Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 29

“ভাঙনের সীমা”
ঝড়টা যেন ঘরের ভেতরেই আটকে গেছে।
জানালার কাঁচ ভাঙা…
মোমবাতির আলো নিভে গেছে…
চারদিকে শুধু কালো ধোঁয়ার মতো অন্ধকার ঘুরছে।
মায়ার শরীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে কাঁপছে।
তার চোখে আলো আর অন্ধকার একসাথে লড়ছে।
ইরা তার হাত শক্ত করে ধরে আছে।
কিন্তু সে বুঝতে পারছে—
এই লড়াই শুধু বাইরে না…
মায়ার ভেতরেও চলছে।
পূর্ণ ছায়ার গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল—
— “সময় শেষ হয়ে আসছে…”
ঘরের বাতাস ভারী হয়ে উঠল।
— “ভালোবাসা আর ভয়—একসাথে টিকে না।”
মায়া হাঁপাচ্ছিল।
তার মাথার ভেতর অসংখ্য স্মৃতি ঘুরছে।
শৈশবের একাকিত্ব…
নিজেকে হারানোর ভয়…
আর ইরাকে হারানোর আতঙ্ক।
পূর্ণ ছায়া ফিসফিস করল—
— “তুমি জানো… তুমি ওকে বাঁচাতে পারবে না।”
মায়ার বুক ভেঙে যেতে লাগল।
ঠিক তখনই
তার চোখের সামনে দৃশ্য বদলে গেল।
সে দেখল—
ইরা ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।
— “না…”
মায়া কাঁপা গলায় বলল।
পূর্ণ ছায়া বলল—
— “তুমি যদি ওকে ভালোবাসো…
তাহলে ওকে ছেড়ে দাও।”
মায়ার চোখে জল ভরে উঠল।
— “ভালোবাসা মানে হারানো না…”
পূর্ণ ছায়া ঠান্ডা হাসল—
— “ভালোবাসা মানেই ত্যাগ।”
বাস্তবে ফিরে—
ইরা অনুভব করল
মায়ার হাত ঢিলে হয়ে যাচ্ছে।
— “মায়া! আমার দিকে তাকাস!”
মায়া ধীরে মাথা তুলল।
তার চোখের অর্ধেক কালো…
অর্ধেক আলোয় ভরা।
— “ইরা…”
সে ফিসফিস করল।
— “আমি হয়তো তোকে আঘাত করতে পারি।”
ইরার বুক মোচড় দিয়ে উঠল।
— “আমি ভয় পাই না।”
মায়া মাথা নাড়ল।
— “আমি পাই…
কারণ তোকে হারানোর ভয়টাই আমাকে দুর্বল করে দেয়।”
পূর্ণ ছায়া শক্ত হয়ে উঠল।
ঘরের দেয়াল ফাটতে লাগল।
— “দেখলে? ভয় তোমাকে ভেঙে দিচ্ছে।”
মায়া হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল।
তার শরীরের চারপাশে অন্ধকার ঘুরছে।
ইরা তার সামনে বসে পড়ল।
— “শোন…
ভয় থাকতেই পারে।
ভয় থাকা মানে দুর্বল হওয়া না।”
মায়া কাঁপা গলায় বলল—
— “আমি যদি তোকে হারাই?”
ইরা ধীরে তার কপালে হাত রাখল।
— “তুই আমাকে হারাবি না…
কারণ আমি তোকে ছাড়ব না।”
এই কথাটা শুনে
মায়ার চোখে হঠাৎ আলো জ্বলে উঠল।
পূর্ণ ছায়া গর্জে উঠল—
— “মিথ্যে আশা!”
অন্ধকার হঠাৎ বিস্ফোরিত হলো।
মায়ার শরীর মাটি থেকে উঠতে লাগল।
তার চারপাশে কালো শক্তি ঘুরছে।
ইরা উঠে দাঁড়াল।
— “তুই ওকে নিতে পারবি না!”
পূর্ণ ছায়া বলল—
— “তাহলে তুই ওর জায়গায় দাঁড়া।”
ঘরের বাতাস হঠাৎ জমে গেল।
সময় যেন থেমে গেল।
ইরা এক মুহূর্ত চুপ করে রইল।
তার চোখে ভয় ফুটে উঠল…
কিন্তু সেই ভয় দ্রুত শান্ত হয়ে গেল।
সে ধীরে বলল—
— “যদি ও বাঁচে… আমি রাজি।”
মায়া চিৎকার করে উঠল—
— “না! ইরা থাম!”
পূর্ণ ছায়া হাসল।
— “দেখলে? এটাই ভালোবাসার শেষ রূপ।”
ইরা মায়ার দিকে তাকাল।
তার চোখে অদ্ভুত শান্তি।
— “তুই আমাকে শিখিয়েছিস…
ভালোবাসা ভয়কে হারাতে পারে।”
মায়ার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।
— “আমি তোকে হারাতে পারব না…”
ইরা বলল—
— “তাহলে নিজের ভয়কে হারাস।”
ঠিক তখনই
মায়ার ভেতরে কিছু ভেঙে গেল।
সে বুঝল—
তার সবচেয়ে বড় ভয়
পূর্ণ ছায়া না…
তার নিজের মনে তৈরি দুর্বলতা।
সে চোখ বন্ধ করল।
তার চারপাশে আলো জ্বলে উঠল।
পূর্ণ ছায়া পিছিয়ে গেল।
— “অসম্ভব…”
মায়া ধীরে উঠে দাঁড়াল।
তার চোখ পুরো আলোয় ভরে গেছে।
— “আমি ভয় পাই…
কিন্তু ভয় আমাকে নিয়ন্ত্রণ করবে না।”
অন্ধকার কাঁপতে লাগল।
পূর্ণ ছায়া গর্জে উঠল—
— “তুমি আলো আর অন্ধকারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না!”
মায়া শান্ত গলায় বলল—
— “আমি দুইটাই মেনে নিয়েছি।”
এই কথা বলতেই
তার শরীর থেকে আলো আর ছায়া একসাথে বের হতে লাগল।
ঘরের দেয়াল কেঁপে উঠল।
পূর্ণ ছায়া দুর্বল হয়ে পড়ল।
কিন্তু সে শেষ চেষ্টা করল।
অন্ধকার সরাসরি ইরার দিকে ছুটে গেল।
মায়ার চোখ বিস্ফোরিত হয়ে উঠল।
সে চিৎকার করল—
— “থাম!”
তার শরীর থেকে আলো ঝড়ের মতো বের হলো।
অন্ধকার মাঝপথে থেমে গেল।
পূর্ণ ছায়া চিৎকার করতে লাগল।
ঘরের ভেতর আলো বিস্ফোরিত হলো।
তারপর—
সব নিস্তব্ধ।
মাটিতে ধুলো পড়ছে।
ভাঙা কাঁচের শব্দ ধীরে থেমে গেল।
মায়া হাঁপাচ্ছে।
তার সামনে
অন্ধকার ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে।
পূর্ণ ছায়ার কণ্ঠ দূরে মিলিয়ে গেল—
— “এই যুদ্ধ শেষ না…
তুমি শুধু সময় জিতেছ…”
তারপর সব শান্ত হয়ে গেল।
ইরা মাটিতে বসে ছিল।
মায়া দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল।
— “তুই ঠিক আছিস?”
ইরা হাসল।
— “তুই আছিস… তাই আমি ঠিক আছি।”
মায়ার চোখে জল।
— “আমি প্রায় তোকে হারিয়ে ফেলেছিলাম…”
ইরা মাথা নাড়ল।
— “না… তুই নিজেকে খুঁজে পেয়েছিস।”
বাইরে ধীরে ভোরের আলো উঠছে।
ঝড় থেমে গেছে।
আকাশ পরিষ্কার।
মায়া বারান্দার দিকে তাকাল।
তার বুকের ভেতর হালকা শান্তি।
কিন্তু সে জানে—
পূর্ণ ছায়া পুরোপুরি শেষ হয়নি।
ইরা পাশে এসে দাঁড়াল।
— “এখন কী করব?”
মায়া ধীরে বলল—
— “এবার আমরা পালাব না…
আমরা ওর শেষটা দেখব।”
ইরা তার হাত ধরল।
— “একসাথে।”
দূরে সূর্যের আলো উঠতে লাগল।
কিন্তু সেই আলোয়
একটা নতুন যুদ্ধের আভাস রয়ে গেল।
কারণ
শেষ লড়াই এখনো বাকি।