Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 7

Part 11: “ভালোবাসা বনাম পৃথিবী”
মঞ্চের সেই মুহূর্তটা যেন সবার মনে ছাপ ফেলে গেছে।
ঈশা আর মেঘলা হাত ধরে দাঁড়িয়ে—
সবকিছু ভুলে গিয়েছিল।
কিন্তু পৃথিবী তো থেমে থাকে না…
মঞ্চ থেকে নামার পরই…
চারপাশে ফিসফাস শুরু হয়ে গেল।
— “ওরা সত্যিই…?”
— “Public-এ এসব!”
— “একদম ভুল জিনিস…”
ঈশার হাত কাঁপতে লাগল।
সে মেঘলার হাত শক্ত করে ধরল।
মেঘলা ধীরে বলল—
— “Relax… আমি আছি…”
কিন্তু তখনই একজন শিক্ষক এগিয়ে এলেন।
গম্ভীর মুখে—
— “তোমরা দুজন আমার সাথে আসো।”
ঈশার বুক ধড়ফড় করতে লাগল।
স্টাফ রুমে…
দুজন চুপচাপ দাঁড়িয়ে।
শিক্ষক বললেন—
— “তোমরা কি বুঝতে পারছো তোমরা কি করেছো?”
মেঘলা শান্ত গলায় বলল—
— “আমরা শুধু একটা গান perform করেছি…”
— “না! তোমরা সবার সামনে inappropriate behaviour করেছো,”
শিক্ষকের গলা কঠিন।
ঈশা মাথা নিচু করে ফেলল।
তার চোখে জল।
মেঘলা এবার একটু জোরে বলল—
— “ভালোবাসা inappropriate না, sir…”
এই কথাটা শুনে রুমে নীরবতা।
শিক্ষক কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।
তারপর বললেন—
— “তোমাদের parents-কে inform করতে হবে।”
এই কথাটা শুনে ঈশার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
— “না sir… please…”
সে কাঁপা গলায় বলল।
কিন্তু সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।
সেদিন…
দুজন আলাদা আলাদা বাড়ি ফিরল।
কিন্তু আজকের distance আগের মতো না—
আজ তাদের মাঝে ভয়।
ঈশার বাড়ি…
তার মা ফোন পেয়েছেন already।
— “ঈশা, এটা কি শুনছি?”
তার মায়ের গলা কাঁপছে।
ঈশা চুপ।
— “তুমি একটা মেয়ের সাথে… এসব?”
ঈশার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল—
— “আমি ওকে ভালোবাসি…”
এই কথাটা শুনে তার মা স্তব্ধ।
— “এটা ভালোবাসা না… এটা ভুল,”
তার মা বললেন।
ঈশার বুকটা ভেঙে গেল।
— “না মা… এটা ভুল না…”
— “তুমি আর ওই মেয়ের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখবে না!”
তার মা কঠিন গলায় বললেন।
ঈশা কেঁপে উঠল।
— “আমি পারব না…”
ওদিকে…
মেঘলার বাড়ি…
তার বাবাও সব জেনে গেছেন।
— “তুমি আমাদের নাম খারাপ করছো!”
তার বাবার গলা রাগে ভরা।
মেঘলা চুপ।
— “এইসব nonsense বন্ধ করো!”
মেঘলা ধীরে বলল—
— “আমি কাউকে ভালোবাসি… এতে ভুল কোথায়?”
— “সে একটা মেয়ে!”
তার বাবা চিৎকার করলেন।
— “তাতে কি?”
মেঘলার চোখে জল, কিন্তু গলা শক্ত।
ঘরের ভেতর ঝড়।
রাতটা দুজনের কাছেই খুব কঠিন।
ঈশা বিছানায় শুয়ে কাঁদছে।
— “আমি কি ওকে হারিয়ে ফেলব?”
ওদিকে মেঘলা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে—
— “আমি fight করব… যতই কঠিন হোক…”
হঠাৎ ঈশার ফোনে একটা message এল।
মেঘলা:
“তুমি আছো?”
ঈশার চোখ ভিজে গেল।
সে reply দিল—
“সবাই আমাদের বিরুদ্ধে…”
মেঘলা লিখল—
“তাহলে আমরা কি একে অপরের পক্ষে থাকব?”
ঈশা অনেকক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তার হাত কাঁপছে।
শেষে সে লিখল—
“আমি চেষ্টা করব…”
মেঘলা reply দিল—
“আমি ছাড়ব না…”
এখন শুরু হলো আসল লড়াই
 ভালোবাসা vs পরিবার

Part 12: “দূরে থেকেও ভাঙা যায়”
পরের কয়েকদিন…
সবকিছু খুব দ্রুত বদলে গেল।
কলেজে ঈশা আর মেঘলাকে আলাদা করে দেওয়া হলো।
ক্লাসে আলাদা সিট…
practice বন্ধ…
কথা বলা প্রায় অসম্ভব।
শিক্ষকরা নজর রাখছেন।
বন্ধুরাও দূরে সরে যাচ্ছে।
ঈশা এখন একা বসে থাকে।
কিন্তু আগের মতো শান্ত না—
এখন তার ভেতরে শুধু কষ্ট।
একদিন…
বিরতির সময় সে দূর থেকে মেঘলাকে দেখল।
মেঘলা করিডোরে দাঁড়িয়ে…
কিন্তু তার পাশে তার বাবা।
ঈশার বুকটা হঠাৎ কেঁপে উঠল।
— “ওর বাবা এখানে কেন?”
কিছুক্ষণ পর…
সে দেখল—
মেঘলা ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।
তার চোখ লাল।
ঈশা দৌড়ে এগিয়ে যেতে চাইল—
কিন্তু একজন শিক্ষক তাকে থামালেন—
— “Stay where you are.”
ঈশা থেমে গেল।
তার চোখের সামনে—
মেঘলা চলে গেল।
একদম… তার জীবন থেকে।
সেদিনই…
খবর এল—
 মেঘলাকে অন্য শহরে পাঠানো হচ্ছে।
ঈশার সবকিছু থেমে গেল।
— “না… এটা হতে পারে না…”
সে ফোন করল।
বারবার।
কিন্তু ফোন বন্ধ।
সে message দিল—
“Please reply… একবার কথা বলো…”
কোনো উত্তর নেই।
রাতটা…
ঈশা নিজের ঘরে বসে কাঁদছে।
— “আমি কেন ওকে ধরে রাখলাম না?”
তার মনে পড়ছে—
সেই প্রথম দেখা…
সেই বৃষ্টি…
সেই হাত ধরা…
সবকিছু যেন এখন স্বপ্ন।
ওদিকে…
মেঘলা গাড়িতে বসে আছে।
তার পাশে তার বাবা।
ফোনটা তার হাত থেকে নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তার চোখ দিয়ে জল থামছে না।
— “আমি তাকে কিছু বলতেই পারলাম না…”
সে জানালার বাইরে তাকিয়ে মনে মনে বলল—
— “ঈশা… তুমি আমাকে ভুলে যেও না…”
গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে চলে গেল।
পরের দিন…
কলেজে ঈশা একা।
পুরো জায়গাটা আজ ফাঁকা লাগছে।
সে সেই গার্ডেনে গেল…
যেখানে তারা বসত।
সবকিছু একই আছে—
কিন্তু মেঘলা নেই।
ঈশা বসে পড়ল।
চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।
— “তুমি বলেছিলে তুমি যাবে না…”
সে ফিসফিস করে বলল।
কিন্তু উত্তর নেই।
দিনগুলো যেতে লাগল…
একদিন… দুইদিন… এক সপ্তাহ…
কোনো contact নেই।
ঈশা ধীরে ধীরে চুপ হয়ে যাচ্ছে।
সে কারও সাথে কথা বলে না।
ডায়েরিতে শুধু একটা লাইন বারবার লিখছে—
“আমি তাকে হারিয়ে ফেলেছি…”
ওদিকে…
মেঘলা নতুন শহরে…
নতুন কলেজে…
নতুন মানুষদের মাঝে…
কিন্তু তার মন এখনও সেই জায়গাতেই আটকে—
ঈশার কাছে।
সে রাতে চুপচাপ কাঁদে।
— “আমি তাকে না বলে চলে এলাম…”
একদিন…
সে লুকিয়ে একটা নতুন SIM নেয়।
ফোনে একটা number dial করে…
ঈশার ফোন বেজে ওঠে।
ঈশা অবাক হয়ে ফোনটা তোলে—
— “Hello?”
ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা…
তারপর খুব চেনা একটা গলা—
— “ঈশা…”
ঈশার হাত কেঁপে ওঠে।
— “মেঘলা…?”
 তারা আবার connect হলো…
 কিন্তু distance কি কমবে?
To be continued…