Read Jharapata 69 by Srabanti Ghosh in Bengali Love Stories | মাতরুবার্তি

Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

ঝরাপাতা - 69

ঝরাপাতা 

পর্ব - ৬৯

🌹🌿🌹🌿🌹🌿🌹

- "রনিদা, কাকিমা নাকি অসুস্থ? কি হয়েছে? কেমন আছে?" লিলি একের পর এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়। 

রনি প্রথমে মণিকার শারীরিক অবস্থা আর তার সূত্র ধরে মিলিও যে এখন এবাড়িতে, সবটাই বলে ওদের প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে। লিলি আর যুগল মণিকা সুস্থ হয়ে উঠছে শুনে যেমন নিশ্চিন্ত হয়, মিলি এ বাড়িতে এসেছে শুনে আরও খুশি হয়ে যায়।

যুগল বলে, "তাহলে আর কি ভাইয়া, লাইফে এখন সব সেট। পার্টি চাহিয়ে হামকো।"

- "লাইফ সেট হয়েছে তোমার সিস্টার ইন ল এর। সে ডাঁটসে আমার মা আর বৌদির আশ্রয়ে বসে বসে আমার মুন্ডুপাত করছে।"

- "মুন্ডু হোয়াট? কি বকোয়াস করছ ভাইয়া?" যুগল একগলা জলে হাবুডুবু খায়। 

স্পীকার অন করে দুজন একসঙ্গে কথা বলছে, লিলি বাংলাটা বুঝেছে বলে পরিস্থিতি বুঝে গেছে। 

- "দাঁড়াও দাঁড়াও, তুমি বকোয়াস থামাও" বলে যুগলকে থামায় লিলি, "মিলি এখনও রাগ করে আছে? এ্যাই রনিদা, পুরো ব্যাপারটা বলোতো।"

- "ব্যাপার আর কি? তোমার বোনের কাছে আমি শ্বশুরের ছেলে না, আনকাট অসুর। আর উনি দয়ার অবতার, তাই আমাদের বিপদে উদ্ধার করতে এসেছেন। আমার সঙ্গে কথাবার্তা, ওঠাবসা সব বন্ধ। কারণ আমি নাকি........" রনি চুপ করে যায়। লিলি আর যুগলকে কি করে বলে, মিলির বা বাকিদের কি ধারণা হয়েছে। 

- "আমি বুঝতে পারছি ভাইয়া। আঙ্কেলজি আর আন্টিজির আমাদের উপর রাগ আছে। তুমি আমাদের সাপোর্ট করায় ওনারা রাগ করেছেন। আর আমাদের জন্য ওদের রাগিয়ে দিয়েছ বলে মিলির কষ্ট হয়েছে। তাই তোমার সঙ্গে আর ভাব হচ্ছে না।" যুগল সিরিয়াস হয়ে গেছে, "এটা নর্মাল ভাইয়া। ওর উপর দিয়ে অনেককিছু যাচ্ছে। এক কাজ করো, ওকে ফোনটা দাও। আমি কথা বলি। আগেরবারের মতো, তোমার কথা না শুনলেও, আমাদের কথা ঠিক শুনবে।"

- "আরে আমার দিকেই তাকাচ্ছে না। বললাম কি? কাল আমি চা কিনেছি বলে মহারাণী খেলেন না। আমার মাও ওর জন্য আমার সঙ্গে কথা বন্ধ করে দিয়েছে। এখন মার ঘরে গিয়ে ওকে ফোন দেব কি করে? কথা বলতে গেলেই আমার বাড়ির সবাই ওর হয়ে আমার সঙ্গে ঝগড়া জুড়ে দেবে। বৌদির সঙ্গে সেঁটে বসে আছে দেখো গিয়ে।"

- "হুঁ, কেস গুরুচরণ।" লিলি একটা আঙ্গুল দিয়ে মাথায় টক টক করে ঠোকে, "দি আইডিয়া, তুমি পিউবৌদিকে ডাকো। ওকেই সব বলব।"

- "বৌদিও ওঘরে। মায়ের দুপাশে দুজন সেট হয়ে বসে আছে। আমার ওদের সঙ্গে কথা বলা বারণ, মায়ের সামনে যাওয়া বারণ। দূরে দূরে থাকতে বলেছে সবাই।"

- "তোমার‌ও দোষ আছে রনিদা। আগেরদিন‌ই বলেছি, তোমার ধৈর্য্য বলে কিছু নেই, মাথা ঠান্ডা করে........"

- "হ্যাঁ লিলি, জানি। আর কিছু বলবে? মা কেমন থাকে তোমাকে জানাবো।" রনির এখন এইসব শুনতে আর ভালো লাগছে না। 

নিজের মনে বলে, "এমন কেউ নেই, যে আমার মনের অবস্থাটা একদিনের জন্য বোঝে। এই লিলি এখন এত জ্ঞান দিচ্ছে, অথচ বিয়ের আগে একটা কথা বলেনি। অবশ্য বলেনি বলেই মিলিকে বিয়ে করতে পেরেছিলাম। আর নিজের দোষে চিরকালের জন্য মিলিকে হারিয়ে ফেললাম। এ জীবনে যখন একা হয়েই গেছি, অন্ততঃ ফাঁকা জ্ঞান না শুনে একা একা শান্তিতে থাকব।"

তার মধ্যেই যুগলের গলা শোনে, "একটু কম জ্ঞান দাও লিলি। রনি ভাইয়ার দোষ খুঁজে বের করে ওকে না বলে, ওর গুণগুলো মিলিকে বলো। ভাইয়া, তুমি ওর বকোয়াস ছাড়ো। দেখো না, তোমার ভাবিজি বাইরে এলে একটু আমাদের ফোন দাও না। প্লিজ ভাইয়া, তুমি আর মিলি এভাবে ছাড়া ছাড়া হয়ে গেলে আমাদের ভালো লাগে না।"

যুগল সত্যিই মন থেকে বলছে জানে। লিলিও আদতে বোঝানোর চেষ্টা করছিল, বুঝতে পারে রনি। দাঁড়াও দেখি বলে ফোনটা নিয়ে উঠে আসতে গিয়েই মনে হয়, বৌদিকে একা পাওয়া মুশকিল। মা আর মিলিকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। তার চেয়ে দাদাকে ধরলে কেমন হয়? দাদা দরকারে কথাও বলেছে ওর সঙ্গে। 

- "লিলি, দাদার সঙ্গে কথা বলবে?" রনি ঘরে ঢুকে ফোনটা আবার কানে দেয়। 

- "ওরে বাবা বনিদা ! কি রেগে আছে কে জানে?" লিলি আঁতকে ওঠে। 

- "রাগ হয়ত আছে। একবার কথা বললে বুঝতে পারতে। তবে তোমাদের জোর করতে পারি না, সেটা জানি।" রনি আবার মুষড়ে পড়ে। 

লিলির খুব লজ্জা করে। বিয়ের পর থেকে এই প্রথমবার। মনে পড়ে, রনিদার জীবনের যত বিপর্যয়, ওর ভালোবাসাকে বাঁচাতে। সে ও রনিদাকে না বলে পালিয়ে এলেও, রনিদা ওর আর যুগলের ঝগড়া মেটালেও বা ওদের বাড়িতে ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করলেও। সেখানে বনিদা নাহয় ফোনে দুটো কথা শোনালো। 

- "এমা না, আমি ওভাবে বলিনি। বনিদা ঝাড় দেবে, শুনতে রেডি হচ্ছি, তাই বলেছি। তুমি দাও বনিদাকে।" লিলি ম্যানেজ করে। 

- "এক কাজ করো, ফোন ছেড়ে দিচ্ছি। দাদাকে নিচে থেকে ধরে এনে ফোন করছি।" 

🌹🌿🌹🌿🌹🌿🌹

নিচে নামতে নামতে সিঁড়ি থেকেই রনি দেখে বড় আসর বসেছে। দাদা বৌদির সঙ্গে মিলি, সাত্যকি, সুবর্ণ, সৌভিক, সবাই খাওয়ার টেবিলে। চা পর্ব চলছে। আসলে ঘরে মনিকাকে বিশ্রাম করতে দিয়ে এসেছে ওরা। 

রনি মাথা নেড়ে মনে মনে বলে, "বাহ বাহ, বেশ চা খেতে খেতে গল্প করছে মিলি ! কে বলবে, চারদিন আগে এ বাড়িতে আসতে রাজি ছিল না !"

সাত্যকির কোনো একটা কথায় দাদা আবার বলছে, "শুধু চা কফি নয় মিলি, যা খেতে ভালো লাগে, যা ইচ্ছে করে বৌদিকে বলবি। যে যাই বলুক, যে যাই করুক, এই বাড়িটা ওর যতটা, তোর‌ও ততটাই। তুই মায়ের ঘরে থাকবি,আমাদের ঘরে থাকবি। যেখানে ইচ্ছে থাকবি।"

রনি মনে মনে বলে, "খুব বুঝি, যে যাই করুক মানে কি। আমি যেন বলেছি, বাড়িটা ওর না।" 

ছোটমামী বলে, "এবার পিউকে বৌদি বলা বন্ধ করো মিলি। দিদিভাই বলে ডাকবে। কেমন?"

রনি সিঁড়ির মাথাতেই থেমে থাকে, "উঁহ, সবার সঙ্গে কি কি সম্পর্ক হবে সেসব ঝালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আরে বাবা, সব সম্পর্ক তো আমার জন্য। আমার ব‌উ বলে সবার সঙ্গে সম্পর্ক, সেটা মহারাণী বেমালুম অস্বীকার করছেন, আর বাকিরা তাকে মাথায় তুলে নাচছে। নাঃ এদের ধারেপাশেও আমি যাব না।"

সিঁড়ির উপর থেকে রনি ডাকে, "দাদা, একটা জরুরি কথা ছিল। একটু শুনতে পারবি?"

আস্তেই বলেছে, যাতে মার কানে না যায়। তবে এরা তো প্রত্যেকেই শুনেছে। সবাই মুখ তুলে ওর দিকে তাকায়, এমনকি মিলিও। মিলির সঙ্গে চোখাচোখি হতেই রনি ভাবে মুখ ঘুরিয়ে নেবে, পারে না। মিলিও যে তাকিয়ে আছে। 

মিলিও ভাবছে, "ঝামেলা হয়েছে বলে আমি নাহয় সবার মাঝখানে কথা বলতে পারছি না। ও তো পারত। না, একবার ডেকে কথা বলল না। কি শক্ত পাষাণ ছেলে রে বাবা !"

বনি ততক্ষণে উঠে এসেছে, বরং টেনশন নিয়ে উঠে এসেছে, কি বলবে ভাই? রনি দাদাকে নিজের ঘরে নিয়ে এসে কাচুমাচু হয়ে বলে, "একটা কথা ছিল। তুই একজনের সঙ্গে কথা বলবি পাঁচ মিনিট?"

চলবে