Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 11 (Last Part)

নিষিদ্ধ ভালোবাসা
 Part 19: “অপেক্ষার শেষ প্রান্তে”
এক বছর কেটে গেছে।
সময় অনেক কিছু বদলে দেয়—এ কথা সবাই বলে।
কিন্তু কিছু অনুভূতি আছে, যেগুলো সময় শুধু আরও গভীর করে।
ঈশা এখন কলকাতায় একটি প্রকাশনা সংস্থায় কাজ করে। ছোটবেলা থেকে লেখার যে স্বপ্ন ছিল, ধীরে ধীরে সেটাই তার পরিচয় হয়ে উঠছে। তার কবিতা এখন বিভিন্ন ম্যাগাজিনে ছাপা হয়।
তবু প্রতিটি নতুন কবিতার প্রথম পাঠক হওয়ার কথা ছিল একজনের।
মেঘলার।
অন্যদিকে, মেঘলা সত্যিই বিদেশে চলে গিয়েছিল মামার কাছে।
নতুন দেশ।
নতুন ভাষা।
নতুন মানুষ।
কিন্তু প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে সে এখনও ফোনের গ্যালারিতে ঈশার একটা পুরোনো ছবি দেখে।
ছবিটা কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দিন তোলা।
দুজনের মুখে হাসি।
কিন্তু চোখে হাজারটা অজানা কথা।
এই এক বছরে তারা খুব কম কথা বলতে পেরেছে।
কখনও ফোন।
কখনও শুধু একটি মেসেজ—
"ভালো আছো?"
"হ্যাঁ, তুমি?"
কিন্তু এই ছোট ছোট কথার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল হাজারটা অনুভূতি।
একদিন দুপুরে...
ঈশা অফিসে বসে লেখা সম্পাদনা করছিল।
হঠাৎ ফোনটা কেঁপে উঠল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটি নাম।
মেঘলা।
ঈশার হাত কেঁপে উঠল।
— "হ্যালো..."
ওপাশ থেকে সেই চেনা হাসি।
— "একটা খবর দেব?"
— "কি খবর?"
— "আমি ফিরছি।"
ঈশা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিল না।
— "সত্যি?"
— "হ্যাঁ। আগামী সপ্তাহে।"
ঈশার চোখে জল চলে এল।
সে শুধু বলতে পারল—
— "আমি অপেক্ষা করব।"
এক সপ্তাহ পরে...
কলকাতা বিমানবন্দর।
বিকেলের আলো।
অনেক মানুষের ভিড়।
কেউ কাউকে স্বাগত জানাচ্ছে।
কেউ বিদায় দিচ্ছে।
ঈশার বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ যেন আরও জোরে শোনা যাচ্ছে।
প্রতিটি বেরিয়ে আসা মুখের দিকে সে তাকাচ্ছে।
তারপর...
দূরে একটা পরিচিত মুখ।
হালকা নীল পোশাক।
কাঁধ পর্যন্ত চুল।
আর সেই একই মিষ্টি হাসি।
মেঘলা।
দুজনের চোখ এক হলো।
এক বছর আগের সব অভিমান...
সব কান্না...
সব দূরত্ব...
এক মুহূর্তে যেন থেমে গেল।
মেঘলা ধীরে ধীরে এগিয়ে এল।
ঈশাও।
দুজন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।
কিন্তু কেউ কথা বলতে পারছে না।
শেষে মেঘলা আস্তে বলল—
— "অনেক অপেক্ষা করিয়েছি, তাই না?"
ঈশা হেসে বলল—
— "অপেক্ষা যদি তোমার জন্য হয়... তাহলে সেটা কষ্ট না।"
মেঘলার চোখ ভিজে উঠল।
সে হাত বাড়িয়ে দিল।
ঈশা সেই হাতটা শক্ত করে ধরল।
মেঘলা ফিসফিস করে বলল—
— "এবার আর ছেড়ে দিও না।"
ঈশা উত্তর দিল—
— "এবার আর হারিয়ে যেতে দেব না।"
ঠিক তখনই...
পেছন থেকে কেউ ডাকল—
— "মেঘলা!"
দুজন একসঙ্গে ঘুরে তাকাল।
মেঘলার বাবা।
আর তার পাশে মা।
ঈশার বুক আবার কেঁপে উঠল।
সে ধীরে ধীরে মেঘলার হাত ছেড়ে দিতে চাইছিল।
কিন্তু...
মেঘলা এবার হাতটা আরও শক্ত করে ধরল।
সে আস্তে বলল—
— "আজ আর লুকোব না।"
মেঘলার বাবা ধীরে ধীরে তাদের সামনে এসে দাঁড়ালেন।
তার মুখে আগের মতো রাগ নেই।
শুধু গভীর ক্লান্তি।
তিনি কিছুক্ষণ দুজনের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তারপর শান্ত গলায় বললেন—
— "চলো... বাড়ি যাই।"
ঈশা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
এটার মানে কী?
রাগ?
ক্ষমা?
নাকি নতুন কোনো পরীক্ষা?
উত্তরটা মিলবে...
শেষ অধ্যায়ে।
Part 20 (শেষ পর্ব): “ভালোবাসার শেষ ঠিকানা” 
বিমানবন্দরের সেই মুহূর্তে ঈশার মনে হচ্ছিল—আবার কি সবকিছু হারিয়ে যাবে?
মেঘলার বাবা শান্ত মুখে বললেন,
— "চলো, বাড়ি যাই।"
মেঘলা ঈশার হাত ছাড়ল না।
সে ধীরে বলল,
— "বাবা, আজ আর আমি কিছু লুকাব না।"
চারদিকে অনেক মানুষ।
কিন্তু সেই মুহূর্তে যেন পৃথিবীতে শুধু চারজন মানুষই ছিল।
বাড়িতে পৌঁছে দীর্ঘ নীরবতা।
ড্রয়িংরুমে সবাই বসে আছে।
মেঘলার মা এক কাপ চা এগিয়ে দিলেন।
কেউ কথা বলছে না।
শেষ পর্যন্ত মেঘলার বাবাই নীরবতা ভাঙলেন।
— "এক বছর আগে আমি খুব রাগ করেছিলাম।"
— "আমি ভেবেছিলাম সময় সব বদলে দেবে।"
তিনি একটু থামলেন।
— "কিন্তু বদলেছে শুধু একটা জিনিস..."
মেঘলা চুপচাপ শুনছে।
— "আমি বুঝেছি, কাউকে জোর করে তার অনুভূতি বদলানো যায় না।"
ঈশার চোখ ভিজে উঠল।
মেঘলার মা আস্তে বললেন,
— "তোমরা দুজন এক বছর দূরে থেকেও যদি একে অপরকে ভুলতে না পারো... তাহলে সেটা হঠাৎ করে হওয়া কোনো অনুভূতি নয়।"
ঘরের পরিবেশ ধীরে ধীরে নরম হয়ে এল।
ঈশা মাথা নিচু করে বলল,
— "আন্টি... আঙ্কেল... আমি কখনও আপনাদের কষ্ট দিতে চাইনি।"
মেঘলার বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
— "জানি।"
— "আমার ভয় ছিল সমাজ কী বলবে।"
তিনি জানালার বাইরে তাকিয়ে বললেন,
— "কিন্তু সারাজীবন শুধু সমাজকে খুশি করতে গিয়ে নিজের সন্তানের মুখের হাসি হারিয়ে ফেলাও ঠিক নয়।"
মেঘলার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।
সে উঠে বাবাকে জড়িয়ে ধরল।
অনেকদিন পর বাবা-মেয়ে দুজনেই কাঁদল।
কয়েকদিন পরে...
ঈশার বাড়িতেও মেঘলা ও তার বাবা-মা গেলেন।
অনেক কথা হলো।
ভুল বোঝাবুঝি, অভিমান, ভয়—সব নিয়ে।
সব প্রশ্নের উত্তর একদিনে মেলেনি।
সবাই সব বিষয়ে একমতও হলো না।
কিন্তু একটা জিনিস বদলাল—
কথা বলা শুরু হলো।
মাস কয়েক পরে...
কলেজের সেই পুরোনো ক্যাম্পাস।
বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিক প্রথম দিনের মতো।
ঈশা আর মেঘলা ধীরে ধীরে সেই গার্ডেনের দিকে হাঁটছে।
যেখানে একদিন প্রথম বুঝেছিল, তারা একে অপরকে হারাতে চায় না।
মেঘলা হেসে বলল,
— "মনে আছে? তুমি বলেছিলে বৃষ্টিতে কেউ কান্না দেখতে পায় না।"
ঈশা মৃদু হেসে উত্তর দিল,
— "আজ আর কান্না লুকানোর দরকার নেই।"
দুজন পাশাপাশি বেঞ্চে বসে রইল।
বৃষ্টির ফোঁটা গাছের পাতায় পড়ছে।
চারপাশে সেই পরিচিত গন্ধ।
মেঘলা ঈশার দিকে তাকিয়ে বলল,
— "আমরা জিতে গেছি?"
ঈশা একটু ভেবে বলল,
— "না।"
মেঘলা অবাক।
— "তাহলে?"
ঈশা হাসল।
— "আমরা লড়াই করা শিখেছি।"
মেঘলা তার হাতটা ধরল।
— "আর একটা প্রতিশ্রুতি দেবে?"
— "কী?"
— "যত কঠিন সময়ই আসুক, এবার আর চুপ করে দূরে সরে যাবে না।"
ঈশা হেসে বলল,
— "প্রতিশ্রুতি দিলাম।"
সেদিন সূর্যটা ধীরে ধীরে মেঘের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এল।
যেন দীর্ঘ ঝড়ের পর প্রথম আলো।
ঈশা বলল,
— "জানো, আমাদের গল্পটা হয়তো নিখুঁত ছিল না।"
মেঘলা উত্তর দিল,
— "কিন্তু সত্যি ছিল।"
দুজন পাশাপাশি হাঁটতে লাগল।
সামনে লম্বা রাস্তা।
কোনো নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি নেই।
তবু পাশে আছে একজন মানুষ, যে হাত ছাড়বে না।
কখনও।
 শেষ কথা
ভালোবাসা সব সময় সহজ হয় না।
কখনও তা সাহস চায়, কখনও ধৈর্য, কখনও দীর্ঘ অপেক্ষা।
কিন্তু সত্যিকারের ভালোবাসা মানুষকে শুধু একে অপরের কাছে নয়—নিজের সত্যের কাছেও নিয়ে যায়।
— সমাপ্ত — 
গল্পটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।