Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 9

Part 15: “হঠাৎ বদলে যাওয়া খবর”
সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল।
ঈশা জানালার পাশে বসে ছিল। হাতে ফোন।
প্রতিদিনের মতো সে মেঘলার “Good morning” message-এর অপেক্ষা করছিল।
কিন্তু আজ…
কোনো message নেই।
১০ মিনিট…
৩০ মিনিট…
১ ঘণ্টা…
তবুও না।
ঈশার বুকের ভেতর অদ্ভুত অস্বস্তি শুরু হলো।
সে নিজেই message করল—
“উঠেছ?”
কোনো reply নেই।
আরেকটা—
“সব ঠিক আছে?”
তাও না।
পুরো দিন চলে গেল।
ফোন silent।
কোনো call না।
কোনো message না।
ঈশা নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করল—
— “হয়তো ব্যস্ত…”
— “হয়তো ফোন কাছে নেই…”
কিন্তু তার মন বলছে—
কিছু একটা হয়েছে।
রাত প্রায় ১০টা।
হঠাৎ ফোনে message এল।
স্ক্রিনে নামটা দেখে ঈশার বুক কেঁপে উঠল—
মেঘলা 
কাঁপা হাতে message খুলল সে।
কিন্তু message পড়তেই তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
“বাড়িতে আমার বিয়ের কথা হচ্ছে…”
মুহূর্তের জন্য সব থেমে গেল।
ঘর…
শব্দ…
সময়…
সব।
ঈশার হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।
তার মনে হলো কেউ বুকের ভেতর থেকে শ্বাস টেনে নিয়েছে।
কিছুক্ষণ সে শুধু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
বিশ্বাসই করতে পারছে না।
তারপর তাড়াতাড়ি call করল।
ওপাশে মেঘলা ফোন তুলল।
কিন্তু কোনো কথা বলছে না।
ঈশা কাঁপা গলায় বলল—
— “এটা কি মজা?”
ওপাশে খুব আস্তে একটা উত্তর—
— “না…”
ঈশার চোখে জল চলে এল।
— “তুমি না বলবে…”
— “তুমি বলবে না…”
মেঘলার গলা ভেঙে যাচ্ছে—
— “আমি বলেছি…”
— “কিন্তু কেউ শুনছে না…”
ঈশা চোখ বন্ধ করল।
তার মাথায় শুধু একটা কথাই ঘুরছে—
“আমি ওকে হারাতে পারি না…”
মেঘলা হঠাৎ বলল—
— “ঈশা…”
— “হুম…”
— “যদি একদিন আমি সত্যিই তোমার থেকে দূরে চলে যাই…”
— “তুমি আমাকে ভুলে যাবে?”
ঈশার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।
সে ধীরে বলল—
— “মানুষ শ্বাস নিতে ভুলে যেতে পারে?”
ওপাশে নীরবতা।
তারপর খুব ছোট্ট একটা কান্নার শব্দ।
সেদিন রাতটা দুজনের কাছেই সবচেয়ে দীর্ঘ রাত হয়ে রইল।
কারণ প্রথমবার—
ওরা অনুভব করল,
ভালোবাসা হারানোর ভয় না…
ভালোবাসাকে হারিয়ে ফেলার বাস্তব সম্ভাবনা।
Part 16: “শেষ নয়, লড়াইয়ের শুরু”
সারারাত ঘুম হয়নি ঈশার।
মেঘলার সেই কথাগুলো বারবার কানে বাজছে—
“বাড়িতে আমার বিয়ের কথা হচ্ছে…”
ভোরবেলা জানালার বাইরে আলো ফুটেছে।
কিন্তু ঈশার কাছে সবকিছু অন্ধকার।
সে বিছানা থেকে উঠে ডায়েরি খুলল।
অনেকদিন আগে একটা লাইন লিখেছিল—
"আমি তাকে হারিয়ে ফেলেছি..."
আজ সেই লাইনের নিচে লিখল—
"না, এখনও হারাইনি।"
সেদিন দুপুরে মেঘলার ফোন এল।
গলাটা খুব ক্লান্ত শোনাচ্ছিল।
— "ঈশা..."
— "হুম..."
কিছুক্ষণ কেউ কথা বলল না।
শেষে মেঘলা বলল—
— "আমি খুব ক্লান্ত হয়ে গেছি।"
ঈশার বুকটা কেঁপে উঠল।
— "কি হয়েছে?"
— "প্রতিদিন একই কথা..."
— "একই চাপ..."
— "একই ঝগড়া..."
তার গলা ভেঙে যাচ্ছিল।
— "আমার মনে হচ্ছে আমি হেরে যাচ্ছি..."
ঈশা চোখ বন্ধ করল।
তারও ভয় হচ্ছে।
কিন্তু আজ সে ভেঙে পড়তে চাইল না।
সে ধীরে বলল—
— "না।"
মেঘলা চুপ।
— "আমরা এখনও হারিনি।"
ওপাশে নীরবতা।
— "তুমি এত নিশ্চিত কীভাবে?"
মেঘলা জিজ্ঞেস করল।
ঈশা একটু হেসে বলল—
— "কারণ তুমি এখনও ফোন করছো।"
— "কারণ তুমি এখনও আমার সাথে কথা বলতে চাও।"
— "কারণ আমরা এখনও একে অপরকে ভালোবাসি।"
মেঘলা কেঁদে ফেলল।
কিছুক্ষণ পর বলল—
— "তুমি সবসময় এমন কথা বলো কেন?"
— "কেমন?"
— "যেগুলো শুনলে আবার বাঁচতে ইচ্ছে করে..."
ঈশা চুপ করে হাসল।
সন্ধ্যার দিকে...
মেঘলা আবার ফোন করল।
আজ তার গলায় অন্যরকম দৃঢ়তা।
— "ঈশা..."
— "হুম?"
— "আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
ঈশার বুক ধড়ফড় করতে লাগল।
— "কি সিদ্ধান্ত?"
মেঘলা ধীরে বলল—
— "আমি কাউকে মিথ্যে আশা দেব না।"
— "মানে?"
— "যদি আমার বিয়ের কথা ওঠে, আমি সরাসরি না বলব।"
ঈশা চুপ।
তার চোখে জল চলে এসেছে।
— "তুমি নিশ্চিত?"
— "হ্যাঁ।"
— "ফলাফল যাই হোক..."
— "আমি অন্তত নিজের কাছে মিথ্যে বলব না।"
এই কথাটা শুনে ঈশার মনে হলো—
অনেকদিন পর সে মেঘলাকে আবার আগের মতো শুনছে।
সাহসী।
জেদি।
নিজের মতো।
সেদিন রাতে...
দুজন অনেকক্ষণ কথা বলল।
ভবিষ্যৎ নিয়ে।
স্বপ্ন নিয়ে।
ভয় নিয়ে।
আর প্রথমবার—
অনেকদিন পরে—
তারা শুধু কাঁদেনি।
একটু হেসেছেও।
কিন্তু...
জীবন সবসময় মানুষকে সহজ রাস্তা দেয় না।
পরের দিন সকালে...
মেঘলার একটা message এল।
"আজ বাড়িতে ছেলে দেখতে আসছে..."
ঈশার হাত থেমে গেল।
তার বুকের ভেতর আবার সেই পুরনো ঝড় শুরু হলো।
এবার কী হবে?
মেঘলা কি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারবে?
নাকি পরিস্থিতি আবার সবকিছু বদলে দেবে?
 To be continued…