে।
সারাটা ক্লাস দুজনেই চুপ।
মাঝে মাঝে চোখে চোখ পড়ে—
তারপর সাথে সাথে সরিয়ে নেয়।
আগের সেই comfort নেই।
বিরতির সময়…
মেঘলা আর সহ্য করতে পারল না।
সে ঈশাকে করিডোরে ডেকে নিল।
— “কি হয়েছে তোমার?”
ঈশা চোখ নামিয়ে বলল—
— “কিছু না…”
— “তুমি আমাকে avoid করছো কেন?”
ঈশা একটু চুপ করে থেকে বলল—
— “আমাদের একটু distance রাখা উচিত…”
মেঘলার বুকটা কেঁপে উঠল।
— “কেন?”
ঈশা এবার সরাসরি তাকাল—
— “কারণ এটা ঠিক না…”
“ঠিক না…”
এই শব্দটা যেন বারবার কানে বাজতে লাগল।
মেঘলা ধীরে বলল—
— “কি ঠিক না? আমি তোমার সাথে থাকতে চাই… এটা ভুল?”
ঈশার গলা কাঁপছে—
— “আমরা দুজনেই মেয়ে…”
— “তাতে কি?” মেঘলার গলা একটু জোরালো হলো।
— “সবাই বুঝবে না…” ঈশা বলল।
— “সবাইকে কেন বুঝতে হবে?”
ঈশা চুপ করে গেল।
কারণ সে জানে—
মেঘলা ঠিক বলছে।
তবুও তার ভয় কাটছে না।
— “ঈশা, তুমি কি আমার থেকে দূরে যেতে চাও?”
মেঘলা এবার নরম গলায় জিজ্ঞেস করল।
ঈশা কিছু বলতে পারল না।
কারণ উত্তরটা “না”…
কিন্তু সে “হ্যাঁ” বলতেই চাইছে।
শেষে সে শুধু বলল—
— “আমি চাই না আমরা hurt হই…”
মেঘলার চোখে জল চলে এল।
— “তুমি already আমাকে hurt করছো…”
এই কথাটা শুনে ঈশার বুকটা ভেঙে গেল।
কিন্তু সে নিজেকে শক্ত করল।
— “এটাই better…”
বলেই সে চলে গেল।
মেঘলা দাঁড়িয়ে রইল।
একদম একা।
তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।
— “এটা কি সত্যিই better?” সে মনে মনে বলল।
এরপর কয়েকদিন…
দুজন একে অপরকে avoid করতে লাগল।
একই ক্লাস, একই জায়গা—
তবুও যেন দুজন আলাদা পৃথিবীতে।
ঈশা আগের মতো একা বসে থাকে।
কিন্তু এখন সেই একাকিত্বে শান্তি নেই।
শুধু একটা শূন্যতা।
ওদিকে মেঘলা…
সে আগের মতো হাসে, কথা বলে—
কিন্তু তার হাসিতে আর আগের মতো উজ্জ্বলতা নেই।
একদিন…
ক্যান্টিনে ঈশা একা বসে ছিল।
হঠাৎ সে দেখল—
মেঘলা অয়ন-এর সাথে বসে আছে।
হাসছে।
কথা বলছে।
ঈশার বুকটা আবার কেঁপে উঠল।
— “ও তো ভালোই আছে…”
সে নিজেকে বলল।
কিন্তু তার চোখে জল চলে এল।
ওদিকে মেঘলা…
সে হাসছে ঠিকই,
কিন্তু বারবার তার চোখ চলে যাচ্ছে ঈশার দিকে।
— “তুমি কি একবারও আমার কাছে আসবে না?”
সে মনে মনে বলল।
সন্ধ্যায়…
ঈশা বাড়ি ফিরে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।
আকাশে হালকা মেঘ।
— “আমি ঠিক করছি তো?” সে নিজেকে জিজ্ঞেস করল।
কিন্তু এবারও কোনো উত্তর পেল না।
ওদিকে মেঘলা ডায়েরি খুলে লিখল—
“তুমি আমাকে দূরে ঠেলে দিলে…
কিন্তু আমার মন এখনও তোমার কাছেই রয়ে গেছে…”
দূরত্ব কি সত্যিই সব ঠিক করে?
না কি আরও ভেঙে দেয়?
To be continued…