Read Jharapata 76 by Srabanti Ghosh in Bengali Love Stories | মাতরুবার্তি

Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

ঝরাপাতা - 76

ঝরাপাতা 

পর্ব - ৭৬

🌹💞🌹💞🌹💞🌹

পিউয়ের চুলের মধ্যে আঙ্গুল চালিয়ে বনি বলে, "নতুন করে কি আর হবে? দুজনকে আর এক দুদিন সময় দাও। নিজেরা সব ঠিক করে নিক। তারপর আমাদের বললে বলবে, নাহলে আমরা ডেকে বলব, অনেক তো হল এবার একসঙ্গে থাক।"

- "সত্যিই তাই। একসঙ্গে থাকে না বলেই দুজনের মধ্যে অনেক ফাঁক থেকে যাচ্ছে।"

- "দেখছ না, এতবড় ঝামেলা একদিনে মিটে গেল। আলাদা থাকলেও এক বাড়িতে থাকছে কদিন, এটা খুব ভালো হয়েছে।"

পিউ ফিক করে হেসে ফেলে, "কাল যদি দেখতে, দুজন সিঁড়িতে বসে কি গল্প ! আবার কেমন ধরে ধরে মিলি ভাইকে নিয়ে এল।"

- "কেমন করে? এইরকম?" বনি গভীর চুমু খায় পিউকে জড়িয়ে ধরে। 

পিউ ছটফটিয়ে সরে আসে, "মোটেই না। তোমার খালি চালাকি।"

- "বলোনি তো কখনো, তোমার বোকা লোক পছন্দ?" বনি আবার পিউকে কাছে টানে। 

- "আরে ছাড়ো না, আজ ওদের পাহারা দিতে হবে। আমার মনে হয়, দুজনের কোনো প্ল্যান হয়েছে, গতকালের মতো রাতে দেখা করার।" বনির হাত ছাড়িয়ে পিউ উঠে পড়ে প্রায়।  

বনি হাত ধরে বুকের উপর টেনে নেয় পিউকে, "খেপে গেলে? এখন তুমি ওদের পাহারা দিতে কোথায় যাবে? আমাদের দেখলেই দুজন নাকে সর্ষের তেল দিয়ে ঘুমিয়ে পড়বে। তার চেয়ে বেচারাদের একটু প্রেম করতে স্পেস দাও, আমরাও......."

- "আরে বোকা ! আমরা কি ওদের দেখা দেব নাকি? কোথাও লুকিয়ে থাকব। আড়ি পেতে দেখব, কি করে।" পিউ উত্তেজিত। 

- "আড়ি পাতবে? এটা সিনেমা না সিরিয়ালের সেট পিউ? বাড়ির মধ্যে কোথায় লুকিয়ে আড়ি পাতবে?" বনি চোখ কপালে তোলে। 

- "কেন? সিনেমা সিরিয়াল হবে কেন? কাল আমি কি সুন্দর পর্দার আড়াল থেকে ওদের দেখছিলাম। কথাবার্তা শুনতে পাইনি এখান থেকে। আর সিঁড়ি দিয়ে উঠছে দেখে পর্দা থেকেও ভিতরে ঢুকে গেছিলাম।" উঠে বসে বোঝাচ্ছে পিউ। 

- "পিউ, ওরা কাল প্ল্যান করে দেখা করেনি। হঠাৎ হয়েছে। এমনকি নিজেরাও চমকে একাকার হয়েছে। আজ দেখা করলেও, আগাম সতর্ক থাকবে।" বনি কোলের উপর টেনে নিয়েছে পিউকে, "আমাদের ঘরের দরজা খোলা কিনা, মা ঘুমোচ্ছে কিনা রনি নির্ঘাত সব চেক করবে।" পিউর ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে দিয়েছে বনি। 

পিউ এবার বনির বুকে হেলান দিয়ে গুছিয়ে বসেছে, "ইস দেখতে পাব না?"

- "খুব শখ? আমি বললাম তো, নিজেরাই...."

- "দূর, ওদের নতুন প্রেমটা দেখতে পেলে না মজা হত। দুটোই বাচ্চাদের মতো বোকা বোকা কাণ্ড করছে। তাদের ভাব হ‌ওয়াটা দেখতে হবে না?"

- "আচ্ছা ওরা বাচ্চা? আর আমি বুড়ো হয়ে গেছি? দাঁড়াও দেখাচ্ছি তোমাকে।" পিউকে পুরোপুরি কোলে তুলে বসিয়ে ওর চোখে, ঠোঁটে, গালে চুমু খেতে থাকে বনি। বাড়ির বাকি প্রেমিক যুগলের রাতের অভিযানের ব্যাপারে খুব খুব উৎসাহ থাকলেও বনির আদরে পিউর গলে যেতে সময় লাগে না। স্বাভাবিকভাবেই নিজেও পালটা সাড়া দেয়। 

পিউকে জাপটে ধরে বুকের উপর নিয়ে বনি শুয়ে পড়ে। বনির বুকের উপর শুয়ে এবার পিউ নিজেই ওর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়। দুজন দুজনকে ভালোবাসায় মেতে ওঠে। দুজনেই এত আদরে গড়িয়ে গিয়ে বনি পিউয়ের উপর শুয়ে ওর সর্বাঙ্গে আদরে ভরিয়ে দেয়। পিউ আঁকড়ে ধরেছে বনির কাঁধ। বনি মুঠোয় ধরেছে ওর হাত। নিজের দুহাতে পিউর হাত ছড়িয়ে দেয়। 

হাত ছাড়তেই পিউ জড়িয়ে ধরেছে ওকে। বনি একটা আঙ্গুল বুলিয়ে দিচ্ছে ওর কপাল, চোখে, নাকে, ঠোঁটে। সারা শরীরে ভালোবাসার আবেশ মাখা পিউ আর বনি নিজেদের মধ্যে ডুবে যায়।

🌹💞🌹💞🌹💞🌹

রনি আর মিলি দুজনেই ছটফট করছিল, একটু একে অপরকে দেখার জন্য, একটু হাতে হাত দিয়ে গল্প করার জন্য। আবার দুজনেই জানে, পিউ তো বটেই, বনিও ওদের লুকিয়ে দেখা করতে দেখলে বড্ড খ্যাপাবে। ওরা জানে না, তার পিছনে আসলে কতটা ভালোলাগা থাকবে এদের। দুই পরিবারের আত্মীয় বন্ধু সবাই ওদের কাছাকাছি, হাত ধরাধরি করে জীবনের পথ চলতে দেখতে চায়। 

বহুক্ষণ শুয়ে এপাশ ওপাশ করে রনি আর পারে না, মিলিকে মেসেজ করে, "জেগে আছ?"

ফোনের টুং টাংএ আপাদমস্তক চমকে ওঠে মিলি। চটপট ফোনটা আগে সাইলেন্ট করে, কাকিমা ওষুধ খেয়ে ঘুমোচ্ছে, যদি জেগে যায় ! স্ক্রিনের উপর রনির নাম আর ছোট্ট মেসেজ বলে সেটাও দেখতে পায়। আরও ভয়ে মেসেজ খোলে না, উত্তর আর দেয় না। 

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে রনি বুঝতে পেরেছে, মিলি ভয় পাচ্ছে। ঘুমিয়ে যে পড়েনি, রাতে মিলির‌ও ওর মতো ঘুম আসে না সেটা গতকাল‌ই টের পেয়েছে। মা ঘুমিয়েছে না জেগে আছে, বুঝতে পারছে না বলে, নাহলে ও নিচে নেমে যেত। একবার মিলিকে ডাকত। 

শেষে দুত্তোর বলে ও উঠেই পড়ে। পা টিপে টিপে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসে। ওর কপাল ভালো ততক্ষণে দাদা বৌদি ঘুমিয়ে পড়েছে। তবে গোলাপের মাঝখানে কাঁটাও থাকে, মিলিও ঘুমিয়ে পড়েছে। 

মায়ের ঘরের বাইরে একটু অপেক্ষা করে রনি ঘরে ঢোকে। নিজের বাড়িতে চোর বলে মিলি সন্দেহ করবে বা এরকম পায়ের আওয়াজ লুকিয়ে মায়ের ঘরে ঢুকতে হবে কখনো ভাবেনি। 

মা ঘুমোচ্ছে, এক হাতের উপর মাথা, রনি তাকিয়ে থাকে। একটু অভিমান‌ও হয়, মায়ের মুখের দিকে তাকানোর অধিকার‌ও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল ওর কাছ থেকে। তার সঙ্গেই মনে হয়, মাও নিশ্চয়ই ওর মতোই দুঃখ পেয়েছিল, তাই এত অসুস্থ হয়ে পড়ল। মায়ের পাশে গুটিসুটি হয়ে ঘুমোনো মিলির মুখের দিকে তাকায়। 

হাসি পেয়ে যায় ওর, বড়দের মতো নিজের আত্মসম্মানবোধ বাঁচিয়ে রাখতে নিজেকে কষ্ট দেয় মেয়েটা। আবার কারও এতটুকু কষ্ট হলে তার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। রনির সঙ্গে কথা বলবে না, সম্পর্ক রাখবে না যে বলেছিল, ওর মা অসুস্থ শুনে থেকে, যা যা মা চাইছে, তাই করছে মিলি। ওর ব্যথা লেগেছে থেকেই কত যত্ন করছে ওকে। 

পরম মমতায় মিলির মাথায় হাত রাখে রনি। খুব লোভ হচ্ছে, এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে ওর কপালে সবটুকু ভালোবাসা ঢেলে চুমু খায়। তার বদলে বুকের কাছে জড়ো করে রাখা ঘুমন্ত মিলির হাতদুটো আলতো করে ছুঁয়ে দেয়। হাত বাড়িয়ে ওর নরম ঠোঁটের উপর একটা আঙ্গুল বুলিয়ে দেয়। 

মিলি বোধহয় কিছু টের পায়, মেয়েরা হয়ত গভীর ঘুমেও এক অদ্ভুত জিনগত সতর্কতা বহন করে। একটু নড়ে ওঠে মিলি, ওর জোড়া ঠোঁট অল্প ফাঁক হয়। 

রনি ভয়ে দু পা পিছিয়ে আসে। এত রাতে ঘুমন্ত মিলির ঘরে ওকে না জানিয়ে আসা, ওর ঠোঁট ছোঁওয়া উচিত হয়নি। আর এখন যদি মিলি জেগে যায়, চমকে ওঠে, সে বড় বিশ্রী ব্যাপার হবে। রনি চুপচাপ বেরিয়ে এসে দরজাটা টেনে দেয়। 

নিজের ঘরে এসে মিলিকে বলে, "তোমাকে এভাবে ছুঁতে চাইনি আমি। একটা বাচ্চা মেয়ের মতো ঘুমোচ্ছিলে, তোমাকে যে খুব আদর করতে ইচ্ছে করছিল। খুব ভালোবাসি তোমাকে, অনেক অনেক আদরের তুমি আমার।"

🌹💞🌹💞🌹💞🌹

পরদিন সকালে মিলি একবার বাড়িতে যায়, কিছু জামাকাপড় আনবে। মণিকাকে জিজ্ঞেস করেছিল, এখন কেমন আছে, মিলি বাড়ি ফিরে যাবে কিনা। মণিকা সাফ বলে দিয়েছে, মিলি ওর সঙ্গেই থাকবে। তাই কিছু জিনিসপত্র আনতে পাঠিয়েছে মণিকা আর পিউ মিলে। 

ও চলে যেতেই মণিকা হাসিতে ফেটে পড়ে পিউর কাছে, "ওরে যেভাবে পারিস সমরদাকে বোঝা। নাহলে আমি হাসতে হাসতে পেট ফেটে মরে যাব।"

পিউ ঘনিয়ে আসে, "কি হয়েছে মামনি? কি হয়েছে?"

- "ওরে ঐ পাগল দুটোর জ্বালায় হাসতেও পারছি না প্রাণ খুলে। কি জ্বালা ! কাল রাতে সবে ঘুমিয়েছি, একটা স্বপ্ন দেখে বোধহয় ঘুমটা ভেঙে গেল। চোখ খুলব, একটু উঠে বসে জল খাব কি, আমার ছোট ছেলে......." মণিকা হেসে গড়িয়ে পড়ে। 

আর পিউ গাল ফুলিয়ে দুমদাম ক ঘা বসায় বনির পিঠে, "তোমার জন্য, তোমার জন্য আমি দেখতে পেলাম না। মামনিও দেখল, আর আমি বৌদি হয়েও, হ্যাঁ এ্যাঁ এ্যাঁ এ্যাঁ, আমি কিছুই দেখতে পেলাম না।"

বনি দু চারবারের পরেই খপ করে পিউর দুহাত চেপে ধরেছে। পিউ যত মিথ্যে নাকি কান্নার নাটক করছে, বনি হো হো করে হাসছে। পিউ ওর হাসিতে রেগেমেগে ঠেলতে ঠেলতে ওর‌ই বুকের কাছে ঘেঁষটে গেছে। মণিকা আগেই হাসছিল, এখন এদের দুজনের কাণ্ডে আরও হাসছে। 

রনি সবে নিচে নামছিল, খেয়ে ইউনিভার্সিটি যাবে। বনি আর পিউকে ঐভাবে হাসতে দেখে মুচকি হেসে বলে, "দাদা আজ অফ নিয়ে নে।"

তবে তখনও রনি জানত না, দাদাবৌদিকে আওয়াজ দিয়ে ও কি বিপদ করেছে। আজ সন্ধ্যায় ওকে আর মিলিকে ধরতে এরা তিনজন কি প্ল্যান করবে। 

চলবে