আমার নাম নীল। আমি আগে কখনো ভূতে বিশ্বাস করতাম না। এসব গল্প শুনে হাসতাম। মনে হত—সবই মানুষের মাথার খেলা। কিন্তু এখন আমি জানি… কিছু জিনিস আছে, যেগুলোকে অস্বীকার করা যায় না। কারণ তারা আমাদের বিশ্বাস করানোর জন্য অপেক্ষা করে না… তারা নিজেরাই আমাদের জীবনে ঢুকে পড়ে।
সবকিছুর শুরুটা হয়েছিল যখন আমি ওই ফ্ল্যাটে উঠি। শহরের বাইরে একটা পুরনো বিল্ডিং, চারপাশে অদ্ভুত নীরবতা, আর ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে কম। প্রথমে একটু সন্দেহ হয়েছিল, কিন্তু পরে ভাবলাম—এমন সুযোগ বারবার আসে না। ফ্ল্যাটে ঢুকে প্রথম যে জিনিসটা চোখে পড়েছিল, সেটা হল ঘরের কোণে রাখা একটা বিশাল পুরনো কাঠের আলমারি।কালচে, ভাঙাচোরা, দরজায় লম্বা আঁচড়ের দাগ।
বাড়িওয়ালাকে জিজ্ঞেস করতেই সে বলল—“ওটা আগের ভাড়াটের… ফেলে দিতে পারিনি।” তার গলায় একটা অদ্ভুত দ্বিধা ছিল, কিন্তু আমি পাত্তা দিইনি। প্রথম কয়েকদিন সব ঠিকঠাকই ছিল। অফিস থেকে ফিরে খাওয়া, তারপর ঘুম—একদম স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু চতুর্থ রাতেই প্রথম অস্বাভাবিক ঘটনাটা ঘটে।
রাত তখন প্রায় ২টা। হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় একটা শব্দে—টক… টক… টক… যেন কেউ কাঠে আঙুল দিয়ে ঠুকছে। আমি উঠে বসে চারদিকে তাকালাম। পুরো ঘর নিস্তব্ধ। আবার শুয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর আবার—টক… টক… টক… এইবার শব্দটা একটু জোরে। আমি উঠে দাঁড়ালাম। শব্দটা আসছে আলমারি থেকে।
নিজেকে বোঝালাম—পুরনো কাঠ, হাওয়ার জন্য শব্দ হচ্ছে। তবুও কৌতূহল সামলাতে পারলাম না। ধীরে ধীরে আলমারির সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। দরজাটা আস্তে করে খুললাম। ভেতরে কিছুই নেই—কিছু পুরনো কাপড়, আর এক ধরনের স্যাঁতসেঁতে গন্ধ। আমি হেসে দরজা বন্ধ করে দিলাম। কিন্তু সেদিনের পর থেকে সবকিছু বদলে যেতে শুরু করল।
প্রতিদিন সকালে দেখি—আলমারির দরজা একটু খোলা। আমি তো বন্ধ করেছিলাম। প্রথমে ভাবলাম latch ঢিলা। কিন্তু পরের দিন পুরো দরজা খোলা। তৃতীয় দিনে ভেতরের কাপড়গুলো এলোমেলো। আমার ভেতরে একটা অজানা অস্বস্তি কাজ করতে লাগল। সেই রাতে আবার শব্দ—এইবার শুধু টোকা না, বরং ঘষার শব্দ—ঘষ… ঘষ… যেন কেউ ভেতর থেকে বেরোতে চাইছে।
আমি বিছানায় বসে রইলাম। শব্দটা বাড়তেই থাকল। শেষ পর্যন্ত সাহস করে উঠে দাঁড়ালাম। দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই শব্দ থেমে গেল। আমি কাঁপা হাতে দরজা খুললাম। ভেতরে অন্ধকার, অস্বাভাবিক অন্ধকার—মনে হচ্ছিল আলো ঢুকছে না। মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে ভেতরে তাকাতেই দেখি—দেওয়ালে লম্বা নখের দাগ, একটার ওপর একটা। যেন কেউ বারবার বেরোতে চেষ্টা করেছে। আমি ভয়ে পিছিয়ে এলাম।
পরদিন বাড়িওয়ালাকে জিজ্ঞেস করতেই সে প্রথমে কিছু বলতে চাইল না। পরে বলল—“একটা মেয়ে থাকত… হঠাৎ হারিয়ে যায়… কেউ খুঁজে পায়নি…” আমি জিজ্ঞেস করলাম—“আলমারির সাথে কিছু?” সে চোখ নামিয়ে বলল—“লোকজন বলে… ওর শেষ চিহ্ন ওই আলমারির কাছেই ছিল…” সেই রাতেই আমি ঠিক করলাম—সব শেষ করব।
রাত ২টা বাজতেই আমি লাইট বন্ধ করে আলমারির সামনে বসে থাকলাম। কিছুক্ষণ পরেই শব্দ শুরু হল—টক… টক… টক… এবার আগের থেকে অনেক জোরে, যেন কেউ মরিয়া হয়ে দরজা ভাঙতে চাইছে। আমার বুক ধড়ফড় করছিল, কিন্তু আমি এগোলাম। দরজায় হাত রাখতেই সেটা নিজে থেকেই খুলে গেল। ভেতরে কালো অন্ধকার। হঠাৎ সেই অন্ধকারের ভেতর দুটো চোখ জ্বলে উঠল। আমি পিছিয়ে যেতে চাইলাম, কিন্তু তার আগেই একটা হাত বেরিয়ে এসে আমার কব্জি চেপে ধরল। বরফের মতো ঠান্ডা। আমি চিৎকার করতে পারছিলাম না।
ধীরে ধীরে একটা মেয়ে বেরিয়ে এল। তার চুল মুখ ঢেকে রেখেছে, শরীর বাঁকা, চোখ দুটো ফ্যাকাসে। সে খুব আস্তে বলল—“তুমি… অবশেষে দরজা খুললে…” আমি কাঁপতে কাঁপতে বললাম—“আমাকে ছেড়ে দাও…” সে হেসে বলল—“এখন আর যাওয়ার পথ নেই…” তারপর হঠাৎ সব অন্ধকার হয়ে গেল। যখন জ্ঞান ফিরল, আমি বুঝলাম—আমি নড়তে পারছি না।
চারদিকে কাঠের গন্ধ, খুব কম জায়গা… আমি বুঝে গেলাম—আমি আলমারির ভেতরে। আমি দরজায় ধাক্কা দিতে লাগলাম—টক… টক… টক… চিৎকার করলাম—“বাঁচাও!” কিন্তু বাইরে কেউ নেই। কিছুক্ষণ পর বাইরে পায়ের শব্দ পেলাম। কেউ যেন ঘরে ঢুকেছে। আমি আরও জোরে ধাক্কা দিলাম। কিন্তু দরজা খুলল না। তখন বাইরে থেকে একটা গলা ভেসে এল—“এই আলমারিটা আগের ভাড়াটের…” আমি থেমে গেলাম।
এটা বাড়িওয়ালার গলা। আরেকটা নতুন গলা—“ওটা রেখে দিয়েছেন কেন?” বাড়িওয়ালা বলল—“জানি না… ফেলে দিতে পারিনি…” আমি বুঝলাম—আবার কেউ এসেছে। নতুন কেউ। আমি মরিয়া হয়ে দরজায় ধাক্কা দিতে লাগলাম—টক… টক… টক… কিন্তু এবার আমি বুঝলাম—এই শব্দটাই আমি প্রথম রাতে শুনেছিলাম। মানে… সেটা কেউ ছিল… আর এখন… সেই জায়গায় আমি। সময় কেটে যেতে লাগল—দিন, রাত, সব এক হয়ে গেল। আমি জানি না কতদিন কেটে গেছে।
মাঝে মাঝে বাইরে মানুষের শব্দ পাই। আমি ধাক্কা দিই… কিন্তু কেউ খোলে না। কারণ বাইরে থেকে এটা শুধু একটা পুরনো আলমারি। কিন্তু ভেতরে… একটা জীবন্ত দুঃস্বপ্ন। আমি এখন বুঝি—এই আলমারিটা একটা ফাঁদ। এখানে যে ঢোকে, সে আর বেরোতে পারে না। আর ভেতরে যারা থাকে… তারা অপেক্ষা করে। নতুন কারও জন্য। আজও আমি আছি… এই অন্ধকারে… অপেক্ষা করছি। আর যখন কেউ আবার এই দরজাটা খুলবে… আমি বেরিয়ে আসব। আর সে… আমার জায়গা নেবে। তখন আবার শুরু হবে—টক… টক… টক… 😈
গল্পটা একদম গায়ে কাঁটা দিয়ে দিল 😨🔥
শেষের twist টা একদম unexpected—আলমারির ভেতরের truth টা mind-blowing!
পুরোটা পড়ে মনে হচ্ছিল যেন আমি নিজেই ওই ঘরের মধ্যে আছি… 👀
এমনই ভয়ংকর আর gripping গল্প আরও পড়তে চাই 😈
ভালো লাগলে অবশ্যই comment করুন আর আমাকে follow করতে ভুলবেন না 📖✨