Read Rongghor - 1 by Neelpori in Bengali Love Stories | মাতরুবার্তি

Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

রংঘর - 1

আকাশ তখন মেঘলা, শহরের বুকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস।ঘন কালো মেঘে ছেয়ে আছে চারপাশ, আর থেকে থেকেই শোনা যাচ্ছে গম্ভীর মেঘের গর্জন। অভি তার বিলাসবহুল স্পোর্টস কারের ড্রাইভিং সিটে বসে আছে। গাড়ির ভেতরে দামি পারফিউমের গন্ধ, আর বাইরে বাতাসের শোঁ-শোঁ শব্দ। অভি এখন তার কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে, যে কলেজটি এখন তার বাবার সাম্রাজ্যের অংশ। তার পড়াশোনা বহু বছর আগেই শেষ হয়েছে, কিন্তু এই জায়গাটা তার কাছে আজও এক অদ্ভুত আকর্ষণ। তার চোখ কলেজের দিকে স্থির, কিন্তু মনটা ভরে না। তার চোখে মুখে গভীর শূন্যতা

—ঠিক যেন ওই মেঘলা আকাশের মতোই ভারাক্রান্ত।
হঠাৎ তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনে বাবা দেখে সে ফোনটা রিসিভ করল না , দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিস্তব্ধে ফোনটা কেটে দিল। ফোনটা কাটতেই তার বাবা তাকে মেসেজ করে তাকে  বাড়ি আসতে বললেন। অভি শুধু বলল, "ঠিক আছে।" ফোনটা রাখতেই সে গাড়ি ঘুরিয়ে মেইন রোডে উঠল।
হঠাৎ একটি মেয়ে তার গাড়ির সামনে এসে পড়ল। অভি ব্রেক কষলেও মেয়ে টি তার গাড়িতে  ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায়। 
অভি প্রচণ্ড রেগে যায়। সে দ্রুত গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে আসে। অভির উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি, শারীরিক গঠন অসাধারণ। কোঁকড়ানো ঘন চুলগুলো কপালের ওপর এসে পড়েছে। জন্মগত লালচে চোখ দুটোয় রাগের চেয়ে শূন্যতাই বেশি ফুটে ওঠে। সে রাগী স্বরে চিৎকার করে, "চোখ কি সামনে রেখে চলতে পারো না?"

কিন্তু মেয়েটিকে দেখে অভির রাগ নিমিষেই উড়ে যায়। তার কোমর পর্যন্ত নেমে আসা কালো রঙের চুলগুলো এলোমেলো হয়ে মুখের ওপর পড়ছে । তার শারীরিক গঠন খুবই পাতলা, যেন একটি হালকা হাওয়াতেও সে উড়ে যেতে পারে। সে যখন মাথা তুলে তার Gray রঙের চোখে সে যখন তুলে অভির দিকে তাকালো,অভি এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়। তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে তিন বছরের অপেক্ষার অবসান। কারণ  এই চেহারা, এই চোখ, এই মুখটা—তার তিন বছরের খোঁজা এক মুখ—ঈশা। 
[এখানে ফ্ল্যাশব্যাক ]
ফ্ল্যাশব্যাক : অভির কানে যেন সেই পুরনো দিনের ক্যাফেটেরিয়ার কোলাহল ভেসে এল। ঈশা তার গাল টিপে হেসে বলেছিল, "তোমার ওই লালচে চোখ দুটো, মিস্টার রায়, আমি কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও ভুলব না!" ঈশার কথা বলার ভঙ্গি, তার চোখের দুষ্টুমি—সবকিছু অভির স্মৃতিতে তীব্র আঘাত হানল। তাদের প্রথম দেখা, বৃষ্টি ভেজা দিনে একসাথে হেঁটে ফেরা—
[ফ্ল্যাশব্যাক শেষ]

অভি দ্রুত হাঁটু গেড়ে বসে মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে। তার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ে।
ঈশা! আমি তোমাকে প্রায় তিন বছর ধরে খুঁজছি! তোমাকে আমি পাইনি! কেন চলে গিয়েছিলে? তুমি কোথায় ছিলে?" অভির গলা আবেগে কাঁপছিল।
অভি যখন আবেগে আপ্লুত হয়ে এই কথাগুলো বলছিল, ঈশা তখন মাথা তুলে তার দিকে তাকায়। তার চোখে শুধুমাত্র এক ধরনের তীব্র ভয় এবং গভীর বিভ্রান্তি। সে অভিকে ধাক্কা দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় এবং তার গালে সপাটে এক থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। সে হতভাগ হয়ে অভিকে দেখছিল।
"তুমি... তুমি কে? তুমি আমাকে কেন জড়িয়ে ধরছো?" ঈশার কণ্ঠস্বর ভয়ে কাঁপছিল। "আমি... আমি তোমাকে চিনি না।ঈশার কথায় অভি হতভম্ব হয়ে যায়। দীর্ঘ তিন বছরের অপেক্ষা চুরমার হয়ে যায়।
ঠিক সেই মুহূর্তেই একটি ল্যাম্বরগিনি তাদের পাশে এসে দাঁড়াল। গাড়ি থেকে নামল ঈশার দাদা রনিত, যার উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি। তার সুঠাম দেহ এবং দৃঢ় চলন দেখে তার আত্মবিশ্বাসের পরিচয় পাওয়া যায়। ঘন কালো চুলগুলো এলোমেলোভাবে ছড়ানো, যা তার ব্যক্তিত্বের এক গভীরতা প্রকাশ করে। তার নীল চোখ দুটি ছিল তীক্ষ্ণ। সে অভিকে এক ঝলক দেখল, যেন এক পলকেই সবকিছু বুঝে নিয়েছে। কোনো কথা না বলে সে ঈশাকে টেনে গাড়িতে তুলল এবং দ্রুত সেখান থেকে চলে গেল। 

তারা তিন বছর পর তাদের বাবা-মায়ের বার্ষিকীর জন্য লন্ডন থেকে কলকাতায় ফিরেছে।

ঈশাকে নিয়ে রণিত চলে যাওয়ার পর অভি একা রাস্তায় হাঁটু গেড়ে বসে রইল। তার হাত থেকে জল গড়িয়ে পড়ছিল, কিন্তু তা বৃষ্টির জল না, চোখের জল। তার তিন বছরের খোঁজা মুখটা ফিরে এসেছে, কিন্তু সে তাকে চিনতে পারল না কেন । ঈশার থাপ্পড়টা তার গালে নয়, বরং তার হৃদয়ে আঘাত করেছে। যে মেয়েটি সে এতদিন খুজলো শেষমেশ তাকে সে চিনতে পারল না 
আকাশের মেঘ যেন অভির মনের প্রতিচ্ছবি। মুষলধারে বৃষ্টি নামল, আর তার সাথে অভির ভেতরের কষ্টও যেন এক বাঁধ ভাঙা নদীর মতো বেরিয়ে এল। সে হাঁটু গেড়ে রাস্তার ওপর বসে চিত্কার করে কান্না করছে। তার মাথায় শুধু একটা কথা ঘুরছিল—"ঈশা কেন আমাকে চিনল না?"
অনেকক্ষণ পর অভি কোনোমতে নিজেকে সামলে নিল। তার লালচে চোখে এখন রাগের আগুন জ্বলছে। এতক্ষণের কান্না আর তীব্র যন্ত্রণা সবটাই যেন রাগে পরিণত হয়েছে। এই সব কিছুর পেছনে শুধু একজনই দায়ী—তার বাবা রাঘব রায়। অভি গাড়িতে উঠল, আর গাড়ি ঘুরিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিল। 

গাড়িতে বসে অভি মনে মনে ভাবল,"তিন বছর আগে যখন রণিত যখন ঈশাকে নিয়ে উধাও হয়েছিল, তখন তার বাবা তাকে বলেছিল: "ঈশা নেই। সে মারা গেছে। অ্যাক্সিডেন্টের পরে সে বাঁচেনি, অভি।" 
বৃষ্টিভেজা শরীরে অভি যখন বাড়িতে পৌঁছালো, তখন সে সোজা তার বাবার স্টাডি রুমের দিকে গেল। রাঘব সেখানে বসে ফাইল দেখছিলেন। অভি দরজাটা সপাটে লাথি মেরে ভেতরে ঢুকতেই রাঘব রায় চমকে উঠলেন।
অভি রাগে কাঁপতে কাঁপতে তার দিকে এগিয়ে গেল। 

"কোথায় সে? কেন আমাকে বলেছিলে সে মারা গেছে? তুমি মিথ্যাবাদী!"আমি জানতাম তুমি মিথ্যা বলছো, বাবা। আর আজ আমি আমার ঈশাকে নিজের চোখে দেখেছি," দাঁতে দাঁত চেপে বলল অভি । 
রাঘব রায় শান্ত থাকার চেষ্টা করলেন, "অভি, তুমি এসব কী বলছো? ভিজে একেবারে অস্থির হয়ে আছো। যাও, জামা পাল্টাও।"
"আর মিথ্যে বলো না, বাবা!" অভি চিৎকার করে উঠল। "আমি তাকে দেখেছি! ঈশাকে আমি আজ দেখেছি! তাহলে তুমি আমাকে কেন বলেছিলে যে সে অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে? কেন!
"রাঘব রায় এক দির্ঘ শ্বাস ফেলে । "হ্যাঁ, আমি বলেছিলাম। কারণ সে তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। আর সে সত্যি মারা গিয়েছিল! ডাক্তাররা তার বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিল।" তুই নিজে শুনেছিলিস !

"না, সে মরেনি!" অভির চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। "আমি তোমাকে বিশ্বাস করিনি, যখন তুমি তার দেহ দেখাতে অস্বীকার করেছিলে! আমি জানতাম তুমি মিথ্যা বলছো! তুমি ভেবেছিলে ঈশা তোমার কাছ থেকে পালিয়ে গেলেও আমি তাকে ভুলে যাব?" চিৎকার করে উঠল অভি।
হঠাৎ পিছন থেকে একটি কোমল কণ্ঠস্বর ভেসে এলো। "অভি! কী হচ্ছে এসব?"
দরজায় দাঁড়িয়েছিলেন অভির দাদা আদি, তার পাশে অভির বৌদি মিহি, যার মুখে উদ্বেগের ছাপ।রাঘব রায় এবং অভির তীব্র চিৎকার-চেঁচামেচি শুনেই তারা স্টাডি রুমে এসেছিলেন আদি অভির ভালোবাসার ব্যাপারে জানতেন এবং ঈশাকে তার ভাইয়ের জন্য উপযুক্ত মনে করতেন। তবে মিহির সাথে আদি'র বিয়ের মাত্র এক বছর হয়েছে। এই এক বছরে মিহি অভির মধ্যে কেবল একজন শান্ত, গম্ভীর এবং প্রচণ্ড রাগী মানুষকে দেখেছে। সে অভিকে কখনো মন খুলে হাসতে দেখেনি বা কারও সাথে বেশি কথা বলতেও শোনেনি। তাই তার কাছে অভির এই উন্মত্ততা একেবারেই অচেনা ছিল। এই পারিবারিক ইতিহাস বা অভির ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে সে কিছুই জানতেন না। মিহি তিন মাসের গর্ভবতী ।
"দাদা, তুমি এখন যাও। এটা আমাদের ব্যাপার," অভি কঠোর গলায় বলল।
আদি সঙ্গে সঙ্গে মিহির দিকে তাকালেন, যার মুখে ভয় স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। তিনি জানতেন, এই সময়ে মিহির জন্য অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা ভয় পাওয়া একদমই ভালো না। আদি দ্রুত মিহিকে শান্ত থাকতে ইশারা করলেন এবং অভির দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন।
আদি অভির কাঁধ ধরলেন এবং ফিসফিস করে বললেন, "অভি, প্লিজ! তুমি জানো মিহি প্রেগন্যান্ট। ওর জন্য এটা ভালো হচ্ছে না। তুমি এখন যাও এখান থেকে, পরে বাবার সাথে কথা বলো।"
কিন্তু অভি আদি’র হাত সরিয়ে রাঘব রায়ের দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখে কেবল ঘৃণা। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, "ঠিক আছে। আমি এখন যাচ্ছি। কিন্তু এটা মনে রেখো, বাবা, খুব তাড়াতাড়ি আমি তোমাকে এই সব মিথ্যার দাম মেটাবো।"
তারপর আর এক মুহূর্তও না থেকে, অভি দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
বৃষ্টিভেজা শরীরে অভি যখন স্টাডি রুম থেকে বেরিয়ে আসছিল, সিঁড়ির মুখে তার মেজদাদা আকাশ-এর সঙ্গে দেখা হলো।
আকাশ শুধু অভির মেজো দাদাই নয়, সে ছিল অভির বেস্ট ফ্রেন্ডও। আদি যেমন তাদের বাবার 'রায় ইন্ডাস্ট্রিজ' (Ray Industries)-এর বিশাল সাম্রাজ্য সামলান—যা কলকাতার একমাত্র সবথেকে ধনী ও প্রভাবশালী পরিবার হিসেবে পরিচিত—আকাশ সেই ক্ষমতার পথ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে এনেছে। সে পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত না হয়ে বরং নিজের একটি সফল গেমিং প্ল্যাটফর্ম ও সফটওয়্যার স্টুডিও তৈরি করেছে। সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছিল এবং রায় সাম্রাজ্যের বিপুল সম্পত্তির প্রতি তার কোনো আকর্ষণ ছিল না। আদি যেহেতু কোম্পানির সব সামলে নেয়, তাই আকাশের কর্পোরেট জগতে মাথা গলানোর প্রয়োজন পড়েনি। আর ঈশার চলে যাওয়ার পর থেকে অভি তো নিজেকে গুটিয়েই নিয়েছে, তাই সেও বাবার সাম্রাজ্য থেকে দূরে।

আকাশ দ্রুত অভির দিকে এগিয়ে এল। অভির ভেজা চুল, লালচে চোখ এবং সদ্য ঘটে যাওয়া ঝড়ের ছাপ তার মুখে স্পষ্ট দেখতে পেয়ে আকাশ বুঝতে পারল কিছু একটা মারাত্মক ঘটেছে।
"অভি! কী হয়েছে তোর?" আকাশের কণ্ঠস্বরে গভীর উদ্বেগ। "তোর সারা শরীর ভিজে গেছে, আর তোর চোখ দুটো... তুই কাঁদছিলি? বাবার সাথে কী কথা হচ্ছিল?"
অভি কথা বলল না, শুধু আকাশের দিকে এক ঝলক তাকাল। তার লালচে চোখ দু'টোয় এখন গভীর প্রতিশোধের আগুন জ্বলছিল।
আকাশ অভির হাত ধরে বলল, "প্লিজ অভি! আমাকে বল। বাবার কোনো কথা মনে নিস না। তুই জানিস, তোর কষ্ট হলে আমারও কষ্ট হয়।"
অভি কাঁপা স্বরে শুধু একটা শব্দ উচ্চারণ করল: "ঈশা।"
আকাশের চোখ দুটো বড় হয়ে গেল। সে বিশ্বাস করতে পারল না। "ঈশা? তুই... তুই ঈশাকে দেখেছিস? কোথায়?"
"কলেজের সামনে," অভি দাঁতে দাঁত চেপে বলল। "বাবা আমাকে মিথ্যা বলেছিল, আকাশ। সে মরেনি। সে বেঁচে আছে। আর রণিত তাকে নিয়ে ফিরে এসেছে। বাবা আমাকে মিথ্যে বলেছিল, আর আজ... আজ সে আমাকে চিনতে পারল না।"
আকাশের মুখটা কঠিন হয়ে গেল। সে জানে, এই খবর অভির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে সঙ্গে সঙ্গে তার হাতে রাখা ফাইলটা পাশে রাখল এবং অভিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
"ঠিক আছে, শান্ত হ। আমি আছি তোর সাথে," আকাশ ফিসফিস করে বলল। "কিন্তু এখন প্লিজ, তুই জামা পাল্টে নে। তোর জ্বর আসতে পারে। আর... তুই এখন যা করবি, তাতে আমি তোর পাশে আছি। শুধু সাবধানে থাকবি। এবার তুই তোর ঘরে যা, আমি একটু পর আসছি।"
অভি চুপচাপ মাথা নাড়ল। এই বিশাল প্রাসাদের মধ্যে, আকাশের সমর্থনই যেন তার একমাত্র শক্তি। সে আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না, দ্রুত নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াল।
আকাশ দেখল অভি চলে যাচ্ছে। তারপর সে স্টাডি রুমের দিকে এক তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল, যেখানে তাদের বাবা রাঘব রায় বসে আছেন। আকাশ দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে জানে, ইশার এই ফেরা শুধু ফেরা নয়, এটা হলো পুরোনো সব চাপা ক্ষোভ ও প্রতিশোধের ফেরা। আর এই খেলায় সে অভির সঙ্গেই আছে।

বৃষ্টিভেজা শরীরে অভি যখন নিজের ঘরে ঢুকল, তখন তার মুখে এক নতুন দৃঢ়তা দেখা গেল। অভি তার ল্যাপটপ খুলল। সবার অজান্তে, অভি নিজের একটি গোপন পরিচয় তৈরি করেছে। শহরের আড়ালে তার একটা নিজস্ব জগৎ আছে, যেখানে তার ক্ষমতা এবং বুদ্ধিমত্তা তার বাবার ক্ষমতার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী।
সে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহকর্মী , যার নাম সে শুধু "শ্যাড" বলে ডাকে, তাকে ফোন করল। শ্যাড হলো সেই ব্যক্তি যাকে অভি বেশি বিশ্বাস করে। অভি তাকে বলল, "আমি যাকে এতো দিন খুঁজেছি, তাকে পেয়ে গেছি। আমি চাই তুমি রণিত আর ঈশার সমস্ত তথ্য খুঁজে বের করো।  আমি সব জানতে চাই।"

শ্যাড শান্তভাবে তার কাজ শুরু করল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে অবাক করা কিছু তথ্য নিয়ে ফিরে এল। "স্যার, তুমি যা জানতে চেয়েছ, তা তার থেকেও অনেক বেশি। ঈশার দুর্ঘটনার দিন তোমার বাবা রণিতের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এরপরই রণিত তার বোনকে নিয়ে এখান থেকে লন্ডনে চলে যায়।"
ফ্ল্যাশব্যাক:
তিন বছর আগে, যখন রাঘব রায় ঠান্ডা গলায় বলেছিলেন, "ঈশা মারা গেছে," অভি তা বিশ্বাস করতে পারেনি। রাঘব যখন ঈশার দেহ দেখতে দিতে অস্বীকার করলেন, তখন থেকেই অভির মনে সন্দেহের জন্ম হয়। সে তার বাবাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সাহস বা সুযোগ পায়নি বটে, কিন্তু সে সম্পূর্ণ হাল ছাড়েনি। গভীর রাতে, বাবার নজর এড়িয়ে, সে তার গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হালকাভাবে এবং বিক্ষিপ্তভাবে ঈশার খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছিল। তার ভেতরের ক্ষীণ আশা তাকে বলত, ঈশা কোথাও না কোথাও বেঁচে আছে। এই তিন বছর ধরে সেই ক্ষীণ আশাটুকুই তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।
[ফ্ল্যাশব্যাক শেষ]
শ্যাডোর কথাগুলো শেষ হওয়ার আগেই অভি ফোনটা মুঠোয় শক্ত করে ধরল। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। 'শ্যাড, আমি আর কিছু শুনতে চাই না। এক্ষুণি আমাকে রণিত আর ঈশার ঠিকানা দাও। কলকাতার কোথায় আছে ওরা, আমার জানা দরকার,' অভি বলল। তার কণ্ঠস্বরে ছিল শুধু সত্যি জানার আকুলতা।"

শ্যাডো অভির কন্ঠ শুনেই বুঝতে পারল পরিস্থিতি কতটা গুরুতর। কোনো প্রশ্ন না করেই সে দ্রুত তার কাজ শুরু করল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সে উত্তর দিল, "স্যার, তারা কলকাতার ওবেরয় গ্র্যান্ড হোটেলে (Oberoi Grand Hotel) একটি অ্যাপার্টমেন্টে তারা রয়েছে। তাদের অ্যাপার্টমেন্টের নম্বর হলো ৪০২।"

চলবে..........

এতটা সময় নিয়ে আমার লেখা 'রংঘর' উপন্যাসটি পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
এটা আমার প্রথম লেখা। যদি এর মধ্যে কোনো ভুল বা ত্রুটি থাকে, তাহলে দয়া করে কিছু মনে করবেন না।
আপনাদের কেমন লাগলো, সেটা জানালে খুব খুশি হব। আপনাদের মতামত আমাকে আরও ভালো লিখতে সাহায্য করবে।
ভালোবাসা রইল।