Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

পরাণ বঁধুয়া - 9

পর্ব - ৯

--"থামো তো। আমি জানি। গল্প করতে এসেছ না ছাই। কফির খোঁজেই এসেছিলে। আমি গল্প করছি দেখে আমাকে যেতে দিতে চাইছ না।" বৌমণি উঠে পড়ে। 

রাঙাদা বলে, "হ্যাঁ হ্যাঁ। ওকে কফি আর কি লাগবে দাও। ওকে উঠে আসতে হবে কেন? জানো না, ওর ব্যস্ততা কত? জানো না আমাদের বাড়ির মান সন্মান সব একা ও বোঝে।" 

বুবুন অবাক হয়ে চেয়ে থাকে। এত রাগ ওর উপর? বাকিরাও একটু লজ্জা পেয়ে যায়। আসলে রাঙাদা এরকম। ও রাগী নয়। তবে রাগ, দুঃখ, আনন্দ যাই হোক, চেপে রাখতে পারে না। বড় দিলখোলা ওর দাদাটা। কিন্তু ছোটবেলা থেকে কখনো ওর উপর এতটুকু রাগ করেনি রাঙাদা। সে আজ এভাবে কথা শোনালো?

--"আহ, পুপুল, মাথা ঠান্ডা কর।" ছোটকা তাড়াতাড়ি বলে উঠেছে, "কি বলছি তোকে? বুবুনের রুমুকে ভাল নাই লাগতে পারে, বিয়েতে মত নাই থাকতে পারে। আমরা সবাই রুমুকে ভাল রাখতে চাই। সেটা তো এ বাড়িতে ওর বিয়ে না হলেও আমরা করতে পারব। রাগারাগি করে কি হবে?"

--"হ্যাঁ, তুমিও না, কি যে বলো। বুবুন কি করবে? পছন্দ না হলেও তাকে বিয়ে করতে হবে?" বৌমণির কথা শুনে বুবুন ওর দিকে তাকিয়ে থাকে, সত্যি বলছে না ঠেস দিচ্ছে, কে জানে! 

--"আচ্ছা আচ্ছা, আমি বুবুনকে কিছু বলছি না। তেমনি তোমরাও তো এটা বললে, রুমুর কোনো দোষ থাকত, বুঝতাম। রুমুর বাবার জন্য ওর বিয়ে হবে না? তাও যদি বাইরের লোক এসব পয়েন্ট তুলত তাহলেও বুঝতাম।" পুপুল গোঁ গোঁ করে। 

--"মানে?" এবার ছিটকে ওঠে বুবুন, "রুমুর বাবা কোথা থেকে এল এতকাল পর? বলিসনি তো কেউ? কি হয়েছেটা কি?"

--"তুই কি বকছিস বলত? রুমুর বাবা কেন আসবে? তুই যে বলেছিস, রুমুর বাবা যেরকম, তাতে ও আমাদের বাড়ির বৌ হতে পারে না। ও সংসার ভাঙবেই। সেই কথা হচ্ছে।" ছোটকা বুঝিয়ে বলে। 

--"আমি? আমি বলেছি এসব কথা? কি খাচ্ছ আজকাল তোমরা? সবাই কানে ভুলভাল শুনছ?" বুবুন পুরো খাবি খায়। 

--"বললে তো। তুমিই তো বললে, ও এ বাড়ির বৌ হতে পারে না। সংসার ভাঙলে তুলির শ্বশুরবাড়িতে মুখ দেখানো যাবে না।" বৌমণি কোমর বেঁধে নামে। 

--"তার মধ্যে ওর বাবা কোত্থেকে এল? ওর বাবার নাম কখন বললাম আমি? তোমরা আমার মুখে কথা বসাচ্ছ কেন? ছি ছি ছি! বাবলিপিসি, পিসো, ওরা যদি শোনে আমি নতুন পিসোর কথা তুলেছি, আমাকে ওরা কি ভাববে! তোমরা এতক্ষণ এই ঘরে বসে আমার নামে এই কথাগুলো বানালে? কেন, না আমি তোমাদের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি না বলে? পারলে তোমরা এটা করতে?"

--"আমরা তোর নামে কথা বানিয়েছি?" এবার ছোটকাও তেরিয়া হয়ে ওঠে। 

তার মধ্যে ঘরে এসেছে ছোটমা। রাতের খাবার জন্য বলতে এসেছিল বোধহয়, এখন সবাইকে থামায়। বুবুনকে বলে, "তোর আপত্তি আছে বুঝলাম। আমিও ভেবেছি, ওর বাবা সংসার ভেঙেছে, তুই সেটাই বলছিস। তবে এখন মনে পড়ছে, ওর বাবার ব্যাপারে তুই কিছু বলিসনি। এখন খুলে বলত, তোর আপত্তির কারণটা কি।"

বুবুনের মেজাজ বিগড়ে গেছে। ও গোঁজ হয়ে বসে আছে। সবাই তাড়া দেয়, কি হল বল? 

এবার বাপের স্টাইলে খেঁকিয়ে ওঠে, এইসময় বোঝা যায়, বুবুন বাপ কা বেটা, "আমার বলার জন্য যেন সব বসে আছে। আমি বললে বিশ্বাস করবে? আমি একটা কথাও বলব না।" 

চেয়ার থেকে উঠে হাঁটাও দিচ্ছিল, ডাইভ দিয়ে পড়ে ভাইয়ের কোমর জড়িয়ে ধরে পুপুল, "যাচ্ছিস কোথায় হতভাগা? একদম মেজাজ দেখাবি না।"

--"ছাড় তুই আমাকে। তোকে তো বলবই না। তুই যা কথা শোনালি।" বুবুন ঝটকা দিয়ে ছাড়াতে চায়। 

--"এ্যাই চুপ করে বসতো এখানে। যে বিয়ে করবি না, তার কারণ আবার লোক বেছে বলবে! হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, প্রেমিকার নাম জিজ্ঞেস করা হচ্ছে।" এক দাবড়ানি দেয় ছোটকা। তার পরই কি মনে হতে বলে, "বুবুন, একটা কথা বলত। বড়রা কেউ নেই। আমাকে বল, কেউ আছে ঠিক করা? মেয়েটা পড়ছে টড়ছে? তাই তোর সময় চাই?"

বুবুন এবার রাগে জ্ঞান হারায়, "যা নয় তাই বলে যাচ্ছ তোমরা। এখন আবার একটা মেয়েও হাজির করে ফেললে। কি চাও? বাবা আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিক? ঠিক আছে তাই হবে। আমাকে তো বলাই হয়েছিল, দিল্লীর হেড অফিস থেকে কাজটা করতে। আমি এখানে থাকব বলে ব্রাঞ্চ থেকে শান্তিতে কাজ করা যাবে বলে পারমিশন করিয়েছিলাম। এবার দিল্লীই চলে যাব। তোমরা তাহলে খুশি হবে।"

চলবে