পরাণ বঁধুয়া
পর্ব - ৫
🌿🍂🌿🍂🌿🍂🌿
--"এই ব্যাপারে আমিও শেয়াল। তোমাদের দলের। তপন আর মোহনেরও বোধহয় একই মত। তাও এলে আমি কথা বলব। সমস্যা হল, তোমার ঐ এঁড়ে ছেলে, ও তো সিংহগর্জন ছাড়বে।" চিন্তা থাকলেও স্বপনবাবুর ঠোঁটের কোণে হাসি।
--"তা তো ছাড়বেই। সিংহীর বাচ্চা তো সিংহই হবে। তবে আমি বলে দিলাম, এই মেয়েই আমার বউ করে চাই।" বড়গিন্নি রায় দিয়ে দেয়।
--"শোনো, তোমাদের সবাইকে একটা কথা বলছি, বুবুন যেন কিছু না জানে। আমি আগে সবাইকে জিজ্ঞেস করি। তারপর সময় বুঝে ওর সঙ্গে কথা পাড়ব সবার সামনে। একবার বিয়েতে না বলে যথেষ্ট ঝঞ্ঝাট হয়েছে ওদের বাড়ির সঙ্গে। বাবলুর মা যতদিন বেঁচে ছিলেন, আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেননি। তাই এবার আমাদের খুব সতর্ক হয়ে কথাবার্তা বলতে হবে।" চোখটা যে বিশেষ করে মৌয়ের দিকে রেখে কথাগুলো বললেন স্বপনবাবু, সবাই বোঝে।
--"আমি কাউকে কিছু বলব না বাবা। প্রমিস। তুমি যা বলার বলবে। শুধু তোমাকে আমি বলছি, রুমুকে আমার খুব ভাল লেগেছে।" মৌ বাবার কাছে ঘেঁষে বসে।
ওর মাথায় হাত বুলিয়ে স্বপনবাবু বলেন, "ভাল সবার লেগেছে। তার উপর, যেটা মুখে আনতে চাই না, তাই যদি হয়, আমার বড় গ্লানি থাকবে রে, বাবলির ইচ্ছেপূরণ না করতে পারলে।"
🧡
💛
🧡
💛
🧡
একে একে বাকিরা সব অফিস থেকে ফেরে। বাড়ির মেয়েরা মুখ টিপে আছে। ফ্রেশ হয়ে চা জল খেয়ে মোহন বলে, "একটু ও বাড়ি থেকে ঘুরে আসি বড়দা। অহনা, যাবে তো?"
স্বপনবাবু থামিয়ে দেন, "আজ তোরা যাস না। আমার কিছু সাংসারিক কথা আছে। বরং পুপুল আর বুবুন ও বাড়িতে গিয়ে একবার দেখা করে তুলি আর মিলিকে নিয়ে আয়। সিনেমা দেখে ওবাড়িতে ফেরার কথা ওদের।"
--"আমি? আমার একটু কাজ ছিল বাবা।" বুবুন সত্যিই সময়ে ফিরলেও অল্পই আড্ডায় বসে। নিজের ঘরে চলে যায় এই কয়েক মাস ধরে।
--"বেশি সময় তো না। যাবি, দুচারটে কথা বলে চলে আসবি। ওরা আসার পর একবারও ওবাড়ি যাসনি। ভাল দেখায় না। সেজন্যই পাঠাচ্ছি। নাহলে তুলিরা একাই চলে আসবে।"
দুই ভাই হাঁটা দেয়, বেশ খুশিমনেই। কারণ অনেকদিন দুজনের একসঙ্গে বেরোনো হয় না।
পুপুল রাস্তায় বলে, "তোর কাজটা কবে শেষ হবে রে? কতদূর এগোলি তোরা?"
--"কাজ অনেকটাই হয়েছে। সময়ের তুলনায় অনেক ভালই হচ্ছিল। গদ্দারি করল সুতপা।"
--"মানে? সুতপা তো তোর সবচেয়ে পুরনো এ্যাসিটেন্ট। তুই যখন জয়েন করলি ও একাই ছিল। তুই বলতি, দারুণ মেয়ে, দারুণ কাজের। সে গদ্দার?"
--"আমি গদ্দারই বলব। তলে তলে প্রেম করত কলেজ থেকে। সে ছেলেও আমাদের ইনস্টিটিউটে জুনিয়র সায়েন্টিস্ট ছিল। খুব ভাল কথা। তুই এই প্রোজেক্টে ঢুকলি কেন? তিনমাস কাজ করে বলে বিয়ে করব। আবার ওর বর বেঙ্গালুরু ব্রাঞ্চে প্রোমোশন পেল। যেহেতু বিয়ে হয়েছে, একসঙ্গে থাকতে চায় বলে এ্যাপ্লিকেশন করে চলেও গেল। আমাকে বাঁশ দিয়ে গেল।"
--"তা ঠিক। এত কাজের মেয়েটা চলে গেলে ক্ষতি তো বটেই।"
--"আরে দূর, সে ক্ষতি না। প্রোজেক্টে তো আমার অন্য দুই এ্যাসিটেন্ট দেবর্ষি আর প্রিয়া ছিলই। সাড়ে তিন বছর ওরা আমার সঙ্গে। সেই হিসেবে সুতপা ছাড়ার পর আজ ওরা বেশিদিন কাজ করে ফেলেছে আমার জুনিয়র হয়ে। সুতপার চেয়েও সিনসিয়ার, হার্ড ওয়ার্কিং। এখন সুতপা চলে যেতে, অন্য দুটো ছেলে এসেছে, বিশ্বরূপ আর শুভদীপ। এরাও বেশ ভাল কাজের।"
--"তাহলে আর কি? ছাড় সুতপার কথা।"
--"তুই বুঝিসনি রাঙাদা। ও যতটা কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল, আমার ওর পার্টটা নতুন করে করাতে হয়েছে। যদিও সবাইকে ইনিশিয়াল স্টেজে আমি ভেঙে ভেঙে ছোট ছোট করে এক দুদিনের কাজ বুঝিয়ে দিয়েছি। পুরো কাজটার কোনো ধারণাই দিই নি। তবুও, বলা যায় না। কোনো রিস্ক নেওয়া উচিত নয়। তবে আমি মিটিং এ ইনস্টিটিউটের ডীন ডঃ রেবন্ত বড়গোঁহাইকে দিয়ে এই সার্কুলার পাশ করিয়েছি, এই প্রোজেক্ট থেকে এভাবে নিজে এ্যাপ্লাই করে বা অন্য কাজের অফার পেয়ে কেউ মাঝপথে সরতে পারবে না। তাহলে প্রোজেক্টের গোপনীয়তা বজায় রাখা সম্ভব হবে না।"
--"খুব গোপন প্রোজেক্ট নাকি রে? কিসের ব্যাপারে?"
--"সব তোরও জানতে হবে না। শুধু জেনে রাখ, ভীষণ গোপনে কাজটা করতে হবে। যাকগে, মামনিদের বাড়ি এসে গেছে। চুপ করে যা।"
ছেলে মেয়েরা সব শর্মিকে ডাকে মামনি। এমনকি রুমুকেও তাই ডাকতে শেখানো হয়েছে।
বুবুনরা দুই ভাই বেরিয়ে যেতেই, স্বপনবাবু নিজের দুই ভাইকে কথাটা বলেন। বিকেলে শর্মিরা আসা থেকে সবটাই। যা ভাবা গেছিল, তাই হয়, এরাও রাজি। সবাই মিলে ঠিক হয়, এখন সবে আটটা বাজে। ছেলেরা ফিরে এলে, আজই কথাটা পাড়া হোক।
চলবে