সন্ধ্যা নামার ঠিক আগের এই সময়টা খুব প্রিয় মণিকার। যখন স্কুল কলেজে পড়ত, এই সময়ে এককাপ চা নিয়ে মায়ের সঙ্গে বসত গোল বারান্দায়। মা বসতে চাইত না, সন্ধে দিতে হবে, জলখাবার করতে হবে, হাজারটা কাজ। ঠাকুমা বেঁচে থাকতে ট্যারা ট্যারা কথাও শোনাতেন। তবে মণিকা স্কুলের উঁচু ক্লাসে ওঠার আগেই ঠাকুমা চলে গেলেন। কাকারা ভাগ হয়ে গেলেন। মায়ের একটু বসার সুযোগ হল। বিয়ে হয়ে একমাত্র মেয়ে মণিকা চলে এল। বারান্দা ছিল না তখন এ বাড়িতে। শাশুড়ির শাসন ছিল। বড় দুই ননদের বিয়ে হয়ে গেলেও মণিকার বেচালের দিকেই তাদের আসল নজর পড়ে থাকত। বনি রনি হয়ে গেল বিয়ের সাত বছরের মধ্যেই। পাঁচ বছরের ছোট বড় দুভাই। চার বছরের রনি একদিন তাকে অবাক চোখে দেখে প্রশ্ন করেছিল, "তুমি এরকম বিচ্ছিরি একটা ন্যাকড়া পরেছ কেন? বাপি তো পুজোয় শাড়ি কিনে দিল তোমাকেও।"

1

ঝরাপাতা - 1

///ঝরাপাতাপর্ব - ১সন্ধ্যা নামার ঠিক আগের এই সময়টা খুব প্রিয় মণিকার। যখন স্কুল কলেজে পড়ত, এই সময়ে এককাপ চা মায়ের সঙ্গে বসত গোল বারান্দায়। মা বসতে চাইত না, সন্ধে দিতে হবে, জলখাবার করতে হবে, হাজারটা কাজ। ঠাকুমা বেঁচে থাকতে ট্যারা ট্যারা কথাও শোনাতেন। তবে মণিকা স্কুলের উঁচু ক্লাসে ওঠার আগেই ঠাকুমা চলে গেলেন। কাকারা ভাগ হয়ে গেলেন। মায়ের একটু বসার সুযোগ হল।বিয়ে হয়ে একমাত্র মেয়ে মণিকা চলে এল। বারান্দা ছিল না তখন এ বাড়িতে। শাশুড়ির শাসন ছিল। বড় দুই ননদের বিয়ে হয়ে গেলেও মণিকার বেচালের দিকেই তাদের আসল নজর পড়ে থাকত। বনি রনি হয়ে গেল বিয়ের সাত বছরের মধ্যেই। ...আরও পড়ুন

2

ঝরাপাতা - 2

ঝরাপাতাপর্ব - ২পিউর বুদ্ধিতে গোপার সঙ্গে কথা বলতে যাওয়ার আগে এক মুহূর্তের একটা দ্বিধা কাজ করে মণিকার মনে। যদি রাজি হয়, ওরাও বেশি সময় নেবে না। এক দুদিন সবাই আলোচনা করে হ্যাঁ বলবে। তার মানে, নিজের দিকের সব আত্মীয়দের একেবারে বিয়ে ঠিক হয়েছে খবর দিতে হবে। সেটা কি ঠিক হবে?বনির বিয়ের সময় দুই ননদের মুখ হাঁড়ি হয়ে গেছিল। সব ব্যাপারেই বলেছিল, কই আগে তো বলোনি? যদিও বিয়ের দু তিন বছর আগে থেকেই সবাই বুঝে গেছিল পিউ বাড়ির বৌ হবে। মণিকাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করলে একগাল হেসে বলত, সে যদি হয়, তাহলে আমার সবচেয়ে আনন্দ হবে।তারপর যখন পদে পদে প্রতিটি খুঁটিনাটি ...আরও পড়ুন

3

ঝরাপাতা - 3

ঝরাপাতাপর্ব - ৩বিয়ের দিন সকালে আলো ফোটার আগে হবু বর আর কনের দু বাড়িতেই দধিমঙ্গলের নিয়ম থাকে। রনির দধিমঙ্গল সমাধা হয়। শাঁখের আওয়াজে আশেপাশের বাকি বাড়ির মতো এ বাড়িতেও সকলে বুঝতে পারে। কিন্তু এ বাড়ির তিনটে লোক বা বিয়ের নেমন্তন্নে আসা আত্মীয়রা মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে এখানে ওখানে। কারও ওঠার ইচ্ছেটুকুও যেন আর নেই। গতকাল রাতে কাজ সেরে এখানে ওখানে সবাই শুয়েছিল। দুই বোনের নিজস্ব ঘরে চেপেচুপে ওদের আরও দুই মামাতো আর মাসতুতো বোনও ছিল। তিনজনের কেউ টের পায়নি, কখন নিঃশব্দে লিলি বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।বোনেদের কমন আলমারির গায়ে ম্যাগনেটে আটকানো একটা ছোট হাতচিঠি,- "মা, তোমাকে অনেক বোঝানোর ...আরও পড়ুন

4

ঝরাপাতা - 4

ঝরাপাতাপর্ব - ৪গোপার কান্নার পর কিছুই চাপার নেই। এতদিন লিলির লুকিয়ে রাখা সব কথাই এবার বলতে হয়। অবশ্য লুকোনোর নেই, এখন একেবারে শিয়রে শমন যাকে বলে।লিলি ওর প্রেমিককে বিয়ে করেছে শোনামাত্র পিউ কলসিটা ঠকাস করে মেঝেতে বসিয়ে ছুটে এসে মণিকাকে জড়িয়ে ধরে। পাড়ার এক কাকিমা বলে ওঠেন, "কলসিটা এখানে বসালে কেন পিউ? বিয়ের জন্য তোলা জল, একেবারে ছাদনাতলায়... " বলতে গিয়ে নিজের কানেই বিসদৃশ ঠেকে, চুপ করে যান। ক্ষিপ্ত রনি আগুনঝরা চোখে তাকিয়ে আছে পড়শীদের দিকে। বুঝতে পারছে ভদ্রমহিলার এই চুপ করে যাওয়ার পিছনে ব্যঙ্গ না থাক, সহানুভূতি থাকলেও সেটা সহ্য করা মুশকিল।এদিকে মণিকাও যেন পিউর জন্যই অপেক্ষায় ছিল। ...আরও পড়ুন

5

ঝরাপাতা - 5

ঝরাপাতাপর্ব - ৫রনিকে ঘিরে ধরে যখন বোঝানো হচ্ছে, মিলিকে বিয়ে করে ফেলতে, ঠিক তখন মিলিকেও একই ভাবে বোঝানো চলছে, বিয়ে করতে। মিলিকে অবশ্য ওর কাকা কাকিমা বেশ ধমকেই বলছেন। ওদের বোনেদের জন্য যদি তাঁর দাদার একটা কিছু হয়ে যায় ! অর্থাৎ, লিলির অন্যায়ের অর্ধেক দায়ভার ইতিমধ্যেই মিলির ঘাড়ে চেপে গেছে। এক্ষুণি বিয়েতে হ্যাঁ না বললে, সম্পূর্ণ ওর দোষ হয়ে যাবে।মাও সেভাবেই চাপ দিয়েই বলছে, "তোদের এত স্বাধীনতা দিয়ে মানুষ করলাম, যখন যা চেয়েছিস, তাই দিয়েছি, তার ফল তো একজন হাতে নাতে দিয়ে গেছে। তুইই বা বাকি থাকিস কেন। তুই এখন বিয়ে করবি না বলে আমাদের যেটুকু মান বাঁচত সেটাও ...আরও পড়ুন

6

ঝরাপাতা - 6

ঝরাপাতাপর্ব - ৬এত হাঙ্গামা, পরিশ্রম, সঙ্গে লোকের হাজার কথার মিষ্টি মুখে ভদ্রভাবে উত্তর দেওয়া, তাদেরই অনুরোধ উপরোধ করে গলা ঠেসে খাওয়ানো, পিউ আর পারছিল না। তবে বিয়ে হয়েছে, সবদিক রক্ষা হয়েছে, এমনকি ঐ একই বাড়িতে বিয়ে হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে লিলির কান্ডটা ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যাবে, এমন হয়, শুধু একদিনের ভোগান্তি হল, কারও কারও এসব কথায় ওর মনটা আশায় ভরে আছে বলে ও চালিয়ে যেতে পারছে।রিসেপশন যে বাড়িতে যেভাবে হওয়ার কথা ছিল, তেমনই হয়েছে। মিলির বাড়ির লোকেরা এসে তত্ত্বের জিনিস নামিয়ে চো *রের মতো বসে ছিল। কষ্টই লেগেছে ওর। যাদের সঙ্গে চেনাশোনা আছে, তাদের ডেকে কথা বলেছে, সবাইকে ডেকে ...আরও পড়ুন

7

ঝরাপাতা - 7

ঝরাপাতাপর্ব - ৭ঘন্টাদুয়েক পর গাড়ির আওয়াজে দু বাড়ি থেকেই সবাই বারান্দায় ঝুঁকে পড়ে। মণিকাদের বেরিয়ে যাওয়াটা মিলির বাড়ির সবাই পেয়েছিল। কি হয়েছে জানতে ফোন করা হয়েছিল মিলিকে। ফোন কেটে সুইচ অফ করে দেয় ও। তখন ভরসা পিউ। পিউ বলেছে বটে ওরা একটু ব্যাঙ্কে গেছে, এমন অদ্ভুত দল বেঁধে কেউ ব্যাঙ্কে যায় না।মিলির মামী রমলা মিলির সঙ্গেও কথা বলতে চেয়েছিল। পিউ নিজে মিথ্যে বলার হাত থেকে বাঁচতে তক্ষুণি মিলিকে ফোন ধরিয়ে দেয়। মিলি আদৌ কোনও প্রশ্ন শুনেছে কি না সন্দেহ, দশ সেকেন্ড পরেই একটা হুম বলে ফোন কেটে দেয়। আবার ফোন করার সাহস পায়নি কেউ, কি হয়েছে, কতটা সিরিয়াস ঘটনা, ...আরও পড়ুন

8

ঝরাপাতা - 8

ঝরাপাতাপর্ব - ৮মিলি কথাই বলতে চায় না। অনেক জিজ্ঞাসাবাদ, মনোজের ইশারায় মা, মাসি, মামী আলাদা করে নিয়ে গিয়েও দেখে যেন জমাট বরফ হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে জানা যায়, ওর সঙ্গে কেউ কথাবার্তা বলেনি, পিউ দরকারে দু চারটে কথা বলেছে। রনি কি বলেছে জানতে চাইলেও এক উত্তর, কোনো কথা বলেনি।সম্পর্কের দিক ভুলে ওর মামী সরাসরি প্রশ্ন করে বসে, গতকাল রাতে রনি কি বলেছে। মিলির থেকেই সবাই সবচেয়ে শকিং খবরটা শোনে, রাত থেকেই রনি বেপাত্তা। মাথায় হাত দিয়ে বসে ছিল ওরা। গোপার বোন তপতীর ছেলে মনসিজ এসে মাকে ডাকাডাকি করে, ওর খিদে পেয়েছে। সকলেরই হুঁশ ফিরে আসে, খেতে হবে, বাঁচতে হবে, ...আরও পড়ুন

9

ঝরাপাতা - 9

ঝরাপাতাপর্ব - ৯সাধারণত সন্ধ্যায় সাড়ে ছ টা থেকে সাতটার মধ্যে আগে পরে বাড়ি ফেরে বনি আর রনি। আজও বনি ঢুকল, ওকে চা দিয়েই টিভি চালিয়ে বসে গেছে পিউ। এ চ্যানেল ও চ্যানেল দেখছে ঘুরে ঘুরে। বনি একটু অবাক, ওর এত টিভির নেশা কখন হল যে একটাও কথা বলছে না?রনি এসে টুকটাক কথা বলছে মা, দাদার সঙ্গে, পিউ এতক্ষণ টিভিটা মিউট করে রেখেছিল। এখন কি একটা চ্যানেলে নাচ গান হচ্ছে, সেটা সাউন্ড অন করে দেখতে শুরু করল। এদের কথা বলতে একটু অসুবিধা হচ্ছে, তাকাচ্ছে ওর দিকে। কোনো হুঁশ নেই, বরং ধাপে ধাপে আওয়াজ বাড়াচ্ছে।সবাই বিরক্ত হচ্ছে। পিউ বলেই কিছু বলতে ...আরও পড়ুন

10

ঝরাপাতা - 10

ঝরাপাতাপর্ব - ১০- "এসে তো কিছু বললি না আমাকে?" মণিকা কোনোমতে ঢোঁক গিলে বলল।পিউ যেন আর নিজের মধ্যে নেই। একটুকরো হেসে বলল, "কি বলতাম মামনি? মিলি ফিরে এসেছে, ওর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি শুনেই তোমার মুখ কালো হয়ে গেল। মিলির খবর নেওয়ার কথা তোমার মতো মানুষেরও মনে হল না? উলটে বলে দিলে, তাড়াতাড়ি ফিরতে। এতো দেরি দেখেও ফেরার পর ওদের কথা জানতে চাইলে না। একরাশ বিরক্তি নিয়ে দরজা খুলে দিয়েই ঘরে চলে গেলে।"- "আমি ঠিক বুঝতে পারিনি, মানে আমি ভাবতেই পারিনি এরকম কান্ড হয়েছে।" মণিকা যেন পিউর ছাত্রী, হোমওয়ার্ক না করে ক্লাসে এসে ধরা পড়েছে।- "তুমি কি ভেবেছিলে মামনি? ...আরও পড়ুন

11

ঝরাপাতা - 11

#ঝরাপাতাপর্ব - ১১রনির প্রশ্নে পিউ আবার কেঁদে উঠে বলে, "কেন এরকম করলে তুমি? আমি কোনোদিন ভাবিনি তুমি শোধ নিতে এভাবে.... "পিউর হাত দুহাতে জড়িয়ে ধরে রনি, ওর হাতের উপর মাথা রেখে হু হু করে কেঁদে ফেলে এবার, "তুমি যা করতে বলবে, তাই করব। তুমি যদি চাও, আমি অন্যায় স্বীকার করে জেলে যাই, তাতেও রাজি আছি। শুধু এইটা বোলো না, আমি মিলির উপর শোধ নিতে চেয়েছি। বরং রোজ ভেবেছি, আমার উপর, আমাদের বাড়ির সবার উপর ওরা কিসের শোধ নিল? ভুল ভেবেছি, লিলি ছাড়া কারও কোনো দোষ নেই, সেটা এখন বুঝতে পারছি। তার জন্য যা শাস্তি সেটা হোক আমার, শুধু তুমি ...আরও পড়ুন

12

ঝরাপাতা - 12

#ঝরাপাতাপর্ব - ১২এবারও সকলে আবার আলোচনায় বসল। শেষে সিদ্ধান্তও একই হল, একবার দেখানো হোক মিলিকে। ডঃ গিরিকে ডঃ মাইতিও জানালেন, বাড়ির লোকদেরও আবার নতুন করে বহুরকম প্রশ্নও করলেন ডঃ গিরি।পিউসহ সকলের কথা শুনলেন, প্রশ্ন করলেন, তার এ্যাসিস্টেন্টরা সবটা রেকর্ড করলেন। গোপা আর সমরের মাঝখানে বসিয়ে রেখে মিলির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেন।কথাবার্তা হচ্ছিল ওর চেম্বারে চা বিস্কুট নিয়ে বসে, বেশ খোলামেলা ঘরোয়া ধাঁচে। সবাই বোঝে, এটাই মনোবিদ হিসেবে ওর এ্যাপ্রোচ। এদের সহজ হতে দিচ্ছেন।শেষে বললেন, সঙ্গীতের বিভিন্ন বিভাগ কিভাবে মানসিক সমস্যার উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সমস্যা থেকে মানুষের মনকে মুক্ত করতে পারে, তা নিয়ে কাজ করছেন উনি। তার ...আরও পড়ুন

13

ঝরাপাতা - 13

ঝরাপাতাপর্ব - ১৩- "আমি যেটা আশঙ্কা করেছিলাম, আপনাদের জানিয়েও দিয়েছিলাম, অদ্রিজার মধ্যে নানান চেঞ্জেস আসতে পারে, সম্পূর্ণ নতুন পারসোনালিটি হতে পারে। তবে নরমাল লাইফ লিড করা শুরু করলে সেগুলো থেকেও পেশেন্ট বেরিয়ে আসতে থাকে ফ্যামিলি এন্ড ফ্রেন্ডস সাপোর্ট করলে। ও সেদিকেই যাচ্ছে।" ডঃ গিরি মূল কথায় আসেন।- "মানে? ওর কি কি চেঞ্জেস হচ্ছে ম্যাডাম?" সমর প্রশ্ন করে। রনি আর বনি দু ভাইই মনে করার চেষ্টা করে, আসল মিলি ঠিক কেমন ছিল?- "চুপচাপ হয়ে যাওয়াটাই তো মেইন চেঞ্জ। এখন যতটুকু কথা বলছে, সে আপনাদের মেয়ের ধরণ নয়। এটা আপনারা ডাক্তার না হলেও বুঝতে পারছেন। তবে ওর আশেপাশের লোকজনকে মনে রাখা ...আরও পড়ুন

14

ঝরাপাতা - 14

ঝরাপাতাপর্ব - ১৪- "ইয়েস, শ্রেয়ান সরকার। মিঃ শ্রেয়ান, যদি বিয়েটা টিঁকিয়ে রাখেন, অদ্রিজা সুস্থ হলে ওর সঙ্গে সংসার করবেন দেন আই উইল সাজেস্ট, প্লিজ রিথিঙ্ক। আজ ও অসুস্থ বলে, আপনি রিপেন্ট করছেন বলে, হিরো হওয়ার সহজ পথ বেছে নেবেন না। কাজটা মোটেই সহজ নয়। আপনি যদি ফেল করেন, দেন শী ইউল বি রুইনড। আর সেই অপরাধের বোঝা জীবনভর বইতে পারবেন? তেমনি সারাজীবন অপছন্দের মানুষের সঙ্গে কাটানোর দায় নিতে পারবেন কি?" ডঃ গিরি ফালাফালা করে দিচ্ছেন রনিকে, সঙ্গে ওর বাড়ির বাকি তিনজনকেও।- "ম্যাডাম, মিলি মানে অদ্রিজার সঙ্গে আমার কোনো পার্টিকুলার সমস্যা হয়নি। ওর দিদি অদ্রিকা বিয়ে না করায়, অন্যদেরও সন্দেহ ...আরও পড়ুন

15

ঝরাপাতা - 15

ঝরাপাতাপর্ব - ১৫- "আপনি ঠিক বলছেন ম্যাডাম। আমার বড়মেয়ে যে অন্যায় করেছে, তার জন্য দুটো পরিবারের সবাই মিলে শাস্তি করার কোনো মানেই হয় না। আমরা একটা ভুল করে, সেটাকেই টেনে নিয়ে যাচ্ছিলাম। আমাদের এবার এই কথা থেকে বেরোতে হবে। আমাদের চেষ্টা করতে হবে, অদ্রিজা আর শ্রেয়ান, দুজনেই যেন ভালো থাকে। সে আলাদা হয়ে ভালো থাকলে তাই সই।" গোপা মন শক্ত করে নিয়েছে।- "ভেরি গুড মিসেস করগুপ্ত। এবার আমরা নতুন করে শুরু করি চলুন। আমি এখন অদ্রিজার কন্ডিশনটা দেখে নিচ্ছি। সব ঠিক থাকলে, ওকে এ ঘরে আনব। মিঃ শ্রেয়ান বা বাকিদের ও কিভাবে নেয় দেখি। সেই অনুযায়ী ওর বন্ধুদের সঙ্গেও ...আরও পড়ুন

16

ঝরাপাতা - 16

ঝরাপাতাপর্ব - ১৬দোকানে অনেকক্ষণ শাড়ি নিয়ে নাড়াচাড়া করে শেষে আর পেরে ওঠে না মণিকা। পিউকে বলে বসে, "হ্যাঁ রে, যদি মিলিকে একটা শাড়ি দিই, ওর চিকিৎসায় কি কোনো খারাপ এফেক্ট হতে পারে?"- "কি জানি মামনি ! ওদের জামাকাপড় সেভাবে দিইনি কখনো। তবে অনেক সাজগোজের জিনিস, কসমেটিকস, ইমিটেশন গয়না তো আমি কিনে দিতাম। পুজোয় এইসব, জন্মদিনে বই গিফট দিতাম। না দিলেই কি ভালো হবে? তার চেয়ে কিছু কিনে দিই, বলো?"- "তুই তাহলে ওদের পছন্দমতো সাজগোজের জিনিস কিনে নে। আর, বলছিলাম কি একটা শাড়ি যদি আমি দিই, ছেলেরা রাগ করবে?"- "ছেলেরা বলতে, তোমার বনি বলবে, মায়া বাড়াচ্ছি। আর ছোটজন মিলির নামে ...আরও পড়ুন

17

ঝরাপাতা - 17

ঝরাপাতাপর্ব - ১৭বৌদির অভিযোগ শুনেই নিজের আর্জি নিয়ে রনি দাদার দিকে তাকায়, "দেখেছিস, আজকাল কিভাবে কথা বলে আমার সঙ্গে? বকেছে বলে আমি রাগ করেছি?"- "না, তোর কান টেনে লম্বা করে দেয়নি বলে আমি পিউর উপর রাগ করেছি। হয়েছে? দুজনেই থাম। পিউ, ওরকম করে কথা বোলোনা প্লিজ। তুমি জানোনা ওর কতটা মনখারাপ লাগছে? আর ভাই, তুইও অন্যায় করেছিস। তুই মরে যাওয়ার কথাটা কেন বললি ওকে?"রনি মাথা নিচু করে বলে, "সরি রে। খুব রাগ হয়েছিল। একদিনও ডেকে কথা বলেনা। এতগুলো মাস, একটা জিনিস কিনে আনতে বলে না দোকান থেকে। আগে ক্লাসের মধ্যেও পঞ্চাশবার ফোন করত, দাদাকে বললে রেগে যাবে। ভাই বাড়ি ...আরও পড়ুন

18

ঝরাপাতা - 18

ঝরাপাতাপর্ব - ১৮- "তোমাকে প্রথমদিনই বলেছিলাম, তুমি ভুল বুঝলে, ভাবলে আমি ওদের কিছু টাকা দিয়ে সব মেটাতে চাইছি। তা আমি যদি অত খারাপ হতাম, তুমিই এতকাল এত ভালবাসতে না।" রনি বলে যাচ্ছে পিউ শক্ত করে ওর কাঁধ ধরে আছে, রনির উপর রাগ করেছে, ওকে কিছুটা ইগনোর করেছে, ছেলেটা ভিতরে ভিতরে ক্ষয়ে যাচ্ছে, বুঝতে পারছে। মামনির সঙ্গে তো ওর আগের মতো সম্পর্ক ফিরে এসেছে, ভাইটা বড্ড একলা হয়ে গেছে !- "আমি সত্যিই মিলির চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চাইছিলাম। প্রায়শ্চিত্ত বলো, প্রায়শ্চিত্ত, ওদের দরকার বলো দরকার। তোমরা সবাই ডাক্তারের কাছে গেছ, বলোতো, ওরকম চেম্বার, ব্যবস্থাপনা, থেরাপির জন্য কি নেই? থেরাপি রুমের দেয়ালের ...আরও পড়ুন

19

ঝরাপাতা - 19

ঝরাপাতাপর্ব - ১৯দুর্গাপুজো এসে পড়েছে। মিলিও যেহেতু সুস্থতার পথে, প্রথমে রাজি না হলেও, রনি মিলির চিকিৎসার খরচ খরচার দায়িত্ব সমররা সবাই অনেকটা চিন্তামুক্ত এখন। রনির বারণে ওর মামাদের টাকার কথাটা না জানানো হলেও, সমর আর গোপা বরং ওদের ভাইবোনদের জানিয়েছে। তারাও যে ওদের পরিবারকে নিয়ে চিন্তায় আছে ! এই খবর শুনে যদি একটু নিশ্চিন্ত হয় !দুর্গাষষ্ঠীর দিন গোপা আর দীপা উপোস করে পুজো দেয়। ঠাকুরমশাইকে লিলির নাম বলতে গিয়ে গোপা আটকে গেলেও দীপা তো বোঝে মায়ের মন। গোপার পিঠে হাত বুলিয়ে শান্ত করে ও বলে, "অদ্রিকা সিং রাঠোর।" মিলিকে নিয়ে অঙ্কুরসহ বন্ধুবান্ধবরা আশেপাশের ঠাকুর দেখতে গেছে, নিশ্চিন্তে মিলির নাম ...আরও পড়ুন

20

ঝরাপাতা - 20

ঝরাপাতাপর্ব - ২০দুর্গাপুজো শেষ, তবে বনির কলেজ খুলতে দেরি আছে, রনির ইউনিভার্সিটিও। এই সময়টায় ওরা কোথাও বেড়াতে যায় সাধারণত। ছেলে, মণিকাও পাড়ার পুজোয় থাকতে ভালবাসে, আলোয় আলো কলকাতার পথে পথে ঘুরে কতরকম কারুকাজের প্যান্ডেল আর মূর্তি দেখে বেড়াতে ভালবাসে। তাই পুজোর কদিন বাড়িতেই থাকে। এবার গোটা ছুটিটাই বাড়িতে। যদিও এই বছরটাই বরং খুব দরকার ছিল কিছুদিন বাইরে ঘুরেফিরে মন আর মগজের ছট ছাড়ানোর, মিলিদের সামনে দিয়ে বেড়াতে যাওয়ার পরিস্থিতি হবে কিনা বুঝতে পারছিল না। আর কে না জানে, টিকিট ওপেন হওয়ামাত্র শেষ হয়ে যায় এই ছুটির সময়ে ! তাই সময় থাকতে বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান করতে না পারায় কোথাও যাওয়া ...আরও পড়ুন

21

ঝরাপাতা - 21

ঝরাপাতাপর্ব -২১বৌভাতের রাতে মিলির কাছ থেকে পালানোর নামে, একরকম নিজের কাছ থেকেই পালিয়ে গেলেও বাড়িতে ফেরার উপায় হল রনির। এসে দেখল, যার বিশ্বাসঘাতকতার হাত থেকে পালাতে হবে ভেবেছিল, ওরই বিশ্বাসঘাতকতায় সেই মেয়েটি, ওর মনে আজও যার প্রতি নিজের সব ভালোবাসা লুকিয়ে রেখেছে, সেই মেয়েটি ভেঙেচুরে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেছে। সেই মিলিকে দেখে ও নিজে কতটা ভেঙে যাচ্ছে প্রতিদিন, কাউকে বোঝাতেও পারবে না, কেউ বুঝবেও না ওর এই ব্যর্থতা। তাই সেই ক্ষত লুকিয়ে হারিয়ে যাওয়া মিলিকে ওর বাবা মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু নিজে আর তাকে পাবে না জেনে গেছে।আর এখন নিজের ঘরে এই নে *শা আর ...আরও পড়ুন

22

ঝরাপাতা - 22

ঝরাপাতাপর্ব - ২২- "কথা তো একটাই লিলি। আর সেটা আমি না, তোমার বলার কথা। তুমি বিয়েতে রাজি ছিলে না, একবারও বললে না কেন? আমার ফ্যামিলির লোকেদের এত বড় অপমান, ক্ষতির মুখে ঠেলে দিলে কেন? আমরা তোমাকে বিয়ে করতে হবে জোর করিনি, অন্য কোনো ক্ষতিও করিনি কখনো তোমাদের কারও। এখন এত বড়বড় কথা বলছ, তখন কেন চুপ ছিলে?"লিলি চুপ করে আছে। তার মধ্যে যুগল ঝাঁঝিয়ে ওঠে, "ও আপনাকে বিয়ে করেনি, তারপর আপনার লজ্জা করছে না? আবার জানতে চান, কেন বিয়ে করেনি? আমার ওয়াইফকে চোখ গরম দেখাবেন না।"- "লিলি, তুমি কি চাও আমি কেস করি? নাহলে একে থামতে বলো। আমাকে আর ...আরও পড়ুন

23

ঝরাপাতা - 23

ঝরাপাতাপর্ব - ২৩গত সপ্তাহে তিন চারদিন রনি বেশ দেরি করে বাড়ি ফিরেছে। নির্দিষ্ট সময়ের এক থেকে দেড়ঘন্টা পর। তবে কেউ অত মাথা ঘামায়নি। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে গল্পগুজবে মেতে আছে, অথবা লাইব্রেরি যাচ্ছে, এরকমই কিছু বলে ধরে নিয়েছে।পুজোর ছুটির শেষে কলেজ ইউনিভার্সিটি সব খুলে গেছে। সবচেয়ে আনন্দের কথা, মিলি কলেজ যাচ্ছে। অঙ্কুরের সঙ্গে গিয়ে ইতিহাসের ডিপার্টমেন্টাল হেড এবং তার সঙ্গে করে ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে মিলির মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিয়ে এসেছে ওর বাবা আর কাকু। ছোট করে সমস্ত ঘটনা জানিয়েছে। সমস্যা হচ্ছে, একটা আস্ত সেমিস্টার ও ক্লাস করেনি। ভাইস প্রিন্সিপাল বলেই দিলেন, ও যদি দুটো সেমিস্টারের পড়া একসঙ্গে করে পরেরবার পরীক্ষা দেয়, ...আরও পড়ুন

24

ঝরাপাতা - 24

ঝরাপাতাপর্ব - ২৪নিজের ঘরে ল্যাপটপটা খুলে কাত হয়ে শুয়ে রনি একটার পর একটা ছবি দেখছে। দাদার কথার উত্তর দেওয়ার রনির নেই, তেমনি দাদা যা বলছে সেভাবে মিলির থেকে সরে থাকার ক্ষমতাও আর ওর হাতে নেই। রনি যে খুব বোকার মতো আগে পরে না ভেবেই এগিয়ে চলেছে, তাও নয়। মিলিকে থেরাপিস্টের চেম্বারে দেখার পর ও অনেক ভেবেছে। ডঃ গিরি ঠিকই বলেছেন, মিলির কাছে কোনো এক্সপেক্টেশন না রাখাই ভালো, রনি রাখেওনি। কিন্তু মিলির কিছু প্রাপ্য আছে ওর কাছে। সেটা ও হাত উপুড় করে দেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একদিনের হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়। বহু ভাবনাচিন্তা করেই এটা ঠিক করেছে।পুজোর সময়, পুজোর আগে রনির এতটাও ...আরও পড়ুন

25

ঝরাপাতা - 25

ঝরাপাতাপর্ব - ২৫- "এত তাড়াতাড়ি বাড়ি গিয়ে কি করবি? সামনের মাসে পরীক্ষা। তখন আর ঘোরাঘুরি করা যাবে না। আজ সুযোগ পেয়েছি চল সবাই মিলে সিনেমা দেখে আসি।" পলাশ সবাইকে আটকায়।আসলে আজ ওদের কলেজের ট্রাস্টি বডির একজন মারা গেছেন বলে কলেজ ছুটি হয়ে গেছে। এঁদের পারিবারিক জমিতেই কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। কলেজের সমস্ত স্যার, ম্যাডাম, স্টাফেরা শেষ যাত্রায় যাবেন।ছেলেমেয়েরা কলেজ প্রতিষ্ঠার গল্পই কেবল শুনেছে, কেউ কেউ তো আজই শুনল। তাই ওরা নিজের বাড়িতেই ফিরছিল। তখনি পলাশের কাছ থেকে হঠাৎ এই আনন্দ করার প্রস্তাব। এক দুজনের মত আছে, এক দুজনের আপত্তি। আরও জোরাজুরি করতে সবাই রাজি হয়ে গেল। মিলিও আছে দলে। যেতে ...আরও পড়ুন

26

ঝরাপাতা - 26

ঝরাপাতাপর্ব - ২৬মিলি বাইকের পিছনে গোঁজ হয়ে বসে আছে। রনি যখন ধমক দিয়েছিল, পড়াশোনা ঠিক না হলে ম্যাডামকে না দেয়, বাবা মাও কি বলবে - এইসব ভেবে ভয় পাচ্ছিল। এখন যখন পড়াশোনাই হল না, রনির ধমকে যে খারাপ লেগেছিল, সেই অনুভূতিটা ফিরে আসছে। রনি নিজে তো ভেবেই পাচ্ছে না, মিলির সঙ্গে কিভাবে কথা বলবে।মিলি একটাও কথা বলছে না দেখে ক্রমশ বুঝতে পারছে, সব আবার জট পাকিয়ে ফেলেছে নিজে। একটু ফাঁকা একটা ছোট দোকানের সামনে বাইক থামিয়ে বলল, "আইসক্রিম খাবে?"অন্যান্য দিনও রনি কিছু খাওয়াতে চাইলে মিলি না না করে। রনি বোঝে সেটা স্বাভাবিক ভদ্রতা। আজ মিলির গলায় অন্য স্বর। তফাতটা ...আরও পড়ুন

27

ঝরাপাতা - 27

ঝরাপাতাপর্ব - ২৭প্রায় সকলেই জানেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভিতর অগভীর সরু খাল কাটা আছে, যেগুলোর কয়েকটি গঙ্গার সঙ্গে যুক্ত, কয়েকটি বৃষ্টির জল ধরে রাখা। সেরকম একটা সরু খালে প্যাডেল বোট চালিয়ে ঘোরা যায়। দুজন খানিকক্ষণ বোটে চড়ে হাসাহাসি করে আজকের ঘটনা নিয়ে। বন্ধুরা জানে, মিলি পড়তে গেছে, ভাবতেই আরও হাসি পাচ্ছে।সেখান থেকে বিখ্যাত বটগাছ, পামগাছের সারি, বিভিন্ন বিদেশি দুষ্প্রাপ্য গাছ, যাদের মধ্যে রয়েছে ম্যাড ট্রি, পাগলা গাছ, যার প্রত্যেকটি পাতা আলাদা। আবার বটগাছের মতোই এই বাগানের অনন্য আকর্ষণ, ভিক্টোরিয়ান ওয়াটার লিলি, পদ্মের পাতার থেকে বেশ বড় পুরু থালার আকৃতির ছড়ানো যে পাতায় চার বছর পর্যন্ত বাচ্চা বসতে পারে। ডুবে যাবে ...আরও পড়ুন

28

ঝরাপাতা - 28

ঝরাপাতাপর্ব - ২৮মিলি ফিরে আসতেই রনি একগাল হেসে ওয়েলকাম করতে গেছিল। এবার নিজে থেকেই মিলি ওর পাশে বসায় মনটা ভালো লাগে। ওর তরফে একটার পর একটা অস্বস্তি জমা হচ্ছিলই আজকের দিনে। যতই সব ঠিক করতে চাইছে মন থেকে, এই জীবনটা ওদের দুজনের হওয়ার কথা নয়, এই কথাটা বারবার মাথায় ঘা দিচ্ছে। তার মধ্যে ও পাশে বসতে যেতেই মিলির উঠে যাওয়ায় রনিরও মনে হয়েছিল, ও একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে। মিলি ওর স্ত্রী, ও তো মিলির কাছে তার স্বামী নয়।এখন মিলি একটা দূরত্ব রেখে বসতেই রনি বোঝে, মিলি ওর প্রতি ভালোবাসাটা স্বীকার করেছে, কিন্তু মনের দিক থেকে সম্পূর্ণভাবে ওর হয়ে যায়নি। ...আরও পড়ুন

29

ঝরাপাতা - 29

ঝরাপাতাপর্ব - ২৯- "ও মা ! কেন রে?" মিলি সোজা হয়ে বসেছে পলাশের কথায়।- "তুই গেলি না কেন? তুই গেলে কিছু ভালো লাগে?"- "এটা একটা কথা হল? তোরা ভালোবাসিস আমি জানি। আমার অসুখের জন্য তোরা কত হেল্প করেছিস, বারবার আমার খবর নিয়েছিস, বাড়িতে দেখতে এসেছিস। তোরা অন্ততঃ বুঝবি না, আমার অবস্থা তোদের মতো না? একটা সেমিস্টার পিছিয়ে আছি। রনিদা হেল্প করছে বলে......"- "রনিদা তোকে কি এক্সট্রা হেল্প করে? ও একে আমাদের কলেজের প্রোফেসর না, সাবজেক্টও আলাদা। ম্যাডাম তো আমাদের কলেজের। আমি বললেই তোকে পড়াতে রাজি হতেন। আর বেকার ওর বাইকে ঘুরে বেড়াস কেন? আমি আছি, অঙ্কুর আছে...."- "তোরা তো ...আরও পড়ুন

30

ঝরাপাতা - 30

ঝরাপাতাপর্ব - ৩০রনিকে গ্রেপ্তার করে বনি আর পিউ ঘরে এনে ঢোকায়। প্রথমে না না করলেও, দাদা আর বৌদির উৎপাতে আস্তে রনির মুখ খোলে, হ্যাঁ হ্যাঁ বলতে থাকে। ফোনে যে মিষ্টি মিষ্টি প্রেমালাপ চলছিল, লজ্জায় মাথা চুলকে সেটা স্বীকার করে।পিউ বলে, "তুমি নাহয় মিষ্টি করে বৌ পটাচ্ছিলে, তোমার বৌ কি বলে? কিছু মনে পড়েছে?"- "নাহ, কিছু মনে পড়েনি। আর ভাগ্যিস এখনও মনে পড়েনি। তাই আমার সঙ্গে কথা বলে।"- "কথা বলে মানে কি? ঠাট্টা নয়, তোরা কি বাইরে দেখা টেখা করছিস? মানে তুই ওকে কিছু বলেছিস? প্রোপোজ করেছিস?" বনি সরাসরি তদন্তে নামে।- "শুধু আজকে, আর নাহলে কোনোদিন আমরা কোথাও কথা বলিনি ...আরও পড়ুন

31

ঝরাপাতা - 31

ঝরাপাতাপর্ব - ৩১আজ সকাল থেকে একটানা বনি আর পিউ রনির দুপাশে চিপকে আছে। ওরা এতবার রনিকে কখন বেরোবে প্রশ্ন রনি ইউনিভার্সিটির প্রশ্ন সেট করতে বসে গেছে। ব্যালকনির দিকেও যায়নি। সেই কাজটাও বনি আর পিউ মাথায় তুলে নিয়েছে। পালা করে দেখে আসছে, মিলি দেখা দিল কিনা।যখন ন টা বাজে, তখন ওরা দুজনেও বুঝল, বনির হাতে ধরা পড়ে মিলি লুকিয়ে পড়েছে। হতাশ হয়ে দুজন সরে পড়ল। টুকাইকে তার ঠামের ঘাড়ে চাপিয়ে রেখেছে। এক মাঝবয়সী মহিলা রান্না করে দেন। তবে মণিকা আর পিউ পালা করে সঙ্গে থাকে, চা হয় বারবার, কিংবা বাড়ির সবার পছন্দের কোনো রান্না করে। আজ সব শিকের উঠেছে।এখন রনির ...আরও পড়ুন

32

ঝরাপাতা - 32

ঝরাপাতাপর্ব - ৩২কলেজ থেকে ফিরে মিলি খবর পায়, পিউ এসে রবিবার সিনেমায় যাওয়ার দরবার করে গেছে। মায়ের আপত্তি তো ই, ওকে বরং মিষ্টি করে বোঝাচ্ছে, "একটা দিন ঘুরে আয়। রোজ তো পড়াশোনা করিসই। তোরও ভালো লাগবে, আবার ওদের না বললে খারাপ ভাবতো।" যেন মিলি সিনেমা দেখতে গেলে সবাইকে উদ্ধার করে দেবে। হাসি চেপে হ্যাঁ বলে মিলি নিজের ঘরে পালিয়ে আসে।সেখানেও রনির নম্বর থেকে ফোন। ফোন ধরে দেখে, ওপাশে পিউ। রনি চেঁচামেচি করছে, সেও শোনা যাচ্ছে। পিউ প্রায় ধমক দিয়ে বলে, "এ্যাই ফোন কাটবি না। দিব্যি তো দুজন আড্ডা দিস। আর আমাদের বেলায়... শোন, রবিবার সকাল সকাল রেডি হয়ে যাবি। ...আরও পড়ুন

33

ঝরাপাতা - 33

ঝরাপাতাপর্ব - ৩৩ডঃ গিরি মিলিকে সুনিপুণ ভাবে একটু একটু করে প্রশ্ন করে বুঝতে পারেন, শ্রেয়ান অর্থাৎ রনি সম্পর্কে সে গদগদ। বাঙালি মধ্যবিত্ত ঘরের ঘটনা। বিয়েটা শেষপর্যন্ত টিঁকে যাক, পরিবারের সকলেরই মনের ভিতর এই ফল্গুধারা বয়ে যাচ্ছে জানেন। শ্রেয়ান ওকে ভালোবাসে বলেছে, সত্যিই ভালোবাসে, নাকি নিজের অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত, এটুকুই তাকে জানতে হবে। কারণ মিলির সব মনে পড়ল বলে।তবে এই সেশনের শেষে মিলিও আরও ঝলমলে, কারণ ওর নিজের ব্যাপারে যে খটকাগুলো ছিল, সেগুলোর উত্তর মিলিয়ে দিয়েছেন ডঃ গিরি। আবার রনির সঙ্গে সম্পর্কটা তৈরি হতেই রনির দাদা বৌদি মেনে নিয়েছে জানে। এখন ডাক্তারও ওর কাছে রনির গল্প শুনে বেশ খুশি হলেন। সুতরাং ...আরও পড়ুন

34

ঝরাপাতা - 34

#ঝরাপাতাপর্ব - ৩৪সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে দেখা হয় পিউদের সঙ্গে। পিউ একবার মিলিকে গাল টিপে আদর করেই এগিয়ে যায়। ওদের সিনেমা দেখার পালা। মিলিকে নিয়ে রনি যায় শপিং মলের ফুডকোর্টে। পিজ্জা অর্ডার করে মিলিকে বসিয়ে রনি একেবারে পিজ্জা নিয়ে টেবিলে এল। মিলিও খেয়াল করে, একটু যেন গম্ভীর, অন্যমনস্ক। একটুকরো পিজ্জায় কামড় দিয়ে বলে, "তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও। তোমাকে একজায়গায় নিয়ে যাব।"সিনেমার পর নতুন প্ল্যান !! মিলি আকাশ থেকে পড়ে, "এখন আবার কোথায় যাবে? রাত হয়ে যাবে তো? বাড়িতে কি বলব?"রনির মনের গোপনে একটা নিঃশ্বাস আটকে থাকে, "মিলিকে কবে বলতে পারব, ওকে কোথায় নিয়ে গেছিলাম রাত হয়ে গেলেও কাউকে কৈফিয়ত দেওয়ার ...আরও পড়ুন

35

ঝরাপাতা - 35

ঝরাপাতাপর্ব - ৩৫মিলি বাড়িতে ঢুকে ফ্রেশ হওয়ার আগেই রনি ফোন করে। আসলে প্রথমে খেয়াল না পড়লেও পরে রনি ভালোই ওর ধমকে মিলির মুড অফ হয়ে গেছে। অথচ আশা ছিল, সিনেমা দেখে, লিলির বাড়ি ঘুরে খুশি খুশি মিলি ফিরবে। দুজন আজকের দিনটা মনে করে বেশ কিছুদিন চালিয়ে দেবে। মিলির পরীক্ষাটা ভালোয় ভালোয় হয়ে গেলেই ও ডঃ গিরির সঙ্গে কথা বলবে, মিলিকে সত্যিটা কিভাবে জানানো যায়। কখন কোথা থেকে মিলি কি শুনবে, তার চেয়ে মোটামুটি সুস্থ থাকলে, লিলির সঙ্গে ভাব করিয়ে দিলে, সবাই মিলে যদি মিলিকে বলা হয়, সেটা কি বেশি ভালো হবে না?দাদাবৌদি আরও রাতে ফিরবে। মাকে পরে খাব বলে ...আরও পড়ুন

36

ঝরাপাতা - 36

ঝরাপাতাপর্ব - ৩৬মিলিকে দেখেই রনি ফোন করে, ফোন নিয়েই দাঁড়িয়ে ছিল। মিলি ফোনটা রিসিভ করতেই রনি দ্বিতীয় ভুল করে, সরি বলছি, তাও এরকম করছ?"আবার একই গল্প ! অসহ্য লাগে মিলির। বারান্দায় আর বেরোয় না, ঘর থেকেই বলে, "কিচ্ছু করিনি রনিদা। এইমাত্র ঘুম থেকে উঠলাম। তুমি আছ কিনা একবার শুধু দেখেছি। কি করব? তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে যে সকালে।"রনির হুঁশ হয়, শুধু তিক্ততা বাড়ছে, কথা পালটাতে বলে, "একবার বাইরে এসো না, আমারও তো তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছে।"মিলি বারান্দায় বেরোয়, রনির দিকে একবার তাকিয়েই মাথা নিচু করে ফেলে, খুব কান্না পাচ্ছে, রনিদাটা কিচ্ছু বোঝে না। রোজ খালি ধমকাবে, ঝগড়া করবে।রনি ...আরও পড়ুন

37

ঝরাপাতা - 37

ঝরাপাতাপর্ব - ৩৭রনির ধিক্কারে এতক্ষণ জমে থাকা সব রাগ, অপমান জল হয়ে চোখ থেকে গড়াতে থাকে মিলির। রনি কথাটা বলতে ঘেন্নায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, এই নিঃশব্দ কান্না দেখতে পায় না। সমর আর গোপা বিশ্বাস না করলেও এখন কি বলবে ভেবে পায় না।যেহেতু চন্দন সাহার পরিচয় মিলিই নিজের মুখে বলেছে, এখন রনির কথায় ওর চোখে জল দেখে বনি আর পিউ বোঝে, মিলির দোষ নেই। পিউ মিলিকে জড়িয়ে ধরে বলে, "কি হয়েছে আমাকে বলতো। সবটা খুলে বল।"- "ও কি বলবে? মুখ আছে ওর বলার?" রনির গলায় এবার শান্ত ব্যঙ্গ।- "দাঁড়াও ভাই, কিছু একটা গোলমাল আছে। ওকে বলতে দাও। কান্না বন্ধ কর ...আরও পড়ুন

38

ঝরাপাতা - 38

ঝরাপাতাপর্ব - ৩৮বনি সমরকে বোঝাতে এগোনোর আগেই রনি মুখ তোলে, পরিষ্কার গলাতেই বলে, "কাকু, আপনাদের সকলের হয়ত খারাপ লেগেছে, জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। সত্যিই মন থেকে ক্ষমা চাইছি। কিন্তু আপনারাও একবার ভেবে দেখবেন, আমার জায়গায় দাঁড়িয়ে ভেবে দেখবেন, আমার পরিস্থিতি কি হয়েছিল? ছেলেটি কাল অস্বীকার করলে, এই ফোনটাও সে সাজানো বলতে পারে। রেকর্ডিংটা জেনুইন প্রমাণ করা যাবে হয়ত, কিন্তু সেটা খুব সহজ নয়, যথেষ্ট ঝঞ্ঝাটের কাজ। আমরা সবাই নাহয় জানলাম, কাজটা এই ছেলেটির, সেটাও কি খুব অস্বাভাবিক নয়? এতদূর কেউ যায়? প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নাকি ওরা খরচ করতে তৈরি এই পরীক্ষার জন্য ! আবার তাও মিলিকে সারপ্রাইজ দেবে ...আরও পড়ুন

39

ঝরাপাতা - 39

ঝরাপাতাপর্ব - ৩৯মিলির চোখের সামনে একটা একটা করে দৃশ্য ফুটে উঠছে। যা যা ঘটেছিল, যা ঘটবে বলে ওরা সবাই পেয়েছিল, যা কিছু নিয়ে কেউ না কেউ আলোচনা শুরু করত। সেগুলো শুনে শুনে ও প্রথমেই কথা বলা বন্ধ করেছিল। বিয়ের কথা হতেই মনে হয়েছিল, রনিদার সঙ্গে কথা বলা দরকার। নিজের বিয়ের কথাই ভাবেনি তখনও পর্যন্ত, পড়াশোনা আর নাচ নিয়েই মেতে ছিল। রনিদার কাছে ক্ষমা চাইবে ভেবেছিল দিদির কাজের জন্য। দুই বাড়ির সম্মান বাঁচাতে যদি বিয়েই করতে হয়, ওকে পড়াশোনা করতে একটু সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করবে ভেবেছিল। বিয়ে, রনিদার বাড়ি, সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে ওকে একটু সময় দেওয়ার অনুরোধ করবে ভেবেছিল। ...আরও পড়ুন

40

ঝরাপাতা - 40

ঝরাপাতাপর্ব - ৪০সব কথা মনে পড়ার পর থেকে নিজের সঙ্গে একটা অসম যুদ্ধ চলছে মিলির। সেদিন যে প্রশ্নগুলো উঠে আজ রনিকে ডেকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে সেগুলো। ওর মনে আসলে কি আছে জানতে ইচ্ছে করছে। তার সঙ্গে সঙ্গেই মনে হচ্ছে, "যেটা স্বাভাবিক উত্তর, রনিদা যদি সেটাই বলে, ও আমাকে পছন্দ করে না, শুধু আমাকে সুস্থ করার চেষ্টা করছিল ! তার চেয়ে থাক, সব কথা মুখে এনে মুখোমুখি দাঁড়ানোর, চোখে চোখ রেখে ভালো থেকো বলার জায়গাটাও নষ্ট করে কি লাভ !"সকালে কলেজে একটাও কথা হয়নি রনির সঙ্গে। শুধু ওর সঙ্গে নয়, কারও সঙ্গেই কথা বলেনি রনি। মিলি জানেনা, ও ক্লাসে ...আরও পড়ুন

41

ঝরাপাতা - 41

ঝরাপাতাপর্ব - ৪১আরও সাতদিন, এক সপ্তাহ পার হয়ে গেল। মিলি সকালে পারতপক্ষে বারান্দায় যায় না। রনির সঙ্গে যেন দেখা হয়। দেখা হয়ও নি একবারও। রনিকে একবার দেখার, একবার কথা বলার ইচ্ছে যত দমন করতে পেরেছে, তত নিজের উপর বিশ্বাস, ভরসা বেড়েছে মিলির। আর সেটা ওকে পড়াশোনায় অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছে।তার সঙ্গে সঙ্গে পলাশের সঙ্গে ওর সম্পর্কটা খুব ভালো হয়ে উঠেছে। মিলি যে কোনো অভিযোগ করল না, বরং ওর অন্যায় গোপন রেখে আরেকটা সুযোগ দিল, এটা পলাশের জীবনে প্রথমবার ঘটল। ফলে ও আরও বেশি ভক্ত হয়ে পড়ল মিলির। খুব বেশি আড্ডা গল্পে প্রশ্রয় দেয় না মিলি। পলাশও ওর সঙ্গে পড়াশোনার কথাই ...আরও পড়ুন

42

ঝরাপাতা - 42

ঝরাপাতাপর্ব - ৪২মিলির প্রশ্নে লিলি সহজসুরেই বলে, "এ আবার কেমন কথা? রনিদাকে কতদিন চিনি মানে? বরাবরই চিনি। এই বাড়িতে থেকেই ওদের বাড়ির সবাইকে সবাই চিনি।"- "আরে দূর, সেই চেনা নয়, তোর বিয়ের পর মানে তুই চলে যাওয়ার পর কি হল? নাকি আমাদের বাড়ি থেকে তুই যাওয়ার আগেই....."- "ওওওও আচ্ছা, বুঝেছি। আরে সে এক গল্প। তোকে তো আজকাল কিছু বলাই হয় না। কি হয়েছিল বলত, আমি যে বাড়ি গেলাম, তুই বোধহয় ওপরে ছিলি, মা তো ঢুকতেই দিল না। তা আমরা ফিরে আসছি, বাসস্ট্যান্ডে রনিদা এসে আমাদের ধরল। প্রথমে তো চোটপাট, কেন ওকে বিয়ে করলাম না, কেন পালিয়ে এলাম, ও কেস ...আরও পড়ুন

43

ঝরাপাতা - 43

ঝরাপাতাপর্ব - ৪৩মিলি জানে না, সবটাই গোপাকে মণিকা আর পিউ শিখিয়ে রেখে গেছে, এদের দুজনের মনের খবর পাওয়ার জন্য। জানে না বলেই মিলি ভদ্রতার খাতিরে রনিদাকে দেখতে ও বাড়িতেই চলে গেল।আজই মিলিকে এরা আনতে পারবে নিশ্চিত না হলেও পিউ তৈরি ছিল। দুচার কথার পরই বলে বসল, "চলো ভাইকে দেখে আসবে।" তিনজনই ওর সঙ্গে রনির ঘরে আসে।রনিও এদের প্ল্যানের ব্যাপারে কিছুই জানে না। তাই এদের দেখে ভীষণরকম বিব্রত হয়ে পড়ে, বিশেষ করে সমরকে নিয়ে। বসুন বসুন বলে সবাইকে বসতে দিয়ে নিজে চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। গোপাই প্রথম কথা বলে, "কেমন আছ রনি? শরীর খারাপ হয়েছে আমরা জানতেই পারিনি।"- ...আরও পড়ুন

44

ঝরাপাতা - 44

ঝরাপাতাপর্ব - ৪৪মনের স্বপ্ন ভেঙে যেতে বেশি সময় লাগে না রনির। সি *গা *রে *ট অর্ধেক পোড়ার আগেই দেখে বাবার সঙ্গে মিলি ফিরে যাচ্ছে। মানে নিচে নেমেই চলে গেল? রনি একটু পরে নামবে ভেবেছিল। ওর সঙ্গেই নিচে যেতে লজ্জা করছিল, বিশেষ করে ওর বাবা মা রয়েছে।ও অবাক হয়ে সেদিকে তাকিয়ে, তার মধ্যেই কানে টান পড়ল। চমকে উঠে উফ বলেই দেখে বনি।- "দাদা কি করিস না, ছাড়।" রনি পিছিয়ে আসে।- "মেয়েটাকে রেখে গেলাম, মাপ চেয়ে পটানোর জন্য। আমার সামনে তো কথাও শুরু করলে। তারপর কি হল যে ওরকম মুখচোখ করে নিচে গেল? পড়া আছে, আরেকদিন আসবে বলে চলেই গেল?" পিউ ...আরও পড়ুন

45

ঝরাপাতা - 45

ঝরাপাতাপর্ব - ৪৫- "তাই বলে তুমি ওকে ডাকবে না?" লিলি রনির কাণ্ডে অবাক।- "এখন ডাকলাম না। ওর সঙ্গে ঠিক বলব। তবে লাভ হবে কিনা জানি না। এটাই আমার আসল শাস্তি। মানুষ তার সব অন্যায়ের শাস্তি পায় লিলি। একদিন এই মেয়েটাকে এর থেকেও খারাপ অবস্থায় ফেলে চলে গেছিলাম, কোনো কারণ ছাড়াই অবিশ্বাস করেছিলাম। ছোট একটা মেয়ে, সবার সম্মান বাঁচাতে নিজের গোটা জীবন বিসর্জন দিয়েেছিল। তুমিই বলেছ, আমাকে ভালো ছেলে ভাবত ও। হয়ত ভেবেছিল, আমি পাশে থাকব। কিন্তু কোনোদিন আমাকে পাশে পায়নি। আজ আমি ডাকলেই শুনবে কেন বলো?"লিলির আচমকা খুব ভয় করে, "আমার জন্যই সব গণ্ডগোল হয়েছিল সেদিন। আমিও তারই শাস্তি ...আরও পড়ুন

46

ঝরাপাতা - 46

ঝরাপাতাপর্ব - ৪৬খুঁজে খুঁজে বড়বাজারের গলির গলি তস্য গলির ভিতরে যুগলদের এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানির গদিতে হাজির হয় রনি। ও দেখেছে, আদতে যুগলের বাবার সঙ্গে কথা বলার দরকার। তিনি এসময় গদিতে। আর বাড়ি ভর্তি লোকজন হবে ওদের বড় ফ্যামিলিতে। ফলে তারা সবাই আলোচনায় যোগ দিলে, ওর কথাগুলো গুছিয়ে বলতে পারবে না।একটা বহু পুরনো পাঁচরঙা বাড়িতে ঢুকে ঘুপচি আধো অন্ধকার সিঁড়ি দিয়ে উঠে তিনতলায় অফিস। ফরাস এবং চেয়ার, বসার দুরকম ব্যবস্থাই আছে। ওদের অফিসের অংশটার সম্ভবত জানালা ইত্যাদি নেই, বড়বাজারের বহু অফিসের মতো। তাই এসি চলছে।ঢুকেই রনি যুগলের বাবা মরুৎ সিং এর খোঁজ করে। একটি ওর বয়সী ছেলে সামনে বসা ছিল, ...আরও পড়ুন

47

ঝরাপাতা - 47

ঝরাপাতাপর্ব - ৪৭যুগলদের অফিস থেকে বেরিয়ে রাস্তার ধারের একটা দোকান থেকে জল কিনে খেয়ে সিগারেট ধরায় রনি। এরপর একেবারে বড়বাজারেরই বাইরে চলে আসে। বড়বাজারে তিন পুরুষের গদি থাকলে, আরও নানান যোগাযোগ থাকে। তার মধ্যে গোবিন্দজির মতো ঝাঁ চকচকে ট্যাক্স কনসালটেন্ট থেকে শুরু করে মাসলম্যানও থাকে। এটা কলকাতা আর তার আশেপাশের বাকি ছেলেদের মতোই রনিও জানে। গোবিন্দ পাটানি আর সিং মার্চেন্ট এখন ওর খবর নিতে নির্ঘাত পিছনে লোক লাগিয়েছে। এক ফোনে নিচে অপেক্ষা করছিল, ও বেরোনোর পর থেকেই পিছু নিয়েছে হবে।তাতে রনির কোনো সমস্যা নেই। কারণ ওর ঠিকানা যুগলই ফাঁস করে দেবে, লুকোনোর উপায় নেই। সে পরে ও যুগলকে পটিয়ে ...আরও পড়ুন

48

ঝরাপাতা - 48

ঝরাপাতাপর্ব - ৪৮বাড়ি চলে আসে রনি। ওর পক্ষে আর কিছু করা সম্ভব নয়। বাকিটা তখনই ঠিক হবে, যখন যুগল লিলির ভালোবাসাটা খাঁটি হবে। নিজের জীবনের কাছে রনি এই শিক্ষাই পেয়েছে, দাদাবৌদির ক্ষেত্রেও দেখেছে, সাময়িক সমস্যা আসতে পারে, আসবেও। তাতেই হয়ত সম্পর্কের এ্যাসিড টেস্ট হয়ে যায়। যুগল আর লিলিরও এখন সেই পর্যায় চলছে। একবার ওরা পাশ করেছে, নিজেরা যেভাবে প্ল্যান করেছিল ঠিক তার সময় যখন ঠিক তার বিপরীতে বইছিল, তখন। ওরা তখন কোনো দিকে তাকায়নি, শুধু নিজেদের সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখতে সকলের বিরুদ্ধে গেছে। আজ একসঙ্গে থাকবে কিনা, সেটা এবার ওদেরই ঠিক করতে হবে।ওদের মাঝখানে যে বেনোজল ঢুকে পড়েছিল, রনি শুধু ...আরও পড়ুন

49

ঝরাপাতা - 49

ঝরাপাতাপর্ব - ৪৯[অনেক দেরি হল এই পর্বটা আসতে। কিছু পারিবারিক ও ব্যক্তিগত অসুবিধা ছিল। এই সময়ে আশা করি পর্বগুলো হলে আপনারা একটু মানিয়ে নেবেন।]যুগলের জামাটা বুকের কাছে ভিজে যাচ্ছে। লিলির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে ও দুহাতে লিলির মুখ তুলে ধরে। কান্নাভেজা চোখে চুমু খেয়ে বলে, "তুমি এত কাঁদবে জানলে আমি এখন এই কথা বলতাম না। কদিন ধরে ভালো করে খাও না, ঘুমোও না। কোথায় আমি আজ খেতে দেব ভাবলাম, ভালো করে খাবে ভাবলাম। আমিই কাঁদিয়ে দিলাম।" যুগলের গলা জড়িয়ে ধরেছে লিলি। ধীরে ধীরে লিলির মাথায়, পিঠে হাত বুলিয়ে, ওর কানেকানে নানা কথা বলে শান্ত করে। একটু একটু করে খাইয়ে ...আরও পড়ুন

50

ঝরাপাতা - 50

ঝরাপাতাপর্ব - ৫০যুগলের ফোন পেয়েই রনির যেমন মনে লাড্ডু ফুটতে থাকে, তেমনি দুষ্টুবুদ্ধিও উদয় হয়, অনেক জ্বালিয়েছে মিলি। এবার পালা।মিলি চটপট তৈরি হচ্ছিল। ইস, রনিদাকে এত ভুল বুঝে, দিদিকে ভুল বুঝে শুধু শুধু এতগুলো দিন ! এখন কি করে বলবে, বিয়ের কথা সব মনে আছে? তার মধ্যেই রনির ফোন। ভীষণ রকম লজ্জা করতে থাকে, কি বলবে এখন? কালও তেজ দেখিয়ে চলে এসেছে। অথচ ফোন না ধরলেও নয়।মিলির সাড়া পেয়েই রনি যতটা সম্ভব গম্ভীর গলায় বলে, "যুগলরা নেমন্তন্ন করেছে। তুমি কি আমার সঙ্গে যাবে নাকি আলাদা যাবে?"রনির ঐ গলা শুনেই তো মিলির হয়ে গেছে, এখন রাগ ভাঙাব কি করে ! ...আরও পড়ুন

51

ঝরাপাতা - 51

ঝরাপাতাপর্ব - ৫১দরজা খুলেই যুগল "ভাইয়া" বলে রনিকে বুকে জড়িয়ে ধরল। মিলির ভীষণ ভীষণ লজ্জা করছে দিদির মুখোমুখি হতে ভেবে। রনি আর যুগল হাত ধরাধরি করে ভিতরে ঢুকে গেছে। মিলি আর কি করে, টুকটুক করে ওদের পিছন পিছন ভিতরে এসেছে। রনির হাতে একটা বিশাল গিফট প্যাক, ঢুকেই সেটা ও সামনে লিলির হাতে ধরিয়ে দিল, "নাও, তোমার বোন তোমার জন্য কিনেছে। ডিনার সেট। এ্যাই শোনো, এটাতেই আজ আমরা খাব। আমার পকেট থেকে টাকা গেছে আর তোমরা অন্য কাউকে ওপেনিং করতে ডাকবে, তা হবে না।"ডিনার সেট শুনেই লিলি আর যুগল চোখাচোখি করে, বোঝে, আগেরদিন ওদের সংসারের দৈন্যদশা মিলির চোখ এড়ায়নি। তার ...আরও পড়ুন

52

ঝরাপাতা - 52

ঝরাপাতাপর্ব - ৫২মিলির বুকফাটা কান্নায় প্রথমে রনি দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। ও কি বলল, সেটা খেয়ালই করেনি। ভয়ে ভয়ে মিলির হাত দিয়ে থামাতে যাচ্ছিল, মিলি ওর হাত ঠেলে দিয়ে আবার বলে ওঠে, "আমাকে যখন পছন্দই করতে না, বিয়ে করে ফেলে গেলে কেন? দিদি তোমাকে বিয়ে করেনি। আমি কি করেছিলাম রনিদা? বিশ্বাস করো, কোনোদিন তোমার কোনো ক্ষতি চাইনি।" কাঁদতে কাঁদতে হিক্কা উঠে যাচ্ছে মিলির। হাঁপাচ্ছে, অস্পষ্ট শোনাচ্ছে কথাগুলো।রনির মাথা ভোঁ ভোঁ করছে। স্থির চোখে মিলির দিকে তাকিয়ে আছে। মিলির কষ্ট হচ্ছে, ওকে থামাতে হবে, শান্ত করতে হবে, কিচ্ছু মাথায় নেই। গলগল করে ঘামছে রনি। যন্ত্রের মতো ওর ডানহাত নিজের মুখ চেপে ...আরও পড়ুন

53

ঝরাপাতা - 53

ঝরাপাতাপর্ব - ৫৩মিলি চুপ করে আছে। রনিকে ও ভালোবাসে তো বটেই, বিয়ে হতেই ওকে স্বামী বলে মেনেছিল, যদিও এখন বিয়ে সম্পর্কে সেদিন সম্পূর্ণ ধারণাও ছিল না ওর। আর এই নতুন করে সম্পর্কটা তৈরি হওয়ার পর তো রনির মুখেই দুজনের এই সম্পর্কের একটা পরিণতির স্বপ্নের কথা শুনে এসেছে। অথচ বিয়ের সময়ের কথা মনে পড়ার পর থেকে মনে মনে প্রতিদিন তৈরি হয়েছে, রনিকে ও হারিয়ে ফেলবে বলে। তেমনি এখনও রনির মনের কথা জানার পরও বুঝতে পারছে না, রনির বাড়িতে ফিরে যাওয়ার রাস্তা আর ওর আছে কিনা।রনি বুঝতে পারে। মিলি ওর কাঁধে মাথা রেখেই বসেছিল, ফোনটা নামিয়ে একহাতে মিলিকে আগলে বলে, "ভয় ...আরও পড়ুন

54

ঝরাপাতা - 54

ঝরাপাতাপর্ব - ৫৪রনি হেসে ফেলে বলে, "এই রে যুগল গেছে সেই তিনটের সময়, আর এখন সাড়ে ছটা বেজে গেছে। পর ফোন করলে আমাকে যা করবে। তুমি দিদিকে ফোন করো।"- "ঐ একই হবে। দিদি কি আমাকে ছেড়ে দেবে নাকি?" মিলি খাটে বসে পড়ে। আবার উঠে পড়ে বলে, "তুমি ফোন করো, আমি মুখটা ধুয়ে আসি। যুগলদা আসার আগে ফ্রেশ হয়ে নিই।"রনি মিলির দিকে একবার তাকায়, বেশ সেজেগুজেই এসেছিল, এখন তার চিহ্নমাত্রও নেই। মুখ ধুয়ে এলেও, এই মুখ দেখলে যুগল আর লিলি সবটাই বুঝতে পারবে।রনির চোখের দৃষ্টি পড়তে মিলির অসুবিধা হয় না, লজ্জায় লাল হয়ে বলে, "তুমিই তো, কতবার বললাম ছাড়ো।"রনি তেড়ে ...আরও পড়ুন

55

ঝরাপাতা - 55

ঝরাপাতাপর্ব - ৫৫[ আমাদের নায়ক নায়িকা, রনি আর মিলি, শ্রেয়ান আর অদ্রিজার মনের কথা, জীবনের ঝড়বাদলে ঝরাপাতার মতো এখানে উড়ে বেড়িয়েছে। তবে শেষপর্যন্ত তারা আশ্রয় পেয়েছিল একে অপরের কাছে। একে অপরের প্রতি ভালোবাসার কথা পরস্পরকে জানাতে পেরেছিল। তাদের জীবনে এসেছে ভালোবাসার মরসুম। তারপর? কি হল ভালোবাসার মরসুমে? ]নানা রঙের আলোয় ভরে আছে আকাশ। লাল, কমলা, হলদে, গোলাপি, ম্যাজেন্টা রঙের খেলা আকাশের বুক থেকে নেমে এসেছে গাছের পাতায়, ঘাসের ডগায়, মাটির উপরে। রেনেসাঁসের কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মতো নিটোল, নিখুঁত এই প্রকৃতির মাঝখানে গাছের ছায়ায় দোলনায় দুলছে একটি মেয়ে। হাওয়ায় উড়ছে কিছু বাঁধনখোলা চুল, কানে আসছে খিলখিল হাসির শব্দ। ...আরও পড়ুন

56

ঝরাপাতা - 56

ঝরাপাতাপর্ব - ০২লিলি সেই সময়ে ফিরে গেছে তিরিশে ডিসেম্বরের সন্ধ্যায়। রনি আর মিলিকে নিজেদের ঘরে রেখে দিয়ে হাউজিং এর সঙ্গে হঠাৎ পিকনিক। সন্ধ্যায় বেরিয়ে, রাত এগারোটায় দীঘা। হাউজিং এর পুরনো বাসিন্দা নীহাররঞ্জন চৌধুরীর হোটেল আছে ওল্ড দীঘায়। ছোট হোটেল, সেটা পুরোটাই বুক করা হয়েছে। সমুদ্র থেকে একটু দূরে, মিনিট পাঁচেকের হাঁটাপথ। বরং বড় রস্তার ধারে। তাই বাসটা সরাসরি হোটেলের সামনে অবধি আনা যায়।বাসে অন্যদের চোখ এড়িয়ে যুগলের কাঁধে মাথা দিয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে গল্প করছিল লিলি। গল্পের বিষয়, তখন রনি আর মিলি কি করছে, ওদের ভাব হল কিনা।যুগল জোর দিয়ে বলেছিল, "রনি ভাইয়া ঠিক মিলিকে পটিয়ে ফেলেছে। আরে মিলির ...আরও পড়ুন

57

ঝরাপাতা - 57

ঝরাপাতাপর্ব - ৫৭স্নান সেরে যখন সমুদ্র থেকে উঠে এল যুগল আর লিলি, অন্যদের মতোই দুজন দুজনের হাত ধরে হেঁটে রিসর্টের ভিতরে। দুজনের প্রাথমিক লজ্জা কেটে গেছে। রুমে ঢুকেই লিলি গেল ওয়াশরুমে ভালো করে স্নান করতে, যুগল অর্ডার দিল লাঞ্চের।খেতে বসে দুজনেরই এই একান্ত সান্নিধ্যের অস্বস্তি আর নেই। টুকটাক গল্প করতে করতে যুগল একবার এটা খেয়ে দেখো বলে লিলিকে খাইয়ে দেয়। লিলি নিজের চামচে খাবার তুলতেই ও হাঁ করে মুখ বাড়ায়। এভাবে পরস্পরকে খাইয়ে দিতে দিতে হঠাৎ যুগল আরেকটু সাহস করে এগিয়ে আসে লিলির আরও কাছে। ও কিছু বোঝার আগেই আলতো চুমু খায় লিলির ঠোঁটে।লিলি চমকে উঠলেও মুখে লজ্জা মেশানো ...আরও পড়ুন

58

ঝরাপাতা - 58

ঝরাপাতাপর্ব - ৫৮- "কি হয়েছে মিলি? কি চাই বলো না। এরকম হেজিটেট করো কেন আমাকে কিছু বলতে?"- "হেজিটেট করছি বলছি। আমার রিকোয়েস্ট বলতে পার। তুমি আর এই কথাটা বলবে না। যা হয়ে গেছে, হয়ে গেছে। সেটা নিয়ে আমরা দুজনেই ভুগেছি, বাড়ির লোকেরা ভুগেছে। এখন কার দোষ, কে ভুল, এসব নিয়ে আর আমরা কথা বলব না। সবই নতুন করে শুরু হচ্ছে আমাদের, আমরা সেভাবেই শুরু করি চলো।"রনির মুখে কথা যোগায় না। এই সেই বাচ্চা মেয়েটা? সেজেগুজে, নাচ গান, হইচই করে বেড়াত? এতটাই ধাক্কা খেয়েছে এই কয়েকমাসে, এত পরিণত হয়ে গেছে?- "কি হল? চুপ করে আছ কেন? আমি সত্যিই চাই না ...আরও পড়ুন

59

ঝরাপাতা - 59

ঝরাপাতাপর্ব - ৫৯পরদিন, এ বাড়ির চারজনই গিয়ে হাজির। অমর ছুটি করতে পারেনি, তবে অঙ্কুর আর দীপা এসেছে। সবাই আন্তরিকভাবে করে এদের। বিয়ের দিন থেকে একদিকে যত সমস্যা আর ভুল বোঝাবুঝির পাহাড় জমছিল, অন্যদিকে সেগুলো মেটানোর চেষ্টা আজ সফল হয়েছে। উভয়পক্ষই খুশি। প্রথমে একচোট চা, মিষ্টি, কাটলেট, গল্প, আড্ডা।তার মাঝখানে বসে রনি আর মিলি আড়চোখে এ ওকে দেখে যাচ্ছে। মিলি আজ স্নান করে একটা হলুদ তাঁতের শাড়ি পরেছে। খোলা চুল, সিঁদুর, শাঁখা চুড়ি পরে একেবারে নতুন বউ। রনির মনে পড়ছে, বউভাতের অনুষ্ঠানে সেদিন সকালের মতোই লাগছে মিলিকে। বা তার চেয়েও স্নিগ্ধ। সেদিন আরেকটু ভারী গয়নাগাটি, দামী শাড়ি আর মেকআপ করিয়েছিল ...আরও পড়ুন

60

ঝরাপাতা - 60

ঝরাপাতাপর্ব - ৬০অক্ষম আক্রোশে রনি বিছানায় একটা ঘুষি মারে, "কত সুখী ছিলাম সেদিন আমরা। ইকো পার্কে ঘুরলাম, কত গল্প আর সব ভুলে গেলে তুমি ! একবার মনে পড়ল না এই দিনগুলো !"ঢকঢক করে এক বোতল জল খেয়ে নেয় রনি, "তুমি খুব ভালো করে জানো, আমি কোনো খারাপ কথা বলিনি, অযৌক্তিক কথা বলিনি। আমি যা চেয়েছিলাম, তাতে সবার ভালো হত। আর সেটাই আমার দোষ হয়ে গেল। সবাইকে ভালো রাখাই অন্যায়?"ঘর জুড়ে পায়চারি করতে করতে রনি ভাবে, "এ জীবনে আর আমি তোমার সঙ্গে সংসার করার স্বপ্ন দেখি না। একবার আমার অন্যায় ছিল। কিন্তু এবার? এবার অন্ততঃ আমার কোনো দোষ নেই। একদিন ...আরও পড়ুন

61

ঝরাপাতা - 61

ঝরাপাতাপর্ব - ৬১মিলি যা ভাবছিল তারই প্রতিধ্বনি শোনা গেছিল বাবার গলায়, "তোমার কনসার্ন যদি লিলিকে নিয়ে হয়, তুমি আবার রনি। আমরা ফোর্স করছি বলে মিলিকে নিয়ে যেতে হবে না। একবার জোর করে বিয়ে দেওয়া হল, নিয়ে গিয়ে তুমি যা করলে, তার চেয়ে আমার মেয়ে আমার কাছে ভালো আছে।" বাবা মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল।মিলির তখন হাত পা পেটের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। রনি কি চায়? এতদিন ধরে এত কথার পর যেই সেই দিনটা আসতে চলেছে, সব তছনছ করে দিচ্ছে কেন ও? মিলি যে ওকে নিজের সবকিছু মেনে বসে আছে ! অথচ ও সবসময় দিদিকে উদ্ধার করার কথা ভাবে কেন আগে?- "আপনি যদি ...আরও পড়ুন

62

ঝরাপাতা - 62

ঝরাপাতাপর্ব - ৬২- "আর কোনো কথা না, তুমি যাও রনিদা। তোমার জন্যই বাবার শরীর খারাপ হচ্ছে। তোমাকে আর কোনো করতে দেব না আমি। ভাইয়া, তুই তাড়াতাড়ি ডাঃ মিত্রকে ফোন কর। চেম্বারে থাকলে সোজা ওখানেই চলে যাব।" মিলি রনির দিক থেকে পুরোপুরি মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল।- "মিলি, আমরা চলে যেতাম। কিন্তু দাদার শরীরটা........। বনি থাক তোদের সঙ্গে। মাথা ঠান্ডা কর মা।" মিলির মাথায় হাত রাখে মণিকা।- "কাকিমা, প্লিজ, ভালো লাগছে না। তোমরা এখন যাও। দরকার পড়লে আমরা ডাকব।" মিলি এক ঝটকায় সরে গেছিল।- "মা, এক্ষুণি চল এখান থেকে। যে অপমান তুমি করেছ, আমি অন্ততঃ মনে রাখব মিলি। তোমাদের কারো কোনো ডাকে ...আরও পড়ুন

63

ঝরাপাতা - 63

ঝরাপাতাপর্ব - ৬৩নার্সিং হোমে ডাক্তাররা পরীক্ষা করে বলেন, মণিকার কার্ডিয়াক এ্যারেস্ট। অপমান, অসম্মান, মিলিকে যতটা কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে দায়ভাগ নিজেরও আছে, এটা ভুলতে না পারা, সবচেয়ে বড় কথা, ভবিষ্যতে কি হবে, এই সমস্ত চিন্তার জালে জড়িয়ে গেছিল মণিকা। জ্ঞান হারানোর আগে মোবাইলে বনির নম্বরটায় আঙ্গুল ছোঁয়াতে পেরেছিল কেবল। বনি জেগে উঠে ফোন রিসিভ করে কোনো সাড়া পায়নি, তবে দুদ্দাড়িয়ে নেমে এসেছিল দুজনেই।মাকে দেখেই বিছানার পাশের টেবিলটা থেকে জল নিয়ে চোখেমুখে ছেটাতে শুরু করেছিল বনি। পিউ তখন সব ভুলে দৌড়েছিল রনির কাছে। এই তিনদিন কেউ রনির সঙ্গে কথা বলেনি, তবে মায়ের এই অবস্থায় বনি আর ভাইকে বাধা দেয়নি।এ্যাম্বুলেন্স ডেকে ...আরও পড়ুন

64

ঝরাপাতা - 64

ঝরাপাতাপর্ব - ৬৪- "মামনি একদম ঠিক হয়ে গেছে?" পিউ প্রশ্ন করে।- "একদম ঠিক হয়ে গেছে তা নয়। তবে জ্ঞান এসেছে অনেকক্ষণ। এখন অক্সিজেনও দিতে হচ্ছে না। বুকের ব্যথাটা আছে। নিজেই ডাক্তারের কাছে বলেছে। তবে ওটাও কমে যাবে বলছে ডাক্তাররা। আমিও কথা বললাম। কোনো ভয় নেই বলল। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, মা মিলিকে দেখতে চাইছে।" বনি ঘটনাটা খুলে বলে।- "মিলিকে কি করে..........তোমার ভাইকে বলো গিয়ে।" পিউ চটে ওঠে।- "থাক, মাথা ঠান্ডা করো এখন। চুপ করে বসে আছে। এ্যাম্বুলেন্সে মার হাত ধরে বসে ছিল। জ্ঞান আসার পর থেকে মা তো ওর নামও করছে না, খালি আমাকে ডেকেছিল। আমাকে বলছে" বনির গলাটা ধরে ...আরও পড়ুন

65

ঝরাপাতা - 65

ঝরাপাতাপর্ব - ৬৫- "আমি মিলিকে ডাকছি দাঁড়াও।" গোপা চটপট মিলির ঘরের দিকে হাঁটা দেয়।মিলি টের পেয়েছে, পিউ এসেছে। সেজন্যই থেকে বেরোয়নি। আগের দিনও এসে ওকে একগাদা প্রশ্ন করেছে। রনির সম্পর্কে কোনও আলোচনাই আর ভালো লাগছে না মিলির।গোপা মেয়ের পাশে এসে বসল, "একটা ঝামেলা হয়েছে, বুঝলি। মণিকাদির শরীরটা এখনও ভালো হয়নি। এদিকে তোকে দেখতে চাইছে। দ্যাখ, ভুল ভাবিস না মা, আমরা তোর দিকেই আছি। কিন্তু একটা অসুস্থ মানুষের এইটুকু ইচ্ছেপূরণ না করলে, টেনশন, কান্নাকাটি করে যদি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন নিজেদের কাছে নিজেরাই অপরাধী হয়ে যাব।"- "পিউবৌদির কথা শুনতে পাচ্ছিলাম। এখন কি করতে বলো মা?"- "দ্যাখ, মণিকাদি রনির উপর ...আরও পড়ুন

66

ঝরাপাতা - 66

ঝরাপাতাপর্ব - ৬৬মিলিকে দেখেই মণিকার মুখে হাসির আভা ছড়িয়ে পড়ে। নল টল খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন একজন এ্যাটেন্ডেন্ট পাশে ওনাকে ব্রেকফাস্ট করাচ্ছিল, লিকার চা, ডাইজেসটিভ বিস্কুট, ডিমসেদ্ধ আর পাকা কলা।মণিকা হাত বাড়িয়ে দিল, "এসেছিস? আয় মা, আমার কাছে আয়।"মিলি এগিয়ে আসতেই ওর হাত চেপে ধরে, "তুই আর আমাদের ছেড়ে যাবি না। আমার কাছে থাকবি। ঐ ছেলেকে আমি," এ্যাটেন্ডেন্ট মেয়েটি তাকিয়ে আছে খেয়াল হয় মিলির চোখের দৃষ্টি অনুসরণ করে। তাকে মণিকা বলে, "আমার খাওয়া প্রায় হয়েই গেছে, বাকিটুকু খেয়ে নিচ্ছি। তুমি যাও এখন। আমি ওর সঙ্গে কয়েকটা কথা বলব।"মেয়েটি উঠে পড়ে, "আমি দশ মিনিট ঘুরে আসছি। তবে আপনি বেশি কথা ...আরও পড়ুন

67

ঝরাপাতা - 67

ঝরাপাতাপর্ব - ৬৭মিলিকে সামনে দেখে রনি প্রথমে মাথা নিচু করে ফেলে। তারপরই মনে পড়ে মামারা রয়েছে, ওরা কিছু জানেনা। আস্তে আস্তে বলে, "ওদের দুজনকে চা দাও, আর আমাকেও দিও।"মিলির থেকে একটু দূরে সরে দাঁড়ানোর আগেই শোনে মিলি বলছে, "আমি চা খাব না।"রাগটা আবার ফিরে আসে রনির, মনে মনে বলে, "খেও না চা, কিছুই কোরো না। সারাজীবন বসে বসে ভাবো, আমি খারাপ, আমার চরিত্র খারাপ। আমি চা কিনেছি, তাই ওটাও খারাপ।"খানিকটা দূরে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। ছেলেটি ফিরে এলে তাকে টাকা দিয়ে নিজের চা টা হাতে নিয়ে চুমুক দেয়। মামারা এসে ওর দুপাশে দাঁড়িয়েছে, তিনজন টুকটাক কথা হচ্ছে।পিউ আর মিলি ...আরও পড়ুন

68

ঝরাপাতা - 68

ঝরাপাতাপর্ব - ৬৮বনিরা এসেছে শুনেই মিলি উঠে দোতলায় নিজের ঘরে লুকিয়েছে। আর ওদের প্রস্তাব শুনে সমরের মুখ হাঁড়ি। বুঝতেই আত্মীয়রা সবাই ওদিকে।ঠিক তাই, মনোজ ঝাঁপিয়ে পড়ে, "আপনারা একটা কথা খুলে বলুন তো, আপনাদের কি মনে হয়? রনি আমাদের মিলিকে নিজের স্ত্রী মানতে তৈরি? ওকে বাড়িতে নিয়ে যেতে চায়? না না, ঘাবড়ানোর কিছু নেই। এখানে ওরা কেউ নেই। আমরা আমাদের মতো করে একটু আলোচনা করে নিই।"বনি গলা পরিষ্কার করে বলে, "আমি তাই ভাবতাম। ওকে নিজের বোকামির জন্য কষ্ট পেতে দেখেছি। মিলির পাশে পাশে থাকতে দেখেছি চিকিৎসা চলাকালীন। এমনকি পরীক্ষার ব্যাপারে যে ঝামেলা করেছিল, সেটার কারণও পরে বুঝেছি। কলেজের প্রিন্সিপাল মিলির ...আরও পড়ুন

69

ঝরাপাতা - 69

ঝরাপাতাপর্ব - ৬৯- "রনিদা, কাকিমা নাকি অসুস্থ? কি হয়েছে? কেমন আছে?" লিলি একের পর এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়।রনি প্রথমে শারীরিক অবস্থা আর তার সূত্র ধরে মিলিও যে এখন এবাড়িতে, সবটাই বলে ওদের প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে। লিলি আর যুগল মণিকা সুস্থ হয়ে উঠছে শুনে যেমন নিশ্চিন্ত হয়, মিলি এ বাড়িতে এসেছে শুনে আরও খুশি হয়ে যায়।যুগল বলে, "তাহলে আর কি ভাইয়া, লাইফে এখন সব সেট। পার্টি চাহিয়ে হামকো।"- "লাইফ সেট হয়েছে তোমার সিস্টার ইন ল এর। সে ডাঁটসে আমার মা আর বৌদির আশ্রয়ে বসে বসে আমার মুন্ডুপাত করছে।"- "মুন্ডু হোয়াট? কি বকোয়াস করছ ভাইয়া?" যুগল একগলা জলে হাবুডুবু খায়।স্পীকার ...আরও পড়ুন

70

ঝরাপাতা - 70

ঝরাপাতাপর্ব - ৭০বনিকে ভয়ে ভয়ে রনি বলে, "আমার উপর রাগ করে আছিস, জানি। সেটা নিয়ে কিছু বলছি না। একটা করছি, আমার লাস্ট রিকোয়েস্ট ধর, লিলি তোর সঙ্গে একটু কথা বলতে চায়। প্লিজ, পাঁচটা মিনিট শোন, ও কি বলছে?"বনি পড়ে যায় আরকি ! ও ভাবতেই পারেনি, রনির এই সাহসটা হবে, এতকাণ্ডের পর ওকেই লিলির সঙ্গে কথা বলতে বলবে। ভয়ঙ্কর রাগ হলেও ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থমকে যায়। কোনো অপরাধবোধের ছাপ নেই সেখানে। এতটাই নির্লজ্জ, বিবেকহীন ছিল না রনি। বরং সবার ভালো চাইত বরাবর।আর একথা ভাবতেই বনির অন্য কথা মনে হয়। লিলি কোনো বিপদে পড়েনি তো? আটমাস হল, মেয়েটা বাড়িছাড়া। কোথায় ...আরও পড়ুন

71

ঝরাপাতা - 71

ঝরাপাতাপর্ব - ৭১সবাই মিলিয়ে মিশিয়ে শুয়েছে আজ রাতে। মামীরা দুজন বেড়াতে এলে বরাবর মণিকার ঘরে শোয়, আজও তাই। মামারা পাশের বাড়তি ঘরে, যেটাকে গেস্টরুম বলে পিউ। আজ অবশ্য পিউ মণিকার ঘরে থাকতে চেয়েছিল। মামীরা বলেছেন, আগামীকাল থেকে তো ওকেই থাকতে হবে।পিউ শুয়েছে দোতলায় ওর ঘরে, টুকাই, সুবর্ণ আর মিলিকে নিয়ে। ওদের ঘরে একটা বাড়তি ডিভান আছে, তাতে সুবর্ণ। দোতলার গেস্টরুমে বনি, সাত্যকি, সৌভিক। রনির ঘরে ভাইয়েরা কেউ যায়নি। রনির মেজাজের ভয়ে নয়, যদি মুখ ফসকে প্ল্যান বেরিয়ে যায়?রনি মাথা ঠান্ডা করতে ব‌ইপত্র খুলেই বসেছিল। মন দিয়ে পড়ে নোট‌ও করছিল। পড়াশোনায় ডুবে গিয়ে বাকি কথা ভুলেই গেছিল। হঠাৎ হুঁশ এল, ...আরও পড়ুন

72

ঝরাপাতা - 72

ঝরাপাতাপর্ব - ৭২বাবা গো শুনেই রনি বুঝেছে, এটা চোর না, মিলি। কিন্তু তখন আর সময় নেই। বুকের উপর হঠাৎ আছড়ে পড়ায় ও ছিটকে পড়েছে পিছনে। হুড়মুড় করে মিলি পড়েছে ওর উপর। পড়বি তো পড়, মিলির ঠোঁট ওর ঠোঁট ছুঁয়ে গেছে। কেঁপে উঠেছে দুজনেই। সব অভিমানের পাঁচিল গলে গলে পড়ছে।মিলি চুপিচুপি নামছিল চোরটাকে ধরবে বলে। দুটো ধাপ বাকি থাকতে হঠাৎ একলাফে রনি সামনে এসে পড়তে মারাত্মক চমকে গিয়ে পড়েছে ওর উপর। পড়ে গিয়ে রনির মনে হল, ওর কোমরটাই ভেঙে গেছে। ব্যথা পেয়ে রনি ওমাগো বলে উঠতেই মিলিও বুঝেছে, কার সামনে পড়েছে। ততক্ষণে সোজা রনির বুকে।জল ভরার জন্য নিচের আলো জ্বেলেছিল ...আরও পড়ুন

73

ঝরাপাতা - 73

ঝরাপাতাপর্ব - ৭৩- "সব গোলমাল হয়ে গেছে মিলি। তোমাকে আজও আমি নিজের স্ত্রীর মর্যাদা দিতে পারলাম না। আর একবার দাও। মায়ের জন্য এতকিছু করছ, আমাকে একবার......"- "আমার সঙ্গে দিদির কথা হয়েছে। তুমি খুব অন্যায় করেছ। আমাকে বলনি কেন যুগলদার সব কথা? তাহলে সেদিন আমি তোমার হয়ে বলতাম। আমি বলতাম, দিদি আর যুগলদা কত ভালো। ওদের মেনে নিলে, তবেই আমাদের অনুষ্ঠানটা হবে।" মিলি ওর হাত ধরে পাশে বসে পড়েছে।রনি একহাতে ওর কাঁধ জড়িয়ে ধরেছে, "তোমার পরীক্ষা চলছিল। কিছুই বলা হয়নি। আর সেদিন আমার কোনো প্ল্যান ছিল না ঐসব কথার। নেমন্তন্নের লিস্ট দেখে মনে হল, বলে ফেললাম। কাকু রেগে যাচ্ছেন দেখে ...আরও পড়ুন

74

ঝরাপাতা - 74

ঝরাপাতাপর্ব - ৭৪মিলি ঘরে ঢুকে খাবারের প্লেটটা টেবিলের উপর রেখেই ছুটে এল রনির কাছে, "এখনও তোমার কোমরের ব্যথা কমেনি?"সকালেও খানিকটা ব্যথা ছিল। বিছানা থেকে উঠে বাথরুমে যেতে দেখেছে, হাঁটতে গেলেই পিঠে আর কোমরে ব্যথা করছে। একটু ভয়‌ও পেয়েছিল তাই রনি, ডাক্তার দেখাতে হয় কিনা। তাই দাদাকে ফোন করে ডেকেছিল। বরফ আর অয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে এখন ব্যথা প্রায় নেই আবার। ও বুঝে গেছে, আজকের মধ্যে পুরোই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু যদি সেটা চেপে গেলে মিলি এরকম খোঁজখবর নিতে আসে, মন্দ কি?তাই সম্পূর্ণ মিথ্যে না বললেও কায়দা করে বলে, "অনেকটা কমেছে, ঠিক কমে যাবে দেখো।"- "ইসসস, কি বিপদ হয়ে গেল। হবে না, ...আরও পড়ুন

75

ঝরাপাতা - 75

ঝরাপাতাপর্ব - ৭৫- "কি হয়েছে অঙ্কুর? আমাকে সব বল।" পলাশ সোজা হয়ে বসেছে। নিজের ঘরে একা ছিল। কেউ থাকলে পেত, ওর চোখ চকচক করছে, উত্তেজনায় নিঃশ্বাস দ্রুত, হাত মুঠো পাকিয়ে গেছে।- "সব আর কি বলব....."অঙ্কুরের গলায় এড়িয়ে যাওয়ার আভাস পেতেই পলাশ অন্য রাস্তা বাছে, "সে আমাকে বলবি না জানি। আমি তোর বন্ধু হলে বলতি।"- "আহ, পলাশ, এখন এসব কথা শুরু করিস না। তুই শুধু আমার বন্ধু না, মিলিরও বন্ধু।"- "অদ্রিজা আমাকে বন্ধু মানেই না। মানলে বলত, এতবড় কাণ্ড, আমি কিছুই জানি না। ওর বিয়ে হল, জানলাম না। বিয়ের পর ওর বর চলে গেল, সে কথাও........ হ্যাঁ রে ঐ শ্রেয়ান ...আরও পড়ুন