Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 6

Part 9: “একসাথে… তবুও দূরে”
কলেজের cultural fest নিয়ে চারদিকে উৎসাহ।
সবাই নিজের নিজের performance নিয়ে ব্যস্ত।
কিন্তু ঈশা আর মেঘলার কাছে—
এই duet যেন একটা পরীক্ষা।
প্রথম practice-এর দিন…
অডিটোরিয়ামে সবাই জড়ো হয়েছে।
ঈশা একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে,
আর মেঘলা অন্য পাশে।
দুজনেই একে অপরকে avoid করছে।
শিক্ষক বললেন—
— “তোমরা একটা emotional song choose করো… যেটা তোমাদের connect করবে।”
এই কথাটা শুনে দুজনেই একটু থেমে গেল।
“connect…”
এই শব্দটাই যেন আজ সবচেয়ে কঠিন।
শেষে মেঘলা একটা গান বেছে নিল।
একটা ধীর, কষ্টভরা প্রেমের গান…
যেখানে হারানো ভালোবাসার কথা আছে।
ঈশা কিছু বলল না।
সে জানে—
এই গানটা তাদের গল্পের মতো।
practice শুরু হলো।
দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে…
কিন্তু চোখে চোখ নেই।
মেঘলা গান শুরু করল—
তার গলায় কষ্ট স্পষ্ট।
প্রতিটা শব্দ যেন কারও জন্য বলা…
ঈশার গলা কেঁপে উঠল।
তার লাইন আসতেই—
সে গাইতে পারল না।
— “What happened?”
শিক্ষক জিজ্ঞেস করলেন।
ঈশা মাথা নিচু করে বলল—
— “Sorry… আবার করব…”
দ্বিতীয়বার…
সে চোখ বন্ধ করে গাইল।
কিন্তু এবার তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।
মেঘলা সেটা দেখল।
তার নিজের গলাও ভারী হয়ে গেল।
practice শেষ হওয়ার পর…
সবাই চলে গেল।
অডিটোরিয়ামে শুধু দুজন রয়ে গেল।
নীরবতা।
মেঘলা ধীরে বলল—
— “তুমি এখনও কাঁদো আমার জন্য?”
ঈশা চমকে তাকাল।
তার চোখ ভেজা।
— “আমি থামাতে পারি না…”
মেঘলার বুকটা কেঁপে উঠল।
— “তাহলে কেন দূরে সরে যাচ্ছো?”
ঈশা ধীরে বলল—
— “কারণ আমি ভয় পাই…”
মেঘলা একটু এগিয়ে এল—
— “আমি তো আছি…”
ঈশা মাথা নাড়ল—
— “তুমি আছো… কিন্তু দুনিয়া?”
এই কথাটা আবার তাদের মাঝে দেয়াল তৈরি করল।
মেঘলা এবার একটু রেগে গেল—
— “তুমি কি সবসময় দুনিয়ার জন্য বাঁচবে?”
ঈশা চুপ।
— “তাহলে আমার জায়গা কোথায়?”
মেঘলার গলায় কষ্ট।
ঈশা চোখ নামিয়ে বলল—
— “তুমি আমার সবকিছু…”
মেঘলা থেমে গেল।
— “তাহলে আমাকে হারাতে চাইছো কেন?”
ঈশা এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না।
— “কারণ আমি তোমাকে হারানোর ভয়েই দূরে যাচ্ছি!”
এই কথাটা শুনে মেঘলা স্তব্ধ।
— “তুমি বুঝতে পারছো না…
আমি যদি তোমাকে ধরে রাখি…
একদিন হয়তো সবাই আমাদের আলাদা করে দেবে…”
মেঘলা ধীরে বলল—
— “আর তুমি এখনই সেটা করে দিচ্ছো…”
এই কথাটা শুনে ঈশার চোখ আবার ভিজে গেল।
দুজনেই চুপ।
কিছুক্ষণ পর…
মেঘলা ধীরে বলল—
— “আমি আর fight করতে পারছি না…”
ঈশার বুকটা ভেঙে গেল—
— “মানে?”
— “মানে… যদি তুমি না চাও… আমি জোর করব না…”
এই কথাটা যেন ঈশার পায়ের তলা থেকে মাটি সরিয়ে দিল।
— “তুমি কি সত্যিই চলে যাবে?”
ঈশা কাঁপা গলায় বলল।
মেঘলা একটু হেসে বলল—
— “আমি কখনো পুরোপুরি যাব না…”
তারপর ধীরে ঘুরে চলে গেল।
ঈশা দাঁড়িয়ে রইল।
একদম একা।
তার মনে হলো—
সে নিজেই নিজের ভালোবাসাকে হারিয়ে ফেলছে।
সেদিন রাতে…
ঈশা ডায়েরিতে লিখল—
“আমি তাকে ছাড়তে চাই না…
তবুও তাকে ধরে রাখার সাহস নেই…”
ওদিকে…
মেঘলা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বলল—
— “তুমি যদি না আসো… আমি আর অপেক্ষা করব না…”
 কে আগে হার মানবে?
 ভালোবাসা… না ভয়?
 Part 10: “মঞ্চে সত্য, মনে ঝড়”
আজ কলেজের Cultural Fest।
চারদিকে আলো, সাজসজ্জা, মিউজিক—
সবাই খুব excited।
কিন্তু ঈশার কাছে আজকের দিনটা একটা পরীক্ষা।
আর মেঘলার কাছে—
একটা শেষ সুযোগ।
ব্যাকস্টেজে…
সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ঈশা এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে,
তার হাত ঠান্ডা হয়ে গেছে।
নার্ভাস।
হঠাৎ মেঘলা এসে পাশে দাঁড়াল।
কিছুক্ষণ কেউ কিছু বলল না।
শেষে মেঘলা ধীরে বলল—
— “আজ শেষবার একসাথে perform করছি…”
ঈশার বুকটা কেঁপে উঠল—
— “শেষবার কেন?”
মেঘলা তাকাল না—
— “কারণ তুমি তো চাও না আমরা একসাথে থাকি…”
এই কথাটা যেন ছুরি হয়ে ঢুকল ঈশার মনে।
— “আমি সেটা চাই না…”
— “তাহলে কি চাও?”
মেঘলা সরাসরি তাকাল।
ঈশা চুপ।
কারণ সে নিজেও জানে না।
ঠিক তখনই—
— “Next performance—ঈশা & মেঘলা!”
দুজনেই একে অপরের দিকে তাকাল।
এই মুহূর্তটা—
হয়তো সবকিছু বদলে দেবে।
মঞ্চে উঠল দুজন।
আলো তাদের ওপর পড়ছে।
চারপাশে অনেক মানুষ।
মিউজিক শুরু হলো…
মেঘলা প্রথম লাইন গাইল।
তার গলায় কষ্ট, অভিমান, ভালোবাসা—সব একসাথে।
প্রতিটা শব্দ যেন ঈশার জন্য।
ঈশার লাইন আসল।
সে মাইক ধরল…
কিন্তু গলা বের হলো না।
সে নিচে তাকাল।
তার চোখে জল।
দর্শকরা একটু ফিসফাস শুরু করল।
ঠিক তখন—
মেঘলা ধীরে তার হাত ধরল।
মঞ্চের মাঝখানে।
সবার সামনে।
ঈশা চমকে তাকাল।
মেঘলা ফিসফিস করে বলল—
— “ভয় পেও না… আমি আছি…”
এই কথাটা শুনে ঈশার ভেতরের সব ভয়, কষ্ট—
এক মুহূর্তে ভেঙে গেল।
সে চোখ বন্ধ করল।
আর গাইতে শুরু করল।
তার গলায় আজ শুধু গান না—
তার মনের সব কথা।
দুজন একসাথে গাইছে…
চোখে চোখ রেখে…
সবকিছু ভুলে গিয়ে…
মঞ্চে আজ শুধু একটা জিনিস দেখা যাচ্ছে—
তাদের connection।
গান শেষ হলো।
পুরো হল চুপ।
তারপর হঠাৎ—
তালি।
জোরে জোরে।
কিন্তু ঈশা আর মেঘলার কাছে—
এই তালি কোনো matter করে না।
কারণ তারা এখন একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে।
গান শেষ হওয়ার পর…
ঈশা মাইক নামিয়ে ধীরে বলল—
— “আমি আর পালাতে চাই না…”
মেঘলার চোখ ভিজে গেল—
— “তাহলে?”
ঈশা কাঁপা গলায় বলল—
— “আমি তোমাকে ভালোবাসি…”
এই প্রথম—
সবার সামনে।
চারপাশে হালকা গুঞ্জন শুরু হলো।
কেউ অবাক, কেউ ফিসফিস করছে।
কিন্তু মেঘলা শুধু হাসল।
তার চোখে জল।
— “আমি অনেক আগে থেকেই…”
দুজনের হাত এখনও ধরা।
এই মুহূর্তটা—
সাহসের।
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ না।
কারণ…
মঞ্চের নিচে কিছু মুখ—
খুশি না।
 তারা কি এই ভালোবাসাকে মেনে নেবে?
 না কি এখন শুরু হবে আসল লড়াই?
 To be continued…