Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 8

Part 13: “দূরত্ব, কিন্তু সংযোগ আছে”
ফোনের ওপাশে সেই গলা…
— “ঈশা…”
ঈশার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।
— “তুমি কোথায়? তুমি ঠিক আছো?”
তার গলা কাঁপছে।
মেঘলা একটু চুপ করে থেকে বলল—
— “আমি ঠিক নেই… তোমাকে ছাড়া কিছুই ঠিক লাগছে না…”
ঈশার বুকটা ভেঙে গেল।
— “তুমি না বলে চলে গেলে কেন?”
— “আমাকে যেতে বাধ্য করা হয়েছে…”
মেঘলার গলায় কষ্ট।
— “আমার ফোন নিয়ে নিয়েছিল… তোমার সাথে contact করার কোনো উপায় ছিল না…”
ঈশা চোখ বন্ধ করল।
— “আমি ভেবেছিলাম তুমি… আমাকে ছেড়ে দিয়েছো…”
মেঘলা তাড়াতাড়ি বলল—
— “Never… আমি তোমাকে কখনো ছাড়ব না…”
এই কথাটা শুনে ঈশার ভেতরে একটু আলো ফিরে এল।
দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ।
কিন্তু এই নীরবতা আর কষ্টের না—
এটা reconnect হওয়ার।
ঈশা ধীরে বলল—
— “তুমি কোথায় এখন?”
— “অন্য শহরে… নতুন কলেজে…”
মেঘলা বলল।
— “সবকিছু নতুন… কিন্তু তুমি ছাড়া কিছুই complete না…”
ঈশা হালকা হেসে কেঁদে ফেলল—
— “আমারও একই অবস্থা…”
এরপর থেকে…
প্রতিদিন রাতে তারা কথা বলতে শুরু করল।
দিনের শেষে…
সবাই ঘুমিয়ে গেলে—
তাদের ছোট্ট পৃথিবী তৈরি হয় ফোনের ওপাশে।
— “আজ কী করলে?”
— “তোমাকে miss করেছি…”
— “আজ তোমার কথা খুব মনে পড়ছিল…”
এই ছোট ছোট কথাগুলোই তাদের বাঁচিয়ে রাখছে।
কিন্তু…
দূরত্বের একটা কষ্ট তো আছেই।
একদিন…
ঈশা বলল—
— “আমরা কি এভাবে থাকতে পারব?”
মেঘলা একটু চুপ করে বলল—
— “যতদিন তুমি আছো… আমি পারব…”
— “আর যদি একদিন না থাকি?”
ঈশার গলায় ভয়।
মেঘলা সাথে সাথে বলল—
— “তুমি থাকবে… কারণ আমি ছাড়ব না…”
এই বিশ্বাসটাই তাদের শক্তি।
কিন্তু বাস্তব সহজ না…
একদিন…
ঈশার মা তার ফোন দেখে ফেললেন।
— “তুমি আবার ওই মেয়ের সাথে কথা বলছো?”
তার গলায় রাগ।
ঈশা চুপ।
— “আমি বলেছিলাম সব শেষ করতে!”
ঈশা এবার ধীরে বলল—
— “আমি পারব না…”
ঘরে আবার ঝড় শুরু হলো।
ওদিকে…
মেঘলার বাড়িতেও চাপ বাড়ছে।
— “তুমি এখনও ওই মেয়ের সাথে contact রাখছো?”
তার বাবা জিজ্ঞেস করলেন।
মেঘলা এবার মিথ্যে বলল—
— “না…”
কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে ভেঙে পড়ছে।
রাতে…
ফোনে কথা বলতে বলতে—
ঈশা হঠাৎ বলল—
— “আমরা কি ভুল করছি?”
মেঘলা চুপ।
— “সবাই যদি আমাদের বিরুদ্ধে হয়… তাহলে কি এটা ঠিক?”
ঈশার গলায় কষ্ট।
মেঘলা ধীরে বলল—
— “সবাই ঠিক হতে পারে না… আমরা ভুল হতে পারি না…”
এই কথাটা আবার ঈশার মনে শক্তি দিল।
কিন্তু তারপরও—
একটা ভয়, একটা uncertainty থেকে যাচ্ছে।
 ভালোবাসা আছে…
 কিন্তু ভবিষ্যৎ অজানা…
সেদিন রাতে…
ঈশা ডায়েরিতে লিখল—
“দূরত্ব আমাদের আলাদা করতে পারেনি…
কিন্তু ভবিষ্যৎ কি পারবে?”
ওদিকে…
মেঘলা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বলল—
— “আমি তোমার কাছে ফিরব… একদিন…”
 
 Part 14: “থাকবো… না চলে যাব?”
সময় এগিয়ে যাচ্ছে।
দূরত্বের সাথে মানুষ নাকি অভ্যস্ত হয়ে যায়—এমন কথা অনেকেই বলে।
কিন্তু ঈশা আর মেঘলার ক্ষেত্রে যেন উল্টো হচ্ছে।
যত দিন যাচ্ছে, ততই একে অপরকে আরও বেশি করে মনে পড়ছে।
রাত।
ফোনে কথা হচ্ছে।
আজ দুজনেই চুপচাপ।
অদ্ভুত একটা নীরবতা।
মেঘলা ধীরে বলল—
— “ঈশা…”
— “হুম…”
— “তুমি কখনো ভেবেছো… যদি আমরা সব ছেড়ে চলে যাই?”
ঈশা থেমে গেল।
— “মানে?”
— “মানে… নতুন একটা শহরে… নতুন জীবন…”
— “যেখানে কেউ judge করবে না…”
— “যেখানে শুধু তুমি আর আমি থাকবো…”
ঈশার বুকটা কেঁপে উঠল।
এক মুহূর্তের জন্য সে চোখ বন্ধ করল।
সে কল্পনা করল—
সকালে দুজন একসাথে চা খাচ্ছে…
বৃষ্টির দিনে বারান্দায় বসে আছে…
ঝগড়া হচ্ছে…
আবার মান-অভিমান…
ছোট্ট একটা জীবন…
তার ঠোঁটে অজান্তেই হাসি চলে এল।
কিন্তু পরের মুহূর্তেই—
মায়ের মুখটা মনে পড়ল।
বাড়ি…
সব পরিচিত মানুষ…
সে ধীরে বলল—
— “না…”
ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা।
মেঘলা আস্তে বলল—
— “কেন?”
ঈশার গলা ভারী হয়ে গেল—
— “কারণ ভালোবাসি বলে সব ছেড়ে যেতে পারব না…”
— “আমি চাই না আমাদের জন্য সবাই কষ্ট পাক…”
মেঘলা কিছু বলল না।
অনেকক্ষণ পর সে ধীরে বলল—
— “তাহলে আমরা কী করব?”
ঈশার চোখ ভিজে উঠল।
কারণ সত্যি বলতে—
তার কাছে কোনো উত্তর নেই।
হঠাৎ ফোনের ওপাশে খুব আস্তে একটা কান্নার শব্দ।
ঈশা চমকে উঠল—
— “মেঘলা… তুমি কাঁদছো?”
মেঘলা তাড়াতাড়ি বলল—
— “না…”
ঈশা হালকা হেসে বলল—
— “তুমি এখনও মিথ্যে বলতে পারো না…”
ওপাশে আবার চুপ।
তারপর মেঘলা বলল—
— “আমি শুধু ভয় পাই…”
— “একদিন যদি তুমি ক্লান্ত হয়ে যাও…”
— “একদিন যদি তুমি আমাকে ছেড়ে দাও…”
ঈশার চোখ দিয়েও জল গড়িয়ে পড়ল।
সে ধীরে বলল—
— “আমি মানুষ…”
— “আমি ভয় পাই…”
— “আমি দুর্বল হই…”
— “কিন্তু একটা জিনিস জানি…”
মেঘলা চুপ করে শুনছে।
— “আমি তোমাকে ভালোবাসি…”
— “এটাই সত্যি…”
ওপাশে কিছুক্ষণ কোনো কথা নেই।
তারপর খুব আস্তে—
— “আমিও…”
সেদিন রাতে দুজনেই ফোন কেটে দেওয়ার পর ঘুমাতে পারেনি।
কারণ একটা প্রশ্ন মাথার ভেতর ঘুরছে—
ভালোবাসা থাকলেই কি একসাথে থাকা যায়?
 To be continued