Read Jharapata 75 by Srabanti Ghosh in Bengali Love Stories | মাতরুবার্তি

Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

ঝরাপাতা - 75

ঝরাপাতা 

পর্ব - ৭৫

🌹💞🌹💞🌹💞🌹

- "কি হয়েছে অঙ্কুর? আমাকে সব বল।" পলাশ সোজা হয়ে বসেছে। নিজের ঘরে একা ছিল। কেউ থাকলে দেখতে পেত, ওর চোখ চকচক করছে, উত্তেজনায় নিঃশ্বাস দ্রুত, হাত মুঠো পাকিয়ে গেছে। 

- "সব আর কি বলব....."

অঙ্কুরের গলায় এড়িয়ে যাওয়ার আভাস পেতেই পলাশ অন্য রাস্তা বাছে, "সে আমাকে বলবি না জানি। আমি তোর বন্ধু হলে বলতি।"

- "আহ, পলাশ, এখন এসব কথা শুরু করিস না। তুই শুধু আমার বন্ধু না, মিলিরও বন্ধু।"

- "অদ্রিজা আমাকে বন্ধু মানেই না। মানলে বলত, এতবড় কাণ্ড, আমি কিছুই জানি না। ওর বিয়ে হল, জানলাম না। বিয়ের পর ওর বর চলে গেল, সে কথাও........ হ্যাঁ রে ঐ শ্রেয়ান সরকার কি আবার চলে গেছে?"

- "না, এবার ও চলে যায়নি। এবার জেঠু খুব রেগে গেছে। ওর এখন বায়না, বড়দি মানে লিলিদিকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে হবে। সে কেউ রাজি না। এই কথায় রনিদার তর্ক হয়েছে জেঠুর সঙ্গে। তাইতে জেঠুর শরীর খারাপ। রনিদার মা নার্সিং হোমে ভর্তিও হয়েছিল। একাকার অবস্থা। তাই সব প্রোগ্রাম বাতিল।"

পলাশের মনে হয়, এতদিনে ভগবান ওর দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছেন। আগেরবার চূড়ান্ত অপমানিত হতে হয়েছিল ওকে। এমনকি বাবাও রেগে গেছিল, প্রিন্সিপাল স্যার যা তা করে বলায়। এবার আর সেই ভয় নেই। অদ্রিজা আর শ্রেয়ানের ঝামেলা হয়েছে.......আচ্ছা ঝামেলাটা ওদের মধ্যে হয়েছে, নাকি শুধু বাবার সঙ্গে? 

সেটাই জিজ্ঞেস করে, "অদ্রিজা কি বলছে? না ওর বাবার সঙ্গে রনিদার ঝামেলা হল বলে জিজ্ঞেস করছি।"

- "মিলি খুব রেগে গেছে। রনিদার সঙ্গে আর কথা বলবে না বলেছে, ওর বাড়ি তো যাবেই না।"

পলাশ একপাক নেচে নেয়। তারপরই নিজেকে থামায়, "না পলাশ না, এখন‌ই সেলিব্রশন নয়। এখন দরকার ইনফরমেশন আর একটা সলিড প্ল্যান।"

অঙ্কুরকে বলে, "কি খারাপ অবস্থা রে ! তোর জেঠু এখন কেমন আছেন?"

- "এখন ভালো, সেরে উঠছে। রনিদার মাও বাড়িতে এসেছে। আমার বাবা মা সব গেছিল, দেখা করেছে। মিলির মামা মাসী এসেছিল। আবার আসবে, কথা বলতে হবে তো, অনুষ্ঠানটা কবে করা যায়।"

হাড় জ্বলে যায় পলাশের। আবার ! আবার অনুষ্ঠান ! মুখে বলে, "অঙ্কুর, খবরদার, অদ্রিজাকে কোনো চাপ দিবি না তোরা। আগেরবার ওর কি হয়েছিল মনে নেই?"

- "খুব মনে আছে। যা রাগ হয়েছিল রনিদার উপর। মাঝখানে দেখলাম, মিলির সঙ্গে ভাব রাখতে চাইছে, ওর সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক, আমরা ভাবলাম নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে।"

- "আরে যে খারাপ, সে খারাপ‌ই থাকে। ঐ ছেলে কখনো ভালো হবে না। ও অদ্রিজা আর তোদের সবাইকে নাচাচ্ছে, সঙ্গে তোদের দিদিকেও। অদ্রিজাকে কোনোদিন বৌ বলে মানবে না। শুধু ঝুলিয়ে রাখছে, প্রতিশোধ নিচ্ছে। নাহলে দিদির সঙ্গে ওর কি রে?"

এইরকম কথাই বাড়িতে এবার আলোচনা হয়েছে। মিলির মামা, মাসীরা আসার পর কথার সুর পালটেছে, তবে সবটা অঙ্কুর জানে না। তাই পলাশের একটা কথাও ওর ফেলনা লাগে না। 

অঙ্কুরকে চুপ দেখে পলাশ খোঁচায়, "দেখ, তোর জামাইবাবু, তোর এসব শুনতে ভালো লাগছে না বুঝি। কিন্তু আমার ওর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। আমি চিনি তোকে আর অদ্রিজাকে।"

- "রাখ তো জামাইবাবু। যে মিলির বর হবে সেই আমার জামাইবাবু হবে। ও মিলিকে বিয়ে করে পালিয়ে গেল, মিলিকে কি না ভুগতে হল, ও আবার জামাইবাবু !"

পলাশ নিশ্চিন্ত হয়, এবার সবার মন উঠে গেছে রনির উপর থেকে। বড্ড জ্বালিয়েছে ওকে। হঠাৎ উদয় হয়ে ওর পছন্দের মানুষকে বিয়ে করে ফেলল। তাকে ঘরে রাখবে না, এদিকে সারাদিন সঙ্গে করে ঘুরছে, পুরো হাত করে রেখেছে। পলাশ অদ্রিজার দুটো পরীক্ষা একসঙ্গে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে, সেটা রনির পছন্দ না, তাই হবে না। ওদিকে পরীক্ষার সময় পলাশের চোখের উপর কলেজে এসে অদ্রিজার সঙ্গে সেঁটে আছে। ওকে জল খাওয়াচ্ছে, মিষ্টি খাওয়াচ্ছে, ওর ব্যাগ ধরে আছে। আর অদ্রিজা তাতে গদগদ। কি প্রেম প্রেম মুখ করে তাকায় রনির দিকে, পলাশের বুকে আগুন জ্বলে যায়। অদ্রিজাটা বোঝেই না, কে ওকে আসল ভালোবাসে আর কে প্রতিশোধ নিতে মিথ্যে প্রেমের নাটক করছে ওর সঙ্গে। 

তবে ঐ রনি অদ্রিজার উপর প্রতিশোধ নেবে, অত সোজা না ! আরে প্রতিশোধ তো পলাশ নেবে তোর উপর। প্রিন্সিপাল স্যারকে কে সব কথা লাগিয়েছিল জানতে বাকি নেই। এবার মজা দেখ। 

এইসব একান্ত মনের কথা মনেই রেখে, আরও খানিকটা রনির নিন্দে করে ফোন রাখে পলাশ। খুব ঠান্ডা মাথায় প্ল্যান করতে হবে। আর ভুলচুকের জায়গা নেই। নিজেকে পলাশ বলে, এইবার নাহলে নেভার। 

পলাশদের বাড়িতে বহুদিন ধরে কাজ করছে মলিনাদি। আসলে পলাশের মায়ের বয়সী। সেই ওর দেখভাল করে। মলিনাদিকে ডেকে পলাশ বলল, "আমি বিরিয়ানি অর্ডার করেছি। এক্ষুণি দিয়ে যাবে নিচে। আর কি রান্না করেছ তুমি, সব দিয়ে খেতে দিয়ে দিও।"

খুব আনন্দ হলে ও এরকম করে, তাই মলিনাদি দাঁড়িয়ে থাকে, কি হয়েছে জানতে। 

পলাশ বলে, "আরে পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে, কাল থেকে সব বন্ধুরা ঘুরব, তাই দিল খুশ। হল? তুমি এবার যাও।" বলেই একপাক নেচে নেয়। বেচারা মলিনাদি বোঝে না, এগুলোর সঙ্গে সঙ্গে পলাশের আসল আনন্দ, আগামীতে ও কি করবে প্ল্যান করে ফেলেছে বলে। 

সেদিন রাতে মিলি বুদ্ধি করে সোজা মণিকার ঘরে শুতে চলে এসেছিল। রনি সতর্ক করে দেওয়ার পর, সারাদিনে পিউ আর বনির হাবভাবে মিলি বুঝেছে, ওরা চোখে চোখে রাখছে। সবচেয়ে নিরাপদ, কাকিমার ঘর। আর সেটাই উচিত। তাহলে পিউ আর বনিকেও ওদের জন্য আলাদা থাকতে হয় না। 

যদিও রনির জন্য এটা বড়সড় ধাক্কা হয়ে গেল। মায়ের ঘর থেকে বেরিয়ে মিলির ওর কাছে গল্প করতে আসা খুব চাপের। মা জেগে যেতেই পারে। তখনই ধরা পড়বে। আর সত্যিই মায়ের শরীর ভালো না, একলা ঘরে রাখাও উচিত না। 

ওদিকে ঘুমন্ত টুকাইকে দেওয়ালের দিকে সরিয়ে, বনির বুকে মাথা দিয়ে শুয়ে পিউ বলল, "কি হবে ভাবছ?"

চলবে