Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

মার্কস বাই সিন - 12

মার্কস বাই সিন–১২

আহান কিছুক্ষণ মাথা নীচু করে চুপ করে থাকে, তারপর ধীর গলায় বলে “তুই জানিস আমি এখন কোন কেসে নিয়ে কাজ করছি?"

ঋষিল ধীরে মাথা নাড়ায় "জানি, তুই কার্লের কেস নিয়ে কাজ করছিস, যেটা নিয়ে কাজ করতে সাধারণত অফিসাররা ভয় পায়।"

আহান মৃদু হাসে। তবে পরক্ষণেই ওর চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে, মুখবায়ব ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে যায় তার। "ঋষিল, এই 'কার্ল' শুধুমাত্র সাধারণ কোনো নাম নয়, ও যেন ছায়া। থাকেও আবার থাকে না।"

"মানে? কি বলতে চাইছিস তুই?" ভ্রু নাচিয়ে প্রশ্ন করে ঋষিল।

"মানে এই কার্ল আসলে একটি ছায়া। যার কোনো প্রমাণ নেই, যাকে আজ অবধি কেউ দেখতে পায়নি। শুধু ওর নামের আতঙ্ক রটে আছে শহরের গায়ে। গত দুই সপ্তাহে ওর প্রায় অনেক ঘাঁটিতেই গিয়েছিলাম। কিন্তু কাজের খুব একটা কিছু হাতে আসেনি। জানিস খুব ধুর্ত সে। এমনি এমনি "কিং" বলে ডাকে না। প্রথমে খুব হালকা ভাবেই নিয়েছিলাম এই কার্লকে। কিন্তু যতো দিন যাচ্ছে তত বুঝতে‌ পারছি, যে লোকটা এত বছর ধরে ক্রাইম করার পর‌ও শুধুমাত্র নাম আর বাঁ হাতের ট্যাটু ছাড়া কিছু জানা যায় না, সে কতোটা শক্তিশালী হতে পারে।"

"তবে আমার মনে হয় পুলিশের মধ্যে থেকেও কেউ সাহায্য করছে কার্লকে।" ঋষিল বলে ওঠে।

"নিশ্চয়......। নয়তো ভেতরের এতো ইনফরমেশন পায় কি করে সে। তবে আমিও একটা চাল চেলেছি। দেখি কি হয় এরপর।"

"কিসের কথা বলছিস তুই?" ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করে ঋষিল।

"কাল তোকে এক জায়গায় নিয়ে যাবো। রেডি থাকিস। আর হ্যাঁ তোর কাজ শুরু করে দে।"

"বেশ, তুই যা বলিস।" মাথা নাড়িয়ে মৃদু হাসে ঋষিল।

আহান কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বলে "ঋষিল, আমি চাই তুই আমার সঙ্গে কাজ কর,অফিশিয়ালি। আমাদের ইউনিটে। করবি ভাই।”

ঋষিল হঠাৎ চমকে যায়, কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায় সে। কারণ ও এটা এক্সপেক্ট করেনি। ঋষিল কয়েক মুহূর্ত আহ্বানের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে "তোর ইউনিটে..... মানে এইভাবে হুট করে।"

"দেখ ভাই, এটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ একটা কেস। আমার ওপর এই কেসের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কার্ল খুব পাওয়ারফুল। ওকে শেষ করতে গেলে আমার স্ট্রং টিমের প্রয়োজন। মোটামুটি আমার টিমে যারা আছে তাদের চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে পারি। কিন্তু আমার তোকে‌ও চাই। তুই বাইরে থেকে আমাকে পুরোপুরি সাহায্য করতে পারবি না। তাই তোকে আমার সাথে কাজ করতেই হবে। আরে বাব্বা তুই এর আগেও আমাকে হেল্প করেছিস.....। প্লিজ রাজি হয়ে যা না ভাই।"

ঋষিল কয়েক মুহূর্ত ভাবে, তারপর মাথা নাড়িয়ে বলে "আহানদা, আমি জানি তোর আমাকে এই কেসের জন্য ভীষণ প্রয়োজন, কিন্তু হ্যাকিং-টা আমি শখে করি। তোর কোনো প্রয়োজন থাকলে আমি নিশ্চয় তোকে সাহায্য করতে রাজি আছি, কিন্তু আমি তোর প্রপোজাল নিতে পারবো না, সরি।" ঋষিল মাথা নিচু করে নেয়‌।

আহান কয়েক মুহূর্ত ওর মুখের দিকে তাকায়। তারপর মাথা নাড়িয়ে বলে "এতো তাড়াতাড়ি না করে দিস না, ভাই। একটু ভাব, তারপর না হয় ওর সিধান্ত শোনাস।"

"কিন্তু আহানদা..."

"ছাড় এখন, তারপর বল বাড়িতে সবাই কেমন আছেন? কতোদিন থাকছিস তুই এখানে...?"

আহান আর ঋষিল নিজের মধ্যে গল্পে মেতে ওঠে। ওরা খেয়াল‌ও করে না, ওদের থেকে বেশ দূরে একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। সেই গাড়ির চালক আসনে বসা মানুষটার দৃষ্টি এই দুইজনের‌ ওপরেই স্থির এবং তার মুখে খেলা করছে একটা তির্যক হাসি।

রাত দুটো। আহান পকেট থেকে নিজের ফ্ল্যাটের চাবি বের করে দরজা খুলে ভেতরে ঢোকে। ওর সঙ্গে আজ ঋষিলও এসেছে। এই ফ্ল্যাটটা আহানের একান্ত নিজস্ব জায়গা। যদিও প্রতিদিন ওর দাদার বাড়িতে যাতায়াত থাকে, তবুও আলাদা থাকার সিদ্ধান্তটা আহান নিজের পেশাগত কাজের জন্যই নিয়েছে। তবে সত্যি বলতে একলা থাকতে খুব একটা মন্দ লাগে না তার।

ফ্ল্যাটের ভেতরে ঢুকে দরজা লক করে, একটা একটা করে সমস্ত লাইট জ্বালিয়ে দেয় আহান। ঋষিল জুতো খুলে এগিয়ে গিয়ে পিঠের ব্যাগটা খুলে রেখে সোফায় গা এলিয়ে দেয়, একেবারে হাত-পা ছড়িয়ে। এর আগেও বহুবার এসেছে সে এই ফ্ল্যাটে এবং মাসের পর মাস থেকেছে। ওর জন্য আলাদা ঘর আছে এখানে।

আহান এবং ঋষিল দুইজনের‌ই দাদার বাড়িতে ডিনার করে এসেছে। তাই এখন দরকার শুধু ঘুমের।
ঋষিল একটা মস্ত হাই তুলে প্যান্টের পকেট থেকে ফোন বের করে বসে। বারবার চোখ কচলাতে কচলাতে ঘুম ঘুম চোখে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকায়।

আহান ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসে। ঘুম ওর‌ও পাচ্ছে। বেশ কয়েকদিন ধরে খুব খাটাখাটনি হচ্ছে। ওর‌ও শরীরটা একটু রেস্ট চাইছে। কিন্তু ঘুমালে চলবে না—এই কেস সম্পর্কিত কিছু ফাইলগুলো আজ রাতেই চেক করা দরকার। শহরের একটার পর একটা অপরাধ বাড়ছে। এই সময় যদি আহানের মতো পুলিশ অফিসাররা শুধু নিজেকে নিয়ে চিন্তা করে... তাহলে যারা তাদের ভরসা করে—সাধারণ মানুষগুলো... তাদের কথা ভাববে কে?









চলবে.........................................