Read Forever you and me by Sudip Maity in Bengali Love Stories | মাতরুবার্তি

Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

চিরদিন তুমি আমি

কলকাতার আকাশে সেদিন হালকা মেঘ ছিল। গঙ্গার ধারে বসে আছি আমি—অরিজিৎ—চুপ করে জলের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। হাওয়াটা ঠান্ডা, কিন্তু আমার ভেতরে এক অদ্ভুত অশান্তি ছিল । কারণ আজ আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি—আজ আমি মেঘলাকে সব বলব । এতদিন ধরে যে অনুভূতিটা বুকের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছি, আজ আর সেটা চেপে রাখতে পারব না।

মেঘলা… নামটার মধ্যেই যেন একটা নরম আবেশ আছে। ওকে প্রথম দেখার দিনটা আজও মনে আছে। কলেজের প্রথম দিন, আমি লেট করে ঢুকেছিলাম, আর সবাই আমাকে দেখে হাসছিল। কিন্তু সেই হাসির মধ্যে একটা আলাদা হাসি ছিল—মেঘলার। শান্ত, কোমল, আর একদম আলাদা।

সেদিন থেকেই ও আমার নজরে পড়ে। তারপর ধীরে ধীরে কথা বলা, বন্ধুত্ব… আর আমি বুঝতেই পারিনি, কখন ও আমার জীবনের একটা অংশ হয়ে গেছে। কিন্তু মেঘলা কখনো পুরোটা খুলে বলত না। নিজের কথা এড়িয়ে যেত। আমি মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করতাম—“তুই এত চুপচাপ কেন?”

ও হেসে বলত—“সব কথা কি বলা যায়?” আমি তখন বুঝতাম না। কিন্তু সবকিছু বদলে গেল সেই দিনটা থেকে।

সেদিন বিকেলে ও আমাকে ডেকেছিল গঙ্গার ধারে। আমি গিয়ে দেখি, ও চুপ করে বসে আছে। চোখে জল। “কি হয়েছে?”—আমি জিজ্ঞেস করলাম। ও অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল—“অরিজিৎ… তুই কি আমাকে ভালোবাসিস?”

আমি এক সেকেন্ডও দেরি করিনি—“হ্যাঁ… খুব…”
ও চোখ নামিয়ে বলল—“আমি তোকে কষ্ট দিতে চাই না…” আমার বুক কেঁপে উঠল—“মানে?” ও ধীরে বলল—“আমার একটা অসুখ হয়েছে… ডাক্তার বলেছে… খুব risky…”

আমার মাথা ঘুরে গেল—“কি অসুখ?”
ও বলল—“rare condition… কিন্তু… একটা treatment আছে… খুব costly… আর success chance কম…”
আমি এক মুহূর্তও ভাবিনি—“আমরা করাবো তোর treatment।”

ও অবাক হয়ে আমার দিকে তাকাল—“আমরা?”
আমি বললাম—“হ্যাঁ, আমরা। তুই একা না।”
ওর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল—“তুই কেন এত কিছু করছিস?” আমি হাসলাম—“কারণ আমি তোকে ভালোবাসি।”

সেদিন থেকেই শুরু হল আমাদের লড়াই।
ডাক্তার, হাসপাতাল, টেস্ট—একটার পর একটা।
আমি নিজের savings, loan, বন্ধুর সাহায্য—সবকিছু একসাথে করলাম। মেঘলা বারবার বলত—“থাক, এত কষ্ট করিস না…”
আমি বলতাম—“তুই থাকলে তবেই তো সবকিছু, worth it।”

কিছুদিন পর treatment শুরু হল। সেই সময়টা খুব কঠিন ছিল। মেঘলার চুল পড়ে যাচ্ছিল, শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু ও কখনো হার মানেনি। একদিন হাসপাতালে বসে ও বলল—“আমি যদি বেঁচে যাই… তুই কি আমায় বিয়ে করবি?”

আমি হেসে বললাম—“এই প্রশ্নটা তো আমার করার কথা ছিল!” ও হেসে ফেলল—অনেকদিন পর ওকে এতটা হাসতে দেখলাম। আমি ওর হাত ধরে বললাম—“হ্যাঁ, করব… হাজার বার করব…”
দিন কেটে যেতে লাগল। একদিন ডাক্তার আমাদের ডাকলেন। আমার বুক ধড়ফড় করছিল।

ডাক্তার হেসে বললেন—“Treatment কাজ করছে… condition stable… chances খুব ভালো।” আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।মেঘলা কাঁদতে শুরু করল। আমি ওকে জড়িয়ে ধরলাম। সেই দিনটা ছিল আমাদের জীবনের turning point।

ধীরে ধীরে মেঘলা সুস্থ হয়ে উঠতে লাগল। চুল আবার বড় হল, মুখে সেই আগের হাসি ফিরে এল। আর একদিন…
আমি আবার ওকে নিয়ে গেলাম সেই গঙ্গার ধারে। যেখানে সবকিছু শুরু হয়েছিল। আমি পকেট থেকে একটা ছোট্ট রিং বের করলাম।

“মেঘলা… তুই কি আমায় বিয়ে করবি?”
ও চুপ করে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে হাসল—“এই প্রশ্নটার জন্য আমি অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম…” আমি ওর আঙুলে রিংটা পরিয়ে দিলাম।

চারদিকে হাওয়া বইছিল, সূর্য ডুবছিল, আর সেই মুহূর্তটা যেন থেমে গিয়েছিল। কিছু মাস পর…
আমাদের বিয়ে হল। ছোট করে, কাছের মানুষদের নিয়ে। মেঘলা লাল শাড়িতে… আমি শুধু তাকিয়ে ছিলাম।

ও বলল—“কি দেখছিস?”
আমি বললাম—“আমার পুরো জীবনটা…”
ও হেসে ফেলল।

বিয়ের পর আমাদের জীবনটা খুব সাধারণ, কিন্তু খুব সুন্দর হয়ে উঠল। সকালে একসাথে চা খাওয়া, অফিসে যাওয়া, রাতে গল্প করা—ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই বড় হয়ে উঠল। একদিন রাতে বৃষ্টি পড়ছিল। আমরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।
মেঘলা বলল—“মনে আছে? ওইদিনও এমন বৃষ্টি হচ্ছিল…”

আমি বললাম—“হ্যাঁ… আর আমি ভাবছিলাম সব শেষ হয়ে যাবে…”
ও আমার কাঁধে মাথা রেখে বলল—“কিন্তু সব শেষ হয়নি… কারণ আমরা হাল ছাড়িনি…”
আমি ওকে জড়িয়ে ধরলাম। আজ এত বছর পর…

আমরা এখনও একসাথে। হয়তো জীবনে অনেক ঝড় আসবে। কিন্তু আমরা জানি—যতদিন আমরা একসাথে আছি, ততদিন কোনো কিছুই অসম্ভব না। কারণ ভালোবাসা শুধু একটা অনুভূতি না…

এটা একটা শক্তি। যা মানুষকে মৃত্যুর মুখ থেকেও ফিরিয়ে আনতে পারে। আর আমি, অরিজিৎ, আজ নিশ্চিন্তে বলতে পারি—

আমি আমার ভালোবাসাকে হারাইনি। আমি তাকে জিতেছি। চিরদিনের জন্য। চিরদিন তুমি আর আমি। ❤️




গল্পটা একদম হৃদয় ছুঁয়ে গেল ❤️✨
ভালোবাসা, লড়াই আর শেষ পর্যন্ত একসাথে থাকার এই journey টা সত্যিই অসাধারণ 👏
Happy ending টা মনটা ভরে দিল 🥹
এমনই সুন্দর ভালোবাসার গল্প আরও পড়তে চাই ❤️
ভালো লাগলে অবশ্যই comment করুন আর আমাকে follow করতে ভুলবেন না 📖✨