Featured Books
বিভাগ
শেয়ারড

পরাণ বঁধুয়া - 17

পরাণ বঁধুয়া

পর্ব - ১৭

ছোটকা বলে, "হয়ে গেল। বুবুন, তুইও কিসব কিনেছিলি না, তুলির বিয়ের জন্য? ঐ পরে নিজেও বিয়ে করে নিস। দুটো বিয়ে এক খরচে চালাচ্ছে, তাও কিপটে বুড়ো একটা পয়সা খসাবে না।"

স্বপনবাবু বলে, "কে বুড়ো রে? তোর বাবা ছিল বুড়ো। এ বাড়িতে আর কেউ বুড়ো নেই।"

মেজকা বলে, "এই দেখো। এরা আবার রাগারাগি করে। তার চেয়ে স্বীকার করে নাও না, বয়েস হয়েছে। তা বয়েস হলে কি সাজগোজ করব না? আমাদের তুলি, বুবুন, রুমু, এতজনের বিয়ে, আমরা সাজগোজ করব বয়স হলেও।"

তীর্থর বাড়িতেও খবর দেওয়া হয়েছিল। ওরা এসে পৌঁছেছে। ঘরে ঢুকতে ঢুকতে তীর্থ বলে, "বাঃ যেই ঘরের বৌ পেয়ে গেল, এরা আমার নাম করাও ছেড়ে দিয়েছে। সাধে বলে, যম জামাই ভাগনা, কভু না হয় আপনা।"

স্বপনবাবু খেঁকিয়ে ওঠে, "কথার ঝুড়ি সব একেকটা। তা তুমি নিজে ঐ তিন ক্যাটাগরির কোনটা?" 

সবার হাসিতে ছাদ ফাটোফাটো। বাবলি চেয়ে থাকে, দুলে দুলে হাসছে রুমু। মৌ, তুলি, মিলির সঙ্গে গড়িয়ে পড়ছে হেসে, কানে কানে কি গোপন কথা বলে আবার হাসছে। গভীর শান্তিতে মন ভরে যায় বাবলির। 

🦋🦋🦋🦋🦋

খাওয়া দাওয়ার পর সবাই ঢুকেছিল গিয়ে বুবুনের ঘরে। টুকটাক ঠাট্টাও হচ্ছিল দু জোড়া বর কনেকে নিয়ে। তার মধ্যে তীর্থ বলল, "আমাদের তো আজ সিনেমা আর লাঞ্চের প্ল্যান ছিল। তা শালাবাবুর পাকাদেখার কল্যাণে লাঞ্চ যা হয়েছে, অজগরের মতো লাগছে। এখন একটু বেরিয়ে পড়লে হয় না?" 

তীর্থর বোধহয় ইচ্ছে ছিল হবু বৌয়ের সঙ্গে একপাক ঘুরে আসে। এরপর বিয়ের ডামাডোলে আর কি হবে? তুলি লজ্জায় খুব একটা আগ্রহ দেখায় না। অন্যরাও জমিয়ে গল্প শুনছে। তপনবাবু গল্প জুড়েছেন, কমবয়সে এক কলিগের বিয়েতে বরযাত্রী গিয়ে কেমন নাকাল হয়েছিলেন। সেই দুষ্টু কলিগ আগে থেকে জানায়নি তার বৌয়ের একটি হুবহু জমজ বোন আছে। 

ছোটমা ইশারায় ছোটকাকে কি বলে বেরিয়ে আসে। একটু পরেই ছোটকাও নিজেদের ঘরে চলে আসে, "কি ব্যাপার বলোতো? কি বলবে?"

--"শোনো, বুবুন রাতারাতি কি ভেবে বিয়েতে রাজি হয়ে গেল। রুমুকেও একঘন্টার মধ্যে পটানো হল। দুজনেরই তেমন কোনো সাংসারিক অভিজ্ঞতা নেই। রুমুর কথা বাদ দাও, বাচ্চা মেয়ে। ওকে নাহয় আমরা আস্তে আস্তে বুবুনের ব্যাপারে সব শিখিয়ে পড়িয়ে নেব। বুবুনও তো বিয়ের জন্য একদম তৈরি ছিল না। ওদের একটু আলাদা করে কথাবার্তা বলতে দেওয়া উচিত নয়?"

--"হুম, কথাটা ঠিক। বিয়ের জন্য কেন, এমনিই তো কোনো কথাবার্তা হয়নি দুজনের। এক কাজ করি, আমরা সব ঘুরতে বেরিয়ে যাই তীর্থর কথামত। ওদের একা কথা বলার সুযোগ দিই।"

--"তোমার মাথায় যে কি আছে? আমরা চলে গেলেও ঐ বুবুন বসে রুমুর সঙ্গে গল্প করবে? তার চেয়ে মৌকে টিপে দিয়ে ছোটদের ঘুরতে পাঠাও। ওরা এদের ঠিক একলা করে কথা বলার ব্যবস্থা করে দেবে।"

--"আহা হা হা সুকন্যা। এইজন্যই তুমি সেরার সেরা। লাব্বিউ বেবি।" সুকন্যার থুতনি ধরে আদর করে ছোটকা ডাকতে থাকে, "মৌ, এ্যাই মৌ, শুনে যা। ছোটমা ডাকছে।" 

সুকন্যা অর্থাৎ ছোটমা বিড়বিড় করে, "ঢং যত। হুঁহ।"

মৌ আর ছোটমা এসে তাড়া দিয়ে সবাইকে আড্ডা থেকে তোলে। ছোটকা গেছে বড়দের বলতে, ওদের প্ল্যান কি। পুপুল, তীর্থ, তুলি আর মিলির সঙ্গে একটু ইশারা, একটু ফিসফিস করে সবটাই জানিয়ে দেওয়া হয়। দলবেঁধে সব বেরোয়। আজকের মিশন, বুবু-রুমুর গল্পের গাড়িতে স্টার্ট দেওয়া। সেটাও আবার ওদের বুঝতে দিলে হবে না। রুমু তাহলে মাকে ছেড়ে বেরোবে না, বুবুনও রুমুর এই মানসিক অবস্থায় ওর সঙ্গে বিয়ের ব্যাপারে আলাদা কথা বলতে চাইবে না। 

ন জন বেরিয়েছে, তীর্থর গাড়ি ছাড়াও একটা ক্যাব ডাকা হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে বুবুন আর রুমুকে যাওয়ার সময় আলাদা গাড়িতে তোলা হয়েছে। রুমুর অবশ্য বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না বুবুনের সঙ্গে এক গাড়িতে যাওয়ার। আর বুবুন জানে এক গাড়িতে উঠলে বাড়ির সবাই ওকে খেপিয়ে পাগল বানাবে। তীর্থ গাড়ি চালাচ্ছে, পাশে মিলি। পিছনে মৌ আর তুলি রুমুকে মাঝখানে নিয়ে বসে ঠেসে বুবুনের পাঁচালী শোনাচ্ছে। 

যেটুকু মাথা ঠান্ডা হয়েছিল রুমুর, ভেবেছিল এখন তো হ্যাঁ বলি, মাম্মাম খুশি খুশি অপারেশন করতে যাওয়ার ব্যবস্থা করুক। তখন কেঁদেকেটে সঙ্গে চলে যাব।

রুমু এখন বুঝতে পারছে, বুবুনের বাড়ির লোকের ন্যাশনাল এ্যান্থম হল, "আওয়ার বুবুন ইজ দ্যা বেস্ট"। তাই তাকেও বুবুনের পুজোপাঠ করেই বাকি জীবনটা কাটাতে হবে। ইচ এ্যান্ড এভরিওয়ান এক্সপেক্টিং দ্যাট। 

ওর মুখটা তিতো হয়ে যাচ্ছে। এত গুণধর বুবুনের যখন বিয়ে করার ইচ্ছেই ছিল না, হঠাৎ ওকে বিয়ে করতে নেচে উঠল কেন কে জানে। আর সেটাও এরা নন স্টপ শুনিয়ে যাচ্ছে। ওয়েল, সবাই যখন চাইছে, ও বুবুনের সঙ্গে কথা বলে, বলবে, আর এটাই জিজ্ঞেস করবে। বুবুন আসুক হিরোওরশিপ দেখাতে, বলুক ওকে উদ্ধার করতে বিয়ে করছে, রুমুও বলে দেবে। কি বলবে ভাবতে থাকে। 

চলবে